বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

তারিক ইসলাম

‎‘সুন্দরবন’—নামটির সঙ্গে গভীর রক্তের টান যেন ‘সুন্দরী’ গাছের। যে বৃক্ষের সমৃদ্ধি আর বিশালতায় টিকে আছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের মূল সৌন্দর্য ও পরিচয়, সেই সুন্দরী গাছই আজ আক্রান্ত এক মরণব্যাধিতে। বনজুড়ে চলছে গাছগুলোর নীরব বিদায়ের করুণ সুর। কেবল পাতা আর ডালপালা শুকিয়ে যাওয়া নয়, মড়ক ছড়িয়ে পড়ছে মূল কাণ্ড পর্যন্ত। এর পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে নতুন চারা গজানোর হারও। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র যে বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সুন্দরী গাছের এই অসুস্থতা তারই এক মারাত্মক বার্তা।

‎সম্প্রতি সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে প্রকাশিত একটি সমীক্ষার ফলাফল পুরো দেশকে শঙ্কিত করে তুলেছে। ২০২৪–২৫ সালে পরিচালিত ‘সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থার পরিবীক্ষণ’ শীর্ষক দুই বছর মেয়াদি সমীক্ষা অনুযায়ী, বনের প্রায় ৩৯ শতাংশ সুন্দরী গাছই এখন ‘আগামরা’ বা ‘টপ-ডাইং’ (Top-Dying) রোগে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে আক্রান্ত গাছের আনুমানিক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি ৯৫ লাখ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে দুই কোটিরও বেশি গাছ গুরুতরভাবে মরে যাওয়ার মুখোমুখি।

‎পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ পরিচালনায় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক স্বপন কুমার সরকারসহ বিশেষজ্ঞ দলের গবেষণায় এই ভয়াল চিত্র উঠে এসেছে।

‎সুন্দরবনের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রধান বৃক্ষ যখন একযোগে রোগাক্রান্ত হয়, তখন এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের সমস্যা থাকে না; পুরো বনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে দেয়। গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উজান থেকে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের নোনা পানির অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি—এসব মিলেই সুন্দরী গাছের জীবনীশক্তি শুষে নিচ্ছে। সুন্দরবনের মিষ্টি পানি ও মৃদু লবণাক্ত পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না থাকায় মাটির বায়ুসঞ্চালন কমছে, যা গাছগুলোর গোড়া ও কাণ্ডকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার ওপর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও পলি জমার কারণে বন নিজের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে।

‎

‎সুন্দরবন কেবল নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের থাবা থেকে বছরের পর বছর বুক দিয়ে বাংলাদেশকে আড়াল করে রেখেছে এই ম্যানগ্রোভ বন। আর সেই বনের মূল কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ সুন্দরী গাছ যদি একে একে উজাড় হয়ে যায়, তবে গোটা উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ দুর্লভ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

‎

‎সুন্দরবনের এই নীরব আর্তনাদ আর উপেক্ষা করার সময় নেই। সময় এসেছে সুনির্দিষ্ট ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার:

‎

‎১. মিষ্টি পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার: উজান থেকে সুন্দরবনমুখী নদ-নদীগুলোতে মিষ্টি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে আন্তঅঞ্চলীয় ও জাতীয় পানিসম্পদ নীতিতে বিশেষ জোর দিতে হবে।

‎

‎২.পলি নিরসন ও নদী-খাল খনন: বনের অভ্যন্তরীণ যে নদ-নদী ও খালগুলো পলি ভরাট হয়ে মিষ্টি ও নোনা পানির ভারসাম্য নষ্ট করছে, সেগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে।

‎

‎৩.রোগ প্রতিরোধে জোরালো গবেষণা: আগামরা রোগের সঠিক জীবাণু বা অণুজীব শনাক্ত করে তা থেকে সুন্দরী গাছকে রক্ষায় বন অধিদপ্তর এবং বিজ্ঞানীদের সমন্বিত গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।

‎

‎৪.সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা ও নজরদারি: বনের যেসব এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি, সেগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে নতুন চারা উৎপাদন ও বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

‎

‎সুন্দরবন ছাড়া আমাদের মানচিত্রের এক বিরাট অংশকে কল্পনা করা যায় না, আর সুন্দরী গাছ ছাড়া সুন্দরবনের অস্তিত্ব অসম্পূর্ণ। ১২ কোটি ৯৫ লাখ সুন্দরী গাছের রোগাক্রান্ত হওয়া কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের প্রকৃতির বিপন্নতার স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এখনই যদি কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে হয়তো মানচিত্রে ‘সুন্দরবন’ নামটি থেকে যাবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে তার আসল রূপকার—আমাদের ‘সুন্দরী’।

‎লেখক : তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে আড়াই কোটি টাকার ক্রিষ্টাল মেথ আইস আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে আড়াই কোটি টাকার ক্রিষ্টাল মেথ আইস আটক

পত্রদূত ডেস্ক: বুধবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় ঘোনা বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫০০ গ্রাম ভারতীয় ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ করে।

বিজিবি জানায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ঘোনা বিওপির দায়িত্বাধীন দাঁতভাঙ্গা শ্মশানঘাট নামক স্থান দিয়ে মাদকদ্রব্য ভারত হতে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আগমন করবে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর ঘোনা বিওপির একটি চৌকষ আভিযানিক দল কৌশলে বর্ণিত স্থানে অবস্থান করে।

 

এ সময় চোরাকারবারী বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে উক্ত স্থান থেকে ৫০০ গ্রাম ভারতীয় ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করে, যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করার মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিজিবির এ অভিযানে স্থানীয় জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানান।

 

পাইকগাছায় আমন আবাদ ভালো হলেও নানা প্রতিকূলতায় লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হয়নি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আমন আবাদ ভালো হলেও নানা প্রতিকূলতায় লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হয়নি

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের আবাদ ভালো হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। বৈরি আবহাওয়, অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়া, চারা রোপণের সময় বৃষ্টির ঘাটতি, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ কম হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে বীজতলা তৈরি করা হলেও অতিবৃষ্টিতে কয়েক দফায় সেগুলো পানিতে ডুবে নষ্ট হয়। এতে নতুন করে চারা উৎপাদনের প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে চারা রোপণের সময় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় অনেক জমিতে সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হয়নি। কোথাও লাগানো চারা মারা যাওয়ায় জমি অনাবাদি থেকে গেছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়া জনিত কারণে উপকূল এলাকায় কৃষির মৌসুম দেরিতে শুরু হয়। লবণাক্ত উপকূল এলাকার পানি ও মাটি আমন চাষের জন্য লবনমুক্ত তৈরী করতে কিছুটা সময় বেশি লাগে। মাটি থেকে অতিরিক্ত লবণ দূর করে চাষ উপযোগী ও লবণমুক্ত হলে চারা রোপন করা হয়। তাছাড়া মৎস্য লীজ ঘের গুলো কিছুটা নিচু হওয়ায় আমন চাষের উপযোগি করতে আরো বেশি সময় লাগে। সে কারণে উপকূলের এ অঞ্চলে কৃষির আবাদ অন্যান্য এলাকা থেকে ১৫ থেকে এক মাস পরে আবাদ শুরু হয়।

আবহাওয়াজনিত প্রতিকূলতার পাশাপাশি জমির ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়টিও আমন আবাদের ওপর প্রভাব ফেলছে। কৃষির জন্য আবহাওয়ার পাশাপাশি জমিতে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে চারা রোপণ ব্যাহত হয়। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় বৃস্টির অভাবে নতুন চারা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলীয় এলাকায় মাটির লবণাক্ততাও ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। পাইকগাছায় এসব প্রতিকূলতা আমন আবাদে প্রভাব ফেলেছে ।

পাইকগাছা গদাইপুর ইউনিয়ানের হিতামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, খারাপ আবহাওয়া ও অতিবৃস্টির কারণে বীজ তলার চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অধিক দামে চারা কিনে আবাদ করায় খরচ বেড়ে গেছে। তা ছাড়া জমি চাষ, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই দমনে সার কিট নাশক প্রয়োগ, ধান কাটার জন্য অধিক দামে শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকতে হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেলুটি ইউনিয়নে সর্বাধিক ৩ হাজার ৭৪৫ হেক্টর, গড়ইখালী ইউনিয়নে ২ হাজার ৩১৫ হেক্টর, চাঁদখালী ইউনিয়নে ১ হাজার ৯০০ হেক্টর, কপিলমুনি ইউনিয়নে ৮৮০ হেক্টর, লতা ইউনিয়নে ৮৭০ হেক্টর, লস্কর ইউনিয়নে ৮২০ হেক্টর, হরিঢালী ইউনিয়নে ৮১৫ হেক্টর, গদাইপুর ইউনিয়নে ৫৯০ হেক্টর, সোলাদানা ইউনিয়নে ৫৮০ হেক্টর, রাড়ুলী ইউনিয়নে ৫২৫ হেক্টর ও পৌরসভায় ১৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে কয়েক দফায় বীজতলা নষ্ট হয়েছে। পরে চারা রোপণের সময় বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অনেক জমিতে সময়মতো চারা লাগানো সম্ভব হয়নি। কিছু জমিতে রোপণ করা চারাও মারা গেছে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার সমস্যাও রয়েছে। এসব কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা যাতে ভালো ফলন পান, সেজন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জমির ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

শ্যামনগরে বিদ্যালয়ের অফিসে আগুন, পুড়ে গেছে কম্পিউটার, শিক্ষা উপকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বিদ্যালয়ের অফিসে আগুন, পুড়ে গেছে কম্পিউটার, শিক্ষা উপকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে অগ্নিকা-ে প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে শিক্ষা বিভাগ। বিদ্যালয়টির নাম ১৭৫ নং দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

অগ্নিকা-ে দুটি প্রজেক্টর, একটি ল্যাপটপ, তিনটি সাউন্ড বক্স, একটি টেলিভিশন, দুটি টেবিল ফ্যান, দুটি রাউটার, একটি মেগাফোনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষক সহায়িকা, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ পরিকল্পনা এবং ১০টি ডিজিটাল ব্যানারও। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম মিজানুর রহমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে জানান, সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে পাঠদান শেষে তিনি বিদ্যালয় থেকে বাড়ি চলে যান। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আগুন লাগার খবর পান। দ্রুত বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি অফিসকক্ষ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দেখতে পান। এ সময় শোকেস ও সাউন্ড বক্সে আগুন জ্বলছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। অগ্নিকা-ে অফিসের আসবাব, পানির ফিল্টার, প্লাস্টিকের ওয়ারড্রব, র‌্যাক, দেয়ালঘড়ি, মনিটরিং বোর্ড, টেবিল ও চেয়ার পুড়ে গেছে।

 

এ ছাড়া কাঁচের গ্লাস, ডিনার সেট, মেলামাইনের প্লেট, গামলা ও চামচ, টেবিলের কাপড় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রানারআপ ট্রফি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও পুড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল ফিডিং রেজিস্টার, বই বিতরণ রেজিস্টার এবং তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা। প্রধান শিক্ষকের হিসাবে, অগ্নিকা-ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা। ঘটনার পর গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তাঁর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। কক্ষের দেয়াল ও সিলিং কালো হয়ে গেছে। সরেজমিন পর্যবেক্ষণে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অগ্নিকা-ের ঘটনা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। অগ্নিকা-ের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”