শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

আর্সেনিকের থাবায় দুই গ্রাম, দুই দশকে প্রাণ গেল অর্ধশত মানুষের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
আর্সেনিকের থাবায় দুই গ্রাম, দুই দশকে প্রাণ গেল অর্ধশত মানুষের

প্রতিদিন বিষপান, তবুও বিকল্প নেই

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি ও সংলগ্ন এলাকায় আর্সেনিকের ভয়াবহতা এখন চরম পর্যায়ে। গত ২০ বছরে বিশুদ্ধ পানির অভাবে এবং আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে এই এলাকায় অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম এই কৃষ্ণকাটি গ্রামেই আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছিল, কিন্তু দুই দশক পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; বরং প্রতিবছরই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই এলাকার মানুষের শরীরে আর্সেনিকের বিষক্রিয়া স্পষ্ট। হাতে ও পায়ের তালুতে বাদামি ছাপ, বুকে-পিঠে ‘স্পটেড পিগমেনটেশন’ এবং অনেকের শরীরে গুটিগুটি ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বিষক্রিয়ার ফলে পুরুষেরা রোদে গিয়ে পরিশ্রম করতে পারছেন না, শরীরের ভেতরে জ্বালাপোড়া ও অসহ্য যন্ত্রণা তাদের নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘমেয়াদী এই সংক্রমণ অনেকের ক্ষেত্রে ক্যান্সারে রূপ নিচ্ছে। এছাড়া আঙুল বেঁকে যাওয়া, অসাড়তা এবং পচন ধরার মতো ভয়াবহ উপসর্গ নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অনেকে।

ভুক্তভোগী রুমানা বেগমের করুণ কাহিনী পুরো গ্রামের চিত্র তুলে ধরে। আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সাত সদস্য মারা গেছেন। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তার।
একইভাবে নাজমা বেগম হারিয়েছেন তার স্বামী, ছেলে, দেবর ও শ্বশুরকে। নিজে ২২ বছর ধরে এই মরণব্যাধি বয়ে বেড়াচ্ছেন। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা, ডাক্তারের পরামর্শ দেওয়া পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন এই মানুষগুলো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিভিন্ন এনজিওর উদ্যোগে সুপেয় পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও সেগুলো বছরের পর বছর অকেজো হয়ে পড়ে আছে। নিয়মানুযায়ী প্রতি বছরে দুইবার টিউবওয়েলের পানি পরীক্ষা করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত পানির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনো দেখা মেলেনি। ফলে নিরুপায় হয়ে মানুষ লাল চিহ্নিত টিউবওয়েলের ‘বিষাক্ত’ পানিই পান করছে।

আর্সেনিকের এই ভয়াবহ ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে শিশুদের ওপর। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অকেজো ওয়াটার প্ল্যান্টগুলো সচল করা এবং সরকারিভাবে পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা না করলে এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির মোড়ল আক্ষেপ করে বলেন, টিউবওয়েলে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তৃষ্ণা মেটাতে আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা জেনেশুনেই প্রতিদিন বিষ পান করছি।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু জানান, আমার ইউনিয়নে ব্যাপক আর্সেনিকের প্রভাবে বিশেষ করে কৃষ্ণকাটি ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কৃষ্ণকাটি গ্রামের আনসার মোড়লের একই পরিবারের সাত জন মারা গিয়েছে। বিভিন্ন এনজিও কিছু ট্যাংকি বিতরণ করেছিল। সেই ট্যাংকিতে বৃষ্টির পানি ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ পান করে। কিন্তু বৃষ্টির পানি দুই তিন মাসের বেশি পান করা যায় না।

 

পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের একটি প্রকল্প কৃষ্ণকাটি গ্রামে পাস হয়েছে। দীর্ঘদিন আগে প্রকল্পটি পাস হওয়ার পরেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি কেন হচ্ছে না তা আমাদের অজানা। দ্রুত এই প্রকল্পটির কাজ করা হলে এই এলাকার মানুষ আর্সেনিকের প্রকোপ থেকে বাঁচতে পারবে।

 

আর্সেনিকের প্রভাবে যে রোগগুলো দেখা দিয়েছে সরকার স্পেশালভাবে এখানে কোন চিকিৎসা দেয় না। মাঝে মাঝে এনজিও আসে কিছু ঔষুধ পত্রের ব্যবস্থা করে তাছাড়া তেমন কোন ব্যবস্থা বা চিকিৎসা এখানে দেয়া হয় না। বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। মানুষ এখনো নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এ সকল বিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালাম বলেন, আর্সেনিক খুব মারাত্মক একটি রোগ। আর্সেনিক হলে সাধারণত হাত-পা বাঁকা হয়ে যাওয়া সহ যেটার পরিণতি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত আর্সেনিক আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ডায়গনোসিস করে বিনামূল্যে সরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় । তালায় জালালপুর যে অঞ্চলে আক্রান্ত হয়েছে সেখানে পুনরায় খবরাখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ads small one

একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালন

একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জন্মভূমির সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বালুর ২২তম হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার ক্লাবের পক্ষ থেকে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার। সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ‘হুমায়ুন কবীর বালু ছিলেন একজন নির্ভীক সাংবাদিক। তাঁকে যারা হত্যা করেছে, তাদেরও সঠিক বিচার হয়নি। এই মামলার পুনরায় তদন্ত এবং প্রকৃত আসামি ও এর মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া এই হত্যা মামলার আসামিদের সাজা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।

স্মরণ সভায় বক্তৃতা করেন, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আজীবন সদস্য মকবুল হোসেন মিন্টু, ক্লাবের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন ও কাজী শামীম আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী ও মল্লিক সুধাংশু, ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল, সিনিয়র সদস্য মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মাকসুদুর রহমান (মাকসুদ) ও কে এম জিয়াউস সাদাত, ক্লাব সদস্য আতিয়ার পারভেজ, রকিব উদ্দিন পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, এ এইচ এম শামিমুজ্জামান, এস এম নূর হাসান জনি ও সাংবাদিক আবু তাহের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য কাজী মোতাহার রহমান, সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য সোহেল মাহমুদ, ক্লাব সদস্য এস এম কামাল হোসেন,বাপ্পী খান, রিংটন মন্ডল, আল মাহমুদ প্রিন্স, মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, আলমগীর হান্নান, মোঃ হুমায়ুন কবীর, মো. আজিজুল ইসলাম, মোঃ রবিউল গাজী (উজ্জ্বল), এস এম বাহাউদ্দিন, তিতাস চক্রবর্তী, মোঃ হেলাল মোল্লা, আলী আবরার, মোঃ সোহেল রানা, মোঃ রফিক আলী, তুফান গাইন, ইমাম হোসেন সুমন, মোঃ আনিছুর রহমান কবির, মো. রাজু হাওলাদার, নূরুল আমিন নূর, মো. মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মোঃ হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

এর আগে ক্লাবের নেতৃবৃন্দ ক্লাব চত্বরে অবস্থিত শহিদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এছাড়া স্মরণসভার শুরুতে সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুসহ নিহত সাংবাদিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

 

এছাড়া হুমায়ুন কবীর বালুসহ নিহত ও মৃত্যুবরণকারী অন্যান্য সাংবাদিকদেরও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ক্লাবের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. ইউসুফ হাবিব।

উল্লেখ্য, গত ২০০৪ সালের ২৭ জুন নগরীর ইসলামপুর রোডে অবস্থিত নিজ কার্যালয় জন্মভূমি ভবনের সামনে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন বিষয়ক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন বিষয়ক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সৌদি আরব ও বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত হজ ও ওমরাহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নাঈম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস এন্ড টুরস (লাইসেন্স নং-৫১৮)-এর উদ্যোগে ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকায় একাডেমি মসজিদ রোডস্থ আল-আকসা মসজিদ সংলগ্ন নাঈম ইন্টারন্যাশনালের নিজস্ব হজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন, সরকারি নীতিমালা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া, হজের পূর্বপ্রস্তুতি, হজের গুরুত্ব এবং ওমরাহ সেবাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, হজ পালনে আগ্রহীদের সময়মতো প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে হজ পালন নিশ্চিত করতে সরকার অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাঈম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস এন্ড টুরসের স্বত্বাধিকারী আলহাজ মাওলানা আব্দুল হাদী, ড. মুফতি আক্তারুজ্জামান, আলহাজ নজরুল ইসলাম, আলহাজ আব্দুল রাজ্জাক, আলহাজ গোলাম মোর্তজা, আলহাজ মাওলানা মহাসীনুর রহমান, আলহাজ কাজী শামসুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন ও বুকিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। আগ্রহী হজযাত্রীদের দ্রুত প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য নাঈম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস এন্ড টুরসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

বজ্রধ্বনি ও সাতক্ষীরার অরক্ষিত জনপদ/ আখলাকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
বজ্রধ্বনি ও সাতক্ষীরার অরক্ষিত জনপদ/ আখলাকুর রহমান

আখলাকুর রহমান

‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’-খনা যখন তাঁর চিরন্তন বচনে এই সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তখন বাঙালির বিজ্ঞানচেতনা হয়তো আজকের মতো ল্যাবরেটরির কাচে বন্দি ছিল না, কিন্তু প্রকৃতির মেজাজ চেনার এক মায়াময় প্রজ্ঞা তাঁদের ছিল। আজ ২৮শে জুন, আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস। জলবায়ু পরিবর্তনের এই চরম সংকটের দিনে ক্যালেন্ডারের এই তারিখটি আমাদের কাছে কেবলই এক লৌকিক আয়োজন হয়ে আসে, অথচ খোদ জাতিসংঘের জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এই বজ্রপাতকে অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

 

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে প্রতি এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বজ্রপাতের আশঙ্কা প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আজ এই দিবসের আলোয় যখন আমাদের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, বিল আর নদীপাড়ের প্রান্তিক মানুষের দিকে তাকাই, তখন প্রকৃতির এই রুদ্র রূপকে এক অনিবার্য মরণফাঁদ বলে মনে হয়।

 

বাঙালি সাহিত্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের ঔপন্যাসিকরা প্রকৃতির এই রুদ্রলীলাকে মানুষের নিয়তির সাথে বারেবারে এক সুতোয় বেঁধেছেন। কালজয়ী কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কবি’ উপন্যাসের সেই অমোঘ ট্র্যাজেডির কথা কি আমরা ভুলতে পারি? ঝুমুর দলের নর্তকী বসন্ত যখন নিতাইয়ের জীবনের সমস্ত আলো কেড়ে নিয়ে অকাল বসন্তেই বিদায় নিল, তার আগে সেই কালবোশেখীর রাতে আকাশ চিরে নেমে আসা বজ্রপাত যেন তাদের নিয়তিরই এক নিষ্ঠুর অট্টহাসি ছিল।

 

আবার বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’তে কিংবা রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে ঝড়ের রাতের যে বর্ণনা, তা কেবল রোমান্টিকতা নয়, প্রকৃতির এক আদিম ও অমোঘ শক্তির জানান দেয়। বজ্রপাত তো আসলে কোনো আকস্মিক দৈব দুর্ঘটনা নয়, এটা আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করার এক চরম প্রতিশোধ। সাতক্ষীরার সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে আজ অপরিকল্পিতভাবে তালগাছসহ সব বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে মাঠের কৃষক আর মৎস্যজীবীদের। খোলা বিলে বা মৎস্য ঘেরে কাজ করার সময় একটু অসচেতনতার কারণেই প্রতি বছর কতশত তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, কত সোনার সংসার মুহূর্তের মধ্যে ছাই হয়ে যাচ্ছে।

আইনের শুষ্ক বিধি বা লিফলেট বিলি করে প্রকৃতির এই মরণকামড় থেকে মানুষকে বাঁচানো যাবে না, এর জন্য প্রয়োজন আমাদের মজ্জাগত অভ্যাসের আমূল পরিবর্তন। খনার সেই প্রাচীন সূত্রকে আজ আমাদের আধুনিক জীবনের বর্ম বানাতে হবে; আকাশে মেঘের প্রথম গুড়গুড়ানি শুনলেই সমস্ত অবহেলা দূরে ঠেলে নিরাপদ আশ্রয়ে বা পাকা দালানের নিচে চলে যাওয়াটাই বেঁচে থাকার একমাত্র পথ। ইসলামে বজ্রপাতকে আল্লাহর মহিমার এক পরম নিদর্শন ও সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই সময়ে বিশেষ দোয়া পড়ার নির্দেশ রয়েছে, যা মানুষের মনকে শান্ত ও সচেতন করে।

 

স্থানীয় প্রশাসনের উচিত কেবল কাগজে-কলমে দিবস পালন না করে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে, বিশেষ করে আমাদের সাতক্ষীরার ঘের অঞ্চল ও কৃষিমঠে বজ্রপাত নিরোধক দন্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের এক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। এই আন্তর্জাতিক দিবসে আমরা সর্বস্তরের মানুষ একটাই প্রতিজ্ঞা করি, প্রকৃতির নিয়মকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং নিজস্ব সচেতনতাকে ঢাল বানিয়ে আমরা এই অদৃশ্য মরণ আঘাত থেকে আমাদের প্রিয়জনদের রক্ষা করবই।

লেখা : আখলাকুর রহমান, উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা