বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

এআই ডিপফেকের বিষাক্ত রাজনীতি: মিথ্যার ডিজিটাল কারবার বন্ধে চাই কঠোর আইন!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
এআই ডিপফেকের বিষাক্ত রাজনীতি: মিথ্যার ডিজিটাল কারবার বন্ধে চাই কঠোর আইন!

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎রাজনীতি মানেই মতের ভিন্নতা। গণতন্ত্রে একজনের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে অন্যজনের মতের অমিল থাকবেই। সরকারের সমালোচনা হবে, বিরোধী দলের সমালোচনা হবে, রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকা- নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এটাই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বাভাবিক অংশ।
‎কিন্তু সমালোচনা আর অপপ্রচার এক জিনিস নয়।

‎বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মিথ্যা তথ্য, চরিত্রহনন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, অডিও ও ভিডিও তৈরির প্রবণতা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক নেতা এমন কথা বলেছেন বা এমন কাজ করেছেন বলে দেখানো হচ্ছে বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্বই নেই।

‎এটি শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানহানির বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং সমাজের তথ্যব্যবস্থার জন্যও একটি বড় হুমকি। রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা রক্ষা কি গণতন্ত্রবিরোধী? কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা জনগণের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তাঁদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার অধিকার জনগণের আছে এবং সেই অধিকার গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সমালোচনার নামে মিথ্যা বক্তব্য বসিয়ে দেওয়া, এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও বানানো, কণ্ঠস্বর নকল করা কিংবা সম্পাদিত ভিডিওকে সত্য হিসেবে প্রচার করা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বাভাবিক প্রয়োগ হতে পারে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিদের মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপমানজনক বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের আইন রয়েছে। তুরস্কে রাষ্ট্রপতিকে অপমানের জন্য দ-বিধিতে কারাদ-ের বিধান রয়েছে।

 

জার্মানিতেও ফেডারেল প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে অপমানের বিরুদ্ধে বিশেষ শাস্তির বিধান রয়েছে। আবার সিঙ্গাপুরে জনস্বার্থ, নির্বাচন বা জনশান্তিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারেÑএমন জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য অনলাইনে ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে। তবে অন্য দেশের আইন হুবহু অনুসরণ করাই সমাধান নয়। বাংলাদেশের বাস্তবতা, সংবিধান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজস্ব কার্যকর আইন প্রণয়নই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

 

বাংলাদেশের জন্য এখনই প্রয়োজন সুস্পষ্ট আইন বাংলাদেশে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও স্পষ্ট ও কার্যকর বিধান প্রয়োজন। বিশেষ করে রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে অও-নির্মিত ভুয়া ভিডিও, অডিও বা ছবি তৈরি ও প্রচারের ক্ষেত্রে আইনের আওতা, অপরাধের সংজ্ঞা, তদন্তের পদ্ধতি এবং শাস্তির বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়া দরকার।

 

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নিজের দলের নেতাকে নিয়ে কটূক্তি হলে আমরা প্রতিবাদ করি, কিন্তু প্রতিপক্ষের নেতার বিরুদ্ধে একই ধরনের অপপ্রচার হলে অনেক সময় সেটিকে রাজনৈতিক বিনোদন হিসেবে দেখি। এই দ্বিমুখী নীতি বন্ধ করতে হবে। আজ যে প্রযুক্তি দিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও তৈরি হচ্ছে, আগামীকাল একই প্রযুক্তি অন্য দলের নেতা, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধেও ব্যবহার হতে পারে। অতএব, ডিপফেকের বিরুদ্ধে অবস্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে অবস্থান নয়; এটি সত্যের পক্ষে অবস্থান।

 

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুরুতর এআই ডিপফেক, পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ডিজিটাল চরিত্রহননের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করুন। প্রয়োজনে প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করুন। অপরাধ প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় অবস্থান কিংবা ক্ষমতার প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে এটিও নিশ্চিত করতে হবে, এই আইন যেন প্রকৃত রাজনৈতিক সমালোচনা, ব্যঙ্গ, মতপ্রকাশ কিংবা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে অযথা সীমাবদ্ধ করার হাতিয়ার না হয়।

 

Ads small one

কালিগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের মজলিসে শুরা অধিবেশন ও কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের মজলিসে শুরা অধিবেশন ও কমিটি গঠন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার মজলিসে শুরা অধিবেশন ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ অয়েজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও হাবিবুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি মুহা. আবদুল হাই সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা দক্ষিণ শাখার সম্পাদক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, সহসভাপতি আমিনুর রহমান ও প্রকৌশলী ফয়জুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কালিগঞ্জ উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। এতে শেখ অয়েজুর রহমানকে সভাপতি, মুহা. হাবিবুল্লাহকে সম্পাদক ও মুহা. মহিবুল্লাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। নতুন কমিটি সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টুর দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টুর দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টু মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাত সাড় ১২টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বাদ জোহর জালালাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানান সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, জামায়াত নেতা মাওলানা ওমর আলী, মাওলানা ওসমান গনি, মো. কামরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আমানুল্লাহ আমান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুর রউফ, সুপার মাওলানা মোনায়েম হোসেন, আবদুস সাত্তার, আলিয়া মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহা. আইয়ুব আলী, অধ্যক্ষ মাওলানা আহমদ আলী ও মরহুমের ভাই আলতাফ হোসেন। জানাজাপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মো. মহিদুর রহমান এবং জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা আবদুল বারী। শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কলারোয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা পরিবার।

সাতক্ষীরায় আহমেদ মেডিকেল হলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আহমেদ মেডিকেল হলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সকল প্রকার দেশি-বিদেশি ওষুধের পাইকারি ও খুচরা বিক্রয়ের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাতক্ষীরায় ‘আহমেদ মেডিকেল হল’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বিকেলে শহরের নাজমুল সরণির আহ্ছানিয়া মিশনের দক্ষিণ পাশে কেক ও ফিতা কেটে এ প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ওয়ালিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আবুল কালাম বাবলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ মো. দ্বীন আলী, সুলতানপুর বড়বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এ এস এম আবদুর রব এবং আহমেদ মেডিকেল হলের পরিচালক মহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসাইন মোমিন। দোয়া শেষে উপস্থিত সবার মাঝে তাবারক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাফেজ মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী।