শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আসামি গ্রেপ্তার হলেও উদ্ধার হয়নি ববির কোটি টাকার স্বর্ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
আসামি গ্রেপ্তার হলেও উদ্ধার হয়নি ববির কোটি টাকার স্বর্ণ

চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় আসামি ফয়সাল হোসেন ফারুক (৩৫) ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। এদিকে আসামি গ্রেপ্তার হলেও ৩০ থেকে ৩৫ ভরি স্বর্ণের থেকে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৪ ভরি স্বর্ণ।

বিষয়টি নিয়ে ববি বলেন, চোরকে সাধারণ চোর ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এরা সংঘবদ্ধ, পরিকল্পিত এবং পেশাদার অপরাধী। মানুষের ঘাম ঝরানো কষ্টার্জিত সম্পদ মুহূর্তের মধ্যে লুট করে নিয়ে যায়, আর রেখে যায় অসহায়ত্ব, নিরাপত্তাহীনতা ও অসীম কষ্ট।

নায়িকার ভাষ্য, ঈদের আনন্দ আমার জীবনে গভীর কষ্ট হয়ে এসেছে। ঈদের মাত্র দুই দিন আগে আমার বাসার জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে। আমার বাবার ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে দেওয়া প্রায় ৩০–৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং বেশ কয়েকটি মূল্যবান ঘড়ি চুরি হয়ে যায়। শুধু সম্পদ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অসংখ্য স্মৃতি, আবেগ এবং পরিবারের ভালোবাসা।

ববি বলেন, আল্লাহর রহমতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আসামি ফারুক ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে এখনও আমার অধিকাংশ সম্পদ উদ্ধার হয়নি।

তিনি বলেন, আমি সবার কাছে দোয়া চাই, যেন বাকি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিস দ্রুত উদ্ধার হয় এবং যারা এই অন্যায় করেছে তারা যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হয়। জীবনে অর্থের চেয়ে স্মৃতির মূল্য অনেক বেশি। বাবার দেওয়া সেই স্মৃতিগুলো হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

গত ২৭ মে ববি বাসায় এসে দেখতে পান তার বেডরুমের ৩টি আলমারির মধ্যে ১টি আলমারি খোলা। তখন তিনি আরও ভালোভাবে খেয়াল করে দেখতে পায় যে, বেডরুমের জানালা ও বারান্দার ২টি গ্রিল কাটা। এরপর তিনি খুঁজে দেখেন তার বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি হয়েছে।

চুরি হওয়া মালামালের তালিকায় রয়েছে, স্বর্ণের চুড়ি ৫ জোড়া (মূল্য ৩০ লাখ টাকা), স্বর্ণের কানের দুল ৭ জোড়া (মূল্য ১০ লাখ টাকা), স্বর্ণের নেকলেস ৩টি (মূল্য তিন লাখ টাকা), স্বর্ণের লকেট ৮টি (মূল্য দুই লাখ টাকা), স্বর্ণের চেন ১২টি (মূল্য অনুমান ২৮ লাখ টাকা), ডায়মন্ডের নাকফুল ৭টি (মূল্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা), বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি ৫টি, বাজারমূল্য চার লাখ ২০ হাজার টাকা এবং নগদ ছয় লাখ টাকা। সবমিলিয়ে ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন রোধে চাই কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন রোধে চাই কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার অজুহাতে দেশে আশঙ্কাজনক হারে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদেরা দেশের সবুজ আচ্ছাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ার যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তা আমাদের পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর এক মারাত্মক নেতিবাচক বার্তা দেয়। এই বাস্তবতায় দেশে নির্বিচারে গাছ কাটা রোধে একটি ‘জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার যে দাবি তাঁরা জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এর দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।
উত্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষনিধনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এই সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ২ শতাংশ কম এবং এটি সচেতনতা বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে, তবুও প্রতিবছর হাজার হাজার পরিপক্ব গাছ এভাবে কেটে ফেলা কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে জেলাভিত্তিক হিসাবে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার বৃক্ষনিধনের তথ্য পরিবেশগত সুরক্ষাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কক্সবাজারের মতো সংবেদনশীল ও পর্যটন এলাকায় এত বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার খেসারত আগামী দিনে ওই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পাহাড় সুরক্ষায় মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আমরা প্রায়ই দেখি, রাস্তা সম্প্রসারণ কিংবা অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কোনো বিকল্প ভাবনা ছাড়াই শতবর্ষী ও ছায়াসুনিবিড় গাছগুলো সবার আগে কেটে ফেলা হয়। আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতার অভাবে এই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, মাঠপর্যায়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃক্ষনিধনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাটিক্ষয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং সামগ্রিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তীব্র তাপপ্রবাহের মাধ্যমে আমরা টের পাচ্ছি।
সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে নতুন গাছ লাগানোর চেয়ে বিদ্যমান বড় ও পরিণত গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর। বন আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, টেকসই কৃষিবনায়ন সম্প্রসারণ এবং নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন বা স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী তদারকি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জলবায়ু সংকটের এই বর্তমান বাস্তবতায় শুধু উৎসব করে গাছ লাগালেই চলবে না, বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সবুজ আচ্ছাদন ও বনাঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। আমরা আশা করি, পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের দাবি আমলে নিয়ে সরকার অনতিবিলম্বে একটি কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং বনের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও তদারকি নিশ্চিত করে পরিবেশ রক্ষায় কঠোর ভূমিকা পালন করবে।

বুধহাটা বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
বুধহাটা বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজার এলাকায় ড্রেনেজ সমস্যার কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ লাঘবে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে আসার পর সাতক্ষীরা জজকোর্টের এপিপি ও আশাশুনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম নিজস্ব লোকবল নিয়ে ভেঙে পড়া ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পানি চলাচলের সাময়িক ব্যবস্থা করায় বাজারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তি কিছুটা কমেছে।

স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, বুধহাটা বাজারের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুন ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কার করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। হঠাৎ করে নেওয়া এই কার্যকর উদ্যোগের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কয়রায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু, শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
কয়রায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু, শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শিমলারআইট গ্রামে চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত এছার আলী সরদার (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে এছার আলীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ সময় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা আব্দুল হালিম সরদারকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত দাবি করে তাঁর ফাঁসির দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমান, হাফেজ মো. দিদারুল ইসলাম, হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিলসহ কয়েক শ নারী-পুরুষ অংশ নেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলাচলের একটি পথের জমিকে কেন্দ্র করে শামছুর সরদার ও তাঁর ছেলে আব্দুল হালিম সরদারের সঙ্গে এছার আলী সরদার পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৩১ মে ওই জমিতে উভয় পক্ষ অবস্থান নিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে এছার আলী সরদারসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষই কয়রা থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ থানায় মামলা করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এছার আলী সরদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় এখন মামলায় হত্যার ধারা সংযুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।