বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হজ পালনে যা জানা জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
হজ পালনে যা জানা জরুরি

হজ একটি ফরজ ইবাদত। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। তাই প্রত্যেক শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা আবশ্যক। এই মহান ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে, যা জানা অত্যন্ত জরুরি।
এই আলোচনায় সংক্ষিপ্তভাবে হজের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে তাওয়াফ, সাঈ, আরাফাতে অবস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি রীতিনীতি ধারাবাহিকভাবে সহজ ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
একই সফরে ভিন্ন ইহরামে হজ ও উমরাহ পালন করাকে হজে তামাত্তু বলে। বাংলাদেশ থেকে যারা হজে যান তারা সাধারণত তামাত্তু হজ পালন করেন। হজ তামাত্তুর নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:

ইহরাম পরিধান: মিকাতে বা মিকাতের পূর্বে ইহরাম পরিধান করা (যাত্রার প্রথমে মক্কায় গেলে বাংলাদেশ বিমানবন্দরে ইহরাম পরিধান করে নেয়া।

কাবায় গমন: মক্কা পৌঁছে হোটেলে লাগেজ রেখে সামান্য বিশ্রাম নেয়া। এরপর অজু করে মুআল্লিমের সঙ্গে কাবায় যাওয়া।

তাওয়াফ: সাতবার কাবার চারপাশ প্রদক্ষিণ করা। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা।

সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে হাতে চুম্বন করা।
রমল ও ইজতিবা করা: তাওয়াফের সময় দ্রুত হাঁটা (রমল করা) এবং ইহরামের চাদর ডান হাতের নিচে এনে বাম কাঁধে রাখা যাতে ডান কাঁধ ও বাহু খোলা থাকে (ইজতিবা করা)। এগুলো তাওয়াফের সুন্নত।

সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার সাঈ করা, সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে শেষ করা।

হলক বা কসর করা: মাথা মুণ্ডানো (হলক) বা চুল কাটা (কসর)।

বি: দ্র: এই রীতিগুলো সম্পন্ন করার পর, হজের পূর্বে সময় থাকলে হাজিরা ইহরাম খুলে মদিনায় যেতে পারেন।

নোট:
হজে কিরান: একই সফরে একই ইহরামে হজ ও উমরাহ পালন করাকে হজে কিরান বলে। হজে কিরানের ক্ষেত্রে উপরের সব রীতি মানতে হয়। কেবল ইহরাম খুলে হালাল হওয়া যায় না।

হজে ইফরাদ: এক সফরে শুধু হজ করা এবং উমরাহ না করা। এমন হজের ক্ষেত্রে উপরের রীতিগুলো প্রযোজ্য নয়।

হজের মূল কাজসমূহ
হজের মূল কাজগুলো ৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পালন করতে হয়। এ সময়ের কাজগুলো হলো-

৮ জিলহজ:
হোটেল বা কাবা শরিফে ইহরাম পরিধান করা এবং মক্কা থেকে মিনায় গমন করা। এখানে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরের দিন ফজর, মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।
৯ জিলহজ:
এদিন সকালে মিনা থেকে আরাফার ময়দানে চলে যাওয়া। সেখানে জোহর ও আসর একত্রে আদায় করে নেয়া। মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত তালবিয়া, তাহমিদ, দোয়া-দরুদ ও ইস্তেগফার পাঠ করা। সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় চলে এসে মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করা। ফজরের পর ফের মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাওয়া।

১০ জিলহজ:
মুজদালিফা থেকে মিনায় চলে যাওয়া এবং বড় শয়তান অর্থাৎ জামরাতে আকাবায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা। পাথর নিক্ষেপের পর কোরবানি সম্পন্ন করে মাথা মুণ্ডন অথবা চুল খাটো করা। মাথা মুণ্ডন শেষ হলে তাওয়াফে জিয়ারত করা।
১১ জিলহজ:
শয়তানের তিনটি স্তম্ভে ৭টি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা।

১২ জিলহজ:
শয়তানের তিনটি স্তম্ভে পুনরায় ৭টি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা। ১২ তারিখের পর থেকে হাজিরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

Ads small one

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা, তলুইগাছা ও হিজলদী বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা, ঔষধ, শাড়ি ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার গেরাখালি ও কেরাগাছি হতে ৭ লাখ ৫২ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ ও শাড়ি আটক করে।

মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার উত্তর ভাদিয়ালী হতে ৩২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। তলুইগাছা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার ভবানীপুর ও মজুমদারের খাল হতে ০১ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ ৬৫ হাজার ৪৫০ টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে।

এছাড়াও, হিজলদী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার গোবরাপোতা হতে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে ।
আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে থানায় মামলা: আটক ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে থানায় মামলা: আটক ১

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ২নং আসামী মুকুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শরিফুল ইসলাম মুকুলকে আটক করেন। আটক মুকুল হোসেন রুদ্রপুর গ্রামের আব্দুল ওহাব হোসেনের ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী শরিফুল ইসলাম ও বিবাদী আতিকুর রহমান, মুকুল হোসেন ও আব্দুল রশিদ ৫/৬ বছর পূর্বে মাছের ব্যবসা করত। ব্যবসায়িক বিভিন্ন লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামীদের সাথে শরিফুল ইসলাম বনিবনা না হওয়ার তাদের সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে আসামীরা তার উপর শত্রুতা পোষণ করে আসছে।

 

গত ইংরেজি ১৯/০৪/২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭ টার সময় বাদী শরিফুল ভ্যানযোগে রাজমিস্ত্রীর কাজের উদ্দেশ্যে বাগআঁচড়ায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে থেকে শরিফুলকে ১ ও ২নং আসামী তাদের কাছে থাকা মোটরসাইকেল যোগে জোরপূর্বক রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তুলে আনে। সেখানে ৩নং আসামী আব্দুর রশিদ আগে থেকেই উপস্থিত ছিলো।

সেখানে ৩ নং আসামী আব্দুর রশিদের হুকুমে ১ ও ২ নং আসামীদ্বয় বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বাদী শরিফুল ইসলামের হাত পা বেধে বিবাদী ৩ জনের যোগসাজশে দুই লক্ষ টাকা চাঁদার দাবী করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বাদী শরিফুলকে বেধড়ক মারপিট করে জখম করে।

 

এসময় শরিফুল ইসলামের ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে বিবাদীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে শরিফুলকে উদ্ধার করে তার স্বজনরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শরিফুলকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। এঘটনায় শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে শার্শা থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করে।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, চাঁদাবাজি ও মারপিটের ঘটনায় এজাহার ভুক্ত ২নং আসামী মুকুলকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকী আসামীদেরকে আটকের চেষ্টা চলছে।

শিকলে বন্দী মিতু- মানবিক সহায়তা পেলে ফিরতে পারে স্বাভাবিক জীবনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
শিকলে বন্দী মিতু- মানবিক সহায়তা পেলে ফিরতে পারে স্বাভাবিক জীবনে

{"data":{"source_platform":"mobile_2","pictureId":"b9cfa949cee04c3998ddbdd6dbeff509","appversion":"8.5.0","stickerId":"","filterId":"7580249178828180737","infoStickerId":"","imageEffectId":"","playId":"","activityName":"","os":"android","product":"retouch","originAppId":"7356","exportType":"","editType":"","alias":"","enterFrom":"enter_launch","capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]},"effect_type":"tool","effect_id":"filter#7580249178828180737"},"source_type":"hypic","tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"client_key":"awgvo7gzpeas2ho6","template_id":"","filter_id":["7580249178828180737"],"capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]}}"}

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। মিতু (২৪) নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শৈশব থেকেই মিতু মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পরানো হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থা তার জীবনের নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি, যা তার চলাফেরাকে অত্যন্ত কষ্টকর করে তুলেছে। দীর্ঘদিন এভাবে শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মিতুর মা হাসিনা বেগম বলেন, “মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায়-এই ভয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে হয়েছে। অভাবের কারণে তার চিকিৎসা করাতে পারিনি। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।”

পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট বছর আগে মিতুর বাবা আবুল মোড়ল মারা যান। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মরত। মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা আয় দিয়ে পুরো পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, “সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত মিতুকে হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চিকিৎসা, সামাজিক সহায়তা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিতুকে এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা জরুরি।