রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের মুখে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি প্রেসিডেন্টের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের মুখে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি প্রেসিডেন্টের

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের মুখে দেশের সকল কর্মকর্তা ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দেশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির যেকোনও প্রচেষ্টা জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব অর্থনৈতিক পদক্ষেপ তার সরকারকে আকস্মিক কোনও নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারবে না, যা দেশে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুদ্ধ, অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শত্রুরা দেশের অভ্যন্তরে বিভাজন, ফাটল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

‘কড়া জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন ড্রোন বোটে ইরানের হামলা‘কড়া জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন ড্রোন বোটে ইরানের হামলা
পেজেশকিয়ান মূলত ২০১৯ ও ২০২০ সালের ঘটনাপ্রবাহের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, যা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হয়ে পরবর্তীতে বিস্তৃত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ এখন চরম প্রান্তসীমায় এসে দাঁড়িয়েছে; আমি যদি আবার তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করি, তবে পরিস্থিতি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী সপ্তাহগুলোতে ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য বরাদ্দ থাকা তিন স্তরের পেট্রোল কোটার একটির দাম দ্বিগুণ করা হবে এবং মাসিক কোটার পরিমাণ কমানো হবে।

আবারও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, কেন এখন?আবারও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, কেন এখন?
প্রসঙ্গত গত মাসে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সরকার ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অর্থনৈতিক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা সব ধরনের পথ বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এটি ওয়াশিংটনের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Ads small one

সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইসরাইলের ড্রোন হামলায় লেবানন এ নিহত সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভদাস এর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌচেছে। সকাল ১০ টায় মরদেহ পৌছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। গত ১১ মে লেবানন এর দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ড্রোন হামলায় শুভদাস মারা যান। মৃত্যুর ৩ মাস ২৫ দিন পর মরদেহ আসলো। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শুভ দ্বিতীয়।

 

দরিদ্র পরিবারের দুই শতক বসত ভিটা বিক্রি করে আড়াই বছর আগে লেবাননে যায়। এরপর লাশ হয়ে ফিরলো। হতাশ পুরো পরিবার। আজ দুপুরে সমাধির প্রস্তুতি চলছে। নিয়ে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় লেবানন এ সাতক্ষীরার ৩ জন রেমিটেন্স যোদ্ধা মারা গেল। আশাশুনির নাহিদুল, সদরের ভালুকা চাদপুরের শফিকুল ও কলারোয়ার শুভ দাস।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় অফিসের কাউন্সিলর মইন উদ্দীন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকার চেক গতকাল রাতেই দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে আরো ৩ লাখ ও কয়েকমাস পর জীবন বীমার আরো ১০ টাকা অনুদান পাবেন।

ভোমরায় এমএসপি ও এমএনপি সদস্যদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ভোমরায় এমএসপি ও এমএনপি সদস্যদের সমন্বয় সভা

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোমরা মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ (এমএসপি) আহবায়ক সৌমেন কুমার সরকার ও মানবাধিকার নারী পরিষদ (এমএনপি) আহবায়ক মধুমালা গাইন এর সভাপতিত্বে সদস্যদের সাথে পৃথক দুটি দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সভায় নারী শিশু পাচার এবং শিশুদের জন্ম নিবন্ধন ও বাল্যবিবাহসহ এলাকার মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শেষে সদস্যদের উদ্যোগে এলাকাতে উক্ত বিষয়ের উপরে মানুষকে সচেতন করার জন্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার সিদ্ধান্ত হয়।

 

স্বদেশ সংস্থার নাগরিকতা প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অফিসার মো: আজাহারুল ইসলাম ও প্যারালিগ্যাল মো: শরিফুল ইসলাাম উপস্থিত ছিলেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বনবিবির সন্তানেরা এবং বাঘের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
বনবিবির সন্তানেরা এবং বাঘের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি

মো. মামুন হাসান

সুন্দরবনের গহীনে যখন ভোরের কুয়াশা কাটতে শুরু করে, তখন ছোট ছোট নৌকায় চড়ে একদল মানুষ রওনা দেয় এমন এক যুদ্ধযাত্রায়, যার প্রতিপক্ষ পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর শিকারিদের একজন। এরা মৌয়াল। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এই মানুষগুলোর সাহসের ওপর, যারা প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন মাসে সুন্দরবনে ঢোকেন কেবল একটি জিনিসের খোঁজে, বন্য মধু।

 

এই পেশাটি শুনতে যতটা রোমান্টিক লাগে, বাস্তবতা ততটাই নির্মম। প্রতিটি মৌসুমে গড়ে কয়েকজন মৌয়াল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণে প্রাণ হারান, আরও অনেকে ফিরে আসেন গুরুতর জখম নিয়ে। সরকারি হিসাবে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, বাস্তব সংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে মনে করেন স্থানীয়রা, কারণ অনেক মৃত্যু কিংবা নিখোঁজের ঘটনা কখনো নথিভুক্তই হয় না। যে বনজীবী পরিবার একবার তার উপার্জনক্ষম সদস্যকে বাঘের পেটে হারায়, তার জন্য অপেক্ষা করে থাকে কেবল দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার এক দীর্ঘ ছায়া।

 

এই ভয়াবহ ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মৌয়ালরা যে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক আশ্রয় গড়ে তুলেছেন, তার কেন্দ্রে আছেন বনবিবি। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মৌয়ালদের কাছেই তিনি সমান শ্রদ্ধার পাত্র, এক অসাম্প্রদায়িক লোকদেবী, যিনি বনের রক্ষাকর্ত্রী বলে বিশ্বাস করা হয়। বনে ঢোকার আগে প্রতিটি নৌকায় বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়, মানত করা হয়, প্রার্থনা করা হয় নিরাপদে ফেরার জন্য। এই আচার কোনো নিছক কুসংস্কার নয়, বরং এক মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি, যা মানুষকে অজানা বিপদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস জোগায়।

 

আরও চমকপ্রদ হলো বাঘের সঙ্গে মৌয়ালদের এক ধরনের অলিখিত সম্পর্কের ধারণা, যাকে স্থানীয় লোকবিশ্বাসে প্রায়ই এক চুক্তির রূপে দেখা হয়। দক্ষিণরায় নামের বাঘ দেবতার কাহিনি এই বিশ্বাসের মূলে। কিংবদন্তি অনুযায়ী বনবিবি ও দক্ষিণরায়ের মধ্যে এক আপসরফা হয়েছিল, যেখানে মানুষ যদি বনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সীমিত পরিমাণে সম্পদ আহরণ করে, তবে বাঘ তাকে আক্রমণ করবে না। মৌয়ালরা তাই মধু সংগ্রহের সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন, যেমন প্রয়োজনের অতিরিক্ত মৌচাক না ভাঙা, নির্দিষ্ট আচার পালন করে বনে প্রবেশ করা, কিংবা মুখোশ পরিধান করে বাঘকে বিভ্রান্ত করার কৌশল অবলম্বন করা। এই বিশ্বাস কার্যকর প্রতিরোধমূলক আইন না হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক গভীর পরিবেশগত প্রজ্ঞা, প্রকৃতি থেকে নিলে সীমা মেনে নেওয়ার শিক্ষা।

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই যে জীবনবাজি রেখে মধু সংগ্রহ করে আনা মৌয়ালরা, তাদের প্রাপ্য মূল্য কি তারা পান। বাজারে যে মধু বিক্রি হয় চড়া দামে, সেই মধুর প্রকৃত উৎপাদনকারীর ভাগে জোটে সামান্যই। মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে মুনাফার সিংহভাগ চলে যায় অন্য কারো পকেটে। যে মানুষটি বাঘের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নেন, তার সন্তানের শিক্ষা কিংবা পরিবারের স্বাস্থ্যসেবার ন্যূনতম নিশ্চয়তাও অনেক সময় থাকে না।

 

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মৌয়ালদের জন্য বিমা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহের যে উদ্যোগ নেওয়ার কথা, তা এখনো অনেকাংশে কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। বন বিভাগের অনুমতিপত্র নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল, আর দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ আরও দুর্গম। অথচ এই মানুষগুলোই সুন্দরবনের প্রকৃত রক্ষক, কারণ তারা জানেন বন বাঁচলেই তাদের জীবিকা বাঁচবে।

 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের এই মৌয়াল সম্প্রদায়ের গল্প আসলে বাংলাদেশের এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র, যারা প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এক অনন্য দর্শন ধারণ করেও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় থেকে যান অবহেলিত। বনবিবির প্রতি তাদের বিশ্বাস আর বাঘের সঙ্গে তাদের সেই নীরব সমঝোতা কেবল লোকজ সংস্কৃতির উপাদান নয়, এটি টিকে থাকার এক আশ্চর্য কৌশল, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিমার্জিত হয়ে এসেছে। এই কৌশলকে সম্মান জানিয়ে যদি রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়ায়, তবেই সুন্দরবন এবং তার সন্তানেরা উভয়েই রক্ষা পাবে।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।