সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

সুন্দরবনে বন বিভাগের অভিযান জোরদার, হরিণ শিকারের ৪১টি ফাঁদ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে বন বিভাগের অভিযান জোরদার, হরিণ শিকারের ৪১টি ফাঁদ উদ্ধার

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে অব্যাহত রয়েছে বন ও বন্যপ্র াণী সুরক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতা। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২০ এপ্রিল) নিয়মিত ফুট পেট্রোলিংকালে সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করেছেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ব্যারাকখাল এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বনের ভেতরে পেতে রাখা ৪১টি হরিণ শিকারের ‘মালা ফাঁদ’ উদ্ধার করা হয়। ফাঁদগুলো এমনভাবে পাতা ছিল, যাতে বনাঞ্চলে বিচরণরত হরিণ সহজেই আটকা পড়ে শিকারিদের হাতে প্রাণ হারায়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, “সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছি। উদ্ধারকৃত এসব ফাঁদ ধ্বংস করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। বন বিভাগের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, সুন্দরবন শুধু দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তাই এখানে বসবাসকারী বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হরিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, সুন্দরবনে হরিণ শিকার বন্ধ না হলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল হুমকির মুখে পড়বে। কারণ হরিণ এই বনাঞ্চলের অন্যতম প্রধান তৃণভোজী প্রাণী, যা বনজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবৈধ শিকার বৃদ্ধি পেলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট কর্মকর্তা ফজলুল হক, সাধারণ জনগণকে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যদি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তথ্য পেয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরেই অসাধু শিকারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে এসব কর্মকান্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

Ads small one

আশাশুনিতে ৩৭০১ পরীক্ষার্থী, কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ৩৭০১ পরীক্ষার্থী, কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন

আশাশুনি প্রতিনিধি: সারাদেশের ন্যায় আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ১০টি কেন্দ্রে এবার ৩ হাজার ৭০১ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সোমবার কেন্দ্রগুলোতে কক্ষ পরিদর্শকদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার আশাশুনির ৫টি এসএসসি কেন্দ্র, ৪টি দাখিল এবং ১টি কারিগরি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসবে।
আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৭৩জন, বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে ৬১৯ জন, দরগাহপুর এসকেআরএইচ স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ৪৬৫ জন, বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে ৪৫২ জন এবং বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৫৭ জন। আশাশুনি আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৩১৬ জন, গুনাকরকাটি খাইরিয়া আজিজীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৩৩২ জন, প্রতাপনগর আবু বক্কর ছিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৮৫ জন এবং মদিনাতুল উলুম বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২৫০ জন। সুন্দরবন টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ কেন্দ্রে ৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
পরীক্ষা শুরুর আগের দিন সকালে ৫টি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৃথক এই সভাগুলোতে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবরা।
সভায় আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব মাজহারুল ইসলাম, বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুলের মোহিত কুমার দাশ, দরগাহপুরের গৌরপদ মন্ডল, বড়দলের মো. বাবলুর রহমান এবং বিছট কেন্দ্রের শান্তি রঞ্জন দাশ নিজ নিজ কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কক্ষ পরিদর্শকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

গাবুরায় পারিবারিক আয় বাড়াতে গরু পালনের প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
গাবুরায় পারিবারিক আয় বাড়াতে গরু পালনের প্রশিক্ষণ

উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও পারিবারিক আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে গরু পালন বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে গাইনবাড়ী সাইক্লোন শেল্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেইথ ইন অ্যাকশন’ এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড রিনিউ’-এর আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত ‘জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্প’-এর আওতায় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গাবুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ২৫ জন নারী ও পুরুষ এই কর্মশালায় অংশ নেন। প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মিল্টন বাড়ৈ, প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য, মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস এবং কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর রব কুমার দাসসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মীরা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

লাইসেন্স প্রদান ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে খুলনায় অটোরিকশা চালকদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
লাইসেন্স প্রদান ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে খুলনায় অটোরিকশা চালকদের মানববন্ধন

সংবাদদাতা: খুলনা মহানগরীতে চলাচলকারী অটোরিকশা বা মিশুকের লাইসেন্স প্রদান এবং ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চালকরা। সোমবার সকালে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধন শেষে চালকরা খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক, জেলা প্রশাসক ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চালকরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তাঁরা এই পেশায় থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাফিক পুলিশ ও কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁরা অযৌক্তিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অজুহাতে প্রায়ই তাঁদের অটোরিকশা আটক করা হচ্ছে এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হচ্ছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, “একটি কাগজ না থাকলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে, যা আমাদের এক দিনের আয়ের চেয়েও বেশি। এতে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।”

চালকদের প্রধান দাবিগুলো হলোÑ নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে আইনগতভাবে অটোরিকশা বা মিশুক চলাচলের সুযোগ দেওয়া। চালকদের জন্য বৈধ লাইসেন্স ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা। ট্রাফিক পুলিশের অযথা হয়রানি বন্ধ এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের আচরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অটোরিকশা চালক ইসমাঈল হোসেন, নাজমুল হক মনি, মো. শামিম হোসেন, মো. জুয়েল, রবিউল ইসলাম, আল মামুন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, নগরীতে যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তবে এর বিনিময়ে তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও হয়রানিহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস না পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচির ডাক দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন চালকরা।