অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীদের ওপর হামলা, আটক ৩
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার খোলপেটুয়া নদী তীরবর্তী ঘোলা ত্রিমোহনী এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের বালুর আড়ত সংলগ্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আব্দুস সামাদ, আব্দুল হালিম, হাফিজুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সবুরসহ ১০ থেকে ১২ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আব্দুর রহমান বাবু এবং উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙুরের নেতৃত্বে বালু সিন্ডিকেটের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি নৌযানসহ হাফিজুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান ও জালাল গাজী নামের তিন শ্রমিককে আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে।
আহত গ্রামবাসী আব্দুল হালিম জানান, এলাকাটি অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ ও ভাঙনকবলিত হওয়ায় সরকারিভাবে চলতি নতুন বছরের জন্য খোলপেটুয়া নদীর কোনো অংশকেই বালুমহাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তা সত্ত্বেও বিগত বছরের বালুমহাল ইজারাদার যুবদল নেতা আনোয়ারুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুর রহমান বাবুর লোকজন নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা সমবেত হয়ে বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর বলেন, প্রতিবছর তাঁদের এলাকা নদীভাঙনের মুখে পড়ছে। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। সোমবার রাতে এলাকাবাসী ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে চক্রটি বালু তোলা শুরু করে। বাধা দেওয়ায় তাঁদের ওপর হামলা করা হলেও গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তিন শ্রমিকসহ বালু বহনের নৌযানটি আটকে প্রশাসনকে খবর দেয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় কয়েকজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করেছিলেন। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বালু উত্তোলনে জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশের কারণে প্রশাসন আটককৃতদের সহজেই ছেড়ে দিয়েছে।










