শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গায় নদীভাঙন তীব্র, দ্রুত ব্যবস্থার নির্দেশ ডিসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গায় নদীভাঙন তীব্র, দ্রুত ব্যবস্থার নির্দেশ ডিসির

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন নদীবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করতে সোমবার দুপুরে এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার। পরিদর্শন শেষে তিনি বাঁধ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খোলপেটুয়া নদীর তীব্র স্রোতে গোয়ালডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন বেড়িবাঁধের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের জনপদ ও বাজার এখন ঝুঁকির মুখে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের আশ্বস্ত করেন। এ সময় তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত ইউপি প্রশাসক আক্তার ফারুক বিল্লাল, বাজার কমিটির সভাপতি মহির উদ্দিন ফকির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আব্দুল ওয়াবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পরিষদের দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাই, গ্রাম পুলিশের কার্যক্রম এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু, সদর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম হোসেনুজ্জামান এবং আশাশুনি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। পরে জেলা প্রশাসক উপজেলা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় এবং ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাগিদ দেন।

Ads small one

তহশীল অফিস: নাগরিকের আরও কাছে পৌঁছাতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
তহশীল অফিস: নাগরিকের আরও কাছে পৌঁছাতে হবে

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে এমন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম তহশীল অফিস, যেখানে মানুষ আনন্দ নিয়ে নয়, প্রয়োজনের তাগিদে যায়। জমির খাজনা পরিশোধ, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান সংক্রান্ত তথ্য, রেকর্ড সংশোধন কিংবা জমির মালিকানা সংক্রান্ত নানা কাজে সাধারণ মানুষকে এই অফিসের দ্বারস্থ হতে হয়। ভূমি মানুষের জীবনের সঙ্গে, জীবিকার সঙ্গে এবং অস্তিত্বের সঙ্গে ও তপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ভূমি-সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা মানুষের জন্য কেবল প্রশাসনিক জটিলতা নয়, এটি মানসিক উদ্বেগ ও নিরাপত্তা হীনতারও কারণ। অথচ যে প্রতিষ্ঠানটি মানুষের এই উদ্বেগ দূর করার কথা, দেশের বহু স্থানে সেই তহশীল অফিসই আজ সাধারণ মানুষের কাছে কান্না, দীর্ঘশ্বাস ও হতাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

 

একজন কৃষক সকালবেলা বাড়ি থেকে বের হন খাজনা দিতে। একজন বৃদ্ধা নারী স্বামীর রেখে যাওয়া জমির কাগজপত্র ঠিক করতে আসেন। একজন দিনমজুর নিজের সামান্য ভিটেমাটির রেকর্ড হালনাগাদ করার জন্য অফিসে আসেন। তাদের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তারা শুধু চান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ও সঠিক সেবা পেতে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি সাধারণ কাজের জন্য দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। কখনো কর্মকর্তা নেই, কখনো প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকা স্পষ্ট নয়, কখনো আবার ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরছে। ফলে একটি ছোট কাজও হয়ে ওঠে বড় ভোগান্তির কারণ।

 

গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে তহশীল অফিস মানেই যেন অনিশ্চয়তার এক দীর্ঘ করিডোর। সকালে গিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসতে হয়, তবুও কাজ সম্পন্ন হয় না। এতে শুধু সময়ের অপচয় হয় না, অর্থনৈতিক ক্ষতিও হয়। একজন কৃষক বা দিনমজুরের জন্য একটি কর্মদিবসের মূল্য অনেক। অফিসে আসার কারণে তার সেদিনের আয় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সরকারি সেবা নিতে গিয়েই তাকে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তহশীল অফিসকে ঘিরে গড়ে ওঠা দালালচক্র।

 

দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কিছু মধ্যস্বত্বভোগী অফিসের আশপাশে অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তারা বোঝায় যে তাদের সাহায্য ছাড়া কোনো কাজ হবে না। অনেক ক্ষেত্রে সেবাপ্রার্থীরা ভয়, অজ্ঞতা বা দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। এতে একদিকে জনগণের অর্থ অপচয় হয়, অন্যদিকে সরকারি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়।

 

আরও দুঃখজনক হলো, বিভিন্ন সময়ে কিছু অসাধু তহশীলদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও উঠে আসে। সরকারি ফি নির্ধারিত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। খাজনা গ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ প্রদান, জমির নথিপত্র যাচাই কিংবা বিভিন্ন কাগজপত্র দ্রুত সরবরাহের ক্ষেত্রে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। অনেকেই বলেন, সরকারি ফি দেওয়ার পরও কাজের গতি বাড়াতে আলাদা অর্থ খরচ করতে হয়। যদিও সবাই এমন নয়, তবে কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকা- পুরো প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

 

এই অনৈতিক লেনদেনের সবচেয়ে বড় শিকার দরিদ্র মানুষ। একজন কৃষক, একজন বিধবা নারী কিংবা একজন বয়স্ক মানুষ যখন নিজের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন, তখন তা শুধু দুর্নীতি নয়; এটি তার নাগরিক অধিকারের ওপরও আঘাত। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক মানুষের মধ্যে এমন ধারণা জন্মেছে যে ‘টাকা ছাড়া সরকারি অফিসে কাজ হয় না।’ এই ধারণা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে উন্নয়নের প্রকৃত সুফলও ম্লান হয়ে যায়। তবে সমস্যার সব দায় শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও ন্যায়সঙ্গত হবে না।

 

বাস্তবতা হলো, অনেক তহশীল অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে বিপুলসংখ্যক মানুষের সেবা দিতে হয়। অনেক অফিসে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, বসার জায়গা নেই, প্রযুক্তিগত সুবিধা সীমিত। ফলে সেবার গতি ব্যাহত হয়। কিন্তু জনবল সংকট কিংবা অবকাঠামোগত দুর্বলতা কোনোভাবেই দুর্ব্যবহার, হয়রানি কিংবা অনিয়মের অজুহাত হতে পারে না। গত কয়েক বছরে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ই-নামজারি, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণসহ বিভিন্ন আধুনিক সেবা চালু হয়েছে।

 

এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু গ্রামীণ বাস্তবতায় এখনো অনেক মানুষ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। ফলে তাদের সরাসরি অফিসে যেতে হয়। আর সেখানেই যদি তারা হয়রানির শিকার হন, তাহলে ডিজিটাল উদ্যোগের সুফল পূর্ণমাত্রায় পৌঁছায় না। ভূমি নিয়ে বিরোধ বাংলাদেশের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা। পারিবারিক কলহ, দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমা, এমনকি অনেক সহিংস ঘটনার পেছনেও জমি-সংক্রান্ত জটিলতা কাজ করে।

 

এই অবস্থায় তহশীল অফিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক তথ্য, স্বচ্ছ নথিপত্র এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা গেলে অনেক বিরোধেরই প্রাথমিক সমাধান সম্ভব। কিন্তু যখন সেখানে অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম দেখা দেয়, তখন সমস্যার গভীরতা আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু বড় বড় সেতু, মহাসড়ক কিংবা দালানকোঠা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা সহজে ও সম্মানের সঙ্গে পায়। একজন কৃষকের কাছে রাষ্ট্রের মুখ হলো তহশীল অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল কিংবা থানা। সেখানে যদি তিনি ভালো ব্যবহার পান, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি তার আস্থা বাড়ে।

 

আর যদি অবহেলা ও হয়রানির শিকার হন, তাহলে তার মনে ক্ষোভ জন্মায়। তাই সময় এসেছে তহশীল অফিসকে ঘিরে বিদ্যমান সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার। প্রতিটি অফিসে সেবার ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়মিত মনিটরিং, আকস্মিক পরিদর্শন এবং কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে।

 

একই সঙ্গে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে হবে, যাতে জনগণ প্রকৃত সেবা পায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। একজন মানুষ যখন কোনো সমস্যার সমাধানের আশায় অফিসে আসেন, তখন তাকে সম্মান দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি হাসিমুখ, একটি সঠিক দিকনির্দেশনা কিংবা একটি আন্তরিক আচরণ অনেক বড় সমস্যার সমাধান করতে পারে। তহশীল অফিস কোনো কান্নার আতুরঘর হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

 

এটি মানুষের সেবা, আস্থা ও ন্যায়বিচারের কেন্দ্র হওয়ার কথা। কিন্তু যখন মানুষ সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, দালালচক্র ও অনৈতিক লেনদেনের শিকার হয়, তখন সেই অফিস কান্নার আতুরঘরে পরিণত হয়। তাই এখনই সময় এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের। তহশীল অফিসকে জনগণের ভোগান্তির প্রতীক নয়, বরং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত করতে হবে।

 

যেদিন একজন কৃষক, একজন বিধবা নারী কিংবা একজন সাধারণ নাগরিক কোনো ভয়, অনিশ্চয়তা বা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই তহশীল অফিস থেকে সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট মনে বাড়ি ফিরতে পারবেন, সেদিনই বলা যাবেÑতহশীল অফিস আর কান্নার আতুরঘর নয়; এটি সত্যিকার অর্থে জনগণের সেবার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। তখনই ভূমি প্রশাসনের প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরে আসবে, আর রাষ্ট্রও তার নাগরিকের আরও কাছে পৌঁছে যাবে।

লেখক: সাংবাদিক

 

১০ মহরম ত্যাগ, ন্যায় ও মানবতার এক অবিনশ্বর ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
১০ মহরম ত্যাগ, ন্যায় ও মানবতার এক অবিনশ্বর ইতিহাস

এম.এম হায়দার আলী

ইসলামের ইতিহাসে ১০ মহরম বা আশুরা এমন একটি দিন, যা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে গভীর শোক, আত্মত্যাগ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে চিরস্মরণীয়। ৬১ হিজরির ১০ মহরম (১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) ইরাকের কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অল্পসংখ্যক সঙ্গীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে শাহাদাত বরণ করেন। ইতিহাসে এই ঘটনাই “কারবালার ট্র্যাজেডি” নামে পরিচিত।

কারবালার ঘটনা কেবল একটি যুদ্ধের ইতিহাস নয়; এটি অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়ের প্রতীক। সংখ্যায় অল্প হলেও ইমাম হুসাইন (রা.) আপোষ করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার চেয়ে সত্যের পথে জীবন উৎসর্গ করা অধিক মর্যাদার। সে সময় মুসলিম বিশ্বের শাসক ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণের জন্য ইমাম হুসাইন (রা.)-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু তিনি মনে করতেন, অন্যায় ও অবিচারের সঙ্গে আপস করা ইসলামের মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী। তাই তিনি মদিনা থেকে মক্কা এবং পরে কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

 

পথে কারবালায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে অবরুদ্ধ করা হয়। ইতিহাস বর্ণনা করে, টানা কয়েক দিন ফোরাত নদীর পানি থেকেও তাঁদের বঞ্চিত রাখা হয়। তীব্র তৃষ্ণা, অনাহার ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা সত্যের পথ থেকে সরে আসেননি। অবশেষে ১০ মহরম তিনি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং বিশ্বস্ত সঙ্গীরা একে একে শাহাদাত বরণ করেন। এই নির্মম ঘটনার স্মৃতি আজও বিশ্ব মুসলিমকে শোকাহত করে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আশুরার দিনকে বিভিন্নভাবে স্মরণ করেন। অনেকে রোজা রাখেন, দোয়া ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেন এবং কারবালার শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।

 

ইসলামি ঐতিহ্যে সহিহ হাদিসে বর্ণিত রয়েছে যে, আশুরার রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা রাখতেন এবং পরবর্তীতে ৯ ও ১০ মহরম অথবা ১০ ও ১১ মহরম রোজা রাখার উৎসাহ দিয়েছেন, যাতে অন্য ধর্মাবলম্বীদের রীতি থেকে ভিন্নতা বজায় থাকে।

কারবালার শিক্ষা আজও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়ানো, সত্যকে আঁকড়ে ধরা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার যে আদর্শ ইমাম হুসাইন (রা.) রেখে গেছেন, তা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে। ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে নীতিকে বিসর্জন না দেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ কারবালার ঘটনা। বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, সংঘাত, বৈষম্য, দুর্নীতি ও অবিচার নানা রূপে মানব সমাজকে বিপর্যস্ত করছে, তখন কারবালার বার্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকাই একজন মানুষের সর্বোচ্চ মর্যাদা।

 

১০ মহরম তাই শুধু শোকের দিন নয়; এটি আত্মত্যাগ, নৈতিকতা, ধৈর্য, সাহস ও মানবতার এক চিরন্তন প্রেরণার দিন। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন এক আলোকবর্তিকা, যা অন্যায়ের অন্ধকারে ন্যায়ের পথ দেখিয়ে যাবে অনন্তকাল এমনটি আশা আমি অধমের।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
মোবাইলঃ ০১৯৭৯ ১৩৬০৯৮

 

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেলেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান আব্দুল হালিম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেলেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান আব্দুল হালিম

সংবাদদাতা: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)-এ পুলিশ অফিসার থেকে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম। তার এই অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি, সাতক্ষীরাবাসী এবং স্বজনদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৭ জুন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সদর দপ্তরের পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সার্জেন্ট পদমর্যাদার সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বের গুণাবলীর স্বীকৃতিস্বরূপ আব্দুল হালিমকে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “প্রথমত আমি একজন বাঙালি, একজন বাংলাদেশি এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের সন্তান হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ্বাস করি।”

মো. আব্দুল হালিম সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মরহুম শওকাত আলী গাজী এবং মা রোকেয়া বেগম। এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি সরকারি বিএল কলেজ, খুলনায় অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে স্নাতক এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা অর্জন করেন। ২০১১ সালে তিনি এনওয়াইপিডিতে ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০১৫ সালে পুলিশ অফিসার হিসেবে যোগ দিয়ে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সার্জেন্ট পদে উন্নীত হলেন।

বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক অভিনন্দন বার্তায় জানায়, আব্দুল হালিমের এই পদোন্নতি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সমগ্র বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তার সাফল্য নতুন প্রজন্মকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যোগদানে উৎসাহিত করবে।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি আব্দুল হালিম নিজ এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলেছেন।

তার পদোন্নতির খবরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদ ও মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিল এবং মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়। পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা প্রকাশ করেছেন, কর্মদক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আব্দুল হালিম ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও সাতক্ষীরার সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।