শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ‘কস্তুরী হলুদ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ‘কস্তুরী হলুদ’

তারিক ইসলাম

বর্ষার রিমঝিম শব্দে প্রকৃতি যখন নতুন রূপ ধারণ করে, তখন আমাদের চারপাশের বুনো ঝোপঝাড়ও সেজে ওঠে এক অনন্য সাজে। শহরের কংক্রিটের দেয়ালে বসে হয়তো প্রকৃতির এই রূপ অনুধাবন করা কঠিন, কিন্তু গ্রামীণ মেঠোপথ কিংবা ছায়াযুক্ত বনের প্রান্তে চোখ রাখলেই দেখা মেলে এক মায়াবী দৃশ্যের। সবুজ ঘাসের বুক চিরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন কিছু গোলাপী-হলুদ ফুল। সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘শটি’ বা ‘বন হলুদ’ নামে পরিচিত হলেও, উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ঈঁৎপঁসধ ধৎড়সধঃরপধ। আর প্রসাধন বা আয়ুর্বেদের দুনিয়ায় যা ‘কস্তুরী হলুদ’ নামে সমধিক সমাদৃত।

‎আদা ও হলুদ পরিবারের এই উদ্ভিদটি একসময় বাংলার গ্রামীণ জনপদে অত্যন্ত সহজলভ্য ছিল। বর্ষার শুরুতে যখন গাছের গোড়া বা কন্দ থেকে সরাসরি এই নজরকাড়া ফুলগুলো প্রস্ফুটিত হয়, তখন যে কেউ এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে বাধ্য। পাপড়ির উপরিভাগের মনোহরী গোলাপী আভা এবং ভেতরের হালকা হলদেটে রঙের মিশ্রণ প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। ফুলের পরেই মূলত এর বড় বড় সবুজ পাতাগুলো মেলতে শুরু করে।

‎তবে কেবল সৌন্দর্যই এই উদ্ভিদের একমাত্র পরিচয় নয়; এর রয়েছে এক বিশাল ওষুধি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চায় কস্তুরী হলুদের ব্যবহার সর্বজনবিদিত। সাধারণ হলুদের মতো ত্বকে কোনো কালচে ছোপ না ফেলেই এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন চর্মরোগ নিরাময়ে কাজ করে। এছাড়া এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণের কারণে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতেও এর কন্দের চাহিদা ব্যাপক।

‎‎দুর্ভাগ্যবশত, নগরায়ণ, বন উজাড় এবং বুনো উদ্ভিদ সম্পর্কে আমাদের অসচেতনতার কারণে এই সম্ভাবনাময় উদ্ভিদটি আজ অবহেলার শিকার। অনেক সময় আগাছা মনে করে এগুলোকে কেটে ফেলা হয়। অথচ সঠিক উপায়ে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ করা গেলে সুগন্ধি ও প্রসাধন শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে পারত। গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ হতে পারত বাড়তি আয়ের উৎস।

‎আমাদের চারপাশের এই বুনো সৌন্দর্য এবং ঔষধি উদ্ভিদগুলোকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। শটি বা বন হলুদের মতো প্রাকৃতির এই অমূল্য উপহারগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে আমাদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনই প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এদের সংরক্ষণ ও গবেষণার ব্যবস্থা করা। প্রকৃতির এই নিজস্ব সম্পদগুলোকে যদি আমরা অবহেলা করি, তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো কেবল ছবির পাতায় কিংবা স্মৃতির পাতায় বন্দি হয়ে থাকবে বাংলার এই কস্তুরী হলুদ।

লেখক: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

 

 

Ads small one

খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, সংস্কারকাজ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, সংস্কারকাজ শুরু

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার তুয়ারডাঙ্গার মুচির কোনা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর উপকূলীয় ওয়াপদা বেড়িবাঁধে ধস নেমেছে। খবর পেয়ে দ্রুত জিওটিউব ফেলে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবোর শাখা কর্মকর্তা (এসও) আলমগীর হোসেন জানান, দুপুরে বেড়িবাঁধের আনুমানিক ৩০০ ফুট ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং বিকল্প বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত কাজ শেষ না হলে জোয়ারের পানি ঢুকে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের ১৫ থেকে ২০ হাজার বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পাউবোকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

কয়রায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন উপলক্ষে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১২ আগস্ট এ দিনব্যাপী চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পির ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ যেন কোনো খরচ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ধানের বীজতলায় বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ধানের বীজতলায় বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পার-কুখরালীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধানের বীজতলায় ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, তাঁর বাবা ২০০২ সালে জব্বার সরদারের কাছ থেকে জমিটি কেনেন। কিন্তু বিআরএস রেকর্ডে ভুলবশত প্রতিপক্ষের নাম ওঠায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে মামলা (নং ১৯৩৭/২৫) চলমান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত জব্বার সরদারের ছেলে আব্দুর রকিব জমিতে ফসল না করার জন্য পূর্বে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর জমিতে গিয়ে দেখা যায় বীজতলার চারাগুলো বিষ প্রয়োগের কারণে মরে গেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রকিব। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবু সাইদ এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।