মিটিয়ে দেব সব
জিয়াউদ্দিন লিটন
তুমি এসো
যেভাবে সন্ধ্যা নামলেই
আমাদের সেই পুরোনো গলিটা
অকারণে তোমার বাড়ির দিকে বাঁক নিত,
আর আমি জানতামÑ
আজও তোমার ফেরার কোনো খবর নেই।
সঙ্গে করে নিয়ে এসো সেই বিকেলটা,
যেদিন গাছটার নিচে বসে
তুমি আমার হাতের ওপর হাত রেখে বলেছিলে,
“এখান থেকে কোথাও যেও না।”
অথচ চলে গিয়েছিলেÑ
শুধু কথাটা থেকে গিয়েছিল।
আমি জানি,
তুমি কোনো দিন নওÑ
তুমি সেই অসমাপ্ত কথোপকথন,
যার শেষ বাক্যটি
আজও ঘুম ভাঙার পর
মনে পড়ে না।
তুমি এলে
মিটিয়ে দেব সবÑ
কোনো হিসাবের খাতা খুলব না।
শুধু তোমার চোখের নিচে জমে থাকা
ক্লান্তির ছায়ায় হাত রাখব,
আমার এতদিনের নীরবতা
তোমার সামনে বসিয়ে দেব।
আমাদের মাঝখানে যে দূরত্ব
ধীরে ধীরে মানুষ হয়ে উঠেছিল,
তার পাশে দুজন
আরেকবার দাঁড়াব।
তোমাকে হারানোর পর
আমার ঘরটা ঠিক আগের মতোই আছেÑ
শুধু জানালার পাশে রাখা চেয়ারটিতে
কেউ আর বসে না।
রাত গভীর হলে মাঝে মাঝে মনে হয়,
তুমি বুঝি এসে বসেছÑ
শুধু আমাকে ডাকছ না।
তুমি এলে
তোমার চুলের কাছে মুখ নিয়ে
খুঁজব সেই পরিচিত গন্ধ,
যা কোনো সুগন্ধির বোতলে ছিল নাÑ
ছিল তোমার শরীরের সঙ্গে মিশে থাকা
একটি সম্পূর্ণ বিকেল।
আমার বুকের ভেতর
এতদিন যে কথাগুলো
কাউকে বলা হয়নি,
সেগুলো তোমার হাতের মুঠোয়
নিঃশব্দে রেখে দেব।
যদি পৃথিবী জিজ্ঞেস করেÑ
তুমি কে?
বলবে,
আমি সেই দিন,
যেদিন কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই
তুমি প্রথম আমার পাশে বসেছিলে
আর একটি সাধারণ বিকেল
আমাদের দুজনের হয়ে গিয়েছিল।
আর যদি আমি জিজ্ঞেস করিÑ
এত দেরি হলো কেন?
তুমি হয়তো হাসবে,
তারপর বলবেÑ
“দেরি হয়নি।
তুমি যেখানে আমাকে শেষবার ছেড়ে গিয়েছিলে,
আমি সেখানেই ছিলামÑ
শুধু তুমি ফিরে তাকাওনি।”
তারপর কোনো শপথ নয়,
কোনো নতুন শুরুর ঘোষণা নয়।
শুধু সেই পুরোনো গাছটার নিচে
দুজন পাশাপাশি বসবÑ
এবার ভবিষ্যতের দিকে নয়,
একে অন্যের দিকে তাকিয়ে।
তুমি এসোÑ
মিটিয়ে দেব সব।
শুধু ভালোবাসার যে ঋণ
তুমি না জেনেই আমার ভেতর রেখে গিয়েছিলে,
তার কোনো হিসাব রাখব না।
কিছু ঋণ শোধ হয়ে গেলে
মানুষের ভেতর থেকে
একটা প্রিয় প্রতীক্ষাও মরে যায়।








