বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

আলোর মুখ দেখছে প্রাচীন ঐতিহাসিক শ্যামসুন্দর মন্দির, পরিদর্শনে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
আলোর মুখ দেখছে প্রাচীন ঐতিহাসিক শ্যামসুন্দর মন্দির, পরিদর্শনে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর

মিলন বিশ্বাস: দীর্ঘদিনের অযতœ-অবহেলা ও জরাজীর্ণতার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামের ঐতিহাসিক শ্যামসুন্দর মঠ-মন্দির। সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মন্দিরটির জরাজীর্ণ অবস্থা ও সংরক্ষণের দাবি তুলে ধরার পর এবার দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।
প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পর মূল সংস্কারকাজ শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে বুধবার সরেজমিনে মন্দিরটি পরিদর্শন করেছেন প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শ্যামসুন্দর মন্দির পরিদর্শন করেন খুলনা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি গবেষক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শাপলা সিংহ, সমাজকর্মী ও সাংবাদিক মিলন বিশ্বাস, পরিবেশ সাংবাদিক মো. হোসেন আলী, মন্দিরের সেবায়েত সুবপ্রসাদ চৌধুরীসহ স্থানীয়রা।
পরিদর্শনকালে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মন্দিরটির বর্তমান কাঠামোগত অবস্থা, দেয়াল, কার্নিশ, পোড়ামাটির অলংকরণ ও স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। জরাজীর্ণ অংশগুলো পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংস্কারের আগে কী ধরনের কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
পরিদর্শন শেষে খুলনা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্যামসুন্দর মন্দিরটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি। মন্দিরটির প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ ইতোমধ্যে করা হয়েছে। এখন মূল সংস্কারকাজের আগে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রি-ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করা হবে।
তিনি বলেন, “একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রি-ডকুমেন্টেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছাড়া সরাসরি সংস্কারে গেলে স্থাপনার মূল বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞ টিম এসে স্থাপনাটির বিস্তারিত তথ্য, নকশা, কাঠামোগত অবস্থা ও অন্যান্য উপাত্ত সংগ্রহ করবে। এরপর মূল সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”
মন্দিরের স্থাপনার গায়ে জন্ম নেওয়া পুরোনো গাছ ও পরগাছা অপসারণের বিষয়েও সতর্কতার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব গাছ অত্যন্ত ধীরে ও সতর্কতার সঙ্গে অপসারণ করা হবে, যাতে মূল স্থাপনার কোনো ক্ষতি না হয়।
মহিদুল ইসলাম আরও বলেন, “সামনের অর্থবছরে বরাদ্দ নিয়ে মন্দিরটির সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য কাজ করা হবে। মন্দিরের এই ভঙ্গুর দশা আর থাকবে না।”
ডিজিটাল আর্কাইভের প্রস্তাব: পরিদর্শনের সময় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি গবেষক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শাপলা সিংহ মন্দিরটির স্থাপত্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্থানীয় ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, শুধু ভবনের পুরোনো নকশা ফিরিয়ে আনলেই হবে না; মন্দিরটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্থানীয় সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান ও সামাজিক ইতিহাসও সংরক্ষণ করতে হবে। উপকূলীয় নোনা পরিবেশ ও আর্দ্রতার কারণে স্থাপনাটির ক্ষয় হচ্ছে। তাই ৬০ বছরের বেশি বয়সী স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে মন্দিরটির ইতিহাস ও মৌখিক স্মৃতি সংগ্রহ করে একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের জন্য মন্দিরটির ইতিহাস ও অতীতের পরিবেশ তুলে ধরতে আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র ও ডিজিটাল উপস্থাপনার ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিদর্শন এবং দ্রুত সংস্কারের আশ্বাসে স্থানীয় বাসিন্দা, পূজারী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
মন্দিরের সেবায়েত সুবপ্রসাদ চৌধুরী বলেন, “প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী। তবে আমাদের দাবি, পুরো মন্দির প্রাঙ্গণটি সীমানাপ্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত করা হোক। অরক্ষিত পরিবেশের সুযোগ নিয়ে এখানে মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডা বসে। প্রতিবাদ করলে হুমকির মুখে পড়তে হয়। সংস্কারের পাশাপাশি মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
স্থানীয় ইতিহাস ও বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্যামসুন্দর মঠ-মন্দিরটি কয়েক শত বছরের পুরোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইতিহাসবিদ সতীশ চন্দ্র মিত্র ও অধ্যাপক মো. আবু নসরের গ্রন্থে ১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দে জনৈক হরিরাম দাশ—মতান্তরে দুর্গাপ্রিয় দাশ—মন্দিরটি নির্মাণ করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু তিনতলা নবরতœ স্থাপত্যের মূল মন্দিরটির সঙ্গে রয়েছে দুর্গা মন্দির ও শিব (অন্নপূর্ণা) মন্দির। সামনে রয়েছে ‘জমির বিশ্বাসের পুকুর’ নামে পরিচিত একটি ঐতিহাসিক দীঘি।
মন্দিরের দেয়াল ও কার্নিশে পোড়ামাটির অলংকরণ, ফুল-লতাপাতা, জ্যামিতিক নকশা ও ধর্মীয় কাহিনিনির্ভর শিল্পকর্ম রয়েছে।
স্থানীয় প্রবীণদের বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এখানে স্বর্ণের রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি ও কষ্টিপাথরের ১২টি শিবলিঙ্গ ছিল। পরবর্তী সময়ে সেগুলো চুরি হয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশের কর্মকর্তা, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মন্দিরটি পরিদর্শন করে সংরক্ষণের আশ্বাস দিলেও বড় ধরনের সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। এবার প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শন, প্রি-ডকুমেন্টেশনের উদ্যোগ এবং আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ নিয়ে সংস্কারের ঘোষণা ঘিরে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার আর আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে সংস্কার ও সংরক্ষণকাজ। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, সাতক্ষীরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

Ads small one

৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার উলাশীতে রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে মাসিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত ৫০টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় মাসিক ত্রাণ কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে এসব পরিবার নিয়মিত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাবেন।
একই অনুষ্ঠানে অসহায় মো. জাহাঙ্গীরের অপারেশনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও মাসিক ত্রাণ কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুবিয়া রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

শ্যামল শীল
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৩ পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটর-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতীব প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
একইদিনে নারায়নগঞ্জে আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন পাশ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়।
জাতীয় সংসদের গত বাজেট অধিবেশনে ১০৬ সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং একই সাথে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং থাকলে, তা কতদিনে বাস্তবায়ন হতে পাবে? প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং আঞ্চলিক বৈষমা হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনী চর্চা, গবেষণামনকতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, সম্ভাবাতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদিত হয়, তবে প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।”
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় তাঁর প্রশ্নে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) সম্পর্কে যেমন সুনিদিষ্ঠ কিছু বলেননি, ঠিক একইভাবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর উত্তরেও “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি” উল্লেখ করে আইনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে আইনটি বিগত সময়ে প্রণয়ন হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা খুজে পাইনি। যদি আইনটি থাকে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কি কি প্রয়োজন সেটা সম্পর্কেও সুনিদিষ্ঠ কোন তথ্য কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন আমার এমন একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, আইন পাশের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এবং একাডেমিক কার্যক্রম যে কোন সময় শুরু করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এটা এখন সময়ের দাবী। তবে, রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে আমাদের অনেক দাবীই বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বিশ্বাবদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনাটুকু অতিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন থেকেই এই জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক-এই দাবীতে সাতক্ষীরাবাসীর দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা এখন জরুরি। এব্যাপারে সকলে এগিয়ে আসুন।

 

ভারতে ইছামতীর পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত বেনাপোল সীমান্তের ১০০ পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
ভারতে ইছামতীর পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত বেনাপোল সীমান্তের ১০০ পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: ভারতের ইছামতী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার বিকেলে দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সীমান্ত এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়া ১০০টি পরিবারের মধ্যে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের হাতে চাল, ডাল, আটা, তেল, লবণ ও চিনি তুলে দেন ২১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান। সম্প্রতি নদীর পানি বৃদ্ধিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ভোগ কমাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে এই মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ২১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান জানান, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের পাশে বিজিবির এই সহায়তার ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।