রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সৌদি পৌঁছেছেন ৭৫ হাজার ৫৩০ বাংলাদেশি হজযাত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
সৌদি পৌঁছেছেন ৭৫ হাজার ৫৩০ বাংলাদেশি হজযাত্রী

পবিত্র হজ পালনের জন্য এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৫ হাজার ৫৩০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ১৯৪টি ফ্লাইটে তারা সৌদিতে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকা হজ অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯৭টি ফ্লাইটে গেছেন ৩৮ হাজার ৪০১ জন। সৌদি এয়ারলাইন্সের ৭১টি ফ্লাইটে পৌঁছেছেন ২৬ হাজার ৯৮১ জন এবং ফ্লাইনাসের ২৬টি ফ্লাইটে গেছেন ১০ হাজার ১৪৮ জন হজযাত্রী।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এ বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন মক্কায় এবং ৫ জন মদিনায় মারা গেছেন।

চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট গত ১৮ এপ্রিল ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাচ্ছেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজ শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়ে চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।

Ads small one

ঈদে সাতদিন থেমে যাবে ভোমরা বন্দরের বাণিজ্যিক চাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
ঈদে সাতদিন থেমে যাবে ভোমরা বন্দরের বাণিজ্যিক চাকা

পত্রদূত ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে টানা সাত দিনের জন্য পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এ বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে এ সময় ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২৪ মে) বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর ছুটিকালীন এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের ছুটিতে বন্দরের পণ্য পরিবহন, লোড-আনলোড ও সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা জানান, ঈদ উপলক্ষে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সুবিধা বিবেচনায় রেখেই ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ভারতের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ছুটির এই সময়ে বন্দরে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে না। তবে ঈদের ছুটি শেষে আগামী ১ জুন থেকে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে।

ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তুফান মন্ডল বলেন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও যাত্রী পারাপারে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ থাকছে না। পাসপোর্টধারী যাত্রীরা নিয়মিতভাবেই যাতায়াত করতে পারবেন।

এদিকে ভোমরা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমান জানান, সরকারি ছুটি ছাড়া কাস্টমসের অফিসিয়াল কার্যক্রম চালু থাকবে। আমদানিকারকরা প্রয়োজনীয় শুল্ক ও কর পরিশোধের মাধ্যমে পণ্য খালাস নিতে পারবেন।

ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মামুন কবীর তরফদার বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সাময়িক বিরতি থাকলেও বন্দরের সার্বিক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম আবারও পুরোদমে চালু হবে।

তিনি জানান, আমদানিকারকরা কাগজপত্রের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে নিতে পারবেন।
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে সীমান্তবন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক পরিবেশে কিছুটা স্থবিরতা নেমে এলেও, ছুটি শেষে ব্যবসায়িক কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

উপহারে হাসলো সাতক্ষীরার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
উপহারে হাসলো সাতক্ষীরার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

পত্রদূত ডেস্ক: গ্রীষ্মের মিষ্টি সকালের রোদ ঝলমলে আঙিনায় ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল অন্যরকম আবেগ। স্কুল ব্যাগ, খাতা-কলম আর নতুন পোশাক হাতে পেয়ে আনন্দে আর উৎসবে মাতা আয়োজন শিশুদের করেছে উচ্ছসিত। সাতক্ষীরায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ঋশিল্পী ফাউন্ডেশন’। সকালে ঋশিল্পী কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে বছরব্যাপী চলার মতো শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল স্কুল ড্রেস, খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, কাটার, স্কুল ব্যাগ ও জুতা। প্রয়োজনীয় এসব শিক্ষা উপকরণ পেয়ে আনন্দে ভরে ওঠে শিশুদের মুখ। উপহার হাতে নিয়ে তারা মানবট্রেনের আদলে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। তিনি বলেন, শিশুদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া মানে শুধু উপহার দেওয়া নয়, তাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো। সমাজের সামর্থ্যবানদের এমন মানবিক উদ্যোগে আরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সিনিয়র সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারিবারিক ও সামাজিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরী। এমন উদ্যোগ পিছিয়ে পড়া শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের সাপোর্ট সার্ভিস ম্যানেজার নির্মল সরদার বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড এডুকেশনের ম্যানেজার জোসেফ খাঁ খা বলেন, একটি শিশুর হাতে বই-খাতা তুলে দিতে পারলে সেটিই সমাজ পরিবর্তনের বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
এডুকেশন সাপোর্ট প্রোগ্রামের ম্যানেজার সনোজ কুমার বসু বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেন কোনো শিশু পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।

ঋশিল্পী সেন্ট্রাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার ঢালী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত লেখাপড়ার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

উপহার পেয়ে শিক্ষার্থী প্রেমা মিত্র মিষ্টি জানায়, নতুন শিক্ষা উপকরণ পেয়ে সে খুব খুশি। আর সমৃদ্ধ মন্ডল বলে, সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়।

শিশু শিক্ষার্থী আনজারা রহমান অহনা জানায়, উপহার নিয়ে মানবট্রেনের আয়োজনটি তার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।

শিশুদের মুখের এই হাসিই সমাজ বদলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন আয়োজকরা। তাদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিটি শিশুর হাতেই পৌঁছে যাবে শিক্ষার আলো।

সাতক্ষীরার উপকুল বাঁচাতে বিশেষ বাজেট এখন সময়ের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার উপকুল বাঁচাতে বিশেষ বাজেট এখন সময়ের দাবি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নিয়ে যখন আলোচনা হয়, তখন উপকূলীয় এলাকার কথা আসে সবার আগে। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার নাম নিঃসন্দেহে সাতক্ষীরা। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই জনপদের মানুষ যেন বছরের পর বছর এক অনন্ত দুর্ভোগের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার আগ্রাসন, অন্যদিকে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও অবকাঠামো গত দুর্বলতাÑসব মিলিয়ে সাতক্ষীরা এখন জলবায়ু সংকটের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অথচ জাতীয় বাজেটে এখনো এই জেলার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ ও স্থায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত হয়নি।

 

তাই আসন্ন বাজেটে সাতক্ষীরাকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার দাবি শুধু যৌক্তিক নয়, অপরিহার্যও। উপকূলের মানুষ দুর্যোগের সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু সাতক্ষীরার বাস্তবতা অন্য অনেক জেলার চেয়ে কঠিন। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলা এই জেলার মানুষকে যে ক্ষত দিয়েছিল, তার অনেক চিহ্ন আজও মুছে যায়নি। এরপর আম্পান, ইয়াস, রেমালসহ একের পর এক দুর্যোগ নতুন করে ক্ষত তৈরি করেছে। বাঁধ ভেঙেছে, গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। বহু মানুষ এখনও টেকসই ঘরবাড়ি পায়নি। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে শহরমুখী হয়েছে। জলবায়ু উদ্বাস্তু শব্দটি সবচেয়ে বেশি বাস্তব হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরাতেই। সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটগুলোর একটি হলো লবণাক্ততা।

 

আশাশুনি, শ্যামনগর, কালীগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাটির নিচের পানিও লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। সুপেয় পানির জন্য নারীদের প্রতিদিন দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়। কোথাও কোথাও একটি নিরাপদ পানির উৎসকে ঘিরে শত শত মানুষের নির্ভরতা। নিরাপদ পানির সংকট শুধু জীবন যাত্রাকে কঠিন করছে না, বাড়িয়ে দিচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ এই সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদি ও কার্যকর প্রকল্প এখনো পর্যাপ্ত নয়। কৃষিও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে।

 

একসময় সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ মাঠে ধানসহ নানা ফসলের আবাদ হতো। এখন সেই জমির বড় অংশ লবণাক্ততার কারণে অনুৎপাদন শীল হয়ে পড়ছে। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে বিকল্প জীবিকার দিকে ঝুঁকছেন। অনেকে চিংড়ি চাষে যাচ্ছেন, কিন্তু সেখানেও রয়েছে নানা অনিয়ম ও পরিবেশগত ঝুঁকি। ফলে কৃষি, পরিবেশ ও জীবিকার মধ্যে এক অস্বাভাবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সাতক্ষীরার মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। কিন্তু বাস্তবে সেই বাঁধই অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল ও অরক্ষিত।

 

সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই ভেঙে যায় কোথাও কোথাও। প্রতি বছর সংস্কারের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও টেকসই সমাধান মিলছে না। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই অনেক বাঁধ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে দুর্যোগ এলেই মানুষকে আবারও একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। জাতীয় বাজেটে তাই শুধু বরাদ্দ নয়, সঠিক পরিকল্পনা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সাতক্ষীরার সামাজিক কাঠামোও বদলে যাচ্ছে। জীবিকা হারিয়ে মানুষ শহরমুখী হচ্ছে।

 

পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, বাড়ছে শিশুদের শিক্ষাছুট। নারীরা নানা ধরনের অনিরাপত্তার মুখে পড়ছেন। অথচ জলবায়ু সংকটকে কেন্দ্র করে সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তার বিষয়টি এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑসাতক্ষীরার সংকট কোনো এক জেলার সংকট নয়। এটি জাতীয় সংকট। সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঢাল। এই বন ও উপকূল রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে দেশের বড় অংশ আরও ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই সাতক্ষীরায় বিনিয়োগ মানে শুধু একটি অঞ্চলের উন্নয়ন নয়; বরং দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

এখন প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। জাতীয় বাজেটে সাতক্ষীরার জন্য বিশেষ জলবায়ু তহবিল গঠন করা যেতে পারে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বিকল্প কর্মসংস্থান, আধুনিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য আলাদা বরাদ্দ জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা গুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

 

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিসরে জলবায়ু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সহায়তা চায়। কিন্তু দেশের ভেতরে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য যদি কার্যকর উদ্যোগই নেওয়া না হয়, তবে সেই অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। সাতক্ষীরার মানুষ বছরের পর বছর প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে টিকে আছেন। তাদের এই সংগ্রামকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।জাতীয় বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। সেই অগ্রাধিকারে সাতক্ষীরার নাম এবার সবার ওপরে থাকা উচিত। কারণ উপকূল বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।

লেখক: সংববাদকর্মী