বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

আজ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
আজ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ শনিবার (২৩ মে) থেকে আগামী ৬ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

 

শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ছুটি শেষে যথারীতি পুনরায় শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দীর্ঘ ছুটির সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পরবর্তীতে কয়েকটি শনিবার বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী জুন মাসের ১৩, ২০ ও ২৭ তারিখ (শনিবার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ক্লাস চলবে।

শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই মূলত এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছুটির এই সময়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

Ads small one

ডেঙ্গু কেড়ে নিলো আরও ৪ প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু কেড়ে নিলো আরও ৪ প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

 

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ পর্যন্ত সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ৫১২ জন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫০৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৪ জন, খুলনা বিভাগে ২০৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬২ জন, রংপুর বিভাগে ৪৪ জন, বরিশাল বিভাগে ২৩১ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও জানানো হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর বর্তমানে হাসপাতালে ৬ হাজার ২৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে মারা গিয়েছে ৩৬৮ জন।

 

 

 

সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের
কলারোয়া প্রতিনিধি:  বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামীর প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য কলারোয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের পর এবার ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় তিনি এ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।
বৃহস্পতিবার কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে ৫০টি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজ হাতে কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ উপজেলার ১ নম্বর জয়নগর, ২ নম্বর জালালাবাদ, ৩ নম্বর কয়লা, ১০ নম্বর কুশোডাঙ্গা, ১১ নম্বর দেয়াড়া ও ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রধান বাজারে পর্যায়ক্রমে এসব কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করা হবে। আগামী চার দিন এ কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে।
রোপণ করা চারাগুলো যাতে গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুর কারণে নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রতিটি চারার চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে চারাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেগুলোকে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কলারোয়া উপজেলার ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন আসিফ ইকবাল চয়ন। তাঁর রোপণ করা তালবীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী ছয় বছরের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে তালবীজ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
পরিবেশবান্ধব এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কের পাশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ-শ্যামল উপজেলা গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, “একটি সবুজ ও সুন্দর কলারোয়া উপজেলা গড়ে তুলতে আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে হাত বাড়াই।”

আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৩ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস। এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বিরল এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। তুষার চিতাবাঘ শুধু প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি নয়, এশিয়ার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ সুস্থ রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়া মানে শুধু একটি প্রাণী হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় বিপদের সংকেত।

দিবসটির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকের নাম। ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর সেখানে প্রথম বৈশ্বিক তুষার চিতাবাঘ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। তুষার চিতাবাঘের আবাসভুক্ত ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা এ প্রাণী সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশকেক ঘোষণা গ্রহণ করেন। এর প্রথম বার্ষিকী স্মরণে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস পালিত হয়। পরে ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৩ অক্টোবরকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস ঘোষণা করে।

বৈজ্ঞানিকভাবে তুষার চিতাবাঘের নাম প্যানথেরা আনসিয়া। সহজে দেখা যায় না বলে একে ‘পাহাড়ের ভূত’ বলা হয়। এরা মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের খাড়া, পাথুরে ও দুর্গম পরিবেশে বসবাস করে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মিটার উচ্চতার এলাকায় এদের বিচরণ দেখা যায়। আফগানিস্তান, ভুটান, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান-এই ১২টি দেশে এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল বিস্তৃত। এর মধ্যে চীনে এদের আবাসস্থলের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে।

বিশ্বে বন্য পরিবেশে তুষার চিতাবাঘের সংখ্যা আনুমানিক ৪ হাজার থেকে ৭ হাজারের মধ্যে বলে বিভিন্ন সংস্থা ধারণা করে। তবে দুর্গম আবাসস্থল, বিচরণক্ষেত্রের বিশালতা এবং সঠিক গণনার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন। এ প্রজাতির কোনো স্বীকৃত পৃথক উপপ্রজাতি বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত নয়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের লাল তালিকায় তুষার চিতাবাঘ ‘সংবেদনশীল’ শ্রেণিতে রয়েছে। অর্থাৎ প্রজাতিটি বন্য পরিবেশে বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে এটি বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কনভেনশন-সাইটিসের পরিশিষ্ট-১ এবং ১৯৮৬ সাল থেকে পরিযায়ী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক কনভেনশনের পরিশিষ্ট-১-এ অন্তর্ভুক্ত।

তুষার চিতাবাঘ পাহাড়ি খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ শিকারি প্রাণী। এরা মূলত আইবেক্স, নীল ভেড়া ও অন্যান্য বুনো তৃণভোজী প্রাণী শিকার করে। এর মাধ্যমে শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা ও চারণের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। তুষার চিতাবাঘকে আমব্রেলা স্পিসিস বা ছাতাপ্রজাতি বলা হয়, কারণ এদের সংরক্ষণের জন্য বিস্তৃত প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হয়। ফলে একই সঙ্গে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থানও সুরক্ষিত হয়। এরা কীস্টোন স্পিসিস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এদের উপস্থিতি একাই কোনো অঞ্চলের পানির উৎস বা পরিবেশের সুস্থতার নিশ্চয়তা দেয় না; বরং অন্যান্য পরিবেশগত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে এদের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়।

তুষার চিতাবাঘের অস্তিত্ব আজ নানা সংকটে বিপন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় ও আলতাইসহ বিভিন্ন পর্বতাঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল বদলে যাচ্ছে। বনসীমা উঁচুতে উঠে যাওয়া, মানুষের বসতি বৃদ্ধি, খনি খনন ও সড়ক নির্মাণের কারণে তাদের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত ও খন্ডিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পশুচারণ এবং বন্য প্রাণী শিকারের ফলে আইবেক্স ও নীল ভেড়ার মতো প্রধান খাদ্যের প্রাপ্যতাও কমছে। পাশাপাশি চামড়া, হাড় ও অন্যান্য অঙ্গের অবৈধ বাণিজ্যের জন্য চোরাশিকার এদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বও একটি বড় সমস্যা। প্রাকৃতিক শিকার কমে গেলে তুষার চিতাবাঘ কখনো কখনো লোকালয়ে এসে ছাগল, ভেড়া কিংবা ইয়াক শিকার করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও রাখালেরা প্রতিশোধ নিতে এদের হত্যা করতে পারেন। এ সমস্যা কমাতে গৃহপালিত পশুর নিরাপদ খোঁয়াড় নির্মাণ, ক্ষতিপূরণব্যবস্থা, বিকল্প জীবিকার সুযোগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করা জরুরি। শুধু আইন করে নয়, পাহাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুষার চিতাবাঘ রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে।

তুষার চিতাবাঘের আবাসভুক্ত দেশগুলো প্রজনন কর্মসূচি, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং আন্তসীমান্ত সহযোগিতার মাধ্যমে এ প্রজাতি রক্ষায় কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক তুষার চিতাবাঘ ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা কর্মসূচি, রাশিয়ার তুষার চিতাবাঘ সংরক্ষণ কৌশল, নেপালের ২০২৪-২০৩০ সালের সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা, ভুটানের ২০২৪–২০৩৪ সালের কর্মপরিকল্পনা এবং পাকিস্তানের তুষার চিতাবাঘ ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা কর্মসূচি। পশ্চিম তিয়েন শান ও পামির-আলাই অঞ্চলে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সমরখন্দ প্রস্তাব জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

তুষার চিতাবাঘ সংরক্ষণ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষ করে লক্ষ্যমাত্রা-৬ বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, লক্ষ্যমাত্রা-১৩ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং লক্ষ্যমাত্রা-১৫ স্থলজ বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অর্জনে পাহাড়ি পরিবেশ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়কে এশিয়ার বহু মানুষের পানির ভান্ডার বলা হয়। এসব অঞ্চলের বন, তৃণভূমি, হিমবাহ ও নদীর স্বাভাবিক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে সুস্থ বাস্তুতন্ত্র অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবসে ডব্লিউডব্লিউএফ, স্নো লেপার্ড ট্রাস্টসহ বিভিন্ন সংস্থা সচেতনতামূলক প্রচার, গবেষণা, সংরক্ষণ তহবিল সংগ্রহ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেও সচেতনতা ছড়ানো যায়। তবে দিবসটি পালনের সার্থকতা শুধু প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়; অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বন্ধ, আবাসস্থল সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য। তুষার চিতাবাঘ বাঁচলে পাহাড়ি প্রকৃতির অসংখ্য প্রাণ ও উদ্ভিদ রক্ষার সুযোগ বাড়বে। তাই আসুন, তুষার চিতাবাঘের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হই।