সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

৪০ দিনেও উদ্ধার হয়নি মন্দিরের সোনা, ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
৪০ দিনেও উদ্ধার হয়নি মন্দিরের সোনা, ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা

পত্রদূত রিপোর্ট: পুরাতন সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ৪০ দিন পার হলেও লুণ্ঠিত সোনার গহনা বা টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশের এই ব্যর্থতায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এদিকে, এই মামলায় গ্রেপ্তার বাবলু গাজীর জামিন শুনানি শেষে সোমবার জেলা ও দায়রা জজ মো. নজরুল ইসলাম আগামী ১১ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কেস ডায়েরিসহ (সিডি) সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে মন্দিরে চুরির ঘটনাটি ঘটে। চোর চক্রের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে কালীমাতা মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ দেবের মন্দির, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির এবং রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের তালা ভেঙে প্রবেশ করে।

তারা বিগ্রহের শরীর থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা মূল্যের সোনার গহনা ও নগদ সাত হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন।

পুলিশ তদন্তে নেমে এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে মাসুদ রানা ও অংকন সাহা নামের দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে অংকন সাহা জানান, চুরির সময় তিনি ও মাসুদ রানা মন্দিরের ফটকে পাহারা দিচ্ছিলেন। আতাউল ইসলাম ওরফে আতা এবং মামুন ওরফে ‘বোতল’ ভেতরে ঢুকে তালা ভেঙে সোনা লুট করেন। লুটের পর সেই সোনা ইয়ারুল নামের একজনের কাছে রাখা হয়েছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত আতা ও মামুন ওরফে বোতলকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার বাদী নিত্যানন্দ আমিন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আলামত উদ্ধার হবে বলে আমাদের আর বিশ্বাস নেই। এর আগে দুর্গাপূজার সময় শহরে চারটি বাড়িতে বড় ধরনের চুরি হলেও পুলিশ কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি কাটিয়া মায়ের মন্দিরে চুরির চেষ্টার ঘটনায়ও কাউকে ধরা যায়নি।

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, “আমরা আলামত উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। র‌্যাবেরও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তবে মূল অভিযুক্ত আতা ও বোতল বারবার মোবাইল সিম পাল্টে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।” তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারে মন্দির কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। সাতক্ষীরায় একের পর এক চুরির ঘটনায় জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

Ads small one

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জ্বালানি সংকটে স্থবির ভোমরা বন্দরÑকাঁচামাল পচন ও ব্যবসায়িক ধস রুখতে জরুরি উদ্যোগ জরুরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জ্বালানি সংকটে স্থবির ভোমরা বন্দরÑকাঁচামাল পচন ও ব্যবসায়িক ধস রুখতে জরুরি উদ্যোগ জরুরী

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। যে বন্দরটি সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল, জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে তা এখন স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ডিজেলের অভাবে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় আমদানিকৃত পণ্য, বিশেষ করে পচনশীল কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দরে ট্রাকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। আগে প্রতিদিন যেখানে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করত, এখন তা ২০০-এর নিচে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাকগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে মাঝপথে তেলশূন্য হয়ে পড়ছে। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল না পাওয়ায় ট্রাক চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন পাম্পে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যেখানে দুদিনে একটি ট্রিপ সম্পন্ন হতো, সেখানে এখন এক সপ্তাহ লেগে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ট্রাকভাড়াÑ২৫ হাজার টাকার ভাড়া গিয়ে ঠেকেছে ৩৭ হাজার টাকায়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো পচনশীল পণ্যের অবস্থা। ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচামরিচ, আদা ও বিভিন্ন ফলমূল সময়মতো গন্তব্যে না পৌঁছানোয় পথেই পচে নষ্ট হচ্ছে। আমদানিকারকরা জানাচ্ছেন, মাল দেরিতে পৌঁছানোর কারণে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত দাম কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই বহুমুখী লোকসান ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমদানিকারকদের ব্যবসার মেরুদ- ভেঙে দিচ্ছে।
ভোমরা বন্দর দিয়ে দেশের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ আসে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুফল যখন ব্যবসায়ীরা পেতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই জ্বালানি সংকটের কারণে এই অচলাবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই সংকট কেবল পরিবহনের নয়, এটি সরাসরি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার দরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমরা মনে করি, ভোমরা স্থলবন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এখানে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ডিজেলের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং পরিবহন মালিকদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া, বন্দরে খালাস হওয়া পণ্য দ্রুত সরানোর জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তাও ভেবে দেখা জরুরি।
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের দাম রাখতে ভোমরা বন্দরের এই পরিবহন সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবছে দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবছে দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসায় অনিয়ম আর দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে থাকা শতাধিক বিঘা কৃষি জমি হতে বাৎসরিকভাবে আদায়কৃত অর্ধ্ব কোটি টাকার মালিকানা নিয়ে অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। যার ফলে প্রায় পাঁচ দশক আগে গড়ে উঠা ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাতা পরিবারগুলোর সাথে অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের মধ্যে দিনে দিনে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরী হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবস্থা অব্যাহত থাকার সত্ত্বেও প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিধিদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনতিবিলম্বে অবস্থার উন্নতি না হলে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হবে বলেও দাবি তাদের।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে ডা. রাহাতুল্লাহ গাজী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। মাদ্রাসার অনুকুলে থাকা প্রায় একশ বিঘা কৃষি জমি মৎস্যঘেরের জন্য ইজারা দিয়ে প্রতিবছর কতৃপক্ষ মোটা অংকের টাকা আদায় করে।
অনুসন্ধানকালে স্পষ্ট তথ্য মিলেছে যে মাদ্রাসার অনুকুলে এত বিপুল পরিমান টাকা বাৎসরিকভাবে আয় হলেও তার যৎসামান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় হয়। মুলত অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন ও তার কয়েক অনুসারী সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিভিন্ন খরচের ছিলিপ তৈরী করে অধ্যক্ষ খাতা-খতিয়ান ঠিক রাখার চেষ্টা করেন বলেও দাবি তাদের। এমনকি মাদ্রসার বিরুদ্ধে কোন অনিয়মের তদন্ত হলে তদন্ত কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করার জন্য তারা মাদ্রাসার ফান্ড থেকে মোটা অংকের অর্থ খরচ করে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে হিসেবে স্বচ্ছতা রাখার অপচেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ তুলেছে খোদ পরিচালনা পর্ষদ ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের আলহাজ্ব মুরাদ হোসেন জানান তার দাদা মাদ্রসা গড়ে তুলেছিলেন ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার ঘাঁতে। কিন্তু অধ্যক্ষ ইউনুস হোসেন তার কয়েক অনুসারীকে নিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বার বার প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দারস্থ হওয়া সত্ত্বেও পরিবার ইউনুস হোসেন মাদ্রাসার অর্থ দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে চলেছে।
প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অপর এক সদস্য এবং নকিপুর এইচসি সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, ইউনুস হোসেন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় েিনেছন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছাত্র জোবায়েরকে মাদ্রসায় ভর্তি দেখিয়ে তার পিতা ও নিজ বন্ধু এবং সকল অপকর্মের সাথী আজিজুর রহমানকে পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য বানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদারকি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করা সত্ত্বেও ইউনুস সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ফেলেছেন বলে তিন বছর ধরে বিষযটি ঝুলে আছে।
মাদ্রসার সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফের ভাষ্য তিনি তার পিতা ও মাতার নামে ছাত্রাবাস এবং কবরস্থান তৈরীর জন্য সাড়ে বিঘা জমি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি তার কোন অস্থিত্ত্ব নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দুই বছর আগে নিরুপণ দলিলের উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন অধ্যক্ষের নিকট। সেসময় মাদ্রাসার প্রবেশদ্বারে তার পিতা ও মাতার নাম লেখা হলেও আজ পর্যন্ত সেই ছাত্রাবাস ও কবরস্থান তৈীর করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি উক্ত জমির টাকার দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
আব্দুর রউফ আরও অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ ইউনুস মাওলানার কারনে মাদ্রাসায় শিক্ষার পরিবেশ নেই বললেই চলে। দিন দিন ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তার দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায়১০ মাস আগে একযোগে পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন পদ হতে তারা ছয়জন অব্যাহতি নিয়েছেন। তারপরও স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে মাদ্রাসার অনুকুলে আদায়কৃত অর্থের অবৈধ ব্যবহার করে ইউনুস মাওলানা দিবি একক ক্ষমতায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন জানান তিনি দায়িত্ব নেয়ার আগে অন্য অধ্যক্ষরা একইভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের কয়েকজন সদস্য পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

আজ সাতক্ষীরায় দীনেশ কর্মকার বাড়ি গণহত্যা দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
আজ সাতক্ষীরায় দীনেশ কর্মকার বাড়ি গণহত্যা দিবস

পত্রদূত রিপোর্ট: আজ ২১ এপ্রিল, সাতক্ষীরার ইতিহাসে অন্যতম এক কলঙ্কিত ও শোকাবহ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় (তদানীন্তন টাউন স্কুল) সংলগ্ন দীনেশ কর্মকারের বাড়িতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। এই বধ্যভূমি ও শহীদদের স্মরণে আজ বিকেলে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
একাত্তরের ২০ এপ্রিল খুলনা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভিটেমাটি হারানো শত শত অসহায় মানুষ প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথে রাত হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সাতক্ষীরা টাউন স্কুলে আশ্রয় নেন। নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় থাকা এই নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর পরদিন ভোরে হিংস্র হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হানাদাররা নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাঁদের হত্যা করে। এরপর রক্তরঞ্জিত লাশগুলো পাশের দীনেশ কর্মকারের পুকুরে ফেলে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার এই বধ্যভূমিটি আজও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। অযতœ আর অবহেলায় বধ্যভূমিটি হারিয়ে যেতে বসেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এই স্থানটি সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিনের।
৭১-এর গণহত্যার শহীদদের স্মরণে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে আজ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং শোক র‌্যালি ও স্মৃতিচারণ সভা।
আজ বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন দীনেশ কর্মকার বাড়ির বধ্যভূমিতে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।