মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজার বছরের পথ বেয়ে সুন্দরবনের দুয়ারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
হাজার বছরের পথ বেয়ে সুন্দরবনের দুয়ারে

মো: মামুন হাসান

কবিগুরু আক্ষেপ করেছিলেন, দেশ দেখা হয়নি, কারণ ঘর থেকে দুই পা ফেলে একটি ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু দেখার সময় হয়নি। আর জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, বাংলার মুখ দেখে তিনি পৃথিবীর রূপ খুঁজতে যান না। এই দুই পঙ্‌ক্তির মাঝখানেই আমাদের পর্যটনের সবচেয়ে বড় সত্য লুকিয়ে আছে। যে সৌন্দর্য আমাদের উঠোনেই ছড়িয়ে আছে, তাকে আমরা এখনো অর্থনীতির মানচিত্রে ঠিকঠাক বসাতে পারিনি।

হিসাবের খাতায় অনুপস্থিত সম্ভাবনা

বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ। বিশ্বের গড় প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যবধান নিছক পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের হারানো সুযোগের মাপকাঠি। সরকারি হিসাবে খাতটিতে এখন প্রায় ৫১ দশমিক ৯ লাখ মানুষ কাজ করছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৭২ দশমিক ৮ লাখে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে, আর ২০৪০ সালের লক্ষ্য ২ দশমিক ১৯ কোটি কর্মসংস্থান। লক্ষ্যটি বড়, কিন্তু অসম্ভব নয়, যদি আমরা পর্যটনকে কেবল বিনোদন না ভেবে উন্নয়নের কৌশল হিসেবে দেখি।

চতুর্দশ শতকে ইবনে বতুতা বাংলায় এসে একে বলেছিলেন প্রাচুর্যে ভরা নরক। সেই মুগ্ধ বিস্ময়ের ছিল দুই দিক: তিনি প্রাচুর্য দেখেছিলেন, আবার পথের কষ্টও সয়েছিলেন। সাত শতাব্দী পরেও আমাদের গন্তব্যগুলো একই দ্বৈততার মুখে। প্রাচুর্য আছে, পথ ও পরিষেবা অগোছালো।

গুণক প্রভাব আর ক্ষরণের গল্প

অর্থনীতিবিদেরা পর্যটনের যে শক্তির কথা বলেন, তার নাম গুণক প্রভাব বা মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট। একজন পর্যটক হোটেলে যে টাকা খরচ করেন, তা নৌকাচালক, মাছচাষি, সবজি উৎপাদক, রিকশাচালক, কারিগর ও দিনমজুরের হাত ঘুরে বারবার অর্থনীতিতে ফিরে আসে। সুন্দরবনসংলগ্ন ১৫টি রিসোর্টের উদাহরণটি এ ক্ষেত্রে শিক্ষণীয়। সেখানে ১৫৩ জন কর্মীর ১৩৫ জনই স্থানীয়, অর্থাৎ প্রায় ৮৮ শতাংশ। আশপাশে গড়ে উঠেছে ৫৮টি ছোট ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠান।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে, যাকে পর্যটন অর্থনীতিতে বলা হয় লিকেজ বা অর্থনৈতিক ক্ষরণ। বিলাসবহুল রিসোর্টে খাবার, আসবাব ও কর্মী যদি বাইরে থেকে আসে, তবে পর্যটকের টাকা গ্রামে না পৌঁছে শহরে বা বিদেশে ফিরে যায়। গন্তব্য তখন হয়ে ওঠে এনক্লেভ, চারপাশে দারিদ্র্য রেখে মাঝখানে এক দ্বীপ। তাই নীতির প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, পর্যটকের প্রতিটি টাকার কত অংশ স্থানীয় মূল্যশৃঙ্খলে থাকছে।

সুন্দরবন: সংরক্ষণই হোক সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ

১৯৯৭ সালে ইউনেসকো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। এই বন কেবল রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস নয়, লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার ভরসাও। জেলে, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী, কাঁকড়া ও চিংড়ির আহরণকারী সবাই এই বনের ওপর নির্ভরশীল। আমার কর্মস্থল সাতক্ষীরার শ্যামনগর আর কালীগঞ্জের মানুষ এ কথা প্রতিদিন হাড়ে হাড়ে জানে। কপোতাক্ষ আর ইছামতীর এই জনপদ এক দিকে প্রতাপাদিত্যের যশোরেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস বয়ে বেড়ায়, অন্য দিকে লোনা পানি ও ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে লড়াই করে।

এখানেই দরকার ক্যারিং ক্যাপাসিটি বা ধারণক্ষমতার বিজ্ঞানসম্মত হিসাব। দিনে কত পর্যটক ঢুকবে, কোন রুটে যাবে, কোথায় থাকবে, বর্জ্য কোথায় যাবে, সবই আগে থেকে নির্ধারিত থাকতে হবে। প্লাস্টিক, শব্দদূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত নৌযান এই ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের জন্য নীরব হুমকি।

পথ দেখাতে পারে ভুটান। দেশটি সীমিত সংখ্যক পর্যটক ও উচ্চ মূল্যের নীতি অনুসরণ করে, প্রতি রাতের জন্য নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন ফি নেয় এবং সেই অর্থ পরিবেশ ও জনসেবায় ব্যয় করে। কোস্টারিকা আরেকটি দৃষ্টান্ত। দেশটি বন সংরক্ষণকারী মানুষদের পরিবেশ সেবার মূল্য দেয়, আর তার ফলে এক সময় উজাড় হওয়া বনের বড় অংশ আবার সবুজ হয়ে উঠেছে। রুয়ান্ডার গরিলা পর্যটনে পারমিটের আয়ের একটি অংশ সরাসরি স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে যায়। এর শিক্ষা এক: যে মানুষ বন বাঁচায়, বনের আয়ে তার ন্যায্য অধিকার থাকতে হবে। সুন্দরবনের জন্যও চাই এমন একটি কনজারভেশন ফি, যার হিসাব স্থানীয় কমিটি রাখবে এবং যা বন পুনরুদ্ধার, বাঘ সংরক্ষণ ও বিকল্প জীবিকায় ফিরে যাবে।

সংস্কৃতিই আমাদের ব্র্যান্ড

পর্যটনবিদ্যায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে অভিজ্ঞতার অর্থনীতি বা এক্সপেরিয়েন্স ইকোনমি। জোসেফ পাইন ও জেমস গিলমোর দেখিয়েছিলেন, আধুনিক ভোক্তা পণ্য কেনে না, স্মরণীয় অভিজ্ঞতা কেনে। সেই বিচারে বাংলাদেশের হাতে যে সম্পদ আছে, বহু দেশ তা স্বপ্নেও পায় না। বাউলগান, পালাকীর্তন, যাত্রা, নবান্ন, নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, বৈশাখী মেলা, জামদানি, নকশিকাঁথা, শাঁখা ও মাটির শিল্প, সবই বিক্রয়যোগ্য অভিজ্ঞতা।

লালন সাঁই গেয়েছিলেন, বাড়ির কাছে আরশিনগর আছে, সেথায় এক পড়শি বসত করে। আমাদের পর্যটনের সম্ভাবনাও ঠিক তেমন, দূরে কোথাও নয়, আমাদের বাড়ির কাছেই। প্রশ্ন শুধু সেই আরশিনগরে পৌঁছানোর পথটি সাজানোর।

এ জন্য প্রতিটি অঞ্চলের একটি সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তোলা যায়, যাকে বলে ডেস্টিনেশন ব্র্যান্ডিং। কুষ্টিয়া হতে পারে বাউল ও লালন সাধনার তীর্থ, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ লোকসংগীত আর হাওরজীবনের আঙিনা, সিলেট চা ও পাহাড়ের জনপদ, খুলনা ও সাতক্ষীরা সুন্দরবন আর নদীজীবনের প্রবেশদ্বার। জামদানি, নকশিকাঁথা ও ইলিশের মতো পণ্য ইতিমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে জুড়ে দিলে পণ্যের গল্প ও কারিগরের আয় একসঙ্গে বাড়বে।

জাপানের ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট আন্দোলন দেখিয়েছে, প্রতিটি জনপদ একটি স্বাক্ষর পণ্য নিয়ে গর্ব করতে পারলে গ্রামই হয়ে ওঠে গন্তব্য। ভারতের কেরালা রেসপনসিবল ট্যুরিজম মিশনের আওতায় হোটেলগুলোকে স্থানীয় কৃষক ও নারী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সামগ্রী কিনতে উৎসাহিত করেছে। এতে পর্যটনের আয় গ্রামে থেকে যাচ্ছে, ক্ষরণ কমছে। নেপালের হোমস্টে মডেল দেখিয়েছে, একটি সাধারণ ঘরও পর্যটনের উদ্যোক্তা হতে পারে।

সতর্কবার্তা: অতিপর্যটনের ছায়া

ভেনিসের দিকে তাকালে বোঝা যায়, অতিপর্যটন বা ওভারট্যুরিজম কী ক্ষতি করে। বাসিন্দারা শহর ছাড়ছেন, শহর হয়ে উঠছে মঞ্চসজ্জা। মার্ক টোয়েন বলেছিলেন, ভ্রমণ কুসংস্কার ও সংকীর্ণ মানসিকতার প্রাণঘাতী শত্রু। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ভ্রমণ যে গন্তব্যের নিজের আত্মাকেই ক্ষয় করে দিতে পারে, সে সতর্কতাও আমাদের মনে রাখতে হবে। পর্যটন যেন সংস্কৃতিকে পণ্য বানিয়ে তার প্রাণ কেড়ে না নেয়।

দক্ষ মানুষই আসল পুঁজি

আতিথেয়তা শিল্পে একটি কথা আছে, পর্যটক ভবন মনে রাখেন না, মনে রাখেন আচরণ। গাইড, হোটেল কর্মী, নৌকাচালক, রাঁধুনি, পরিবহনকর্মী ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপক যদি প্রশিক্ষিত না হন, তবে সেরা গন্তব্যও ব্যর্থ হয়। প্রশিক্ষণ হতে হবে সনদভিত্তিক, কাজের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং নারীবান্ধব। আমরা পলিটেকনিকে প্রতিদিন দেখি, গ্রামের তরুণ ও তরুণীরা সুযোগ পেলে অসাধারণ পেশাদার হয়ে ওঠে। প্রয়োজন কেবল সেই সুযোগটুকু।

কয়েকটি উদ্ভাবনী প্রস্তাব

প্রথমত, গ্রাম পর্যটন পাসপোর্ট। প্রতিটি গ্রামের খাবার, লোকসংগীত, হস্তশিল্প ও হোমস্টে নিয়ে একটি ডিজিটাল পরিচয়, যেখানে পর্যটক ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে স্ট্যাম্প সংগ্রহ করবেন।

দ্বিতীয়ত, সুন্দরবন কনজারভেশন ফি। টিকিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্থানীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে বন সংরক্ষণ তহবিলে যাবে এবং বছরশেষে তার প্রকাশ্য হিসাব দেওয়া হবে।

তৃতীয়ত, নারী নেতৃত্বের হোমস্টে। রান্না, কারুশিল্প, গাইডিং ও ডিজিটাল বিপণনে প্রশিক্ষিত নারীরাই হবেন গ্রামীণ পর্যটনের প্রধান উদ্যোক্তা।

চতুর্থত, এক এলাকা এক স্বাক্ষর পণ্য। প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে স্থানীয় কারিগরদের জন্য নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র।

পঞ্চমত, পর্যটন ডিজিটাল একস্টপ। বুকিং, পারমিট, নিরাপত্তা তথ্য ও অভিযোগ নিষ্পত্তি একটি অ্যাপে এনে দেশি ও বিদেশি পর্যটকের হয়রানি কমানো।

ষষ্ঠত, সবুজ প্রশিক্ষণ একাডেমি। কুয়াকাটা, সুন্দরবন ও সিলেট অঞ্চলে ইকোট্যুরিজম, প্রাথমিক চিকিৎসা, বিদেশি ভাষা, ডিজিটাল বিপণন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দক্ষতা তৈরির কেন্দ্র।

শেষ কথা

বাংলাদেশের পর্যটনকে হতে হবে প্রকৃতিনির্ভর, মানুষকেন্দ্রিক ও সংস্কৃতিভিত্তিক। সুন্দরবনকে শুধু দেখার জায়গা না বানিয়ে সংরক্ষণের অর্থনীতিতে রূপ দিতে হবে। গ্রামকে শ্রমিক জোগানের কারখানা না বানিয়ে পর্যটনের মালিক ও উপকারভোগী করতে হবে। জীবনানন্দ যেমন বলেছিলেন, আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়। সেই ফিরে আসার টান যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি, তবে পর্যটক শুধু একবার আসবেন না, বারবার ফিরবেন, আর প্রতিবারই গ্রামের ঘরে একটু বেশি আলো জ্বলবে।

মো: মামুন হাসান, বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

Ads small one

চেহারার মিলে অনেকেই তিশাকে কনকচাঁপার মেয়ে ভাবেন, যা বললেন সংগীতশিল্পী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
চেহারার মিলে অনেকেই তিশাকে কনকচাঁপার মেয়ে ভাবেন, যা বললেন সংগীতশিল্পী

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পর্ক নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে কৌতূহল। দুজনের চেহারায় কিছুটা মিল থাকায় অনেকেই মনে করেন তিশা কনকচাঁপার মেয়ে। তবে বাস্তবে তাঁদের মধ্যে মা-মেয়ের সম্পর্ক নেই। এবার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন কনকচাঁপা নিজেই। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, তিশাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তিশার সঙ্গে একটি পুরোনো ছবি এবং সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এই সংগীতশিল্পী। কনকচাঁপা জানান, তিশাও তাকে পছন্দ করেন এবং মায়ের মতো শ্রদ্ধা করেন।

কনকচাঁপা বলেন, ‘তিশা খুবই ভালো একজন অভিনয়শিল্পী এবং আমি তার ভক্ত। আবার তিশাও আমাকে অনেক পছন্দ করে এবং মায়ের মতোই শ্রদ্ধা করে। ছবিটি অনেক দিন আগে আমেরিকার ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তোলা।’

 

ছবি তোলার মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে মনে ভাবছিলাম তিশার সঙ্গে ছবি তুলি। ঠিক সেই মুহূর্তেই তিশা বললো, ‘মা, আসো আমরা ছবি তুলি।’ সারা পৃথিবীর মানুষ আমাকে তোমার মেয়ে জানে, সে ক্ষেত্রে তোমাকে মা ছাড়া আর কী ডাকি বলো?’

তবে তিশার সঙ্গে তার প্রকৃত সম্পর্কের বিষয়ে স্পষ্ট করে কনকচাঁপা বলেন, ‘যাই হোক, সত্যি কথা হলো, তিশা আমার কন্যা নয়। আমার চেহারার সঙ্গে তিশার কোথাও কোনও মিল হয়তো আছে, এ জন্যই আপনারা এভাবে ভাবতে ভালোবাসেন। আমার একটাই মেয়ে, যার নাম ফারিয়া ইসলাম খান।’

পাইকগাছায় ৩ ‘শ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে এলপিজি গ্যাস!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ৩ ‘শ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে এলপিজি গ্যাস!

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। বাজারে চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পরিচিত কয়েকটি কোম্পানির সিলিন্ডার খুঁজে পেতেও দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কোথাও সরবরাহ না থাকায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে, আবার কোথাও বেশি দাম দিয়েও কিনতে হচ্ছে রান্নার জ্বালানি।

ভোক্তাদের অভিযোগ, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার বর্তমানে পাইকগাছার বিভিন্ন বাজারে ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ চলতি অক্টোবর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সে হিসাবে প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪১৩ থেকে ৪৬৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বাজারে যমুনা, ফ্রেশ, বসুন্ধরা, ওমেরা, বিএম ও টোটালের মতো পরিচিত ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা। তাঁদের ভাষ্য, কোনো কোনো দোকানে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার মিলছে না। এতে পছন্দের ব্র্যান্ডের গ্যাস কেনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। পাইকগাছার গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, রান্নার জন্য গ্যাস প্রয়োজন হলেও চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি কোম্পানির সিলিন্ডার মিললেও খালি সিলিন্ডার বদলে গ্যাস নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। ফলে নতুন সিলিন্ডারসহ গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

আসমা বেগমের ভাষ্য, নতুন সিলিন্ডারসহ ১২ কেজি গ্যাস কিনতে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সংসারের অন্যান্য খরচের সঙ্গে বাড়তি এই ব্যয় সামলাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয় ভোক্তারা জানান, গ্যাসের সংকট ও বাড়তি দামের কারণে রান্নার খরচ বেড়ে গেছে। অনেকেই একাধিক দোকানে খোঁজ করেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। আবার রান্নার প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের। বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

 

সরবরাহের ঘাটতি, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা কৃত্রিম সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোন কোম্পানির সিলিন্ডার কতটা সরবরাহ করা হচ্ছে এবং খুচরা পর্যায়ে কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বসুন্ধরা এলপিজির উপকূলীয় চার উপজেলার পরিবেশক কপিলমুনির মেসার্স নির্মাণ বিপণির স্বত্বাধিকারী বিপ্লব কুমার সাধু বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাসিক চাহিদা ১২ হাজার সিলিন্ডার। কিন্তু গত মাসে কোম্পানি থেকে মাত্র ২ হাজার ৭০০টি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি মাসে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ কারণে বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহের এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। পাইকগাছা বাজারের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা আল-মুনসুর বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এ কারণে তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। যেসব ব্যবসায়ীর কাছে আগে থেকে মজুত ছিল, তাঁদের কেউ কেউ বেশি দামে বিক্রি করেছেন। কপিলমুনি বাজারের শ্রীরামপুর মোড় এলাকার কনক সাহার বিরুদ্ধে বসুন্ধরা গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ২২ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলপিজি ডিলারদের নিয়ে সভা হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্দেশনা দেওয়ার পরও বাজারে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি এবং সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। ফলে সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পাওয়া এবং বেশি দাম দিয়ে কেনার ভোগান্তি থেকেই যাচ্ছে।

ওভিসিতে নাঈলা নাঈম, পরিচালনায় সৈকত রেজা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
ওভিসিতে নাঈলা নাঈম, পরিচালনায় সৈকত রেজা

নতুন একটি ওভিসিতে মডেল হয়েছেন নাঈলা নাঈম। একটি মোবাইল প্রতিষ্ঠানের মডেল হিসেবে দেখা গেছে তাকে। তার সঙ্গে এতে আরও আছেন সজীব জমাদ্দার।

বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা। সম্প্রতি এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে এসেছে।

নির্মাতা জানান, ‘বিএফডিসিতে সিনেমাটিক প্যাটার্নে ওভিসিটির শুটিং হয়েছে।

 

সৈকত রেজা বলেন, ‘এই ওভিসিতে নাঈলা নাঈমকে অ্যাকশন মুডে উপস্থাপন করেছি। বিজ্ঞাপনটি পুরো না দেখলে বোঝা যাবে না এটি কী? আমি চেষ্টা করেছি সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষদের কানেক্ট করার জন্য। এর মধ্যে অনেকে ওভিসিটির প্রশংসা করেছেন।’

নাঈলা নাঈম ন্টাল সার্জারিতে (বিডিএস) পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে মিডিয়া অঙ্গনে যুক্ত হন। ক্যারিয়ারের শুরুতে র‌্যাম্প মডেলিং ও বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। পরে আইটেম গান, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রেও কাজ করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক ইস্যু নিয়েও কাজ করছেন।