মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীদের ওপর হামলা, আটক ৩

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীদের ওপর হামলা, আটক ৩

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার খোলপেটুয়া নদী তীরবর্তী ঘোলা ত্রিমোহনী এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের বালুর আড়ত সংলগ্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আব্দুস সামাদ, আব্দুল হালিম, হাফিজুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সবুরসহ ১০ থেকে ১২ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আব্দুর রহমান বাবু এবং উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙুরের নেতৃত্বে বালু সিন্ডিকেটের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি নৌযানসহ হাফিজুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান ও জালাল গাজী নামের তিন শ্রমিককে আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে।
আহত গ্রামবাসী আব্দুল হালিম জানান, এলাকাটি অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ ও ভাঙনকবলিত হওয়ায় সরকারিভাবে চলতি নতুন বছরের জন্য খোলপেটুয়া নদীর কোনো অংশকেই বালুমহাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তা সত্ত্বেও বিগত বছরের বালুমহাল ইজারাদার যুবদল নেতা আনোয়ারুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুর রহমান বাবুর লোকজন নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা সমবেত হয়ে বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর বলেন, প্রতিবছর তাঁদের এলাকা নদীভাঙনের মুখে পড়ছে। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। সোমবার রাতে এলাকাবাসী ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে চক্রটি বালু তোলা শুরু করে। বাধা দেওয়ায় তাঁদের ওপর হামলা করা হলেও গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তিন শ্রমিকসহ বালু বহনের নৌযানটি আটকে প্রশাসনকে খবর দেয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় কয়েকজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করেছিলেন। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বালু উত্তোলনে জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশের কারণে প্রশাসন আটককৃতদের সহজেই ছেড়ে দিয়েছে।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ বখাটে, মাদক, জুয়া ও চুরির রুখতে আশু পদক্ষেপ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বখাটে, মাদক, জুয়া ও চুরির রুখতে আশু পদক্ষেপ জরুরি

পাটকেলঘাটা ও সাতক্ষীরা শহরের সাম্প্রতিক অপরাধচিত্র জেলাটির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একের পর এক বখাটেপনা, চাঁদাবাজি, নারীদের উত্ত্যক্তকরণ, চুরি ও মাদকের বিস্তারে সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ চরম অতিষ্ঠ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বা দক্ষিণাঞ্চলের যেকোনো অঞ্চলে যখন অপরাধীরা এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তখন তা সমাজব্যবস্থার সামগ্রিক শিথিলতাকেই নির্দেশ করে।
পাটকেলঘাটার কালীবাড়ী রোড, হাইস্কুল রোড কিংবা কুমিরা মহিলা কলেজের আশপাশের এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা ও ছবি তোলার মতো অপরাধ শুধু ব্যক্তি নিরাপত্তা বিঘিœত করছে না, বরং নারীশিক্ষার পরিবেশকেও ব্যাহত করছে। তার ওপর পুকুরে গোসলরত নারীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা সামাজিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয় প্রকাশ করে। অন্যদিকে, কৃষি ও মৎস্যজীবীদের ওপর নেমে এসেছে আর্থিক বিপর্যয়। খলিশখালী ইউনিয়নে গত ছয় মাসে ৬৫টি সেচ পাম্প চুরি এবং মাছের ঘের থেকে চুরি শুধু অপরাধই নয়, এর মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। চুরি করা মালামাল ও মাছ কম দামে বিক্রি করে সেই অর্থ মাদকের পেছনে ব্যয় করার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা ইঙ্গিত করে যে এই অপরাধচক্রের মূলে রয়েছে মাদকের নীল ছোবল।

একইভাবে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি কলেজ মোড় এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ধারাবাহিক চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে। পুলিশের হাতেনাতে আটক বা অভিযানের পরও যখন চুরি থামে না, তখন সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য নিরাপত্তা সবচেয়ে মৌলিক শর্ত।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও কেবল আশ্বাসেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ। পাটকেলঘাটার চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকা এবং শহরের সিটি কলেজ মোড়ে নিয়মিত বিট পুলিশিং ও নৈশ টহল দ্বিগুণ করতে হবে। বখাটে চক্র যে মাদক স্পটগুলোতে আড্ডা দেয়, সেগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করা জরুরি। চুরি যাওয়া সেচ পাম্প বা মাছের মতো চোরাই পণ্যের ক্রেতা ও চোর চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও তরুণদের সমন্বয়ে মহল্লাভিত্তিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করে পুলিশের সাথে যোগাযোগের পথ সুগম করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।
জনগণের জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পদে হাত দেওয়া অপরাধীদের প্রতি কোনো অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই। প্রশাসন অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পাটকেলঘাটায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় ১০ পিস ইয়াবাসহ রহমত আলী মিঠু (৪০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাটকেলঘাটা পাঁচরাস্তা মোড় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রহমত আলী মিঠু যুগিপুকুরিয়া গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে এবং পেশায় ইলেকট্রনিক্স মিস্ত্রি।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ তাঁকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

দেবহাটায় টিআরএম চালু ও সরকারি খাল খননের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় টিআরএম চালু ও সরকারি খাল খননের দাবি

সংবাদদাতা: স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দেবহাটা উপজেলা পানি কমিটির নিয়মিত ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পারুলিয়া ট্রেড স্কুলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’ ও উপজেলা পানি কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল ফজলের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক রাজু আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উত্তরণ সীমান্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ওয়ারেছীন কবির, উত্তরণের প্রকল্প কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সানা, টাউন শ্রীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আফছার আলী, শাখা ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম, দেবহাটা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন ঘোষ বাপি ও মাঠ সংগঠক গোলাম হোসেন।
সভায় বক্তারা এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করার ওপর জোর দেন। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে নদীর পাশাপাশি জলাধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার এবং সরকারি খালগুলো পুনঃখননের দাবি জানানো হয়।
জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ‘টিআরএম’ (টিডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ার-ভাটা নদী ব্যবস্থাপনা) অবিলম্বে চালু করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, কেবল নদী বা খাল খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, কারণ দ্রুত পলি জমে তা আবার ভরাট হয়ে যায়। টিআরএম চালু করে জোয়ারের পলিযুক্ত পানি নির্দিষ্ট বিলে আবদ্ধ করে পলি ফেলা এবং ভাটার টানে নদীর নাব্য বজায় রাখাই একমাত্র টেকসই পথ। দেবহাটার নদী ও খালের সাথে টিআরএম সংযোগ করা না হলে প্রতিবছর কৃষি জমি ও লোকালয় প্লাবিত হবে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।