শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন: জেলার উন্নয়নে ১৬ দফা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন: জেলার উন্নয়নে ১৬ দফা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরার উন্নয়নকে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এই জেলাকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর পান্থপথে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি, ঢাকার কার্যালয়ে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের আয়োজনে “দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সাতক্ষীরার উন্নয়ন: জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা” শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফোরামের সভাপতি ইকবাল মাসুদ।

সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা আফসার আলীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি প্রকৌশলী আবুল কাশেম, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা বকুলুজ্জামান এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক স.ম মেহেদী হাসান। এসময় ১৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

১. সুন্দরবন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন: বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রতীক সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণে একটি বিশেষায়িত ‘সুন্দরবন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (সুন্দরবন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) গঠন করা জরুরি।

২. খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন: সাতক্ষীরার বিখ্যাত হিমসাগর আম, লিচু, কুল, টমেটো, পেয়ারা ও মধুর অপচয় রোধ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক ফুড প্রসেসিং শিল্প স্থাপন প্রয়োজন।

৩. সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন: দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার এই মহাসড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে হবে।

৪. মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন: ‘সাদা সোনা’ খ্যাত বাগদা চিংড়িসহ রুই, কাতলা, ভেটকি ও পারশে মাছ সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য একটি আধুনিক ফিশ প্রসেসিং জোন প্রতিষ্ঠা জরুরি।

৫. সীমান্ত সড়ক নির্মাণ: মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা জোরদারে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

৬. ভোমরা স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন: দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোমরা স্থলবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে দ্রুত ও কম খরচে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

৭. রেলপথ সংযোগ স্থাপন: নাভারন থেকে ভোমরা স্থলবন্দর ও সাতক্ষীরা শহরের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপন এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

৮. বাস টার্মিনাল স্থানান্তর: যানজট নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় শহরের কেন্দ্রস্থলের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড দ্রুত বাইপাস সংলগ্ন লাভসায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন (বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন)।

৯. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: দেবহাটা উপজেলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।

১০. টেকসই মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান): উপকূলীয় জেলা হিসেবে বন্যা ও জলোচ্ছাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন জরুরি।

১১. টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ: প্রতিবছর বাঁধ ভেঙে জনপদ প্লাবিত হওয়ার সমস্যা রোধে স্থায়ী ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

১২. বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জসহ উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বড় আকারের ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ প্রকল্প এবং ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

১৩. স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন: উপকূলীয় উপজেলার হাসপাতালগুলো সংস্কার, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে হবে।

১৪. সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার স্থাপন: ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, সব বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং ক্যান্সার রোগীদের জন্য একটি বিশেষায়িত রিসার্চ সেন্টার ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

১৫. নীলডুমুর ও মুন্সিগঞ্জকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়ন: সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে এই এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম জোন গড়ে তোলা, হোটেল-মোটেল নির্মাণ এবং আকাশপথে যোগাযোগের জন্য হেলিপ্যাড বা শর্ট টেক-অফ রানওয়ে (এসটিওএল) স্থাপন করা যেতে পারে।

১৬. আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও জিমনেসিয়াম স্থাপন: তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এবং দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্যে একটি মাল্টিপারপাস স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার এসব যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু এই জেলার উন্নয়নই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

Ads small one

টিভি-ফ্রিজসহ ভারী পণ্য পরিবহনে রেকর্ড গড়লো ডাক বিভাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
টিভি-ফ্রিজসহ ভারী পণ্য পরিবহনে রেকর্ড গড়লো ডাক বিভাগ

শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; ডাকযোগে এখন গ্রাহকের কাছে যাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় গত দুই মাসে পরিবহন হয়েছে প্রায় ৪০০ টন পণ্য। প্রথম কেজিতে ১০ টাকা, এরপর প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা-এই মাশুলেই চলছে স্পিড পোস্ট।রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা-বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

মহাপরিচালক বলেন, দেশের আইনে অবৈধ নয়, এমন যেকোনও পণ্যই এখন ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা যায়। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে গেছে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ারড্রবের মতো বড় আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা থেকে শুরু করে এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এমনকি কীটনাশক স্প্রে মেশিনও এখন ডাকযোগে পাঠানো যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কখনো পরিবহন হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জেনে নেওয়া যায়।

বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য রয়েছে বৈদেশিক ইএমএস সেবাও।

তিনি বলেন, সেবাটি যেন সুশৃঙ্খলভাবে চলে, সেজন্য এর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ডাক অধিদপ্তর। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না।

এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার বিষয়ে কাজী আসাদুল বলেন, টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে করে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।

ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারাই নিজ উদ্যোগে তারা সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন।

এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্রই ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তঃজেলা বাসাবদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে।

সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল আর ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল- সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকরও হয়েছে বলে জানান তিনি।

কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রফতানি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও ও কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে চলবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা।

মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য।

উল্লেখ্য, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও। খবর: বাসস

জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের

নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাই উচিত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বোঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।

আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং বিমান কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোয়িং বিমান কিনতে হবে। এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে এটা কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রফতানি হবে।

এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। খবর: বাসস

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪২, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪২, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

নেপালের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় এখনও ৪,৮৮৬ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট আটটি জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ৩৬০, পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ২৩০, পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ২২২, নুয়াকোটে ১৯২, রাসুয়ায় ১৬০, গোরখায় ৭৩, ধাদিংয়ে ৬৭ এবং তানাহুন জেলায় ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও অন্যান্য শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর এ পর্যন্ত ১,০৩০টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। যার মধ্যে ২২২ জন নারী, ৩৫৫ জন পুরুষ এবং ৪৫৩টি এমন মরদেহ রয়েছে যাদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

নিহতদের পরিচয় শনাক্তে সহায়তার জন্য কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ২,২৭২টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ১,২৬০টি নমুনা নিহতদের দেহ থেকে এবং ১,০১২টি নমুনা স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নিখোঁজদের স্বজনরা তাদের স্বজনদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন কিনা তা জানতে ১,২৭০টি অজ্ঞাত মরদেহের বিস্তারিত তথ্য নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, মরদেহ উদ্ধার এবং অন্যান্য জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৭,৯১২ জন পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।

সুড়ঙ্গে আর কোনও জীবিত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনিসুড়ঙ্গে আর কোনও জীবিত ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি
বর্তমানে বিভিন্ন জেলার হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে প্রায় ৩,২৪০ জন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বাধা অপসারণ এবং বন্যাকবলিত এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।