শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা শহরে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, গলিত লাশ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা শহরে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, গলিত লাশ উদ্ধার

পত্রদূত রিপোর্ট: অহিদা সুলতানা শিমু নামের এক বিধবা নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশ পুরাতন সাতক্ষীরার তার নিজ বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
মৃত অহিদা সুলতানা শিমু (৪০) পুরাতন সাতক্ষীরার মিয়ারাজ হোসেনের মেয়ে।

মৃতের বড় বোন রাবেয়া সুলতানা জানান, তারা পাঁচ বোন ও এক ভাই। ২০০৭ সালে শহরের সুলতানপুরের সাংবাদিক আহসানের সঙ্গে ছোট বোন অহিদা সুলতানা শিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর শিমুর স্বামী আহসান গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে সে তার (রাবেয়া) কাছে নিজের ঘরে থাকতো। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়ে সে তার সংসার খরচ নির্বাহ করতো। দুই মাস আগে সেটি হাসান ইলেকট্রিক এর মালিক হাসানের কাছে বিক্রি করে দেয়। বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ডাকতে যেয়ে ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। মৃতের দুই কনুই ও পেটের উপরের চামড়া ওঠানো ছিল।

তবে স্থানীয়রা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর শিমু বড় বোনের কাছে খাওয়া দাওয়া করলেও সে অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করতো। নিয়মিত নেশা জাতীয় ইনজেকশান নিত সে। তার কাছে অনেকেই যাতায়াত করতো। গত বছরের আগষ্ট মাসে তার বাবা মারা যায়। একমাত্র ভাই এক সময়কার তুখোড় ক্রিকেট খেলোয়াড় মনিরুজ্জামান কিরণ বোনদের সঙ্গে বোঝাপড়া না হওয়ায় সদর উপজেলার মাধবকটিতে দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছে। বৃহষ্পতিবার লাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ধারণা করে হচ্ছে দুই থেকে তিন দিন আগে শিমুর মৃত্যু হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (৬৪ নং) হয়েছে। ওই নারীর সামাজিক সম্মান ছিল না। লাশের ময়না তদন্তের জন্য শুক্রবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যাবে না।

Ads small one

ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

বিশ্বকাপের মহারণে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। তবে তাকে থামাতে কোনো ফুটবলারকে আলাদা করে দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বরং পুরো দল মিলে মেসির ওপর কড়া নজর রাখার পরিকল্পনাই করেছে স্পেন। অতীতের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে আটকাতে স্পেন কি বিশেষ কোনো ম্যান-মার্কিং কৌশল ব্যবহার করবে? জবাবে স্পেন কোচ জানিয়ে দেন, এমন পরিকল্পনা নেই।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন সেভিয়ার বয়সভিত্তিক দলের কোচ থাকাকালীন সময়ের একটি ম্যাচের কথা। স্প্যানিশ কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেই ম্যাচে কিশোর মেসিকে শুরু থেকেই ম্যান-মার্কিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন ডিফেন্ডারকে, ‘বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিলাম। তখন ‘মেসি’ নামে এক অসাধারণ প্রতিভাবান ছেলের কথা অনেক শুনেছিলাম। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই তাকে ম্যান-মার্কিংয়ে রেখেছিলাম। ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ০-০। এরপর যিনি তাকে মার্ক করছিলেন, তিনি হলুদ কার্ড দেখায় আমি তাকে তুলে নিই। আর পরের ১৫ মিনিটেই মেসি চারটি গোল করে বসে।’

সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাকে শিক্ষা দেয় বলে জানান স্পেন কোচ, ‘এর মানে কি আমরা এবারও তাকে ম্যান-মার্কিং করবো? না। তবে তার ওপর খুব কাছ থেকে নজর রাখবো।’

নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসিই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।

ফাইনালের আগে মেসির সঙ্গে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামালের তুলনাও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেন দে লা ফুয়েন্তে, মেসি অনন্য। তিনি অসাধারণ প্রতিভাবান এবং তরুণ ফুটবলারদের জন্য অনুকরণীয় এক উদাহরণ। কিন্তু লামিনেকে লামিনেই থাকতে হবে। তাকে নিজের মতো বেড়ে উঠতে সাহায্য করাই আমাদের দায়িত্ব।’

এদিকে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে চোট পাওয়ার পর ইয়ামালের ফিটনেস নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই উদ্বেগ দূর করেছেন স্পেন কোচ, ‘তার উরুতে জোরে আঘাত লেগেছিল। পেনাল্টি বক্সে তাকে ফাউল করা হয়েছিল, আর জায়গাটা বেশ সংবেদনশীল ছিল। তবে আজ সে দলের সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করেছে।’

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ড- কোনও দলই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি খেলতে চান না। এটাকে কেউ কেউ নির্যাতনও বলছেন। শনিবার রাতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের এই ম্যাচই দুই দলই একাদশে বেশ পরিবর্তন আনছে। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপও তার দলের পরিবর্তন আনার কথা নিশ্চিত করেছেন। এরপরই গুঞ্জন উঠেছে দলের তারকা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে আজ রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামবেন কি না। যদি তিনি না খেলেন তাহলে গোল্ডেন বুট আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির নিশ্চিতই বলা যায়।

তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপ নিশ্চিত করেছেন যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলার জন্য ‘প্রস্তুত’ আছেন। তবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে তিনি নিয়মিত শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন।

এমবাপ্পে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় তারকা ছিলেন এবং তার দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও, তার সংগ্রহে একটি গোল্ডেন বুট যোগ করার পাশাপাশি ইতিপূর্বে জেতা বিজয়ী ও রানার্স-আপ মেডেলের সঙ্গে একটি ব্রোঞ্জ মেডেল যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার লিওনেল মেসির সমান ৮টি গোল করেছেন। তবে আর্জেন্টিনার তারকা একটি অ্যাসিস্ট বেশি করার কারণে ফাইনালের সপ্তাহের আগে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের জন্য গণনা করা হয়।

দেশমপ বলেন, তারা খেলুক বা না খেলুক, একজন প্রধান কোচ হিসেবে আগামীকালের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যা যা করা সম্ভব তা করার দায়িত্ব আমার। আমি আশা করি আমরা তা করবো এবং এটি করার জন্য আমাদের সবটুকু চেষ্টা প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি ম্যাচ। আমার কাছে কিছু সমাধান রয়েছে। কিছু খেলোয়াড় হয়তো খেলবে, আবার ব্যক্তিগত কারণে অন্য কেউ হয়তো খেলতে চাইবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার হওয়া কোনও আলোচনা আমি প্রকাশ করতে চাই না। আমার কাছে সব তথ্য নেই, তবে হ্যাঁ, আমি কিছু খেলোয়াড় পরিবর্তন করবো।

বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কে?

বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফির পাশাপাশি গোল্ডেন বল, বুট ও গ্লাভসেরও লড়াই হয়ে থাকে। এবারের বিশ্বকাপেও ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইগুলো জমে উঠেছে। গোল্ডেন বল ও বুটের জন্য লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে লড়াই চললেও গোল্ডেন গ্লাভসের রেসেও রয়েছে বেশ কিছু গোলকিপার। চলুন দেখে নেওয়া যাব এবার এই পুরষ্কারটি কার হাতে উঠছে।

কাতার বিশ্বকাপে এই পুরস্কারটি পেয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন দল আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। সেবার বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। আর্জেন্টিনাকে দুটি পেনাল্টি শুটআউটে জিতিয়েছেন। তবে এবার সেই ফর্মে নেই তিনি। নকআউটের প্রতিটি ম্যাচেই গোল হজম করতে হয়েছে।

এবার এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত গোল হজম করেছেন ৭টি। মোট সেভ দিয়েছেন ৯টি। বক্সের ভেতরে ও বাইরে বলে টাচে অন্য গোলকিপারদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে তিনি। তার এবার পুরস্কারটি জেতার সম্ভাবনা অনেক কম।

সেমিফাইনাল পর্যন্ত এই পুরস্কারের জন্য তুমুল লড়াই চলেছে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন, ফ্রান্সের মাইগান ও ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ডের মধ্যে। তবে উনাই সিমন ফাইনালে ওঠায় তিনি কিছুটা এগিয়ে গেছেন।

এই বিশ্বকাপে স্পেন গোলরক্ষকের অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখা যাচ্ছে। ৭ ম্যাচে গোল হজম করেছেন মাত্র একটি। এর মধ্যে ফ্রান্স ও পর্তুগালের ম্যাচেও দলকে ক্লিনশিট এনে দিয়েছেন। ৭ ম্যাচে সেভ দিয়েছেন ১৪টি। যদিও ফিফার ওয়েবসাইটে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী তার চেয়ে ভালো করেছেন আরও ২০ গোলকিপার। কিন্তু তার দল ফাইনালে যাওয়ার পেছনে তার অবদান অতুলনীয়। পাশাপাশি তিনি ৬ ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছেন। সে জায়গা থেকে এবার এই পুরস্কারটি তার হাতে ওঠার সম্ভাবনা অনেকে বেশি।

বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৯ গোল হজম করলেও এবারের টুর্নামেন্টে ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ডের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। এখন পর্যন্ত তিনি ১৯টি সেভ দিয়েছেন। বিশ্বকাপে শট সেভের তালিকায় তিনি পাঁচ নম্বরে রয়েছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিতে পারলে গোল্ডেন গ্লাভসের দাবিদার তিনিও থাকবেন।

৭ ম্যাচে ৪ ক্লিনশিট রেখে গোল্ডেন গ্লাভসের দৌড়ে রয়েছেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইগানও। তবে মাত্র ১১টি সেভ দিয়েছেন তিনি। যা উনাই সিমন ও পিকফোর্ডের তুলনায় কম।

এদিকে এবারের বিশ্বকাপে একক গোলকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ সেভ দিয়েছেন প্যারাগুয়ের ওরলান্ডো গিল। যদিও রাউন্ড অব সিক্সটিনে ফ্রান্সের সঙ্গে ১-০ গোলে হেরে তার দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।