ভক্তদের এআই কাণ্ডে বিরক্ত কনকচাঁপা, বললেন ‘এভাবে চললে ফেসবুক ছাড়ব’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নিজের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। এ ধরনের কাজ বন্ধ না হলে ফেসবুক ছেড়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে কনকচাঁপা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নিজের জীবনের নানা স্মৃতি, ভ্রমণ ও ছবি ভাগাভাগি করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি অনেকেই এআই ব্যবহার করে তার ছবি, এমনকি ভিডিওও তৈরি করছেন। কেউ নিছক আনন্দের জন্য, আবার কেউ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও এসব করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়ে কনকচাঁপা লেখেন, নিজের ইচ্ছা হলে তিনি নিজেই এআই ব্যবহার করবেন। কিন্তু অন্যরা কেন তার বাস্তব চেহারা বদলে দিচ্ছেন, সেটিই তার প্রশ্ন। তার ভাষায়, “বাস্তব আমাকে আর ভালো লাগছে না?”
সংগীতশিল্পীর মতে, এআই যত উন্নতই হোক, কখনোই একজন মানুষের প্রকৃত সত্তা তুলে ধরতে পারে না। বরং ছবিকে অতিরিক্ত ঝকঝকে করে তোলে, কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক চোখের দৃষ্টি হারিয়ে যায়। “একটা মানুষের আঙুলের ছাপ যেমন অনন্য, তেমনি চোখের দৃষ্টিও একদম নিজস্ব,” লিখেছেন তিনি।
নিজের চেহারা নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন কনকচাঁপা। তিনি লেখেন, “আমার থ্যাবড়ানো নাক, চওড়া চোয়াল, মোটা ঠোঁট, খাটো ঘাড় নিয়েই দিব্যি জীবন পার করে দিলাম। এতে যদি আমার মন খারাপ না হয়, তাহলে আপনাদের অসুবিধা কোথায়?”
তিনি আরও বলেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ছবি পুরোনো হবেই, সেটাই স্বাভাবিক। তাই পুরোনো ছবি এআই দিয়ে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “আল্লাহর চেয়ে বড় আর্টিস্ট আর কে আছেন!”
এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে কনকচাঁপা বলেন, এই প্রযুক্তি দিয়ে অনেক ভালো কাজ করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে এর বড় একটি ব্যবহার হয়ে উঠেছে মানুষের ছবি সম্পাদনা। বিশেষ করে এআই ভিডিওকে তিনি ‘ভয়ানক’ বলে মন্তব্য করেন। মৃত মানুষকে কথা বলতে দেখানোর বিষয়টিও তার কাছে অস্বস্তিকর।
পোস্টের শেষদিকে কনকচাঁপা জানান, জীবনে কখনো পার্লারে গিয়ে নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করেননি। বোটক্স, ভ্রু প্লাক, কৃত্রিম আইল্যাশ কিংবা হেয়ার এক্সটেনশনেরও আশ্রয় নেননি। তাই এআই দিয়ে বিকৃত করা নিজের উপস্থিতি তিনি দেখতে চান না।
সবশেষে তিনি সতর্ক করে লেখেন, “এমন চললে ফেসবুক ছেড়ে চলে যাব। অল্প কিছুদিন অস্থির লাগবে, তারপর ঠিক হয়ে যাবে। তবু দর্পণে নিজের বদলে অন্য কাউকে দেখতে চাই না। আমি ‘আমার আমি’কে খুবই ভালোবাসি।”
দেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠ কনকচাঁপা নব্বইয়ের দশক থেকে আধুনিক বাংলা গান ও চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে সমান জনপ্রিয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এবং সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন গানের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় তিনি। ব্যক্তিগত ভাবনা, সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু এবং সংগীতজীবনের নানা স্মৃতি নিয়মিতই ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেন।












