বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

আমার গাছ আমার প্রাণ স্লোগানে মুখরিত কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
আমার গাছ আমার প্রাণ স্লোগানে মুখরিত কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সংবাদদাতা: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো প্রধানমন্ত্রীর প্রাধিকার প্রকল্প ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি। কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশনায় ও কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় ১৭ জুন (বুধবার) সকালে বিদ্যালয়ের মাঠে এই অভিনব ও অনুপ্রেরণামূলক ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। বিদ্যালয়ের মোট ৫৬৬ জন শিক্ষার্থী এই মহতী কর্মসূচিতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

 

ক্ষুদে এই প্রকৃতিপ্রেমীদের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ বড়দের জন্যও এক বিশাল বার্তা নিয়ে এসেছে-পরিবেশ রক্ষায় দায়বদ্ধতা আমাদের সবার। এবারের কর্মসূচির মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে- “আমার গাছ, আমার প্রাণ” এবং এর পাশাপাশি প্রতিটি শিশুর মনে মালিকানাবোধ ও দায়িত্বশীলতা তৈরিতে উদ্বুদ্ধকরণ বার্তা হিসেবে যুক্ত হয়েছে “এই গাছটি আমার”।

 

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা এবং তাদের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যানার ও ফেস্টুনে স্লোগান দেওয়া হয়েছে- “স্কুলে অথবা বাড়িতে প্রতিটি শিশু ১ টি করে করবে বৃক্ষরোপণ আনন্দে”।

 

শুধু গাছ রোপণ করেই ক্ষান্ত হয়নি এই খুদে শিক্ষার্থীরা, বরং চারা রোপণের পর তা টিকিয়ে রাখার জন্য নিয়মিত যতœ নিশ্চিত করার শপথও নিয়েছে তারা। তাদের এই আগ্রহকে স্থায়ী রূপ দিতে প্রতিটি গাছের সাথে শিক্ষার্থীর নাম, শ্রেণি, রোল এবং রোপণ করা গাছের জাত ও তারিখ সম্বলিত আকর্ষণীয় পরিচয়পত্র বা প্ল্যাকার্ড ইতিমধ্যে তৈরি করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

এই কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য চারা রোপণকারীদের মধ্যে ৩য় শ্রেণির রোল ১ মোছাঃ মারিয়াম তাবাসসুম একটি হিমসাগর আম গাছ, ১ম শ্রেণির রোল ১ রাইসা সুলতানা একটি লিচু গাছ, ২য় শ্রেণির রোল ১ রাইসা আহম্মেদ একটি কাঁঠাল গাছ, ৫মা শ্রেণির রোল ১ সাবিহা ইসলাম একটি কামরাঙা গাছ এবং ৪থ শ্রেণির রোল ১ আমিনা সিদ্দীকা একটি গাব গাছের চারা রোপণ করে।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদুর রহমান ও কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মুজিবুর রহমান জানান, এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল প্রাঙ্গণে অথবা নিজ নিজ বাড়িতে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শিশুরা যাতে আনন্দের সাথে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়, সে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন করার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের এই অভূতপূর্ব আগ্রহ ও নিষ্ঠা দেখে এটি স্পষ্ট যে, নতুন প্রজন্ম পরিবেশ ও গাছপালার গুরুত্ব অত্যন্ত গভীরভাবে অনুধাবন করতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এবং শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মহতী প্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কলারোয়া উপজেলা তথা সমগ্র দেশে সবুজায়নের এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটবে।

 

এটি শুধু একদিনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শিশুদের মনে আজীবন প্রকৃতিপ্রেম জাগ্রত রাখার এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার এক দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পদক্ষেপ। আগামী দিনের এই পথচলায় আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা সবার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা কামনা করেছেন। সংবাদদাতা: জুলফিকার আলী

Ads small one

বিদ্যুৎ না পাইলে মরে যাব/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ না পাইলে মরে যাব/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

একটা সময় ছিল, যখন বিদ্যুৎ না থাকাটা ছিল স্বাভাবিক। সন্ধ্যা নামলেই হারিকেন, কুপিবাতি বা হ্যাজাকের আলোয় জীবন চলত। গ্রামের মানুষ রাতের আকাশের নিচে বসে গল্প করত, শহরেও অন্ধকারকে মেনে নেওয়ার এক ধরনের অভ্যাস ছিল। কিন্তু সেই সময় আর নেই। এখন বিদ্যুৎ ছাড়া একটি মুহূর্তও যেন অচল হয়ে পড়ে পুরো জীবনযন্ত্র।

 

তাই আজ যখন কেউ বলেÑ“বিদ্যুৎ না পাইলে মরে যাব”Ñতখন সেটি নিছক বাড়াবাড়ি নয়, বরং এক গভীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এই বাস্তবতা আমাদের বলে, বিদ্যুৎ এখন আর শুধু একটি সুবিধা নয়; এটি আধুনিক সভ্যতার শিরা-উপশিরা। এই শিরায় রক্ত চলাচল বন্ধ হলে যেমন শরীর থেমে যায়, তেমনি বিদ্যুৎ না থাকলে থেমে যায় আধুনিক জীবন।

 

বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গত দুই দশকে বিদ্যুতায়নের বিস্তৃতি ঘটেছে অভূতপূর্ব গতিতে। গ্রাম-শহরের বৈষম্য অনেকটাই কমেছে। টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ফ্রিজ, সেচপাম্পÑসবকিছুই এখন সাধারণ মানুষের নাগালে। এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে জীবনমান উন্নত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে তৈরি করেছে এক গভীর নির্ভরতা। এখন মানুষ শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে না; বরং বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন কল্পনাও করতে পারছে না।

 

একটি পরিবারে সকাল শুরু হয় মোবাইলের অ্যালার্মে, দিনের কাজ চলে ইন্টারনেট ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সাহায্যে, রাত শেষ হয় আলো ও ফ্যানের নিচে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এই পুরো চক্র থেমে যায়। শহরে কয়েক মিনিট লোডশেডিং হলেই অস্থিরতা শুরু হয়। লিফট বন্ধ হয়ে যায়, ট্রাফিক সিগন্যাল কাজ করে না, অফিসের কাজ থেমে যায়, অনলাইন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। অন্যদিকে গ্রামে এর প্রভাব আরও তীব্র। পানির পাম্প বন্ধ হয়ে যায়, কৃষিকাজ ব্যাহত হয়, মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই দুই বাস্তবতা এক জায়গায় এসে দাঁড়ায়Ñবিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক জীবন অচল। আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। অনলাইন ক্লাস, ভার্চুয়াল লাইব্রেরি, প্রজেক্টও ভিত্তিক শিক্ষাÑসবকিছুই বিদ্যুৎনির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গতি থেমে যায়।গ্রামের শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের আলোকে পড়াশোনা করে। বিদ্যুৎ না থাকলে তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়, পরীক্ষার ফলেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে বিদ্যুৎ এখন শিক্ষার সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো।

 

হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ মানে জীবন। অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, ডায়াগনস্টিক মেশিনÑসবকিছু বিদ্যুৎ ছাড়া অচল। এক মুহূর্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা অনেক সময় রোগীর জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি করে দেয়। বড় হাসপাতালগুলোতে জেনারেটর থাকলেও গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেই সুযোগ সীমিত। ফলে বিদ্যুৎ সংকট সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বিদ্যুৎ শুধু ঘর আলোকিত করে না; এটি অর্থনীতির চাকা ঘোরায়। পোশাক শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য খামার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পÑসবকিছুই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।

একটি কারখানা কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ক্ষতি হয়, রপ্তানি কমে যায়, শ্রমিকদের আয় ব্যাহত হয়। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা এখন অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অংশ। বাংলাদেশের কৃষি এখন অনেকাংশে যান্ত্রিক ও বিদ্যুৎনির্ভর। সেচপাম্প, ঠান্ডা সংরক্ষণাগার, মাছের ঘেরের অক্সিজেন সরবরাহÑসবই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ি ও মাছচাষে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। বিদ্যুৎ না থাকলে পানি চলাচল বন্ধ হয়, ফলে উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ে।

 

বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপচয়ের প্রবণতাও বাড়ছে। অপ্রয়োজনে লাইট-ফ্যান চালু রাখা, এসির অতিরিক্ত ব্যবহার, অবৈধ সংযোগÑএসব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে সিস্টেম লস ও অব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে উৎপাদন বাড়লেও অনেক সময় প্রকৃত সরবরাহ সংকট থেকে যায়। বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, বায়োগ্যাসÑএসব উৎস আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে সূর্যের আলো প্রচুর, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ আরও বিস্তৃত করা গেলে গ্রামীণ বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিদ্যুৎ সংকট শুধু উৎপাদনের সমস্যা নয়; এটি ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও নাগরিক আচরণেরও প্রশ্ন। সরকারকে যেমন দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি নাগরিকদেরও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।

 

অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ না হলে কোনো উৎপাদন ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। “বিদ্যুৎ না পাইলে মরে যাব”Ñএই কথাটি আক্ষরিক অর্থে সত্য নয়, কিন্তু প্রতীকী অর্থে এটি গভীর বাস্তবতা বহন করে। বিদ্যুৎ ছাড়া আমরা হয়তো বাঁচব, কিন্তু সেই জীবন হবে অগোছালো, অচল এবং পিছিয়ে পড়া। আধুনিক সভ্যতা বিদ্যুতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই ভিত্তি দুর্বল হলে পুরো কাঠামোই কেঁপে উঠবে। তাই বিদ্যুৎকে শুধু সুবিধা হিসেবে নয়, বরং একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখা জরুরি।

 

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু বিদ্যুৎ পাওয়া বা না পাওয়ার নয়Ñপ্রশ্ন হলো, আমরা এই সম্পদকে কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে পারছি। কারণ ভবিষ্যতের উন্নয়ন নির্ভর করবে আলো জ্বালানোর ক্ষমতার ওপর নয়, বরং সেই আলো কতটা টেকসইভাবে ধরে রাখতে পারি তার ওপর।

লেখক: সংবাদকর্মী

তীব্র লোডশেডিংয়ে অচল সাতক্ষীরা সদর: গ্রামে ত্রাহি অবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
তীব্র লোডশেডিংয়ে অচল সাতক্ষীরা সদর: গ্রামে ত্রাহি অবস্থা

সংবাদদাতা: কোনো এলাকাতেই স্বস্তি নেই; তীব্র তাপদাহ আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো সাতক্ষীরা সদর উপজেলা। শহরের কাটিয়া, পলাশপোল, ইটাগাছা কিংবা সুলতানপুর-সবখানেই বিদ্যুতের একই দশা। অপরদিকে গ্রামীণ ফিডারগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। ঝাউডাঙ্গা, বল্লী, ফিংড়ী, বাশদহা কিংবা কুশখালী ইউনিয়নে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকর ও বেশি সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এটি এখন আর সাধারণ বিভ্রাট নয়, এটি বিদ্যুতের ‘মহামারি’।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ওজোপাডিকো মিলিয়ে পুরো জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯৫ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রায় ৫৫ মেগাওয়াট ঘাটতি নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সরবরাহ।

পৌর এলাকায় তাও কিছুটা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও, সদরের গ্রামগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রাতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে।

সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরী সূত্র জানায়, ৪২টি কারখানাসহ সদরের শত শত লেদ ও চালকলের উৎপাদন পুরোপুরি লাটে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকেরা অলস বসে থাকছেন, অথচ মালিকদের গুনতে হচ্ছে নিয়মিত বেতন।
দাবদাহের কারণে ফসলের মাঠ শুকিয়ে চৌচির হলেও বিদ্যুৎ সংকটে সেচ পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না। এতে আমন ও রবি শস্যের আবাদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে ভাইরাসজনিত রোগ ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে।

ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্ব বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দায়ী করছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদের কিছুই করার নেই। তীব্র গরমে ফ্যানের পাশাপাশি এসির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় লোড আরও বেড়েছে, যা বর্তমান সরবরাহ দিয়ে সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংবাদদাতা: মোঃ রবিউল ইসলাম

জনবল-সংকটে থমকে যাচ্ছে চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের কার্যক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
জনবল-সংকটে থমকে যাচ্ছে চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের কার্যক্রম

কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নেই টেকনিশিয়ান, অকেজো হওয়ার শঙ্কা

সংবাদদাতা: চিংড়ি শিল্পকে আধুনিক ও টেকসই করতে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামার। উদ্দেশ্য ছিল গবেষণা, উন্নত পোনা উৎপাদন, পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণ এবং খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই থমকে গেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খামারটিতে রয়েছে আধুনিক হ্যাচারি, পিসিআর ল্যাব, কোয়ারেন্টাইন ল্যাবসহ বিভিন্ন ভারী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি রয়েছে পানির গুণগত মান পরীক্ষার (ওয়াটার কোয়ালিটি টেস্টিং) ব্যবস্থা, উন্নত পোনা উৎপাদনের প্রযুক্তি এবং গবেষণাগার। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগমুক্ত ও মানসম্মত পোনা উৎপাদন, পানির পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকলেও দক্ষ অপারেটর ও পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত জনবল না থাকায় অনেক যন্ত্রই নিয়মিত ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিংড়ি শিল্প এখন কঠিন সময় পার করছে। রোগব্যাধি, মানসম্মত পোনার সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে অনেক খামারি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক এই প্রদর্শনী খামার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিংড়ি চাষে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, দ্রবীভূত অক্সিজেন ও পিএইচ পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রোগ প্রতিরোধ ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। এজন্য উন্নত ল্যাব ও পরীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হলেও শুধু যন্ত্রপাতি স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলও অপরিহার্য।
খামারের একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল মাঠপর্যায়ের চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও বলছে, প্রদর্শনী খামার ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। কিন্তু বর্তমানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উপকূলের বহু খামারি সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে চিংড়ি শিল্পে রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে। অতীতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণে দেশের বিভিন্ন হ্যাচারিতে শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আবার ভাইরাসজনিত রোগে সাতক্ষীরা অঞ্চলের চিংড়ি খামারগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। গবেষণা ও আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম জোরদার না হলে ভবিষ্যতেও এমন সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খামার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে অনেক যন্ত্রপাতি সীমিতভাবে ব্যবহার হচ্ছে, কিছু যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ না হলে এসব মূল্যবান যন্ত্রপাতি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন নতুন করে যন্ত্রপাতি কেনা ও অবকাঠামো সচল করতে আবারও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।

সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের চিংড়ি উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র। জেলার হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রদর্শনী খামারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে মানসম্মত পোনা উৎপাদন, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু না হলে কোটি টাকার প্রযুক্তি অব্যবহৃত থেকে যাবে, আর হারিয়ে যেতে পারে চিংড়ি শিল্পে সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

সাতক্ষীরা জেলা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি এবং শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব)-এর সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, “সাতক্ষীরার পিসিআর ল্যাব চালু করা গেলে পোনা ছাড়ার আগে জীবাণু আছে কি না তা জানা যেত। এতে আমাদের উৎপাদন অনেক ভালো হতো।” তিনি আরও বলেন, “এই যন্ত্রপাতিগুলো চালুর বিষয়ে আমি সচিবালয়ের বৈঠকেও জানিয়েছি। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”

চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহ: শফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক এসব যন্ত্রপাতি জেলা মৎস্য কর্মকর্তার অধীনে। “আপনি উনার সাথে কথা বলুন। আমি একটি মিটিংয়ে আছি, পরে কথা হবে,”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি. এম. সেলিম বলেন, “সাতক্ষীরা থেকে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়। এখানে পিসিআর ল্যাব, কোয়ারেন্টাইন ল্যাবসহ অনেক ভারী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এসব যন্ত্রপাতির কেমিক্যালের মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হয়ে যাবে। আমরা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছি। এসব যন্ত্র ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন।”

 

তিনি আরও বলেন, “আগে এসব পরীক্ষার জন্য খুলনা বা ঢাকায় যেতে হতো। এখন এখানে পরীক্ষা করা সম্ভব হলে সময় ও খরচ দুটোই কমবে। পোনাগুলো জীবাণুমুক্ত কি না তা পরীক্ষা করা যাবে, এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। এছাড়া পানির গুণগত মান পরীক্ষার জন্যও এখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে।” সংবাদদাতা আব্দুর রহমান