শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় নয় লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় নয় লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ পদ্মশাখরা, বৈকারী, হিজলদী, কুশখালী, মাদরা, চান্দুরিয়া ও কাকডাঙ্গা বিওপি এবং ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ঔষধ, শাড়ি, আমুল দুধ, গোলপাপ্পা ও উইন কোরেক্স সিরাপ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, বৈকারী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার নাইজেরিয়াপাড়া হতে ৮ হাজার টাকার ভারতীয় উইন কোরেক্স সিরাপ আটক করে। হিজলদী বিওপির পৃথক তিনটি আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালী, তালসারি ও গোবরপোতা হতে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

 

কুশখালি বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার কুশখালি মসজিদ মোড় হতে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে। মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার শ্মশান ঘাট হতে ১ লাখ ৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার গেড়াখালি হতে ৪২ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে। চান্দুরিয়া বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার কাঁদপুর হতে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, ঝাউডাঙ্গা ক্যাম্পের আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার গোবিন্দপুর হতে ১০ হাজার ৫০০ টাকার ভারতীয় আমুল দুধ ও গোলগাপ্পা আটক করে।
আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/ জলাবদ্ধতা নিরসনে চাই কার্যকর পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ জলাবদ্ধতা নিরসনে চাই কার্যকর পদক্ষেপ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আবাদ চ-ীপুর গ্রামের বাসিন্দারা কৃত্রিম জলাবদ্ধতার দরুন যে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন, তা এক করুণ ও উদ্বেগজনক চিত্র ফুটিয়ে তোলে। প্রায় ৫০০ ঘরবাড়ি, চলাচলের পথ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে আছে। জীবনের স্বাভাবিক গতি থমকে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন রান্নাবান্না ও চলাচলের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও যেখানে কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও কষ্ট অমূলক নয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই সংকটের মূলে রয়েছে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা মৎস্য ঘের এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করা। জনস্বার্থকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার বা অপরিকল্পিত ভূ-ব্যবহার যে পুরো একটি সমাজকে কীভাবে অচল করে দিতে পারে, শ্যামনগরের এই ঘটনা তারই এক স্পষ্ট উদাহরণ। এমনকি কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় পরিস্থিতি কতটা স্পর্শকাতর রূপ নিয়েছে।

পরিস্থিতি নিরসনে ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা প্রশাসনের যে উদ্যোগের কথা জানা যাচ্ছে, তা প্রশংসনীয় হলেও জরুরি হলো কাজের দ্রুত বাস্তবায়ন। শুধু সমস্যার আশ্বাস নয়, পানি দ্রুত নিষ্কাশনে কার্যকরী পাইপ বসানো ও স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেন এমন কৃত্রিম জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য স্থায়ী তদারকি ও পরিকল্পনা জরুরি। জনভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করবেনÑএটাই প্রত্যাশা।

তালায় জেলে ও কৃষকদের মুখোমুখি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
তালায় জেলে ও কৃষকদের মুখোমুখি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

তালা প্রতিনিধি: জলদস্যুদের হুমকি ও হামলা, খাসজমি বন্দোবস্ত, পানি সংকট এবং নদী-খালের নাব্যতাসহ নানা সমস্যার কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের কাছে তুলে ধরেছেন সাতক্ষীরার তালার জেলে, কৃষক, ভূমিহীন, আমচাষি ও মৎস্যচাষিরা।

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে উপজেলার গোনালী নলতা, হরিচন্দ্রকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে আলাদা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার’ (পিপিআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকার কথা শুনতেই এই আয়োজনে অংশ নেন। মতবিনিময়কালে জেলে ও মৎস্যজীবীরা নদী-জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতা এবং জলদস্যুদের অত্যাচার-হুমকির কথা তুলে ধরেন। কৃষক ও আমচাষিরা সেচ সংকটসহ কৃষিকাজের নানান প্রতিবন্ধকতা জানান। পাশাপাশি ভূমিহীন পরিবারগুলো খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জটিলতা তুলে ধরে।

মতবিনিময় সভায় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা। এটি কার্যকর করতে হলে মাঠপর্যায়ের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শুনে তথ্যনির্ভর সুপারিশ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে জেলে, ভূমিহীন, কৃষক, মৎস্যচাষি ও আমচাষিদের দুঃখ-কষ্টের কথা সরাসরি শুনলাম। এখানকার বড় সমস্যার একটি হলো জলদস্যুদের আক্রমণ ও হুমকি। খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সরাসরি না এলে স্থানীয় মানুষের এই বাস্তব সমস্যাগুলো এত কাছ থেকে বোঝা সম্ভব হতো না।’

খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলুর পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ এম হাশেমী, পিপিআরসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী নমিরা শামীম, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ মাহবুবা হক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপক জয়ন্ত কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালা প্রেসক্লাবে অভ্যর্থনা: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সাতক্ষীরার তালায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেছেন।

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি তালা প্রেসক্লাবে যান। সেখানে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

শুভেচ্ছা জানান তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দার ফারুক হোসেন, সহসভাপতি আসাদুজ্জামান রাজু, অর্থ সম্পাদক মোতাহিরুল শাহীন, প্রচার সম্পাদক সেকেন্দার আবু জাফর বাবু, নির্বাহী সদস্য প্রণব ঘোষ বাবলু, জয়দেব চক্রবর্তী, ইমরান হোসেন, এস এম নাহিদ হাসান, তাপস সরকার, কামাল হোসেন, সেলিম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, খলিলুর রহমান, সুমন রায় গণেশ ও সাংবাদিক মীর মিল্টন।

 

এ সময় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তালা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জি এম নুরইসলামের স্মরণসভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জি এম নুরইসলামের স্মরণসভা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সংবাদপত্র জগতের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত-এর সম্পাদক ও প্রকাশক জি এম নুরইসলামের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেবহাটা প্রেসক্লাবের আয়োজনে শুক্রবার বিকেল চারটায় পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন দেবহাটা পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
স্মরণসভায় দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক দৃষ্টিপাত-এর নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্ল্যা।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অব. বারী, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের সম্পাদক মাওলানা এমদাদুল হক, পারুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সানা, সাধারণ সম্পাদক হাসান সরাফী, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির বাবু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি চন্দ্রকান্ত মল্লিক, অধ্যাপক রাজু আহমেদ, অধ্যাপক আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি চিকিৎসা কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান, ফেয়ার মিশনের পরিচালক কাদের মহিউদ্দিন ও সাংবাদিক উত্তম কুমার।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন ঘোষ বাপ্পী, কোষাধ্যক্ষ এস কে অভি, সহসভাপতি সুমন পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন, উপজেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক হিরন কুমার মন্ডল, সদস্যসচিব আবীর হোসেন লিয়ন, বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকনসহ অনেকে।

গত ২৭ আগস্ট দুপুর ১টার পর ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ সাংবাদিক জি এম নুরইসলাম।

নব্বইয়ের দশকে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতার হাতেখড়ি হয়। পরে ২০০১ সালে তিনি দৈনিক দৃষ্টিপাত প্রকাশ করেন এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করেন।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, জি এম নুরইসলাম একজন সৎ, আলাপচারী ও ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তিনি কখনো প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাঁর পত্রিকায় কারও বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেননি। অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।