রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ভক্তদের এআই কাণ্ডে বিরক্ত কনকচাঁপা, বললেন ‘এভাবে চললে ফেসবুক ছাড়ব’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
ভক্তদের এআই কাণ্ডে বিরক্ত কনকচাঁপা, বললেন ‘এভাবে চললে ফেসবুক ছাড়ব’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নিজের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। এ ধরনের কাজ বন্ধ না হলে ফেসবুক ছেড়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে কনকচাঁপা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নিজের জীবনের নানা স্মৃতি, ভ্রমণ ও ছবি ভাগাভাগি করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি অনেকেই এআই ব্যবহার করে তার ছবি, এমনকি ভিডিওও তৈরি করছেন। কেউ নিছক আনন্দের জন্য, আবার কেউ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও এসব করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়ে কনকচাঁপা লেখেন, নিজের ইচ্ছা হলে তিনি নিজেই এআই ব্যবহার করবেন। কিন্তু অন্যরা কেন তার বাস্তব চেহারা বদলে দিচ্ছেন, সেটিই তার প্রশ্ন। তার ভাষায়, “বাস্তব আমাকে আর ভালো লাগছে না?”

সংগীতশিল্পীর মতে, এআই যত উন্নতই হোক, কখনোই একজন মানুষের প্রকৃত সত্তা তুলে ধরতে পারে না। বরং ছবিকে অতিরিক্ত ঝকঝকে করে তোলে, কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক চোখের দৃষ্টি হারিয়ে যায়। “একটা মানুষের আঙুলের ছাপ যেমন অনন্য, তেমনি চোখের দৃষ্টিও একদম নিজস্ব,” লিখেছেন তিনি।

নিজের চেহারা নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন কনকচাঁপা। তিনি লেখেন, “আমার থ্যাবড়ানো নাক, চওড়া চোয়াল, মোটা ঠোঁট, খাটো ঘাড় নিয়েই দিব্যি জীবন পার করে দিলাম। এতে যদি আমার মন খারাপ না হয়, তাহলে আপনাদের অসুবিধা কোথায়?”

তিনি আরও বলেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ছবি পুরোনো হবেই, সেটাই স্বাভাবিক। তাই পুরোনো ছবি এআই দিয়ে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “আল্লাহর চেয়ে বড় আর্টিস্ট আর কে আছেন!”

এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে কনকচাঁপা বলেন, এই প্রযুক্তি দিয়ে অনেক ভালো কাজ করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে এর বড় একটি ব্যবহার হয়ে উঠেছে মানুষের ছবি সম্পাদনা। বিশেষ করে এআই ভিডিওকে তিনি ‘ভয়ানক’ বলে মন্তব্য করেন। মৃত মানুষকে কথা বলতে দেখানোর বিষয়টিও তার কাছে অস্বস্তিকর।

পোস্টের শেষদিকে কনকচাঁপা জানান, জীবনে কখনো পার্লারে গিয়ে নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করেননি। বোটক্স, ভ্রু প্লাক, কৃত্রিম আইল্যাশ কিংবা হেয়ার এক্সটেনশনেরও আশ্রয় নেননি। তাই এআই দিয়ে বিকৃত করা নিজের উপস্থিতি তিনি দেখতে চান না।

সবশেষে তিনি সতর্ক করে লেখেন, “এমন চললে ফেসবুক ছেড়ে চলে যাব। অল্প কিছুদিন অস্থির লাগবে, তারপর ঠিক হয়ে যাবে। তবু দর্পণে নিজের বদলে অন্য কাউকে দেখতে চাই না। আমি ‘আমার আমি’কে খুবই ভালোবাসি।”

দেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠ কনকচাঁপা নব্বইয়ের দশক থেকে আধুনিক বাংলা গান ও চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে সমান জনপ্রিয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এবং সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন গানের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় তিনি। ব্যক্তিগত ভাবনা, সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু এবং সংগীতজীবনের নানা স্মৃতি নিয়মিতই ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন।

Ads small one

ফিফা সভাপতিকে ঢাকায় স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ফিফা সভাপতিকে ঢাকায় স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি

মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। রবিবার দুপুরের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

ভুটানে যাওয়ার পথে ঢাকাকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছেন ইনফান্তিনো। তার যাত্রাপথে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় ঢাকায় এই যাত্রাবিরতি।

এ সময় ঘণ্টাখানেক তারা বাংলাদেশ ও সামগ্রিক ফুটবল নিয়ে আলোচনা করেন। বাফুফে সহ-সভাপতি ও গভর্নমেন্ট রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি বলেন, ‘সভাপতি ও আমরা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলের নানা বিষয় তুলে ধরেছি। কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফিফার আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আশ্বাসও মিলেছে। ’

 

বিমানবন্দরে ইনফান্তিনোর ট্রানজিট সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেছিল বাফুফে।

তবে ফিফা সভাপতির বাংলাদেশে এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানায়নি দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এমনকি জাতীয় দল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা নিয়েও কোনও তথ্য জানানো হয়নি। অথচ নারায়ণগঞ্জে সম্ভাব্য ফুটবল অ্যাকাডেমির জন্য জায়গা পরিদর্শনের আগাম আমন্ত্রণপত্র প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছে বাফুফে।

বাফুফের মিডিয়া বিভাগে দুজন উচ্চ বেতনে কর্মরত থাকলেও সংস্থাটির গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ও তথ্য সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের একজন জাতীয় নারী দলের ম্যানেজার হিসেবে ভারতের গোয়ায় সাফে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন; তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আমিরুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে মিডিয়া কমিটি থাকলেও কার্যকারিতা নিয়ে আছে প্রশ্ন।

 

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক নাহিদা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক নাহিদা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। নিগার সুলতানার জায়গায় নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে নাহিদা আক্তারকে। তার সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সোবহানা মোস্তারি।

এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিগার সুলতানা। নিজের খেলায় আরও মনোযোগ দিতেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি। এর আগে ক্রিকবাজ জানিয়েছিল, নিগারের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন নাহিদা-ই।

ক্রিকবাজকে বিসিবির নারী বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচক প্যানেলের সদস্যদেরসহ অন্যদের সঙ্গে আমরা বসেছিলাম। এরপর টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব নাহিদার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সোবহানা মোস্তারি তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

নাহিদাকে দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই বলে মনে করছে বিসিবি। ২০২২ সালে নিগার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাহিদা।

রফিকুল বলেন, ‘নাহিদা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। এখন আমরা মনে করছি, টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়ার সঠিক সময় এসেছে।’

টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়লেও ওয়ানডেতে অধিনায়ক থাকছেন নিগার। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তার নেতৃত্বেই খেলেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ নারী দলের পরবর্তী সূচি আইসিসি উইমেন্স এমার্জিং নেশনস ট্রফি। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতায় আগামী ১২ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে দলটি।

 

ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল হচ্ছে: তাসকিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল হচ্ছে: তাসকিন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। অন্তত আবুধাবির ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে ২৭০ রান জয়ের মতো সংগ্রহই ছিল- এমনটা মনে করেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু ব্যাটাররা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেননি। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের বড় হারের পর ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের এই পেসার।

শনিবার শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অথচ বল হাতে ভালো শুরুর পর ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল তাদের সামনে। তাসকিন নিজে তিনটি উইকেটও নিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ের বেহাল দশায় সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যর্থতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে সর্বশেষ ১০ ইনিংসের আটটিতেই ২৪০ বা তার বেশি রান তাড়া করতে পারেনি দলটি। পূর্ণকালীন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তাওহীদ হৃদয়ের প্রথম ম্যাচেও সেই চিত্রের পরিবর্তন হয়নি। টুর্নামেন্ট থেকে চোটের কারণে ছিটকে গেছেন লিটন দাস। তবে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের অনুপস্থিতিকে হারের অজুহাত হিসেবে দেখাতে রাজি নন তাসকিন।

ম্যাচের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৭২ রান অবশ্যই তাড়া করা সম্ভব ছিল, অন্তত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।’

তাসকিনের মতে, একটি জুটি গড়তে পারলেই ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে ভালো খেলিনি। এই রান তাড়া করা উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা একটিও জুটি গড়তে পারিনি। একটি জুটি হলে ম্যাচটা বের করে আনতে পারতাম। কিন্তু ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল হচ্ছে।’

বোলিংয়ে কিছুটা ধারাবাহিকতা ফিরলেও ব্যাটিংয়ে সেই উন্নতি দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করেন তাসকিন। তার ভাষায়, ‘বোলিংয়ে অন্তত কিছুটা ধারাবাহিকতা এসেছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয়, এই ম্যাচটা আমাদের ব্যাটারদেরই জেতানো উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা পারেনি। তারপরও একটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি, আমরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারব এবং ফাইনালে খেলতে পারব।’