আদা আমদানির শত শত কোটি টাকা: বাজারে সুফলের ঘাটতি ও ভোক্তাদের ভোগান্তি
সম্পাদকীয়
বন্দর দিয়ে শত শত কোটি টাকার পণ্য আমদানি হবে, অথচ স্থানীয় বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে নাÑএমন চিত্র কেবল হতাশাজনকই নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন ব্যবস্থার বড় ধরনের গলদ নির্দেশ করে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৮৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৭৩ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন আদা আমদানি করা হয়েছে। রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই মসলাপণ্যটির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দর নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল আমদানির মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো; বিপুল পরিমাণ পণ্য দেশে ঢোকার পরও স্থানীয় বাজারে তার বিন্দুমাত্র সুফল মিলছে না।
আমদানিকৃত আদার বেশিরভাগ চালান খালাস হওয়ার পরপরই সরাসরি দেশের অন্যান্য বড় জেলাগুলোতে চলে যাচ্ছে। ফলে যে সীমান্ত জেলা দিয়ে পণ্যটি দেশে প্রবেশ করছে, সেই সাতক্ষীরার স্থানীয় হাটবাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র সরবরাহ ঘাটতি। আগে যেখানে পাইকারিতে আদা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনে খুচরা বাজারে ৬০ টাকায় বিক্রি করা যেত, সেখানে বর্তমানে আমদানির পর সরবরাহ না থাকায় পাইকারিতে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় কিনে খুচরা বাজারে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পচনশীল পণ্য হওয়ার দোহাই দিয়ে বাজার দর প্রায়ই ওঠানামা করছে, যার প্রত্যক্ষ শিকার হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বন্দরসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বিপুল আমদানির সুবিধা পাওয়ার বদলে চড়া দামে আদা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
আমদানিকৃত পণ্যের সুফল শুধু নির্দিষ্ট বড় বাজারকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। ভোমরা বন্দর দিয়ে খালাস হওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি অংশ যেন স্থানীয় জেলা ও নিকটবর্তী বাজারে সরবরাহ করা হয়, সে বিষয়ে নীতিমালা বা প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পচনশীল পণ্যের অজুহাতে খুচরা বা পাইকারি পর্যায়ে যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে।
সরকার কর্তৃক বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে পণ্য আমদানির মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দর বজায় রাখা। ভোমরা বন্দর দিয়ে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার আদা আসার পরও যদি স্থানীয় ভোক্তাদের দ্বিগুণ দামে পণ্য কিনতে হয়, তবে আমদানির সুফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। অনতিবিলম্বে স্থানীয় বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবেÑএমনটাই প্রত্যাশা।












