৫৮ বছরের কলেজ, ৩ হাজার শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ মাত্র ১৫টি
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত সংকট কাটেনি যশোরের মনিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে। তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র ১৫টি। এর মধ্যে একটি পুরোনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি পরীক্ষা, ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার ও আবাসন সুবিধার সংকটও রয়েছে।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০১৮ সালে সরকারিকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই বছরের ৮ আগস্ট থেকে বেসরকারি আমলে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনে কলেজটির ৬৩ জন শিক্ষককে সরকারিকৃত কলেজে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি পরিচয় পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সে তুলনায় হয়নি বলে কলেজ-সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজের তিনটি ভবনের একটি পরিত্যক্ত। বর্তমানে একটি দুইতলা ও একটি চারতলা ভবনের প্রায় ১৫টি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি, অনার্স ও বিএম/কারিগরি শাখার বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরিচালনায় এসব কক্ষ নিয়ে চরম চাপ তৈরি হয়েছে।
নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা, অনার্স, ডিগ্রি ও বিএম পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও কলেজটি ব্যবহৃত হয়। এতে সীমিত অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত।
কলেজে কোনো আবাসিক সুবিধা না থাকায় দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন একাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হল, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও ছাত্রাবাস নির্মাণ এখন জরুরি।
সরেজমিনে এমপি গাজী এনামুল
২৪ আগস্ট মনিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শন করেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। তিনি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং জরাজীর্ণ ভবন পরিদর্শন করেন। কলেজ-সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ সময় তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেন।
কলেজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দূর করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষা-পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।












