আশাশুনিতে ১০৬ মন্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: আশাশুনিতে ১০৬টি ম-পে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে শেষ পর্যায়ে। প্রতিমায় রং, ম-প সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও আয়োজকেরা। এর মধ্যে শনিবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজ নিয়েছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এবার ১০৬টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনার পর থেকেই পূজাকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও প্রতিমায় দেওয়া হচ্ছে শেষ তুলির আঁচড়, কোথাও চলছে ম-প সাজানোর কাজ। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি ঢাক ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের কারিগরেরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এবার আশাশুনির তিনটি ম-পের ব্যতিক্রমী আয়োজন বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা দিয়ে প্রতিমা সাজানো হয়েছে। অন্যদিকে বুধহাটা কাছারিবাড়ি সার্বজনীন দুর্গাম-পে মুগডাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা। আর বুধহাটা সুবর্ণ বণিকপাড়ার মাটির কাজে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী। কুল্যা ইউনিয়নের শিল্পী উত্তম প্রামাণিক বুধহাটা সুবর্ণ বণিকপাড়া পূজাম-পে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। সেখানে কাজ করা এক প্রতিমাশ্রমিক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে রং করার কাজ শুরু করেছি।’
তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক বাড়েনি বলে জানিয়েছেন কারিগরেরা। প্রতিমাশ্রমিক অরবিন্দু ম-ল বলেন, ‘রঙের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কাজের মূল্য সেই হারে পাওয়া যায় না।’ বুধহাটা কাছারিবাড়ি পূজাম-পের আয়োজক গোপাল দেবনাথ বলেন, ‘শিল্পীদের কাজ এখনো চলছে। আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরপর কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
শনিবার বিকেলে প্রথমে বুধহাটা সুবর্ণ বণিকপাড়া ও বুধহাটা কাছারিবাড়ি সার্বজনীন দুর্গাপূজাম-প পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। এ সময় তিনি পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা ও ম-প পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজ নেন। ম-পের ভেতরে গিয়ে প্রতিমাও দর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় এবার ৬০৯টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে। হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজনে একসঙ্গে অংশ নেন। বুধহাটায় উপস্থিত সবার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এখানে যেমন হিন্দু-মুসলিম সবাই একসঙ্গে এসেছেন, তেমনি সবাই মিলে পূজার সময় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখবেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যানজট এড়াতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও রাখা হবে।
পুলিশ সুপার জানান, অধিকাংশ পূজাম-পে ইতিমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বাকি ম-পগুলোও দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আশাশুনি পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব রণজিৎ বৈদ্য জানান, পূজাম-পের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ম-পে স্বেচ্ছাসেবক দলও দায়িত্ব পালন করবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ১০৬টি ম-পে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পূজার দিনগুলোতে দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিমা নির্মাণ, ম-প সাজসজ্জা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তুতি মিলিয়ে আশাশুনিতে এখন শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, সবার সহযোগিতায় উৎসবের দিনগুলো শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর হয়ে উঠবে।












