সুস্থ থাকতে খোলা ভোজ্যতেল বর্জনের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিনিধি: খোলা ভোজ্যতেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে ভেজাল মেশানোর আশঙ্কা থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বাজার থেকে ড্রামের খোলা তেল কেনা বন্ধ করে বোতলজাত বা প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক অ্যাডভোকেসি সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কনসালটেন্ট এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহা. ইফতিখার।
সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, ড্রামের খোলা তেলে ভিটামিন ‘এ’ থাকে না বললেই চলে। এছাড়া ড্রামগুলো নন-ফুড গ্রেডেড প্লাস্টিকের হওয়ায় তা থেকে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে। দীর্ঘ মেয়াদে এসব তেল ব্যবহারের ফলে হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, রাতকানা এবং ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বর্তমানে সরিষার তেলের ব্যবহার বাড়লেও অতিরিক্ত সেবনের বিষয়ে সভায় সতর্ক করা হয়। বক্তারা বলেন, রান্নায় অতিরিক্ত সরিষার তেল হৃদপেশিতে চর্বি জমাতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্টের ক্ষতি করে। এর তীব্র ঝাঁঝালো উপাদান পরিপাকতন্ত্রে জ্বালাপোড়া ও ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। এমনকি শিশুদের ত্বকে এটি ব্যবহারে অ্যালার্জি বা ফোসকা পড়ার ঝুঁকি থাকে। সেই তুলনায় মানসম্মত বোতলজাত সয়াবিন তেলে ক্ষতির পরিমাণ কম বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
অ্যাডভোকেসি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, জেলা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. ইসরাত জাহান সুমনা, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক পারভীন আক্তার, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানসহ জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে ব্যবসায়ী ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সুস্থ থাকতে হলে খোলা ভোজ্যতেল বর্জন করার কোনো বিকল্প নেই।













