নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রদর্শক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও কোচিং সেন্টার ঘেরাও করেছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কোচিং সেন্টারটি তালাবদ্ধ করে দেয়।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনের একপর্যায়ে শহরের সজীব বায়োলজি একাডেমি কোচিং সেন্টারের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সজীব বায়োলজি একাডেমির পরিচালক সজীব সরকারি কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অপমানজনক বক্তব্য দিয়েছেন। মূলত এ ঘটনার প্রতিবাদেই তারা কর্মসূচি পালন করেন।
পরে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারটি ঘেরাও করলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কোচিং সেন্টারের ভেতরে থাকা কিছু শিক্ষার্থী দরজা বন্ধ করে দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা সজীব বায়োলজি একাডেমির পরিচালক সজীবের গ্রেপ্তার এবং কোচিং সেন্টার স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান। তারা বলেন, শিক্ষকের সম্মানহানির ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাবে তারা।
শিক্ষার্থী রাশিয়া আক্তার বলেন, একজন সরকারি কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে এভাবে অসম্মানজনক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
আরেক শিক্ষার্থী মাসুদ বলেন, সন্ধ্যার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আবারও আন্দোলনে নামব। আমরা সজীবের গ্রেপ্তার দাবি করছি।
এদিকে কলেজের আশপাশে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান অবাধে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাসেম বলেন, আমাদের এক শিক্ষককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।
সাতক্ষীরা সদর থানার অপারেশন অফিসার (ওসি) সুশান্ত ঘোষ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরে কোচিং সেন্টারটি তালাবদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে উত্তেজনা এড়াতে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয় এবং কোচিং সেন্টারটিতে আপাতত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।