সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনিতে ৩৭০১ পরীক্ষার্থী, কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ৩৭০১ পরীক্ষার্থী, কেন্দ্রগুলোতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন

আশাশুনি প্রতিনিধি: সারাদেশের ন্যায় আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ১০টি কেন্দ্রে এবার ৩ হাজার ৭০১ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সোমবার কেন্দ্রগুলোতে কক্ষ পরিদর্শকদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার আশাশুনির ৫টি এসএসসি কেন্দ্র, ৪টি দাখিল এবং ১টি কারিগরি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসবে।
আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৭৩জন, বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে ৬১৯ জন, দরগাহপুর এসকেআরএইচ স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ৪৬৫ জন, বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে ৪৫২ জন এবং বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৫৭ জন। আশাশুনি আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৩১৬ জন, গুনাকরকাটি খাইরিয়া আজিজীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৩৩২ জন, প্রতাপনগর আবু বক্কর ছিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৮৫ জন এবং মদিনাতুল উলুম বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২৫০ জন। সুন্দরবন টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ কেন্দ্রে ৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
পরীক্ষা শুরুর আগের দিন সকালে ৫টি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৃথক এই সভাগুলোতে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবরা।
সভায় আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব মাজহারুল ইসলাম, বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুলের মোহিত কুমার দাশ, দরগাহপুরের গৌরপদ মন্ডল, বড়দলের মো. বাবলুর রহমান এবং বিছট কেন্দ্রের শান্তি রঞ্জন দাশ নিজ নিজ কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কক্ষ পরিদর্শকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

Ads small one

দেবহাটায় সিআর মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় সিআর মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার নোড়ারচক গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নোড়ারচক গ্রামের মৃত ইছতুল্যা সরকারের ছেলে আব্দুল গফ্ফার এবং একই গ্রামের মৃত শহর আলী গাজীর ছেলে শাহাজাহান আলী গাজী (৬৫)।

থানা সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা থানার এসআই আল আমিন, এসআই আহম্মদ আলী, এসআই সঞ্জয় পাল, এএসআই মো. আকিজুর রহমান, এএসআই মো. রহমত শেখ ও এএসআই আলাউদ্দীন আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা সীমান্তে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ, আটক ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ, আটক ১

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মদ, ওষুধ ও নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) অধীন গাজীপুর, কাকডাঙ্গা ও হিজলদী বিওপির টহল দল পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, হিজলদী বিওপির সদস্যরা বড়ালি এলাকা থেকে ১২ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মদ এবং কাকডাঙ্গা বিওপির সদস্যরা গেড়াখালি এলাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেন।

অন্যদিকে, গাজীপুর বিওপির সদস্যরা বেলতলা এলাকা থেকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামের রিপন হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯৬০টি ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল (১০০ মিলিগ্রাম) ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দ করা পণ্যের মোট মূল্য ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। চোরাচালান প্রতিরোধ ও দেশের রাজস্ব সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে মা-মেয়ে হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে মা-মেয়ে হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

বদিউজ্জামান: যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মা ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬) একই উপজেলার তারালি সরদারপাড়ার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলামের (২৬) সঙ্গে আব্দুর রউফ সরদারের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামির মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য অর্থ দাবি করা হয়। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে জেগে ওঠেন জাহানারা খাতুন। পরে ঘরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকাকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মা ও শিশুকন্যাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে পাঠায়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষ্য দেন। মামলায় আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও নথিভুক্ত ছিল।

বিচার শেষে আদালত আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে মা ও শিশুকন্যার প্রাণহানির এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।