বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

অন্ধকার ভেঙে কৃষ্ণের আবির্ভাব/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
অন্ধকার ভেঙে কৃষ্ণের আবির্ভাব/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সনাতন ধর্মের এক অনন্য ও সর্বজনীন চরিত্র। তাঁকে ঘিরে যেমন রয়েছে অসংখ্য পুরাণকথা, তেমনি রয়েছে গভীর দার্শনিক চিন্তা এবং ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে তাঁর দীর্ঘ প্রভাব। কৃষ্ণকে বুঝতে হলে তাই শুধু ভক্তির চোখে দেখলেই হবে না; প্রয়োজন পুরাণ, দর্শন ও ইতিহাসÑএই তিনটি পৃথক স্তরকে পাশাপাশি রেখে দেখতে হবে। জন্মাষ্টমী সেই উপলক্ষ, যখন কোটি কোটি মানুষ শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্মরণ করেন। কিন্তু এই আবির্ভাবের অর্থ কী? কৃষ্ণের জন্মকাহিনির কোন অংশ পুরাণীয় আখ্যান, কোনটি দার্শনিক প্রতীক এবং কৃষ্ণভক্তি কীভাবে ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠলÑএসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীকৃষ্ণের জন্মের প্রধান কাহিনি পাওয়া যায় ভাগবত পুরাণ, হরিবংশ এবং বিষ্ণু পুরাণ-সহ বিভিন্ন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের গ্রন্থে। পুরাণীয় বর্ণনা অনুযায়ী, মথুরার রাজা কংস তাঁর বোন দেবকী ও তাঁর স্বামী বাসুদেবকে কারাগারে বন্দি করেন। একটি দৈববাণী ছিলÑদেবকীর অষ্টম সন্তান কংসের মৃত্যুর কারণ হবে। এই আশঙ্কায় কংস দেবকীর সন্তানদের হত্যা করতে থাকেন। অষ্টম সন্তান হিসেবে কৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে কারাগারে। পুরাণের কাহিনিতে বলা হয়, কৃষ্ণ জন্মের সময় কারাগারের প্রহরীরা ঘুমিয়ে পড়েন, কারাগারের বন্ধন শিথিল হয় এবং বাসুদেব নবজাতক কৃষ্ণকে নিয়ে যমুনা পেরিয়ে গোকুলে নন্দ-যশোদার কাছে পৌঁছে দেন। সেই সময় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। অনন্তনাগ তাঁর ফণা বিস্তার করে কৃষ্ণকে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করেনÑএমন বর্ণনাও পুরাণে পাওয়া যায়। ভক্তের কাছে এগুলো ঈশ্বরীয় লীলা; গবেষকের কাছে এগুলো ধর্মীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। বৃন্দাবনের কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে অসংখ্য কাহিনি গড়ে উঠেছে। পুতনা বধ, তৃণাবর্ত, বকাসুর, অঘাসুর, কালীয়দমন, গোবর্ধন ধারণÑএসব কাহিনি কৃষ্ণের শৈশব ও কৈশোরের সঙ্গে যুক্ত। গোপাল কৃষ্ণের মাখনচুরি, গোপীদের সঙ্গে তাঁর লীলা, বাঁশির সুর এবং রাধার সঙ্গে প্রেমের আখ্যান পরবর্তী বৈষ্ণব ভক্তি-সাহিত্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।পুরাণের কৃষ্ণ তাই একই সঙ্গে বালক, প্রেমিক, রক্ষাকর্তা, অসুরবিনাশী ও ঈশ্বর।পুরাণের কৃষ্ণের সঙ্গে দর্শনের কৃষ্ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। দর্শনের কৃষ্ণ আমাদের কাছে সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠেন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায়।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে অর্জুন যখন আত্মীয়-স্বজন, গুরু ও বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে ভেবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তখন কৃষ্ণ তাঁর সারথি হিসেবে তাঁকে উপদেশ দেন। এই কথোপকথনই ভগবদ্গীতার মূল বিষয়। গীতায় কৃষ্ণ মানুষের সামনে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেনÑমানুষের কর্তব্য কী? কর্ম কী? আত্মা কী? জ্ঞান কী? আসক্তি কী? মুক্তি কী? ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে মানুষ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে?গীতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো কর্মের প্রতি মানুষের দায়িত্ব। মানুষের হাতে সবসময় ফল থাকে না; কিন্তু নিজের কর্মের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল থাকা তার কর্তব্য। এই দর্শনকে কর্মযোগ বলা হয়। আধুনিক ভাষায় বলা যায়Ñফলের নিশ্চয়তা না থাকলেও সৎ ও দায়িত্বশীল কাজ থেকে পিছিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কৃষ্ণ মানুষকে শুধু বাহ্যিক জ্ঞান অর্জন করতে বলেননি; নিজের অস্তিত্ব, কর্তব্য ও জীবনের প্রকৃতি বোঝার কথাও বলেছেন। নিজেকে জানা, নিজের দুর্বলতা চিনতে পারা এবং সত্যকে উপলব্ধি করার চেষ্টাÑগীতার জ্ঞানভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষ্ণের দর্শনে ভক্তিও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এখানে ঈশ্বরের প্রতি আত্মসমর্পণ, প্রেম ও বিশ্বাসের মাধ্যমে আত্মিক উন্নতির কথা বলা হয়। পরবর্তী বৈষ্ণব দর্শন ও ভক্তি আন্দোলনে এই ভাবনা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

গীতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো ইন্দ্রিয় ও মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ।লোভ, ক্রোধ, মোহ ও অহংকার মানুষকে নিজের কাছ থেকেই বিচ্ছিন্ন করে। ফলে কৃষ্ণদর্শনে প্রকৃত যুদ্ধ শুধু বাইরের শত্রুর সঙ্গে নয়; মানুষের নিজের অন্তরের দুর্বলতার সঙ্গেও।এই কারণে কুরুক্ষেত্রকে একটি প্রতীক হিসেবেও পড়া যায়Ñমানুষের নিজের ভেতরের নৈতিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র হিসেবে।কৃষ্ণকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন সাহিত্যিক উৎসগুলোর মধ্যে মহাভারত, হরিবংশ, বিষ্ণু পুরাণ এবং ভাগবত পুরাণ উল্লেখযোগ্য। এগুলো বিভিন্ন সময়ে রচিত ও সংকলিত হয়েছে এবং কৃষ্ণের চরিত্র ও কাহিনিকে ক্রমে বিস্তৃত করেছে।

 

ইতিহাসের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑকৃষ্ণের চরিত্র ভারতীয় সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অত্যন্ত প্রাচীন এবং তাঁর উপাসনা ও ভক্তি বহু শতাব্দী ধরে বিকশিত হয়েছে।প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য থেকে শুরু করে গুপ্ত যুগ, মধ্যযুগের বৈষ্ণব আন্দোলন, বাংলা পদাবলি, চৈতন্যভক্তি এবং আধুনিক যুগ পর্যন্ত কৃষ্ণভক্তির ধারাবাহিক বিস্তার দেখা যায়।অর্থাৎ কৃষ্ণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কেবল তাঁর জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ প্রমাণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।কৃষ্ণকে দেবকীর অষ্টম সন্তান বলা হয়।

 

এটি কৃষ্ণজন্মের পুরাণীয় কাহিনির একটি মৌলিক অংশ। তবে ‘অষ্টম’ শব্দকে কেন্দ্র করে পরবর্তী আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যাও রয়েছে।ভগবদ্গীতার সপ্তম অধ্যায়ে কৃষ্ণ তাঁর ‘অপরা প্রকৃতি’র আটটি উপাদানের কথা বলেছেনÑপৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ, মন, বুদ্ধি ও অহংকার।এই আট উপাদানকে কেন্দ্র করে মহাবিশ্ব ও মানবসত্তার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হয়। সুতরাং কেউ যদি ‘অষ্টম’কে এই আট প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করে কৃষ্ণতত্ত্বের ব্যাখ্যা দেন, সেটি দার্শনিক বা আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এখানে পুরাণ ও দর্শনের পার্থক্যটি বোঝা জরুরি।পুরাণ বলেÑকৃষ্ণ দেবকীর অষ্টম সন্তান। দর্শন ব্যাখ্যা করতে পারেÑকৃষ্ণকে প্রকৃতি ও পরমচেতনার সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে।

 

কৃষ্ণের শ্যামবর্ণ: রূপের বাইরে তত্ত্ব কৃষ্ণের নামের সঙ্গে ‘শ্যাম’ ও ‘ঘনশ্যাম’ শব্দ গভীরভাবে যুক্ত। ভারতীয় শিল্প ও ভক্তি-সাহিত্যে তাঁকে কখনো নীল, কখনো শ্যামবর্ণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এখানেও পুরাণ, শিল্প ও দর্শনের নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে।তাঁর ‘কৃষ্ণ’ পরিচয়ের সাংস্কৃতিক অর্থ। তিনি এমন এক চরিত্র, যাঁর মধ্যে একই সঙ্গে শিশুর সরলতা, প্রেমের আকর্ষণ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যুদ্ধের কৌশল এবং দার্শনিক গভীরতা মিলেছে। বাংলাদেশে জন্মাষ্টমী শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ। মন্দিরে পূজা, উপবাস, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, পঞ্চামৃত নিবেদন এবং প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে শোভাযাত্রার আয়োজন হয়ে থাকে। ঢাকার জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বিশেষভাবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

 

সময়ের সঙ্গে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলার লোকশিল্প, সংগীত, সাজসজ্জা ও জনসম্পৃক্ততা। এখানে জন্মাষ্টমী একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণÑকীভাবে একটি ধর্মীয় বিশ্বাস সময়ের প্রবাহে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়।পঞ্চামৃত: ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। জন্মাষ্টমীর পূজা ও কৃষ্ণভক্তির বিভিন্ন আচারে পঞ্চামৃতের ব্যবহার প্রচলিত। সাধারণত দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি দিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়।‘পঞ্চ’ অর্থ পাঁচ এবং ‘অমৃত’ অর্থ অমৃত বা অমরত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত ধারণা।

 

পঞ্চামৃতকে মূলত ধর্মীয় নিবেদন ও প্রসাদ হিসেবে দেখা হয়। এর সঙ্গে নানা লোকবিশ্বাস ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ধারণা যুক্ত থাকলেও ধর্মীয় আচার হিসেবে এর পবিত্রতা ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বই প্রধান। তিনটি স্তর একসঙ্গে দেখলে কৃষ্ণকে কীভাবে বোঝা যায়?শ্রীকৃষ্ণকে বোঝার জন্য তিনটি স্তরকে আলাদা করা অত্যন্ত জরুরি। পুরাণের কৃষ্ণ আমাদের দেন কাহিনিÑজন্ম, গোকুল, বৃন্দাবন, কংসবধ, রাধা, গোপী, গোবর্ধন ও অসুরবধের আখ্যান। দর্শনের কৃষ্ণ আমাদের দেন প্রশ্নের উত্তরÑকর্তব্য কী, কর্ম কী, জ্ঞান কী, ভক্তি কী, আত্মসংযম কী এবং জীবনের সংকটে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

 

ইতিহাসের কৃষ্ণ আমাদের দেখানÑকীভাবে একটি ধর্মীয় চরিত্র শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, ধর্মীয় আন্দোলন ও লোকসংস্কৃতিকে প্রভাবিত করেছে। এই তিনটি স্তরকে এক করে ফেললে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। আবার তিনটিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করলেও কৃষ্ণের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বোঝা যায় না। আজ মানুষ প্রযুক্তিতে এগিয়েছে, কিন্তু নৈতিক সংকট থেকে মুক্ত হতে পারেনি। অর্থ ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতা বাড়ছে, অথচ মানুষের মধ্যে শান্তি ও সহমর্মিতার প্রয়োজনও বাড়ছে।

কৃষ্ণের শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñকর্তব্য থেকে পালিয়ে যাওয়া সমাধান নয়; অন্যায়ের সঙ্গে আপস করাও নৈতিকতার পরিচয় নয়; আর জ্ঞান যদি অহংকার বাড়ায়, তবে সেই জ্ঞান অসম্পূর্ণ।

তাঁর দর্শনে কর্ম আছে, কিন্তু কর্মের অহংকার নেই। জ্ঞান আছে, কিন্তু জ্ঞানের দম্ভ নেই। ভক্তি আছে, কিন্তু ভক্তির সঙ্গে আত্মশুদ্ধির কথাও আছে।তাই জন্মাষ্টমীকে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবে না দেখে আত্মজিজ্ঞাসার দিন হিসেবেও দেখা যায়। কারাগারের অন্ধকারে কৃষ্ণের জন্মের পুরাণকথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñঅন্ধকারের মধ্যেই আলোর জন্ম হতে পারে। আর গীতার কৃষ্ণ আমাদের শেখানÑজীবনের কুরুক্ষেত্র থেকে পালিয়ে নয়, নিজের কর্তব্য ও বিবেককে সঙ্গে নিয়ে তার মোকাবিলা করতে হয়। শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বিশ্বাসের জায়গা একান্তই ব্যক্তিগত ও ধর্মীয়।

 

কিন্তু তাঁর দর্শন ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের জায়গাটি অনেক বিস্তৃত।তাঁকে কেউ ভগবান হিসেবে পূজা করেন, কেউ দার্শনিক হিসেবে পাঠ করেন, কেউ প্রেমের প্রতীক হিসেবে অনুভব করেন, আবার কেউ ভারতীয় সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক চরিত্র হিসেবে বিশ্লেষণ করেন। এই বহুমাত্রিকতাই কৃষ্ণকে যুগের পর যুগ জীবন্ত রেখেছে। জন্মাষ্টমীর প্রকৃত তাৎপর্য তাই শুধু কৃষ্ণের জন্মস্মরণে নয়; বরং নিজের জীবনের অন্ধকার, অন্যায়, অহংকার ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে আলো, ন্যায়, প্রেম ও বিবেককে জাগ্রত করার মধ্যেও নিহিত।

 

পুরাণ আমাদের কৃষ্ণের কাহিনি দেয়, দর্শন দেয় তাঁর বাণীর অর্থ, আর ইতিহাস দেখায়Ñকীভাবে সেই কৃষ্ণ মানুষের সভ্যতা ও সংস্কৃতির দীর্ঘ যাত্রায় এক অবিনাশী উত্তরাধিকার হয়ে উঠেছেন। জন্মাষ্টমীর পবিত্র তিথিতে প্রার্থনা হোকÑ অন্যায়ের বিনাশ হোক, শুভবুদ্ধির উদয় হোক; মানুষের হৃদয়ে জেগে উঠুক প্রেম, সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার আলো।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তৃতীয় দিনে ৯২৩ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তৃতীয় দিনে ৯২৩ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের টাকা ফেরত পেতে আবেদন জমা দেওয়ার হার তৃতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ২১ হাজার ৮৬ জন আমানতকারী টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৯২৩ কোটি টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

এর আগে আবেদন গ্রহণের প্রথম দুই দিন মঙ্গলবার ও বুধবার ৩৭ হাজার আমানতকারী প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। ফলে তিন দিনে মোট ৫৮ হাজার ৮৬ জন আমানতকারী প্রায় ৩ হাজার ২২৩ কোটি টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেছেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানত ফেরতের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার। একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও উপশাখায় গিয়ে গ্রাহকদের আবেদন করতে হচ্ছে। আবেদন গ্রহণকে কেন্দ্র করে এসব শাখায় গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে। অনেক শাখায় আবেদন জমা দিতে আসা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ব্যাংক কর্মকর্তারা।

ব্যাংক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার প্রথম দিনে প্রায় ১৮ হাজার আমানতকারী ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। বুধবার দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১৯ হাজার আমানতকারী আবেদন করেন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ফেরতের জন্য। আর বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬ জনের কাছ থেকে ৯২৩ কোটি টাকার আবেদন পাওয়া গেছে।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, আগামী রোববার পর্যন্ত আমানত ফেরতের আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা রয়েছে।

মূল টাকা তোলা যাবে, মুনাফা নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা তাঁদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা এই মুহূর্তে পাওয়া যাবে না।

কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে যেসব গ্রাহক এখনই টাকা তুলবেন না এবং হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এর আগে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ব্যাংকটির মোট ৮৪ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রথম দিনে ১৮ হাজার আমানতকারী পুরো মূল টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন। মোট আমানতকারীর তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বোঝা যায়, ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের এখনো যথেষ্ট আস্থা রয়েছে।

পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠন

সংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক—সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই একীভূতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটি ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে।

একীভূত হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা সরকারের হাতে নেওয়া হয়েছে। এখন ধাপে ধাপে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আড়াই মাস আইসিইউতে থাকার পর সুস্থ হচ্ছেন শিক্ষার্থী জাহিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
আড়াই মাস আইসিইউতে থাকার পর সুস্থ হচ্ছেন শিক্ষার্থী জাহিদ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: জিবিএস (গিয়েন-বারে সিন্ড্রোম) রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা নিউরোমেডিসিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘ আড়াই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে সুস্থ হতে শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাঈমুর রহমান জাহিদ। চিকিৎসকদের আশা, অল্পদিনের মধ্যেই পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন তিনি।
খুলনার নর্থ ওয়েস্ট প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান জাহিদ গত ১৯ জুন রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে খুলনা গাজী মিজান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেখানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক এ কে এম আউয়ালের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত ঢাকা নিউরোমেডিসিন হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত দুই সপ্তাহে রক্ত দেওয়ার পরও অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় একপর্যায়ে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে থাকার পর জাহিদের জ্ঞান ফেরে।
জাহিদের মা নার্গিস বেগম ও বাবা সরাব হোসেন সরদার জানান, একমাত্র ভাইকে সুস্থ দেখতে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালেই তা স্থগিত রেখে ঢাকায় ছুটে যান তাঁর বোন মহসিনা খাতুন। বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মহসিনা বর্তমানে আইসিইউতে ভাইয়ের দেখাশোনা করছেন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, জাহিদ এখন খাবার খেতে পারছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো।
জাহিদের বাবা সরাব হোসেন সরদার, মা নার্গিস খাতুন, চাচা শাহাবুদ্দিন ও চাচাতো ভাই সাঈদ নাসিরসহ পরিবারের সদস্যরা সবার কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

 

 

কালিগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের মজলিসে শুরা অধিবেশন ও কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের মজলিসে শুরা অধিবেশন ও কমিটি গঠন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার মজলিসে শুরা অধিবেশন ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ অয়েজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও হাবিবুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি মুহা. আবদুল হাই সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা দক্ষিণ শাখার সম্পাদক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, সহসভাপতি আমিনুর রহমান ও প্রকৌশলী ফয়জুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কালিগঞ্জ উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। এতে শেখ অয়েজুর রহমানকে সভাপতি, মুহা. হাবিবুল্লাহকে সম্পাদক ও মুহা. মহিবুল্লাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। নতুন কমিটি সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।