বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় যশোরের আবু সাঈদ লাইভ সাপোর্টে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় যশোরের আবু সাঈদ লাইভ সাপোর্টে

মামুনুর রশিদ খান, মনিরামপুর (যশোর): দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। পরিবারের জন্য কেনা উপহার আর স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দ নিয়ে রওনা হয়েছিলেন বিমানবন্দরের পথে। কিন্তু মাঝপথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তছনছ করে দিল সব স্বপ্ন। সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত যশোরের হামিদপুর গ্রামের সন্তান আবু সাঈদ এখন মৃত্যুশয্যায়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং বর্তমানে তাঁকে লাইভ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

আবু সাঈদ যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর দক্ষিণপাড়ার গনি মোল্লার ছোট ছেলে এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবু সাঈদ দীর্ঘ দিন ধরে রিয়াদের একটি সুপার শপে কর্মরত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই সুপার শপটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একদিকে কর্মহীন হওয়ার মানসিক চাপ, অন্যদিকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে থিতু হওয়ার পরিকল্পনা-সব মিলিয়ে গত ২১ এপ্রিল তিনি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়তি তাঁর জন্য অন্যকিছু লিখে রেখেছিল।

বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আবু সাঈদ ও তাঁর তিন সহকর্মীকে বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই তাঁর দুই সহকর্মী মারা যান। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সৌদি আরবের বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘দিফা আল-মাদানি’ (সিভিল ডিফেন্স) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সাঈদ ও আরও একজনকে উদ্ধার করতে অত্যাধুনিক হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করেন। একই সময়ে সৌদি ট্রাফিক পুলিশ-এর সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেন এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আবু সাঈদের শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, বরং ধীরে ধীরে তা অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি লাইভ সাপোর্টে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

ছেলের ফেরার প্রতীক্ষায় থাকা হামিদপুর গ্রামের গনি মোল্লার বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। যে মানুষটির কয়েক ঘণ্টা পর বাড়িতে থাকার কথা ছিল, তাঁর লাইভ সাপোর্টে থাকার খবর আসার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আবু সাঈদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামবাসী তাঁর জীবন রক্ষার্থে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে হামিদপুরসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

Ads small one

আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস: বিশ্ববাণিজ্যের অদৃশ্য নায়করা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস: বিশ্ববাণিজ্যের অদৃশ্য নায়করা

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্ব অর্থনীতির সচল গতির পেছনে যে অদৃশ্য শক্তি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে, তার অন্যতম হলো নাবিক। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্য—বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ পণ্য পরিবহনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সমুদ্রপথের এই সাহসী মানুষগুলো। প্রতি বছর ২৫ জুন পালিত ‘আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতির এই অকুতোভয় কর্মযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁদের পেশাগত অবদান ও ঝুঁকিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (ওগঙ) উদ্যোগে প্রবর্তিত এই দিবসটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যথ “ঈধৎৎুরহম ড়িৎষফ ঃৎধফব. ঈধৎৎুরহম ঃযব ৎরংশং.” নাবিকদের জীবন ও বিশ্ববাণিজ্যের মধ্যকার গভীর সম্পর্ককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরে। আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগেও সমুদ্রপথের পেশা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। পরিবার থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা, বৈরী আবহাওয়া, জলদস্যুতার হুমকি, সশস্ত্র সংঘাত এবং মানসিক একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করেই তাঁরা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশ্ববাণিজ্যের চাকা সচল রাখছেন।

হরমুজ প্রণালীর মতো ভূ-রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি কিংবা বৈশ্বিক মহামারির সংকটময় সময়েও, যখন পৃথিবীর অনেক কিছু স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন নাবিকরাই সরবরাহব্যবস্থা সচল রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশের জন্যও এই দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি সামুদ্রিক সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে নৌখাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বিশ্ববাজারে দক্ষ নাবিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং নাবিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ এ খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

নাবিকদের অবদান কেবল পণ্য পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁরা বিশ্বশান্তি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়েরও অন্যতম বাহক। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ও অর্থনীতিকে এক অদৃশ্য বন্ধনে যুক্ত করে রাখেন। অথচ তাঁদের জীবনের ঝুঁকি, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়গুলো অনেক সময়ই আলোচনার আড়ালে থেকে যায়। তাই আন্তর্জাতিক নাবিক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিতÑ নাবিকদের জন্য একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

খোলা আকাশের নিচে, উত্তাল সমুদ্রের বুকে তাঁদের এই অবিরাম যাত্রাই বিশ্ববাণিজ্যের প্রাণস্পন্দন। নাবিকদের নিষ্ঠা, সাহস ও ত্যাগের কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির চাকা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলেছে। আন্তর্জাতিক নাবিক দিবসে তাঁদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

 

বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামাজিক দায়বদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামাজিক দায়বদ্ধতা

এম শফিকুল ইসলাম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বসে বৃক্ষ আর সবুজ অরণ্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই হয়তো লিখেছেন “দাও ফিরিয়ে সেই অরণ্য, লও এ নগর লও এ নগর”। তারপর বহু সময় পেরিয়ে গেছে উজাড় হয়েছে অরণ্য ধ্বংস হয়েছে বৃক্ষ। এ প্রেক্ষাপটে সময়ের দাবি হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও বনসৃজনের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেয়েছিল মানুষ। আর এ প্রয়োজনীয়তাকে অনুধাবন করতে পেরেই সরকার বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিয়ে গ্রহণ করেছে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, পরিচালনা করেছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ।

 

সাধারণভাবে বলা হয় প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সপ্তাহ, পক্ষ বা মাসব্যাপী) দেশকে সবুজ বৃক্ষে আচ্ছাদিত করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপনের যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তাই বৃক্ষরোপণ অভিযান। আমাদের দেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ সপ্তাহে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সারাদেশে পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপনের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।

 

সাধারণত প্রতিবছর জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহকে (বর্ষাকাল) বৃক্ষরোপণ সত্তা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত মৌসুমী বৃষ্টিপাত হওয়ার এই সময়টাকেই বৃক্ষরোপনের উপযুক্ত সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সময় সরকার নিজে উদ্যোগে বিভিন্ন নার্সারি থেকে লক্ষ লক্ষ চারা গাছ বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে জনগণের মধ্যে বিতরণ করে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এনজিও ও অভিযান পরিচালনায় কার্যক্রম গ্রহণ করে। দেশকে সবুজ বৃক্ষাচ্ছিদ করে পরিবেশ বিপর্যয় রোধকল্পে সরকার গৃহীত বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা হিসেবেই পরিগণ্য। বনজ সম্পদকে টিকিয়ে রাখা ও এর সম্প্রসারণের জন্য আমাদের দেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

সপ্তাহ,পক্ষকাল বা মাসব্যাপী এ অভিযান চলে। এ সময় পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়। সাধারণত প্রতিবছর বর্ষাকালে সরকারের বনবিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানো হয়। এ সময় জনগণ নিকটস্থ নার্সারি থেকে বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে গাছের চারা সংগ্রহ করতে পারে। অভিযান চলাকালে আমাদের জীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা ও চারা রোপনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়। নিঃসন্দেহে বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা। বৃক্ষ রক্ষা মানে নিজেদের জীবনকে রক্ষা করা। বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে হলে সরকারের পাশাপাশি জনগণ কেউ এগিয়ে আসতে হবে।

 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বন বিভাগ বৃক্ষের চারা উৎপাদন করে বিনামূল্যে তা জনগণের মাঝে সরবরাহ করবে। গাছ লাগানোর জন্য জনমনে চেতনা সঞ্চার করতে হবে। এ ব্যাপারে রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা হল, মাইকে প্রচার, পোস্টার বিলি এবং সভা সমিতি ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের দেশে বার কোটি সক্ষম লোক আছে। আমরা প্রত্যেকে যদি কমপক্ষে একটা করে গাছ লাগাই তাহলে সহসাই আমাদের এ অভিযান সফল হবে। প্রকৃতপক্ষে বনায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে না পারলে এ থেকে সর্বতোভাবে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। সমাজে বসবাসরত মানুষকে যদি বিপন্ন পরিবেশের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা যায়, তাহলে অনেকেই বনায়নের কাজে এগিয়ে আসবে।

 

প্রয়োজনে বনবিভাগের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা মোটিভেশন কার্যে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাবেন এবং বনায়নে উৎসাহিত করবেন। ১৯৮২ থেকে বাংলাদেশের সামাজিক বনায়ন আন্দোলন শুরু হয়েছে। ১৯৮২ সাল থেকে রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় এ প্রকল্প ব্যাপক প্রসারতা লাভ করে। থানা বনায়ন ও নার্সারি উন্নয়ন পরিকল্পে বনায়নের কর্মসূচি তিনটি জেলা ছাড়া দেশের ৬১টি জেলার সর্বত্র চালু আছে। এ কার্যক্রমে গাছের চারা বিতরণ থেকে পরিশোধ কোন প্রদান প্রভৃতি কাজ চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায়, মসজিদ কিংবা অফিসের প্রাঙ্গনে, উপকূলীয় বাঁধের বাইরে প্রভৃতি পরিসরে বৃক্ষরোপণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

পরিবেশের অবক্ষয় ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার যে বিরূপ প্রভাব আমাদের বাংলাদেশে এসে পড়েছে, তা থেকে রক্ষা পেতে হলে বনায়নের বিকল্প নেই। কিন্তু বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ কার্যক্রম কেবল সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্তকরণ একান্ত ভাবে প্রয়োজন। ধর্ম, বর্ণ, মতবাদ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে পরিবেশ সংরক্ষণের বৃক্ষরোপণ অভিযান বাস্তবমুখী হতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসই আমাদের পরিবেশ উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও প্রতিবেশকে বাস উপযোগী রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারে।

 

‘ধর্মান্ধতা’ নাকি ‘ক্রীড়া-সংস্কৃতির বিকাশ’: জেলা প্রশাসকের মন্তব্য ঘিরে সাতক্ষীরায় যা হচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
‘ধর্মান্ধতা’ নাকি ‘ক্রীড়া-সংস্কৃতির বিকাশ’: জেলা প্রশাসকের মন্তব্য ঘিরে সাতক্ষীরায় যা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলার কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আলাউদ্দিন চত্বর (নিউমার্কেট মোড়) এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

‘ওলামা মাশায়েখ পরিষদ’ ও ‘বাংলাদেশ মজলিসুন মুফাসসিরীন’ নামের দুটি সংগঠনের ব্যানারে শতাধিক মুসল্লি এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী এবং সঞ্চালনা করেন রুস্তম আলী তাওহিদী। এতে বক্তব্য দেন মাওলানা ওসমান গনি, মুহাদ্দিস ওবায়দুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, হাফেজ মাওলানা শাহাদাত হুসাইন, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আমিনুর রহমান, মাওলানা আফজাল হোসেন জিহাদী, মাওলানা তরিকুল ইসলাম জিহাদী ও হাফেজ আরিফুল ইসলাম আজাদীসহ অন্যান্যরা।

 

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল বারী অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা জেলার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। জেলা প্রশাসক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হয়েও একটি খেলার অনুষ্ঠানে কেন এমন মন্তব্য করলেন, তা বোধগম্য নয়। সাতক্ষীরার চারজন সংসদ সদস্যই ইসলামপ্রিয় হওয়ার কারণেই কি তিনি এমন কথা বলেছেনÑএমন প্রশ্ন তুলে বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের জানান, সরকারের নীতির আলোকে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই তিনি কেবল তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা শান্তি-অশান্তির বিষয় নেই।

 

সেই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের মূল বক্তব্য ছিল, “আমি বারবার সব জায়গায় বলছি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা যারা ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তারা ক্রীড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকা- নিয়ে কাজ করবেন। অনেকেই বলে সাতক্ষীরায় যে ধর্মান্ধতা চলে এসেছে, তাহলে সেটা আর বলবে না।”

 

তবে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে “অনেকেই বলে” শব্দটি পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ জুন বুধবার বিকেলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসক ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকা-ের প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি এই মন্তব্য করেন। বক্তব্যের আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। জেলা বিএনপি এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সবাইকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানায়।

 

পাশাপাশি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন কমিটির এক সভায় তিনি নিজেই বলেছিলেন যে, অন্ধকারাচ্ছন্ন সাতক্ষীরা থেকে মুক্তি পেতে হলে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গন, যাত্রা ও গান-বাজনাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে বিকশিত করতে হবে। ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সভাপতিত্ব করলেও সেখানে বিতর্কিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ডিসি মূলত একই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই কথা বলেছিলেন।

 

হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও বলেন, অতীতে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সাতক্ষীরার রাজনৈতিক পরিবেশকে ভিন্নমুখী করার চেষ্টা করেছে। বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়। অতীতে জেলা প্রশাসক ও কেবিনেট সেক্রেটারির সহায়তায় ভোট কেটে সাতক্ষীরায় এমপি জেতানো হয়েছিল, যারা সাতক্ষীরাকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চান এবং এখন পরিবেশ ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। জামায়াত এসব চাইলেই হবে না, সরকারে এখন বিএনপি রয়েছে।