রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১১৫ দিন ক্লাস করেই বসতে হবে আগামী এসএসসিতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
১১৫ দিন ক্লাস করেই বসতে হবে আগামী এসএসসিতে

আগামী ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা ক্যালেন্ডার হিসাব করে দেখা গেছে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চলতি বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত বাকি সাড়ে ৭ মাসে মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণি পাঠদানের (ক্লাস) সুযোগ পাবে মাত্র ১১৫ দিন। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষ করে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হবে— তা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

শিক্ষা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৪ মে থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বছরের বাকি থাকে ২৩০ দিন। এর মধ্যে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে ৭০ দিন। এছাড়া ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি ১২ দিন, আশুরা একদিন (শুক্রবার), আষাঢ়ি পূর্ণিমা একদিন, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস একদিন, আখেরি চাহার সোম্বা একদিন, ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী একদিন, জন্মাষ্টমী একদিন, ফাতেহা-ই-ইয়াজ দাহম একদিন, মধু পূর্ণিমা একদিন, মহালয়া একদিন, ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর দুর্গাপূজা ৫ দিন, ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা একদিন, নভেম্বর শ্যামাপূজার একদিনসহ মোট ছুটি আছে ২৮ দিন।

অর্থাৎ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটি ২৮ দিন এবং সাপ্তাহিক ছুটি ৭০ দিন মিলিয়ে মোট ছুটি ৯৮ দিন। তবে সাপ্তাহিক ছুটির ভেতর কিছু সরকারি ছুটি পড়ে যাওয়ায় মোট ছুটির দিন দাঁড়ায় ৯১ দিন।

২৩০ দিন থেকে ৯১ দিন বাদ দিলে সেশন থাকে ১৩৯ দিন। এর মধ্যে অর্ধবার্ষিক, বার্ষিক, প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার কারণে আরও ২৪ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাস করার জন্য অবশিষ্ট থাকছে মাত্র ১১৫ দিন।

পরীক্ষা এগিয়ে আনার এই সিদ্ধান্তে অনেক অভিভাবকই উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, পরীক্ষা যদি প্রথাগতভাবে ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা যেতো, তবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য আরও কিছুটা সময় পেতো। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণ করা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

শ্রেণিপাঠ ব্যাহত হওয়ার নেপথ্যে

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গত বছরেও নানা কারণে শ্রেণিপাঠ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাস দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পড়ালেখা ব্যাহত হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের শুরুতেও সময়মতো পাঠ্যবই হাতে না পাওয়া এবং জাতীয় নির্বাচনের ছুটির কারণে ক্লাস ঠিকমতো হয়নি। ফলে জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত যে পরিমাণ সিলেবাস শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা সম্ভব হয়নি।

‘তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত, বাড়বে কোচিংয়ের নির্ভরতা’

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী প্রধান ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী সরকারের সময় বাঁচানোর সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানালেও মাঠের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর বাইরে চর বা হাওর অঞ্চলের স্কুলগুলোর এই সময়ে সিলেবাস শেষ করার মতো প্রস্তুতি কতটুকু, তা ভাবা দরকার ছিল। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর অহেতুক মানসিক চাপ তৈরি হবে।’

তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘শ্রেণিকক্ষে পঠন-পাঠনের মান এমনিতেই ঘাটতিতে রয়েছে, তার ওপর সময় কমে যাওয়ায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের কোচিং ও প্রাইভেটের দিকে ঠেলে দেবেন।’ এই বাণিজ্য রুখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে শিক্ষকদের কোচিং করানো বন্ধে হাইকোর্টের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

সিলেবাস শেষ হওয়া নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরীক্ষার্থীরা গত বছর যখন নবম শ্রেণিতে উঠেছিল, তখনই তারা অসংখ্য ক্লাস মিস করেছে। সাধারণত নবম শ্রেণিতে ওঠার পর নতুন সিলেবাস ও কঠিন পাঠ্যপুস্তকের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর এমনিতেই একটি বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হয়।’

তিনি পূর্বের ঘাটতিগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘২০২৫ সালের প্রথম দুই মাস (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) দেশে প্রায় কোনও পড়াশোনাই হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ছুটিছাটা ও আন্দোলনের কারণে দফায় দফায় স্কুল বন্ধ থেকেছে। পূর্বের এই বিশাল শিখন ঘাটতি বহাল থাকা অবস্থায় বছরের বাকি সময়ে মাত্র ১১৫ দিন ক্লাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষ করবে, তা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।’

স্কুলে মনিটরিং বাড়ানো, পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার ও নমনীয়তার প্রস্তাব

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ মনে করেন, এক বছরের মধ্যেই সবকিছু মেশিনের মতো রুটিনে আনার কোনও প্রয়োজন ছিল না। এই বছর কিছুটা নমনীয় হয়ে পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি বা মার্চে নেওয়া যেতো।

পাবলিক পরীক্ষার সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসিতে সব বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ও-লেভেলের মতো বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো প্রধান ৫টি বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা সম্ভব। এতে মেধা যাচাইয়ে কোনও তফাত হবে না। বাকি বিষয়গুলোর মূল্যায়ন স্কুলেই ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও অর্ধবার্ষিক-বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকরা করতে পারেন। একই সঙ্গে ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) পরীক্ষাও বোর্ড থেকে বাদ দিয়ে স্কুলেই রাখা উচিত।’ তিনি শিক্ষাবর্ষকে জানুয়ারি-ডিসেম্বরের বদলে উচ্চশিক্ষার মতো জুলাই-আগস্ট থেকে শুরু করারও পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রথমত স্কুলেই পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং বা নজরদারি বাড়াতে হবে। পাবলিক পরীক্ষা হলো মেধা যাচাইয়ের সামগ্রিক একটি নির্দেশক (ইন্ডিকেটর), তাই এর গুরুত্ব অবশ্যই থাকবে।

সদিচ্ছা থাকলে সম্ভব, প্রয়োজন রেমিডিয়াল ক্লাস

শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যে সময় নষ্ট হয়, তা একটি সিস্টেম লস। সদিচ্ছা ও যথাযথ প্রচেষ্টা থাকলে এই সময়ের মধ্যেও সিলেবাস শেষ করা সম্ভব।’

তবে শিখন ঘাটতির ঝুঁকির কথা স্বীকার করে তিনি কিছু অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার সুপারিশ করেন—

প্রি-টেস্ট পরীক্ষা এগিয়ে আনা: কে এম এনামুল হকের মতে, প্রি-টেস্টে পরীক্ষার পর টেস্ট পরীক্ষা পর্যন্ত এক ধরনের বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশেষ উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়। টেস্ট পরীক্ষার পর বিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলনামূলক কম থাকে। সেই সময় শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রস্তুতি, পারিবারিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও গাইড বইয়ের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এই নতুন ঘোষণা সিলেবাস শেষ করা খুব বড় অনুষঙ্গ হবে না। তবে বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পর ব্যক্তিগত প্রস্তুতির জায়গায় সংকোচন হবে। ফলে গাইড বই, নোট বই ব্যবহার প্রাইভেট টিউশনের মতো বাণিজ্যিক উদ্যোগগুলোর প্রভাব তুলনামূলক কম থাকবে।

কন্টাক্ট আওয়ার বাড়ানো: দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা করে ক্লাসের সময় বাড়িয়ে দেওয়া অথবা প্রয়োজনে সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে কন্টাক্ট আওয়ার বাড়ানো।

রেমিডিয়াল লার্নিং: কোভিডকালীন সময়ের মতো পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিখন কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা।

দুর্যোগকালীন পরিকল্পনা: জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে বন্যা বা অতিবৃষ্টির কারণে যেসব অঞ্চলে পাঠদান বন্ধ থাকে, সেখানে প্রতিদিন ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া।

Ads small one

ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষ্যে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষ্যে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক আগামী ১৯ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে আজ (রবিবার) সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ।

 

আগামী ১৯ মে সকাল ১০টায় তেজগাঁও ভূমিভবন থেকে সারাদেশে একযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন করবেন।

 

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ১৯ থেকে ২১ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ মে সকাল ১১টায় শহিদ হাদিস পার্ক থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত মেলা উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

মেলা চলাকালীন সময় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৃথক দুইটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনব্যাপী মেলায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভূমিসেবা বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রতিদিন মেলা পরিদর্শন, ডিজিটাল ভূমিসেবা সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভূমিসেবা ও ভূমি আইন বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

 

সরকার ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাকে সজহীকরণ এবং হয়রানিমুক্ত করতে খুলনা জেলায় ১৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে এবং আরও নয়টি কেন্দ্র সদ্য অনুমোদন করা হয়েছে, যেন ভূমিসেবা সহায়তা আরও বৃদ্ধি পায়। ভূমি সংক্রান্ত যেকোন তথ্য, অভিযোগ বা জিজ্ঞাসার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টারের হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা যাবে।

 

ভূমিসেবা মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের জন্য land.gov.bd সার্ভিস পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন, হোল্ডিং এন্ট্রি ও অনুমোদন এবং অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে সার্বিক সহায়তা প্রদান, ই-নামজারির আবেদন দাখিলে সহায়তা করা এবং নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণে সহায়তা করা হবে।

 

অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা, অনলাইনে মৌজাম্যাপ প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে সরবরাহ করা বিষয়ে অবহিত করা, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ চেক সরাসরি মেলা থেকে প্রদান, গণশুনানীর মাধ্যমে ভূমিসেবা সংক্রান্ত যেকোন অভিযোগ গ্রহণ এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুত সমাধান করা হবে ও ভূমি সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে সেবাগ্রহীতাদের পরামর্শ প্রদান করা হবে এবং একইসাথে জনসাধারণের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।

 

প্রেস কনফারেন্সে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কানিজ ফাতেমা লিজা, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যবিবরণী

তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): জৈষ্ঠ মাসের শুরুতে তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। সারা দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। পাশাপাশি বেড়েছে বাতাসে আর্দ্রতা। সব মিলিয়ে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।

পাইকগাছায় প্রচন্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে বিশেষ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। অনেকে তালের শাস, শরবত খেয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করছেন। দুপুর বারোটার পর থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত রাস্তা ও বাজার এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচন্ড গরম লাগছে। বোরো ধানের মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা তাপদাহে হাপিয়ে উঠছে। শ্রমজীবী ও স্থানীয়রা বলেন, গরমে কোনো কাজ করতে পারছেন না তারা। উপকূলের পাইকগাছা এলাকায় লবনাক্ত হাওয়ায় গরম বেশী অনুভূত হচ্ছে।

জ্যৈষ্ঠের শেষে আরো তেতে উঠছে সূর্য। কয়েক দিন ধরে দেশের বড় অংশজুড়ে প্রচন্ড গরম পড়েছে। দিনে আগুনে রোদ ও গরমে খাঁ খাঁ করে চারদিক। রাতেও তাপমাত্রা কমে না। আর সেই সাথে লোডশেড়র্িং ও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমের কারণে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডায়রিয়ায়ও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

ঘরের ফ্যানের বাতাসও যেন গরম হয়ে উঠছে। তারপরও রয়েছে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বেলা বাড়ার সাথেই বাড়ছে তাপপ্রবাহ। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী ছুই ছুই অবস্থা। শহর এলাকায় গরমে নাভিশ্বাস বাড়ছে মানুষের।

পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপস গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের প্রখর তাপদাহ ও তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও কর্মজীবীদের জীবন যেন বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘাম ঝরিয়ে ছুটতে হচ্ছে তাদের। পাইকগাছার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। পাইকগাছা পৌর শহরের ভ্যান চালক আবুল হোসেন বলেন, বেশি তাপের কারণে দুই-তিন ঘন্টার বেশি ভ্যান চালাতে পারছি না। রাস্তা থেকে গরম তাপ এসে যেন মুখে লাগছে। তাপ ও রৌদ্রের কারণে রাস্তায় বেশিক্ষণ থাকতে পারি না। গোপালপুর গ্রামের নুর ইসলাম বলেন, এই তীব্র গরমে মাঠে কাজ করতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে শরীরে আগুনের তাপ লাগছে।

প্রচন্ড গরমের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে রোগীদের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। বিনা কারণে শিশুকে ঘরের বাইরে বের না হতে বলা হচ্ছে অভিভাবকদের। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি ও টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে ও ফ্যানের নিচে বাতাসে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে কুপিয়ে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাই

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ঢুকে পরিচালককে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলার উত্তর পাশে অবস্থিত ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে।

এই হামলায় গুরুতর আহত কোচিং সেন্টারের পরিচালক মইনুল ইসলাম (৩০) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- পুরাতন সাতক্ষীরা (নাথপাড়া) এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) এবং মো. রকি (২২)।

লিখিত এজাহার থেকে জানা যায়, মইনুল ইসলামের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে একজন আসামির ১৬ বছর বয়সী এক বোন পড়াশোনা করত। কোচিংয়ে আসা-যাওয়ার সুবাদে সেন্টারের শিক্ষক আলফাজের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা বলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তৈরি হয়। বিষয়টি পরিচালকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি কোচিংয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেন এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করে দেন।

এঘটনার পর ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদের কাছে বিষয়টি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৪ মে রাতে আসামিরা লোহার রড, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বেআইনিভাবে কোচিং সেন্টারের নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা পরিচালক মইনুল ইসলামের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১নং আসামি ইমরান তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে, যার ফলে তার মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে। ২নং আসামি তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে মইনুল ইসলামের বাম গাল কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং সেখানেও ৪টি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া ৩ ও ৪নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

হামলার একপর্যায়ে ১নং আসামি ইমরান হোসেন পরিচালকের কাছে থাকা নগদ ৪২ হাজার ৫২০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় ফরহাদ হোসেন ও আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত সাক্ষীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।