শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

অসুস্থ মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
অসুস্থ মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি মন্ত্রীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।

হাসপাতালে উপস্থিত হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ অন্য চিকিৎসকেরা মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্‌রোগের সমস্যা নিয়ে বুধবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন ড. আবদুল মঈন খান। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা এই মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

ড. আবদুল মঈন খানের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী রোকসানা খন্দকার ও তিন কন্যা হাসপাতালে তাঁর শয্যাপাশে রয়েছেন।

Ads small one

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয় জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয় জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।

ইউরোপ থেকে নথিপত্রহীন বা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ফেরত এসেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেরত এসেছেন সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, গত কয়েকবছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা সবচেয়ে বেশি লোক তারা পেয়েছেন ইতালি, গ্রিস ও জার্মান থেকে। যারা ফেরত এসেছেন তাদেরকে বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও পরে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হয় যাতে তারা ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।‌ পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে যেন লোকজন ইউরোপে না যায় সেজন্য সারাদেশে সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি ইউরোপ বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

শতবর্ষের দোরগোড়ায় শামসুর রাহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
শতবর্ষের দোরগোড়ায় শামসুর রাহমান

তারিক ইসলাম

২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। আর মাত্র তিন বছর পর, ২০২৯ সালে, বাংলা সাহিত্যের এই দিকপাল পা দেবেন জন্মশতবর্ষে। কবির মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পর তাঁর জন্মবার্ষিকী নিয়ে আলোচনা কেবল প্রথাগত শ্রদ্ধা নিবেদন কিংবা স্মৃতিচারণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, থাকাও উচিত নয়। বরং কালপঞ্জির এই বিশেষ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তাঁর সৃষ্টি ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকারের আলোকে আমাদের বর্তমানকে বোঝার আন্তরিক চেষ্টা চালানো জরুরি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন—কবির জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনে আমাদের জাতীয় প্রস্তুতি কতটুকু?

শামসুর রাহমান কেবল বিপুল সৃষ্টিশীলতার অধিকারী একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন আধুনিক বাঙালির আত্মপরিচয় ও মুক্তবুদ্ধির অন্যতম আলোকবর্তিকা। নাগরিক জীবন ও নিভৃত প্রেমের সূক্ষ্ম অনুভূতির পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকে তাঁর কলম ছিল সোচ্চার। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি।

‘স্বাধীনতা তুমি’ কিংবা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’—এগুলো শুধু কালজয়ী কবিতা নয়; স্বাধীন বাংলাদেশের রক্তঝরা ইতিহাস ও চেতনার অমর দলিল।

কোনো নির্দিষ্ট সংকীর্ণ মতাদর্শে নিজেকে আবদ্ধ না রেখে তিনি আজীবন অন্যায়, ধর্মান্ধতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তচিন্তার পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও তিনি কখনো দ্বিধা করেননি।

আজকের জটিল সামাজিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে শামসুর রাহমানের অবদানের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্পষ্ট। আমরা যখন নৈতিক সংকট, সহনশীলতার অভাব এবং মতপ্রকাশের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি, তখন কবির সেই আপসহীন সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের পথ দেখাতে পারে। তাঁর সাহিত্য বারবার মনে করিয়ে দেয়, একজন কবির কাজ কেবল নান্দনিক শব্দমালা সাজানো নয়; বরং সমাজের কল্যাণ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধ থাকাও শিল্পের অন্যতম দায়িত্ব।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ২০২৯ সালে কবির জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনে আমরা কতটা প্রস্তুত? শামসুর রাহমানের বিপুল সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ এবং বিশ্বদরবারে নতুন করে তুলে ধরার উদ্যোগ এখনো প্রত্যাশিত গতি পায়নি। জন্মশতবর্ষের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলককে সামনে রেখে এখনই কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

১. ডিজিটাল আর্কাইভ ও প্রামাণ্য রচনাবলি: কবির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কবিতা, গদ্য, কলাম, অনুবাদ ও সাক্ষাৎকার প্রামাণ্যভাবে সংকলন করে আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ করা।

২. আন্তর্জাতিক মানের অনুবাদ: বিশ্বের প্রধান ভাষাগুলোতে তাঁর নির্বাচিত কবিতা ও গদ্যের মানসম্মত অনুবাদের ব্যবস্থা করা, যাতে আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন করে মূল্যায়িত হয়।

৩. তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গভীর গবেষণার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর মুক্তচিন্তা ও সাহিত্যকর্মের মূল বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

৪. স্মৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ: পুরান ঢাকার যে পরিবেশে কবি তাঁর কালজয়ী সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, সেই ঐতিহাসিক স্থানগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং সেগুলোকে সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

শামসুর রাহমান আমাদের কাছে কেবল অতীতের কোনো ধ্রুপদি স্মৃতি নন; তিনি বর্তমানকে অনুধাবন করা এবং ভবিষ্যতের পথ খুঁজে নেওয়ার এক অবিনশ্বর বাতিঘর। তাঁর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—তাঁকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার ফ্রেমে আটকে রাখব না। বরং তাঁর অসাম্প্রদায়িক দর্শন, মুক্তচিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আমাদের চিন্তা ও সংস্কৃতিতে জীবন্ত রাখব। জন্মশতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই বোধ ধারণ করাই হবে কবির প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।

লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

সঙ্গী আপনার সম্পর্কে চ্যাটজিপিটিতে কী লেখে, জানতে চান?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
সঙ্গী আপনার সম্পর্কে চ্যাটজিপিটিতে কী লেখে, জানতে চান?

আপনার সঙ্গী চ্যাটজিপিটিতে আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে কী লিখছেন, কী পরামর্শ চাইছেন, কিংবা আপনার সম্পর্কে তার মনে কী প্রশ্ন ঘুরছে—এসব জানার আগ্রহ কি কখনও হয়েছে? সুযোগ পেলে তার ব্যক্তিগত চ্যাট খুলে পড়বেন?

প্রশ্নটি সহজ মনে হলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সম্পর্কের বিশ্বাস, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং এমন কিছু অনুভূতি, যা সঙ্গীরা হয়তো আগে কখনও আলোচনা করেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন সম্পর্কের সমস্যা, ব্যক্তিগত দ্বিধা কিংবা সঙ্গীর প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ নিয়ে চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলছেন। ফলে আগে যে কথাগুলো ব্যক্তিগত ডায়েরি বা বিশ্বস্ত বন্ধুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, সেগুলো এখন লিখিত এআই কথোপকথনে জমা থাকছে। আর সঙ্গীর সেই চ্যাট চোখে পড়লে তা পড়ে ফেলার প্রলোভনও তৈরি হতে পারে।

সঙ্গীর ব্যক্তিগত চ্যাট পড়তে ইচ্ছে করে কেন?

সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে মানুষ প্রায়ই নিশ্চিত হতে চান—সঙ্গী আসলে কী ভাবছেন, সম্পর্কটি নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট, কিংবা এমন কিছু জানেন কি না যা তাকে বলা হয়নি।

চ্যাটবটের কথোপকথন এই কৌতূহল মেটানোর সুযোগ তৈরি করে। সেখানে সঙ্গীর ব্যক্তিগত চিন্তা, ভয় কিংবা সম্পর্ক নিয়ে তার প্রশ্নের আভাস পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই কথোপকথন পড়লে সব সত্য জানা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কোনও মানুষ নিজের অনুভূতি বোঝার জন্যও এআইয়ের কাছে পরামর্শ চাইতে পারেন। চ্যাটে লেখা প্রতিটি কথা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বাস্তব আচরণের প্রতিফলন নয়। তাই বিচ্ছিন্ন কোনও বাক্য পড়ে সঙ্গীর মনোভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল বোঝাবুঝি বাড়াতে পারে।

এআইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলাও কি বিশ্বাসভঙ্গ?

ধরা যাক, আপনার সঙ্গী চ্যাটজিপিটিতে আপনাদের সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছেন। সেখানে ব্যক্তিগত ঘটনা, ঝগড়া কিংবা আপনার সম্পর্কে তার হতাশার কথা লিখেছেন। বিষয়টি জানতে পারলে আপনার মনে হতে পারে, আপনার ব্যক্তিগত জীবন এমন কারও সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে, যার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার সম্মতি আপনি দেননি।

আবার অন্য দিকটিও আছে। কেউ নিজের ব্যক্তিগত চিন্তা গুছিয়ে নিতে বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্প বুঝতে এআইয়ের সাহায্য নিতে পারেন। তাই সঙ্গীর চ্যাটবট ব্যবহার করাটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাসভঙ্গ নয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কী ধরনের তথ্য ভাগ করা হচ্ছে, দুজনের মধ্যে কী বোঝাপড়া রয়েছে এবং কারও ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না।

একই ঘটনায় দুজনেরই কষ্ট হতে পারে

ফেদেরিকোর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতিতে ভুগতে পারেন। একজন কষ্ট পেতে পারেন, কারণ তার ব্যক্তিগত জীবনের অন্তরঙ্গ বিষয় এআইয়ের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। অন্যজন কষ্ট পেতে পারেন, কারণ তার অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত কথোপকথন পড়ে ফেলা হয়েছে।

অর্থাৎ, একজনের কাছে চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলা ব্যক্তিগত ভাবনা গুছিয়ে নেওয়ার উপায়; অন্যজনের কাছে সেটি সম্পর্কের গোপনীয়তা ভাঙার মতো মনে হতে পারে। আবার উল্টোভাবে, একজন নিজের চ্যাটকে ব্যক্তিগত পরিসর ভাবলেও সঙ্গী সেটি পড়াকে সম্পর্কের বিষয়ে সত্য জানার চেষ্টা হিসেবে দেখতে পারেন।

এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে আগে থেকে কথা না থাকলে দ্বন্দ্ব আরও জটিল হতে পারে।

সমাধান কোথায়?

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সম্পর্কের মধ্যে এআই ব্যবহারের সীমারেখা নিয়েও আলোচনা করা দরকার। সঙ্গী কী ধরনের ব্যক্তিগত বিষয় চ্যাটবটের সঙ্গে ভাগ করতে স্বচ্ছন্দ, কোন তথ্য অন্যের সঙ্গে ভাগ করা নিয়ে আপত্তি আছে এবং একে অন্যের ব্যক্তিগত কথোপকথনের গোপনীয়তা কীভাবে রক্ষা করবেন—এসব বিষয়ে স্পষ্ট বোঝাপড়া তৈরি করা যেতে পারে।

সঙ্গীর চ্যাট চোখে পড়লে গোপনে পড়ে ফেলার বদলে সরাসরি কথা বলা ভালো। একইভাবে, সঙ্গী এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন বলে তাকে দোষারোপ না করে জানতে চাওয়া যেতে পারে, তিনি কী ধরনের সহায়তা খুঁজছেন।

চ্যাটবটের পরামর্শকে সম্পর্কের চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে আলোচনার একটি সূত্র হিসেবে বিবেচনা করাও জরুরি। কারণ এআই কথোপকথন মানুষের সব অনুভূতি, সম্পর্কের পুরো প্রেক্ষাপট কিংবা বাস্তব আচরণকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরে না।

সবশেষে, সম্পর্কের বিশ্বাস রক্ষা করতে একে অন্যের সব চিন্তা জেনে ফেলা জরুরি নয়। বরং ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা, গোপনীয়তা নিয়ে আগেভাগে বোঝাপড়া তৈরি করা এবং অস্বস্তি হলে খোলামেলা কথা বলাই বেশি কার্যকর।