যে ৬ কারণে কোরবানি কবুল হয় না
কোরবানি আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম। এটি কবুল হওয়ার জন্য বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে অভ্যন্তরীণ বিশুদ্ধতা বেশি জরুরি। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর (কোরবানির পশুর) মাংস ও রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩৭)
এজন্য কোরবানিতে বিশেষ ছয়টি বিষয়ের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ রাখা দরকার। যেগুলোতে হেরফের হলে কোরবানি কবুল হবে না। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো-
নিয়ত শুদ্ধ না হওয়া
কোরবানি ইবাদত। আর ইবাদতের প্রাণ হলো নিয়ত। এজন্য কোরবানি দেওয়ার পেছনে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির বদলে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকে, তবে তা বিফলে যাবে; কবুল হবে না। বিশেষ করে, যৌথ বা ভাগে কোরবানির ক্ষেত্রে যদি একজন শরিকেরও নিয়তেও সমস্যা থাকে (যেমন—অন্য শরিকদের মধ্যে কেউ যদি শুধু মাংস খাওয়ার নিয়তে শরিক হন), তাহলে সকলের কোরবানিই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৮ ও কাজিখান: ৩/৩৪৯)
হারাম বা উপার্জনে কোরবানি করা
কোরবানি কবুল না হওয়ার আরেকটি প্রধান কারণ হলো- হারাম অর্থ দিয়ে পশু কেনা। সুদের-ঘুষের টাকা, জালিয়াতি বা অন্য কোনও অবৈধ উপার্জনের অর্থ দিয়ে বড় বা সুন্দর পশু কিনলেও তা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হাদিসে এসেছে- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি শুধু পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩৯৩)
লোকদেখানোর মানসিকতা
কোরবানিতে বর্তমানে আমাদের সমাজে একটি মারাত্মক প্রবণতা হলো- দামি পশু কিনে মানুষের কাছে সুনাম অর্জন করা বা পশুর প্রদর্শন করা। কোরআন বলছে, ‘আল্লাহ কেবল মুত্তাকিদের (আল্লাহভীরু) আমলই কবুল করেন।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ২৭) সুতরাং, বড় পশু কিনে বাহবা পাওয়ার মানসিকতা থাকলে সেই কোরবানি কেবল একটি ‘পশু জবাই’ হিসেবেই গণ্য হবে, ‘ইবাদত’ হিসেবে নয়।
ভাগ-বণ্টনে অসমতা
যৌথ বা শরিকানা কোরবানির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো- প্রত্যেকের অংশ সমান হতে হবে। গরু, মহিষ বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন অংশ নিতে পারেন। কিন্তু যদি কোনো শরিকের অংশ অন্যদের চেয়ে কমবেশি হয় (যেমন- কারও দেড় ভাগ, কারও আধা ভাগ), তাহলে ইসলামের বিধানমতে সেই কোরবানি সহিহ হবে না। একইভাবে ওজনের ক্ষেত্রেও সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭)
লক্ষ্য শুধু মাংস খাওয়া
কোরবানির অন্যতম অংশ হলো- গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়স্বজনকে মাংস দান করা। যদি কোনও ব্যক্তির মূল লক্ষ্য থাকে ফ্রিজ ভর্তি করে মাংস জমা রাখা এবং আল্লাহর হুকুম পালনের বিষয়টি গৌণ হয়ে যায়, তাহলে সেই কোরবানি কবুল হয় না। কোরবানি হতে হবে একমাত্র আল্লাহর নামে।
কোরআন-সুন্নাহর বিধান লঙ্ঘন
কোরবানির পশুর বয়স ও সুস্থতার বিষয়ে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যেমন- উটের বয়স পাঁচ বছর ও গরু-মহিষের বয়স অন্তত দুই বছর হতে হবে। এর কম বয়সের পশু কিংবা অন্ধ, খোঁড়া বা অতিশয় অসুস্থ পশু কোরবানি দিলে তা শরিয়তসম্মত হবে না এবং কবুলও হবে না। (মুসলিম, হাদিস : ১৯৬৩)









