রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সামাজিক পর্যটন: ভ্রমণের অধিকার থেকে সামাজিক ন্যায়বিচারের পথে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সামাজিক পর্যটন: ভ্রমণের অধিকার থেকে সামাজিক ন্যায়বিচারের পথে

মো: মামুন হাসান

পর্যটনকে আমরা সাধারণত অবকাশ যাপন, বিনোদন কিংবা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে পর্যটনের ধারণা অনেক দূর বিস্তৃত হয়েছে। এটি এখন কেবল ভ্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, মানবিক মর্যাদা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নাগরিক অধিকারের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এই বাস্তবতায় সামাজিক পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ধারণা হিসেবে বিশ্বব্যাপী নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর মূল দর্শন হলো, ভ্রমণ কেবল বিত্তবানদের বিশেষ সুবিধা নয়; এটি সমাজের সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি মানবিক অধিকার।

 

বিশ্বজুড়ে পর্যটন শিল্প যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে এই উন্নয়নের সুফল কি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে? বাস্তবতা বলছে, তা নয়। নিম্ন আয়ের পরিবার, শ্রমজীবী মানুষ, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পর্যটন এখনো অনেকাংশে অধরাই রয়ে গেছে। ফলে পর্যটনের যে আনন্দ, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও মানসিক প্রশান্তি, তা সমাজের একটি বড় অংশ থেকে কার্যত বঞ্চিত হচ্ছে। সামাজিক পর্যটনের ধারণা এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক অবস্থান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপে সামাজিক পর্যটনের বিকাশ মূলত কল্যাণরাষ্ট্রের ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। তখন উপলব্ধি করা হয় যে, কর্মজীবী মানুষের বিশ্রাম, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ। ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, পর্তুগালসহ বহু দেশে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে স্বল্প আয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী এবং প্রবীণদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ভ্রমণ কর্মসূচি চালু করা হয়। এর সুফল ছিল বহুমাত্রিক। একদিকে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে, অন্যদিকে পর্যটন শিল্পও সারা বছর সচল থেকেছে। মৌসুমি পর্যটনের সীমাবদ্ধতা কমেছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতি নতুন প্রাণ পেয়েছে।

 

বাংলাদেশের বাস্তবতায় সামাজিক পর্যটনের গুরুত্ব আরও বেশি। দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগোলেও অবকাশ ও ভ্রমণের সুযোগ এখনো জনসংখ্যার একটি বড় অংশের নাগালের বাইরে। অনেক পরিবার আছে, যারা জীবনে কখনো সমুদ্র দেখেনি, পাহাড়ে যায়নি কিংবা দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পায়নি। এটি শুধু অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার প্রশ্ন নয়; বরং সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও একটি বৈষম্যের প্রতিফলন।

 

অথচ বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সামাজিক পর্যটন বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর অঞ্চল, চরাঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা এবং গ্রামীণ জনপদকে কেন্দ্র করে স্বল্প ব্যয়ের সামাজিক পর্যটন কর্মসূচি গড়ে তোলা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষামূলক ভ্রমণ, শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিশেষ অবকাশ প্যাকেজ, প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যবান্ধব পর্যটন এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে পর্যটন হবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

 

সামাজিক পর্যটনের সবচেয়ে বড় শক্তি এর সামাজিক প্রভাব। একটি দেশের নাগরিক যখন নিজের দেশকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়, তখন তার মধ্যে জাতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতি নতুন উপলব্ধি তৈরি হয়। এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলের জীবনধারা সম্পর্কে জানতে পারে। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় সংহতি শক্তিশালী হয়। ভ্রমণ মানুষকে কেবল নতুন স্থান দেখায় না; এটি নতুন চিন্তা, নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়।

 

বর্তমান সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়। নগরজীবনের চাপ, কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্রমণকে বিলাসিতা নয়, বরং মানবিক সুস্থতার একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সামাজিক পর্যটন সেই সুযোগকে আরও বিস্তৃত ও গণমুখী করতে পারে।

 

তবে সামাজিক পর্যটন বাস্তবায়নের জন্য শুধু নীতিগত স্বীকৃতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ। সরকার পর্যটন উন্নয়ন নীতিতে সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। শিক্ষার্থী, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিবহন ও আবাসনে বিশেষ সুবিধা চালু করা যেতে পারে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সামাজিক পর্যটন তহবিল গঠনে অংশ নিতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে স্বল্প ব্যয়ের কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন মডেল গড়ে তোলা যেতে পারে।

 

বাংলাদেশে পর্যটন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু পর্যটনের একটি মানবিক ও সামাজিক মাত্রাও রয়েছে, যা প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। সামাজিক পর্যটন সেই উপেক্ষিত মাত্রাটিকেই সামনে নিয়ে আসে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়; বরং সুযোগের ন্যায়সঙ্গত বণ্টনও।

 

ভ্রমণ মানুষের দৃষ্টিকে প্রসারিত করে, মনকে উদার করে এবং সমাজকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। তাই সামাজিক পর্যটনকে কেবল পর্যটন নীতির একটি অংশ হিসেবে নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। যে সমাজ তার সকল নাগরিককে দেশকে জানার, দেখার এবং অনুভব করার সুযোগ দেয়, সেই সমাজই প্রকৃত অর্থে উন্নত, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী সমাজে পরিণত হতে পারে।

মো: মামুন হাসান, শিক্ষক ও কলাম লেখক।

Ads small one

সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নামে থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নামে থানায় মামলা

পত্রদূত রিপোর্ট: কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদি হয়ে শনিবার রাতে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত জনকে আসামী করেছেন। মামলায় কিশোর গ্যাং এর নেতা নাহিদ হাসানকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে মুহিদ হাসান বনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন, শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে নাহিদ হাসান, ফিরোজউদ্দিনের ছেলে মুহিদ হাসান বনি, তার ভাই জাকির হোসেন রণি, সিরাজুল ইসলামের ছেলে আরিজুল ইসলাম, আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না, রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ জুয়েল, মোঃ হাসানের ছেলে সাগর, শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে সামি, জমিদার মুন্সির ছেলে মোঃ নাঈম, নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে রাশিদুজ্জামান রাশেদ, মোঃ মিঠুর ছেলে হুজাইফা ও মিজানুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলাম।

এদিকে জাকারিয়াকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা ছাড়াও ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখির মাদ্রাসার সুপার মোঃ রমজান আলীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় তার ভাইয়ের দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী নাহিদ। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল শহরের ফুচকা বাংলার পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী নাহিদ। এ ছাড়া শহরতলীর বাঁকাল ইসলামপুর চর এলাকার এক যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে কুপিয়ে হতার চেষ্টাকারি নাহিদ। এ ছাড়া নাহিদের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ৪৭ নং মামলা ও ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল ৮৮ নং মামলা রয়েছে। যাহা আজো বিচারাধীন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, রবিবার সকালে বনিকে আদালতে পাঠানো হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমা- আবেদন জানানো হবে।

প্রসঙ্গত. শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসের প্রধান ফটকের পাশে চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে বিরোধের জেরে নাহিদসহ কয়েকজন তাকে মারপিট শুরু করলে তাকে বাঁচাতে যেয়ে ছুরিকাঘাতে জাকারিয়া মারা যায়। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসের পাশে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল।

 

সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন বলেন, তার ফুফাত ভাই জাকারিয়া হতাকা-ে যে মামলা করা হয়েছে তা সিসি টিভি দেখেই করা হয়েছে। এখানো নাহিদ বা কাউকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকার কথা বলার সূযোগ নেই। নাহিদকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ পরিবীক্ষণ দলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিতকরণসহ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা আজ (রবিবার) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতি জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, বর্তমান সরকারের ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যার মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। এরই অংশ হিসেবে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং একটি পরিবীক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে।

 

সকল স্তরের মানুষ এবং সমাজকে সচেতন করতে এ অভিযান কার্যকর করতে হবে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে প্রতি শনিবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনে জমা দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা: রনী খাতুনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যবিবরণী

ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। অনেক মানুষ মনে করেন, যে কোন সমস্যায় সমাজকল্যাণের কাছে গেলে তার সমাধান পাওয়া যাবে। অথচ এসব সমস্যার সবকিছু সমাধান করা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থারও এসব বিষয় দেখার দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আজ (রবিবার) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের দপ্তর থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে খুলনা সিএসএস আভা সেন্টারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রম অবহিতকরণ শীর্ষক খুলনা বিভাগীয় সেমিনারের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মানুষের চাওয়ার যেমন শেষ নেই, তেমনি বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে চেষ্টা থাকে। ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার। সামনে ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, তার প্রশিক্ষণ আজ থেকে শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচি উপজেলা পর্যায় এবং ইউনিয়ন ও মাঠপর্যায়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুপারভিশন খুবই প্রয়োজন। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনাকাঙ্কিত ঘটনার বিষয়ে কীভাবে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে সবাইকে আরও সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে। মানুষ যত বেশি আধুনিক ও উন্নত হচ্ছে, সমাজেও তত ধরনের বিভিন্ন সমস্যা ও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাজকল্যাণের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। স্বাভাবিক জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনবল বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি বাড়ানো এবং পদোন্নতির বিষয়ে তাঁরা কাজ করছেন। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে, তবে আরও অনেক কিছু দৃশ্যমান হতে হবে। আজকের আয়োজনটি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে একটি ফ্রি ও ফ্রেন্ডলি আলোচনা এবং ইন্টারএকটিভ সেশনের মতো হবে। এর মাধ্যমে সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আয়োজকদের সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান শেষ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

সেমিনারে খুলনা সিএসএস আভাসেন্টারে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) মোহা: কামরুজ্জামান। সেমিনারে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, জেলা সমাজসেবা অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী