রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আশাশুনিতে ২০ কর্মকর্তাকে বদলী ও অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ২০ কর্মকর্তাকে বদলী ও অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনিতে বিভিন্ন কার্যালয়ের ২০ কর্মকর্তাকে বদলী ও অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টায় আশাশুনি অফিসার্স ক্লাবের আয়োজন অফিসার্স ক্লাবে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আশাশুনি সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল মোঃ নজরুল ইসলাম।

 

সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাক্তার নিতেশ চন্দ্র গোলদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস, পিআইও মোঃ আমিরুল ইসলাম, নির্বাচন অফিসার ওয়াহিদ মুরাদ, আইসিটি কর্মকর্তা আক্তার ফারুক বিল্লাল, হিসাব রক্ষণ অফিসার মমিন আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে বদলী ও অবসরজনিত বিদায়ী কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক সন্ন্যাসী কুমার মন্ডল, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আরিফা খাতুন, ডেভলপমেন্ট ফেসিলিটেটর (ইউডিএফ) কর্মকর্তা দেবু বিশ্বাস, সহকারি প্রকৌশলী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু সেলিম, মোঃ আব্দুর রকিব, মোঃ শাহাজাহান আলী ও গৌরাংগ গাইন, সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার নরেশ কুমার বিশ্বাস, জনতা ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা মোঃ হাসান কবির, কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থা (এসপিও) রাম প্রসাদ বিশ্বাস, সহকারি ইন্সট্রাক্টর মোঃ শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা বিএম ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আলী সোহাল জুয়েল, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার মন্ডল, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ তৌহিদুজ্জামান।

অবসরজনিত বিদায় সিনিয়র উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা পরিমল কুমার দাস ও উপজেলা সহকারি পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান সবাইকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।

 

Ads small one

পাকিস্তানের ৪ উইকেট তুলে প্রথম সেশন বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের ৪ উইকেট তুলে প্রথম সেশন বাংলাদেশের

দ্বিতীয় টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৩০ ওভারে ৯৬/৪ (সালমান ৬*, বাবর ৩৭*; ফজল ৯, আওয়াইজ ১৩, শান ২১, শাকিল ৮)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০ ( শরিফুল ১২*; মাহদুমুল ০, তানজিদ ২৬, মুমিনুল ২২, শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩, মিরাজ ৪, তাইজুল ১৬, তাসকিন ৭, লিটন ১২৬, নাহিদ ০)

দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের পেসারদের সামনে কঠিন পরীক্ষায় পড়েছে পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের দুই উইকেট শিকারে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় তারা। সকালের শুরুতে দুই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠিয়ে পাকিস্তানকে বিপদে ফেলেন তাসকিন। তার পর শান মাসুদকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন বাবর আজম। সেই জুটিও স্থায়ী হতে দেননি মিরাজ। প্রথম ঘণ্টাতে তার আঘাতে সাজঘরে ফেরেন শান। মিরাজের চতুর্থ উইকেটের দেখা পেতেও সময় লাগেনি। এবার তার শিকার হন সৌদ শাকিল। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে এই ছিল বাংলাদেশের বোলিং দাপটের চিত্র। প্রথম সেশনেই পাকিস্তানের ৪ উইকেট তুলে তাদের চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৯৬ রান। তারা পিছিয়ে ১৮২ রানে।

এক প্রান্ত আগলে রেখে বেশ দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন বাবর আজম। অপরাজিত আছেন ৩৭ রানে। কিন্তু ম্যাচে টিকে থাকতে হলে পাকিস্তানের দরকার বড় একটি জুটি।

মিরাজের আঘাত, এবার আউট শাকিল

শানের আউটের পর চতুর্থ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করছিলেন বাবর আজম ও সৌদ শাকিল। এই জুটিও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হয়েছেন সৌদ শাকিল (৮)। এই জুটিতে যোগ হয়েছে ১৮ রান।

শানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন মিরাজ

২৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ। কিন্তু তাদের জুটিকে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৬.২ ওভারে মাসুদকে তালুবন্দি করান তিনি। তাতে ভেঙেছে ৩৮ রানের জুটি। শান মাসুদ ২৬ বলে ২১ রানে আউট হয়েছেন।

তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার ওপেনার আওয়াইজ

দিনের দ্বিতীয় ওভারে আঘাত করে এক ওভার পর আবারও আঘাত হেনেছেন তাসকিন আহমেদ। এবার তার শিকার হয়েছেন আরেক ওপেনার আজান আওয়াইজ। বল ব্যাটের কানায় লেগে প্যাডে লেগে উঠে যায় বাতাসে। তখন সেটি তালুবন্দি করেন মুমিনুল হক। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা আজান এদিন ফেরেন ১৩ রানে।

দিনের দ্বিতীয় ওভারেই তাসকিনের সাফল্য

লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটা ছিল বাংলাদেশের। শুরুর বিপর্যয় ছাপিয়ে পরে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছেন তিনি। তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশ ইনিংসে সুবিধাজনক জায়গায় যেতে পেরেছে। দিনের সবচেয়ে আলোচিত ১২৬ রানের ইনিংসটি খেলেছেন তিনি। তার ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৭৮ রানে। পরে পাকিস্তান বিনা উইকেটে ২১ রানে প্রথম দিন শেষ করে। সেই অবস্থান থেকে আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করলে দিনের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হেনেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ৭.৩ ওভারে তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল (৮)।

 

বিকেলে দেশে ফিরছে কারিনার মরদেহ, রাতে শেষ জানাযা শহীদ মিনারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
বিকেলে দেশে ফিরছে কারিনার মরদেহ, রাতে শেষ জানাযা শহীদ মিনারে

কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার–এর মরদেহ আজ (১৭ মে) বিকেলে দেশে পৌঁছাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল ৫টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস–এর একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হবে।

কারিনার বাবা, দেশের সাবেক ফুটবল অধিনায়ক কায়সার হামিদ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আজ বাদ মাগরিব প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৭টায় বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে। দ্বিতীয় জানাজা হবে রাত ৮টায় বনানী দরবার শরিফ মসজিদে।

এরপর তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে ভক্ত, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৮ মে ফজরের পর সকাল ৭টায় আব্দুল্লাপুর, গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জে চতুর্থ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

কারিনার মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে তাকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কার্গো ফি মওকুফ করেছে। কৃতজ্ঞ হয়ে সহযোগিতা করেছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কারিনা কায়সার গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের চেন্নাই–এর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চেন্নাইয়ে গিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

তার অকাল মৃত্যুতে দেশের শোবিজ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। সামাজিক মাধ্যমে সহকর্মী, তারকা ও শুভানুধ্যায়ীরা তাকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

১১৫ দিন ক্লাস করেই বসতে হবে আগামী এসএসসিতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
১১৫ দিন ক্লাস করেই বসতে হবে আগামী এসএসসিতে

আগামী ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা ক্যালেন্ডার হিসাব করে দেখা গেছে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চলতি বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত বাকি সাড়ে ৭ মাসে মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণি পাঠদানের (ক্লাস) সুযোগ পাবে মাত্র ১১৫ দিন। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষ করে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হবে— তা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

শিক্ষা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৪ মে থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বছরের বাকি থাকে ২৩০ দিন। এর মধ্যে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে ৭০ দিন। এছাড়া ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি ১২ দিন, আশুরা একদিন (শুক্রবার), আষাঢ়ি পূর্ণিমা একদিন, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস একদিন, আখেরি চাহার সোম্বা একদিন, ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী একদিন, জন্মাষ্টমী একদিন, ফাতেহা-ই-ইয়াজ দাহম একদিন, মধু পূর্ণিমা একদিন, মহালয়া একদিন, ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর দুর্গাপূজা ৫ দিন, ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা একদিন, নভেম্বর শ্যামাপূজার একদিনসহ মোট ছুটি আছে ২৮ দিন।

অর্থাৎ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটি ২৮ দিন এবং সাপ্তাহিক ছুটি ৭০ দিন মিলিয়ে মোট ছুটি ৯৮ দিন। তবে সাপ্তাহিক ছুটির ভেতর কিছু সরকারি ছুটি পড়ে যাওয়ায় মোট ছুটির দিন দাঁড়ায় ৯১ দিন।

২৩০ দিন থেকে ৯১ দিন বাদ দিলে সেশন থাকে ১৩৯ দিন। এর মধ্যে অর্ধবার্ষিক, বার্ষিক, প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার কারণে আরও ২৪ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাস করার জন্য অবশিষ্ট থাকছে মাত্র ১১৫ দিন।

পরীক্ষা এগিয়ে আনার এই সিদ্ধান্তে অনেক অভিভাবকই উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, পরীক্ষা যদি প্রথাগতভাবে ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা যেতো, তবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য আরও কিছুটা সময় পেতো। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণ করা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

শ্রেণিপাঠ ব্যাহত হওয়ার নেপথ্যে

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গত বছরেও নানা কারণে শ্রেণিপাঠ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাস দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পড়ালেখা ব্যাহত হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের শুরুতেও সময়মতো পাঠ্যবই হাতে না পাওয়া এবং জাতীয় নির্বাচনের ছুটির কারণে ক্লাস ঠিকমতো হয়নি। ফলে জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত যে পরিমাণ সিলেবাস শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা সম্ভব হয়নি।

‘তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত, বাড়বে কোচিংয়ের নির্ভরতা’

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী প্রধান ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী সরকারের সময় বাঁচানোর সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানালেও মাঠের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীর বাইরে চর বা হাওর অঞ্চলের স্কুলগুলোর এই সময়ে সিলেবাস শেষ করার মতো প্রস্তুতি কতটুকু, তা ভাবা দরকার ছিল। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর অহেতুক মানসিক চাপ তৈরি হবে।’

তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘শ্রেণিকক্ষে পঠন-পাঠনের মান এমনিতেই ঘাটতিতে রয়েছে, তার ওপর সময় কমে যাওয়ায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের কোচিং ও প্রাইভেটের দিকে ঠেলে দেবেন।’ এই বাণিজ্য রুখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে শিক্ষকদের কোচিং করানো বন্ধে হাইকোর্টের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

সিলেবাস শেষ হওয়া নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরীক্ষার্থীরা গত বছর যখন নবম শ্রেণিতে উঠেছিল, তখনই তারা অসংখ্য ক্লাস মিস করেছে। সাধারণত নবম শ্রেণিতে ওঠার পর নতুন সিলেবাস ও কঠিন পাঠ্যপুস্তকের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর এমনিতেই একটি বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হয়।’

তিনি পূর্বের ঘাটতিগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘২০২৫ সালের প্রথম দুই মাস (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) দেশে প্রায় কোনও পড়াশোনাই হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ছুটিছাটা ও আন্দোলনের কারণে দফায় দফায় স্কুল বন্ধ থেকেছে। পূর্বের এই বিশাল শিখন ঘাটতি বহাল থাকা অবস্থায় বছরের বাকি সময়ে মাত্র ১১৫ দিন ক্লাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষ করবে, তা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।’

স্কুলে মনিটরিং বাড়ানো, পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার ও নমনীয়তার প্রস্তাব

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ মনে করেন, এক বছরের মধ্যেই সবকিছু মেশিনের মতো রুটিনে আনার কোনও প্রয়োজন ছিল না। এই বছর কিছুটা নমনীয় হয়ে পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি বা মার্চে নেওয়া যেতো।

পাবলিক পরীক্ষার সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসিতে সব বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ও-লেভেলের মতো বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো প্রধান ৫টি বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা সম্ভব। এতে মেধা যাচাইয়ে কোনও তফাত হবে না। বাকি বিষয়গুলোর মূল্যায়ন স্কুলেই ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও অর্ধবার্ষিক-বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকরা করতে পারেন। একই সঙ্গে ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) পরীক্ষাও বোর্ড থেকে বাদ দিয়ে স্কুলেই রাখা উচিত।’ তিনি শিক্ষাবর্ষকে জানুয়ারি-ডিসেম্বরের বদলে উচ্চশিক্ষার মতো জুলাই-আগস্ট থেকে শুরু করারও পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রথমত স্কুলেই পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং বা নজরদারি বাড়াতে হবে। পাবলিক পরীক্ষা হলো মেধা যাচাইয়ের সামগ্রিক একটি নির্দেশক (ইন্ডিকেটর), তাই এর গুরুত্ব অবশ্যই থাকবে।

সদিচ্ছা থাকলে সম্ভব, প্রয়োজন রেমিডিয়াল ক্লাস

শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যে সময় নষ্ট হয়, তা একটি সিস্টেম লস। সদিচ্ছা ও যথাযথ প্রচেষ্টা থাকলে এই সময়ের মধ্যেও সিলেবাস শেষ করা সম্ভব।’

তবে শিখন ঘাটতির ঝুঁকির কথা স্বীকার করে তিনি কিছু অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার সুপারিশ করেন—

প্রি-টেস্ট পরীক্ষা এগিয়ে আনা: কে এম এনামুল হকের মতে, প্রি-টেস্টে পরীক্ষার পর টেস্ট পরীক্ষা পর্যন্ত এক ধরনের বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশেষ উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়। টেস্ট পরীক্ষার পর বিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলনামূলক কম থাকে। সেই সময় শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রস্তুতি, পারিবারিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও গাইড বইয়ের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এই নতুন ঘোষণা সিলেবাস শেষ করা খুব বড় অনুষঙ্গ হবে না। তবে বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পর ব্যক্তিগত প্রস্তুতির জায়গায় সংকোচন হবে। ফলে গাইড বই, নোট বই ব্যবহার প্রাইভেট টিউশনের মতো বাণিজ্যিক উদ্যোগগুলোর প্রভাব তুলনামূলক কম থাকবে।

কন্টাক্ট আওয়ার বাড়ানো: দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা করে ক্লাসের সময় বাড়িয়ে দেওয়া অথবা প্রয়োজনে সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে কন্টাক্ট আওয়ার বাড়ানো।

রেমিডিয়াল লার্নিং: কোভিডকালীন সময়ের মতো পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিখন কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা।

দুর্যোগকালীন পরিকল্পনা: জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে বন্যা বা অতিবৃষ্টির কারণে যেসব অঞ্চলে পাঠদান বন্ধ থাকে, সেখানে প্রতিদিন ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া।