আঁধারের ইশতেহার
সরদার আবু সাঈদ
ভ- মানুষ আসন জোড়ে, সাধু কাঁদে কোণে,
অপরাধী আজো টাকার অঙ্ক গোনে বসে।
আঁস্তাকুড়ের শেয়াল এসে সিংহ সেজে ডাকে,
শ্রমিক-চাষীর মুখের ভাতের হক কেড়ে সে রাখে।
আইন এখন জাঁতাকলে পিষছে শুধু ছোট,
টাকার জোরে পার পেয়ে যায় ডাকাত মস্ত বড়।
বিবেক বাবু দিচ্ছে ঘুম নাক ডেকে ওই ঘরে,
অন্যায়ের এই রাজত্বে আজ ন্যায়ের মাথা ঝরে।
সিন্ডিকেটের মরণ কামড় নিত্য হাটে-মাঠে,
কৃষক মরে না খেয়ে আর রক্ত চোষা চাটে।
ঘাম ঝরানো ধানের দামে লাগছে আগুন রোজ,
দিনমজুরের শূন্য হাঁড়ির কেউ রাখে না খোঁজ।
মেধার চেয়েও মামা-খালুর জোরটা বেশি বাড়ে,
ডিগ্রিধারী বেকার যুবক ঘুরছে দ্বারে দ্বারে।
সৎ মানুষের কদর তো নেই চাটুকারের দেশে,
মিথ্যেবাদীর জয়জয়কার চলছে হেসে হেসে।
ফুটপাতে ওই হকার কাঁদে শাসন-শোষণ ডরে,
অফিস-পাড়ায় ফাইলের নিচে ঘুষের পাহাড় গড়ে।
ন্যায়ের কথা বলতে গেলেই মুখ চেপে আজ ধরে,
আজব দেশের আজব নিয়ম সমাজ ধুঁকে মরে।
রাতের আঁধার নামলে পরে মুখোশ খসে পড়ে,
ভদ্দরলোকের নোংরামি সব তখন খেলা করে।
তবুও মানুষ স্বপ্ন বোনে নতুন ভোরের আশে,
কবে যে এই আঁধার কেটে আলো ছড়াবে দেশে!

