বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে মৎস্য ঘের দখলচেষ্টা ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে মৎস্য ঘের দখলচেষ্টা ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

সংবাদদাতা: শ্যামনগরে একটি মৎস্য ঘের জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। লিজ নেওয়া ঘেরটি দখল করতে দফায় দফায় মাছ নিধনে বিষ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঘের ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় প্রতিকার ও জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চ-ীপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী গাজীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম ভুরুলিয়া মৌজায় ৫ একর ১০ শতাংশ জমি প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে ‘ডিড’ (চুক্তি) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করে আসছেন। কিন্তু ওই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ভুরুলিয়া গ্রামের বিশ্বজিৎ মন্ডল ও কুমার শানু তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিবাদীরা দলবল নিয়ে তার ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। এতে ঘেরের বিপুল পরিমাণ গলদা ও সাদা মাছ মারা যায়। এ ঘটনায় শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে জমির মালিক রহিম সরদার বাদী হয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলাও (নং ৩৮৯/২৬) দায়ের করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছেÑআদালতের মামলা চলমান থাকলেও গত ২১ এপ্রিল বিবাদীরা পুনরায় ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। এতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। জবরদখলের প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা চড়াও হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি লিজ নিয়ে ব্যবসা করছি। কিন্তু বিবাদীরা গায়ের জোরে আমার ঘের দখলের চেষ্টা করছে এবং বারবার বিষ দিয়ে আমাকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” শ্যামনগর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

Ads small one

তীব্র গরমে লোডশেডিং, খোলা আকাশের নিচে রোগী দেখলেন চিকিৎসকরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
তীব্র গরমে লোডশেডিং, খোলা আকাশের নিচে রোগী দেখলেন চিকিৎসকরা

ইব্রাহিম খলিল: লোডশেডিং ও তীব্র গরমের কারণে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও চিকিৎসকরা। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে রোগীদের সেবা দিতে দেখা গেছে চিকিৎসকদের।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরের পর বিদ্যুৎ না থাকায় অতিরিক্ত গরমে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ বেড়ে যায়। এতে ভেতরে অবস্থান করা কষ্টকর হয়ে পড়লে চিকিৎসকরা হাসপাতালের বাইরে টেবিল বসিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, দুপুরের পর বিদ্যুৎ না থাকায় জরুরি বিভাগে প্রচ- গরমে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। ভেতরে তীব্র গরমের কারণে রোগী ও স্বজনদের অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে বাইরে বসে রোগী দেখা শুরু করেন। গরমে কষ্ট হলেও তারা চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করেননি।
উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রতিদিন গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দেখি বিদ্যুৎ নেই এবং রোগীর চাপও অনেক বেশি। এজন্য ডাক্তাররা বাইরে বসে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রচ- গরমের কারণে কিছু সময় চিকিৎসকরা বাইরে বসে রোগী দেখেছেন। সেবা কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি কক্ষে অতিরিক্ত রোগী থাকলে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, এজন্য বাইরে বসে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরায় গরমে শিশু ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপক হারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় গরমে শিশু ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপক হারে

জেলা সদরের তিন হাসপাতালে ৫০ দিনে ১ হাজার ৭১৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু ভর্তি

পত্রদূত রিপোর্ট: প্রচন্ড গরমে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাতে শিশু ডায়রিয়া রোগ বেড়েছে ব্যাপক হারে। প্রতিদিন সরকারী বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়ায় রোগে আক্রান্ত শিশুর রোগীর সংখ্যা।

শিশু বিষেশজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমের কারনে শিশুদের শরীরে পানি সল্পতা দেখা দেয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎকগন।

এদিকে সাতক্ষীরার সরকারী হাসপাতালগুলোতে শিশু ডায়রিয়া রোগীর পর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহবধু ময়না খাতুনের ১১ মাস বয়সের শিশু আররায়হানকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে স্যালাইন ব্যতিত অন্যান্য ওষুধ হাসাপাতালের বাইরে থেকে ক্রয় করতে হয়েছে বলে জানান এই গৃহবধু।

 

এদিন তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রাম থেকে আসা গৃহবধু পাপিয়া খাতুন তার ১০ মাস বয়সের শিশু পুত্র মোছাব্বির হোসেনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। তিনি বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। তাছাড়া অধিকাংশ ওষুধ হাসাপাতালের বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। এখানে স্যালাইন ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা।

সাতক্ষীরা সদর এবং মেডিকেল কলেজ ও বেসরকারী শিশু হাসপাতালের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গত ৫০ দিনে এই তিনটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭১৮ জন। এরমধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার জন, সদর হাসপাতালে ৫৭৭জন এবং বেসরকারী শিশু হাসপাতালে ১৪১ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।

এছাড়া এসব হাসাপাতালে প্রতিদিন প্রচুর পরিমান ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু বহির্বিভাগেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকগন।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিষেশজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ সামছুর রহমান জানান, আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ-এপ্রিল থেকে গরম শুরু হয়। এসময় শিশুদের শরীরে পানি সল্পতা দেখা দেয়। এতে করে শিশুরা ডায়রিয়া আক্রান্ত ছাড়াও জ্বর এবং বমি করে। এসময় শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

 

তাছাড়া শিশুরা যেন কোনো ক্রমেই পচাঁ বাসি খাবার খেতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হিসাবে ১ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১ হাজারের উপরে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী ভতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা না থাকায় ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগদের চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত শয্যা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।

কেশবপুরে ধান কাটতে গিয়ে গরমে কৃষকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে ধান কাটতে গিয়ে গরমে কৃষকের মৃত্যু

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে তীব্র গরমে মাঠে কাজ করতে গিয়ে হাসেম আলী সরদার (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (বেলা ১১টার দিকে) উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামের কলাতলা বিলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসেম আলী সরদার বড়েঙ্গা গ্রামের মৃত সাহেব আলী সরদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি নিজ জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পরে তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনা এলাকায় ওকে ছায়া নেমে এসেছে।