বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে ৪১ শতাংশ, জমা দাঁড়ালো কত?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে ৪১ শতাংশ, জমা দাঁড়ালো কত?

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বার্ষিক ব্যাংকিং পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই পরিমাণ আমানত বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত সর্বোচ্চ ৮৭১ দশমিক ১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছিল। এরপর দুই বছর ধারাবাহিকভাবে আমানত কমে গেলেও ২০২৪ সালে তা আবার বাড়তে শুরু করে এবং ২০২৫ সালে আরও বড় উল্লম্ফন দেখা গেল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল ৫৯০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছে প্রায় ২৪৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

আমানত বৃদ্ধির মূল উৎস ব্যাংকগুলো

এসএনবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমানত বৃদ্ধির প্রায় পুরো অংশই এসেছে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর সুইস ব্যাংকে রাখা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যা আগের বছরের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে ৪৩ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ, সুইস ব্যাংকে থাকা মোট বাংলাদেশি আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই এখন ব্যাংকগুলোর নামে রাখা অর্থ। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ ২০২৩ সালে এ হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৩৫ শতাংশ।

অন্যদিকে ব্যক্তি পর্যায়ের হিসাবগুলোতে রাখা অর্থ কমেছে। ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে থাকা আমানত ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে কমে ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছে।

ব্যাংকারদের মতে, এ ধরনের অর্থ কোনো ব্যক্তিগত গচ্ছিত সম্পদ নয়। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ সংরক্ষণ করে থাকে। কোথায় বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে, তার ওপর নির্ভর করে এসব তহবিল স্থানান্তর করা হয়।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে ব্যাংকগুলোর রাখা অর্থকে কালো টাকা বা পাচারকৃত অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত আন্তর্জাতিক লেনদেন, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ কৌশলের অংশ।

তাহলে কি কালো টাকার হিসাব পাওয়া যায়

সুইস ব্যাংকের আমানত নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ সুইজারল্যান্ডে পাচার হয়ে থাকে। তবে এসএনবির প্রকাশিত তথ্য সেই বিতর্কের সরাসরি উত্তর দেয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে শুধুমাত্র সুইস ব্যাংকগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত দায় ও সম্পদের তথ্য থাকে। এখানে কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে, অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে বা তৃতীয় দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে অর্থ জমা রাখলে তা বাংলাদেশি আমানত হিসেবে গণনা নাও হতে পারে।

এছাড়া গচ্ছিত স্বর্ণ, মূল্যবান সম্পদ বা ট্রাস্টের আওতায় থাকা অনেক সম্পদের তথ্যও এ পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয় না।

ফলে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ঘোষিত আমানতের পরিমাণ এবং সম্ভাব্য পাচার হওয়া সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ এক নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

গোপনীয়তার যুগ শেষ, তবুও কেন সুইস ব্যাংক

একসময় সুইস ব্যাংক ছিল কঠোর গোপনীয়তার প্রতীক। বিশ্বের ধনী ব্যক্তি, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা পরিচয় গোপন রেখে অর্থ সংরক্ষণের জন্য সুইজারল্যান্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতেন।

তবে গত এক দশকে পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সুইজারল্যান্ড স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে দেশটি ‘অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন’ (এএইওআই) কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আর্থিক তথ্য বিনিময় করছে।

বর্তমানে ১০০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড ব্যাংক হিসাব সম্পর্কিত তথ্য বিনিময় করে। এতে হিসাবধারীর নাম, ঠিকানা, কর শনাক্তকরণ নম্বর, হিসাবের স্থিতি এবং আয়ের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশের কর কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যায়।

তবে বাংলাদেশ এখনো এএইওআই কাঠামোয় যোগ দেয়নি। ফলে সুইস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময়ের সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এ ব্যবস্থায় যুক্ত হলে বিদেশে গচ্ছিত সম্পদ শনাক্ত এবং কর ফাঁকি অনুসন্ধানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান

সুইস ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরেই রয়েছে বাংলাদেশ।

২০২৫ সালে ভারতীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানত ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। যদিও আগের বছরের তুলনায় ভারতের আমানত ৮ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশের আমানত ৮৩৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং এ অঞ্চলের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

আফগানিস্তানের আমানত শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—৪৮ শতাংশ। তবে দেশটির মোট আমানত মাত্র ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ হওয়ায় এর আর্থিক গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম।

অন্যদিকে নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটানের আমানত কমেছে। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের আমানত বেড়েছে।

এই তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

সুইস ব্যাংকের আমানতের এই পরিসংখ্যান শুধু বিদেশে রাখা অর্থের হিসাব নয়; এটি দেশের আর্থিক প্রবণতা, ব্যাংকিং খাতের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম এবং অর্থপাচার বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষ করে এমন সময়ে এই তথ্য প্রকাশিত হলো, যখন বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন, অর্থপাচার রোধ এবং কর ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে কাজ করছে। ফলে সুইস ব্যাংকে আমানতের এই বড় উল্লম্ফন অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে একটি বিষয় স্পষ্ট—২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বৃদ্ধির মূল কারণ ব্যক্তি পর্যায়ের অর্থ নয়, বরং বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় বিদেশে রাখা তহবিলের বৃদ্ধি।

Ads small one

ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

দেশীয় চলচ্চিত্রে ব্যাপক আলোড়ন তোলা ‘বরবাদ’-এর সাফল্যের পর আবারও এক হচ্ছেন সেই ছবির পরিচালক ও নায়ক। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন সিনেমায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শাকিব খান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নতুন প্রজেক্টটির আনুষ্ঠানিক সাইনিং সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ‘বরবাদ’ মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দর্শকদের প্রশংসাও কুড়ায়। ছবিটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্যে পরিণত হয়।

ঈদে মুক্তির পর প্রথম সাত দিনেই প্রায় ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার টিকিট বিক্রির দাবি করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিনেমাটি এবং বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেয়।

একই টিমের নতুন সিনেমার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ।

 

যদিও নতুন সিনেমাটির নাম কিংবা গল্প এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হবে।

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় জানিয়েছেন, এটি একটি অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারই শাকিব খানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিকে, শাকিব খানও তার ফেসবুক পেজে সাইনিংয়ের মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “বরবার টিম আবারও ফিরছে। চলো ফের নতুন ইতিহাস গড়ি।”

নির্মাতাদের দাবি, ‘বরবাদ’-এর মতো এবারও দর্শকদের জন্য বড় পরিসরের একটি চমক নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তি লুকা মদরিচ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়সের ভারে দুজনই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালের শেষ ষোলোর লড়াই তাই শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নয়, বরং দুই মহাতারকার একজনের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানার মঞ্চও। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে আজ রাত ৩টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস।

পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনহা ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মদরিচ ও রোনালদো বিশ্ব ফুটবলের দুই অসাধারণ আইকন। ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সৌভাগ্য হয়েছে, যা আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। মদরিচের সঙ্গেও আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল। যতটুকু দেখেছি, তিনি ভীষণ ভদ্র ও আন্তরিক একজন মানুষ। কিন্তু আগামীকাল একজনের যাত্রা শেষ হবেই। আমি চাই, সেটি যেন মদরিচের হয়।’

ক্রমশ সময় ফুরিয়ে আসছে দুই তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ৪১ বছর বয়সী মদরিচ এবং ৪০ বছর বয়সী রোনালদোর এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ফলে বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি একজনের জন্য হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুজন মিলে খেলেছেন ৪৭টি ম্যাচ। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাদের ঝুলিতে উঠেছে মোট ছয়টি ব্যালন ডি’অর, যার পাঁচটিই রোনালদোর। আর ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজও দুই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, ‘তারা জনমতের ঊর্ধ্বে থাকা ফুটবলার। এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের ধরে রাখা-ই তাদের বিশেষ করে তুলেছে। ৪০ পেরিয়েও মদরিচ নিয়মিত খেলছেন এবং দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই কথা আমাদের অধিনায়ক রোনালদোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বয়স কেবল একটি সংখ্যা। আসল বিষয় হলো, তারা মাঠে কী দিচ্ছেন এবং ড্রেসিংরুমে কী ধরনের উদাহরণ তৈরি করছেন।’

এবারের বিশ্বকাপেও দুজনই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তবে বয়সের ছাপ যে তাদের পারফরম্যান্সে পড়েছে, সেটিও স্পষ্ট।

পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচেই পুরো ২৭০ মিনিট খেলেছেন রোনালদো। করেছেন দুটি গোলও। তবে সতীর্থদের জন্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। ২৫০ মিনিটের বেশি খেলা ফরোয়ার্ডদের মধ্যে বল স্পর্শ, বল দখল, প্রগ্রেসিভ পাস এবং দ্বৈরথে অংশ নেওয়ার পরিসংখ্যানে তিনি পিছিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে মদরিচ খেলেছেন ২২৯ মিনিট। একটি অ্যাসিস্টসহ পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। তবে ২২৫ মিনিটের বেশি খেলা মিডফিল্ডারদের মধ্যে বল দখল ও দ্বৈরথের পরিসংখ্যানে তিনিও অনেকটাই নিচের দিকে।

তাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দুই কিংবদন্তির চেয়ে তাদের সতীর্থদের ভূমিকাই হতে পারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাঝমাঠের লড়াইকে দুই কোচই ম্যাচের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে দেখছেন।

এই জায়গায় পর্তুগালের শক্তি নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো। ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা ও রুবেন নেভেস—প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে বিশ্বের সেরাদের একজন।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ মদরিচ ও মাতেও কোভাচিচের পাশাপাশি উদীয়মান পেতার সুচিচকে নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি মিডফিল্ড গড়ে তুলেছে ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও মনে করছেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঝমাঠেই। তার ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে এটি হবে বিশাল এক লড়াই। সম্ভবত মধ্যমাঠের আধিপত্যই ঠিক করে দেবে ম্যাচের ফল।’

খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধের বার্তা বিশ্বকে পৌঁছে দিতেই এই উপস্থিতির আহ্বান জানান তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকতা প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, আমি সকল ইরানি জনগণকে আহ্বান জানাই, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইসলামি ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করুন। তিনি আরও বলেন, প্রতিশোধের জন্য জাতির আহ্বান যেন পুরো বিশ্বের কানে পৌঁছে যায়।

ঐতিহাসিক এই আয়োজন প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ চরম উত্তাল থাকায় খামেনির শেষকৃত্য এতদিন স্থগিত ছিল। তবে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সই হওয়ার পর, বর্তমানে চলমান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তার বাসভবনে নিহত হন। শনিবার তার মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হবে। সেখানে তার নিহত স্বজনদের মরদেহও প্রদর্শন করা হবে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। তাহলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান।

শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে তেহরানের পাশাপাশি পবিত্র শহর কুম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি পালন করা হবে। একই সঙ্গে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে শহরের কেন্দ্রের বড় অংশে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।