বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ না করার আহ্বান সালমান খানের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ না করার আহ্বান সালমান খানের

 

ভারতে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে রাজপথে নামা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহসী ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করার পাশাপাশি এ প্রতিবাদকে কোনো রাজনৈতিক দল যাতে ‘হাইজ্যাক’ বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন এই তারকা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শৈশব ও স্কুলজীবনের একটি পুরোনো সাদাকালো ছবি শেয়ার করেন ৬০ বছর বয়সী এই অভিনেতা। ছবির সাথে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি প্রশ্নফাঁসকে একটি অত্যন্ত মারাত্মক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

 

সালমান খান লেখেন, “প্রশ্নফাঁস একটি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা, যা সরাসরি শিক্ষার্থী ও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের সাথে জড়িত। তাই এই আন্দোলনকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক রঙ দেওয়া বা স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এর সব কৃতিত্ব কেবল রাজপথে থাকা শিক্ষার্থীদেরই প্রাপ্য।”

প্রখ্যাত এই অভিনেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার অতি দ্রুত এই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এটিকে সবার জয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমি একটি ইতিবাচক সমাধানের অপেক্ষা করছি। যারা সত্যের সাথে শিক্ষিত হতে চায়, তাদের সবার জন্য রইল নিরন্তর শুভকামনা।”

পোস্টের শেষাংশে ভারতে বিশ্বমানের শিক্ষ পরিবেশ গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করে সালমান লেখেন, তিনি এমন একটি ভারত দেখতে চান যেখানে শিক্ষা একটি ইতিবাচক ‘ট্রেন্ডে’ পরিণত হবে এবং বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীরা ভারতে পড়াশোনা করতে আসবে।

উল্লেখ্য, ভারতের এই প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে এর আগেও আওয়াজ তুলেছেন ওমি বৈদ্য, জিনাত আমান, নাসিরউদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, অভয় দেওল, সোনাক্ষী সিনহা এবং রিতেশ দেশমুখের মতো প্রখ্যাত বলিউড তারকারা। তারা সবাই অহিংস ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন।

 

Ads small one

প্রতিটি শিক্ষার্থী ও প্রতিটি পরিবারকে বৃক্ষ রোপণ করতে হবে: জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
প্রতিটি শিক্ষার্থী ও প্রতিটি পরিবারকে বৃক্ষ রোপণ করতে হবে: জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

Oplus_131072

 

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ বলেছেন, “শিশুদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, তাদের সামাজিক ও মানবিক শিক্ষায়ও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর সারাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে সমন্বিতভাবে শিশুদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তা সফল করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী ও প্রতিটি পরিবার অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় দেবহাটা উপজেলার হাদীপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সুশীলন দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রামের বাস্তবায়নে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অর্থায়নে নিবন্ধিত ও কমিউনিটি শিশুদের পরিবারের মাঝে ফলজ গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাহেদ হোসেন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া রহমান।
সুশীলন দেবহাটা এরিয়া ম্যানেজার মামুন হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুশীলনের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কে. এম. রেজাউল করিম, হাদীপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার, হাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা পারভিন, সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার আসাদুজ্জামান রিপনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, শিশুদের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে এবং পরিবারভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্প্রসারণে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পুষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ নিবন্ধিত ও কমিউনিটি শিশুদের পরিবারের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা তুলে দেন এবং বিতরণকৃত চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।

হজ এজেন্সির ফাঁদে সর্বস্বান্ত হাজিরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
হজ এজেন্সির ফাঁদে সর্বস্বান্ত হাজিরা

সারা জীবনের সঞ্চয় আর আল্লাহর ঘর বা পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারতের স্বপ্ন বুকে নিয়ে হজে যান হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ। কিন্তু সেই পবিত্র যাত্রাই অনেকের জন্য পরিণত হচ্ছে প্রতারণা, হয়রানি ও আর্থিক শোষণের তিক্ত অভিজ্ঞতায়। উন্নত হোটেল, কাবার নিকটবর্তী আবাসন, মানসম্মত খাবার কিংবা কোরবানির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলেও বাস্তবে মিলছে না কাঙ্খিত সেবা। শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং কোরবানির নামে প্রতারণার মতো অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছে একাধিক হজ এজেন্সি।

চলতি ২০২৬ সালের হজ মৌসুমেও নানা অনিয়ম, শর্ত লঙ্ঘন এবং হজযাত্রীদের হয়রানির অভিযোগে অর্ধশতাধিক হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে একাধিক এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, আগামী ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে চার মাস আগেই হজের নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সরকার।

মন্ত্রণালয় ও হাব সূত্রে জানা গেছে, এজেন্সিগুলোর প্রতারণার ধরণ এখন বহুমুখী। সরকার নির্ধারিত প্যাকেজ মূল্যকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন কৌশলে হজযাত্রীপ্রতি ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে একাধিক চক্র। যেখানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর খরচ ৬,১৫,২৬৩ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর খরচ ৫,০৫,৬৪৮ টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ) এর খরচ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, প্যাকেজ-২ (সাধারণ) ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং প্যাকেজ-৩ (সাশ্রয়ী) খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মে ভুয়া এন্ট্রি, হোটেলের মান উন্নত করার মিথ্যা আশ্বাস এবং কোরবানির ভুয়া রসিদ দেখিয়ে শত শত হাজির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বেশ কিছু এজেন্সি। বিশেষ করে প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তর, চুক্তি অনুযায়ী এয়ার টিকিট না দিয়ে শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত খরচে টিকিট কাটতে বাধ্য করা এবং সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আবাসন ও খাবার না দেওয়ার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি।

তদন্তে দেখা গেছে, গ্রিন এভিয়েশন, এয়ার রয়্যাল অ্যাভিয়েশন, নর্দার্ন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, বাপারি এয়ার সার্ভিস এবং এয়ার স্টেশন ইন্টারন্যাশনালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো হজযাত্রীপ্রতি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে লিখিত জবাবের মুখে পড়েছে। প্রতারণার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও তিনটি অসাধু এজেন্সি বেআইনিভাবে হজযাত্রীদের প্রায় ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে চম্পট দিয়েছে। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয় তাদের চাপ দিয়ে এই অর্থ উদ্ধার এবং ভুক্তভোগীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। একইভাবে আনসারি ওভারসিজ, রিলেশন ট্রাভেলস এবং নর্দার্ন ট্যুরসের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত হাজিদের ক্ষতিপূরণ ও হজের সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১’ অনুযায়ী এসব এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

চলতি বছর হজের অন্যতম আলোচিত অনিয়ম ধরা পড়ে কোরবানির অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে। সৌদি সরকারের নিবন্ধিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বাইরে গিয়ে হাজিদের কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করা হলেও বাস্তবে কোনো কোরবানিই করা হয়নি। অনেক এজেন্সি আবার সাধারণ ছাগল কেনার ভুয়া রসিদ ধরিয়ে দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করে। এই গুরুতর অনিয়মে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে প্রত্যাশা ট্রাভেলস, দৈফুর রহমান ট্রাভেলস, গ্লোবাল ট্রাভেলস, মিডিয়া ট্রাভেলস এবং দারুল ইমান ইন্টারন্যাশনালকে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া লাগেজ হারানো, নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং অননুমোদিত উপায়ে টিকিট কেটে হাজিদের বিমানবন্দরে আটকে রাখার অপরাধে লাকি ট্রাভেলস ও খোয়াই এয়ার ট্রাভেলসের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতারণার শিকার হওয়া নারায়ণগঞ্জের হাজি মো. রফিকুল ইসলাম কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘পবিত্র হজ পালনের জন্য সারা জীবনের সঞ্চয় তুলে দিয়েছিলাম এজেন্সির হাতে। নির্ধারিত প্যাকেজের বাইরে ভালো হোটেল ও কাবা শরীফের কাছে আবাসনের কথা বলে আমার এবং আমার স্ত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। কিন্তু মক্কায় গিয়ে দেখি আমাদের রাখা হয়েছে জরাজীর্ণ এক বাসায়, যেখানে পানি ও এয়ারকন্ডিশনার ঠিকমতো চলত না। কোরবানি বাবদ আলাদা ৩৫ হাজার টাকা নিয়েও আমাদের ভুয়া রসিদ দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা এই প্রতারক এজেন্সিগুলোর মালিকদের ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

একইভাবে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা হাজি আবদুল মালেক বলেন, ‘আামদের এজেন্সি শেষ মুহূর্তে বলে ফ্লাইট মিস হবে, তাই নতুন করে জনপ্রতি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা না দিলে ভিসা ও টিকিট হবে না। বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে টাকা দিয়েছি। সেখানে গিয়ে খাবারের যে কষ্ট পেয়েছি তা মুখে বলা যায় না। ধর্মকে ব্যবহার করে যারা মানুষের সাথে এমন প্রতারণা করে, তাদের লাইসেন্স চিরতরে বাতিল করা উচিত।’

তবে অভিযুক্ত একটি এজেন্সির সত্ত্বাধিকারী ও হজ এজেন্সি মালিক প্রতিনিধি আলহাজ্ব মো. কামরুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ইচ্ছা করে কোনো অনিয়ম করিনি। সৌদি আরবের নুসুক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সার্ভার জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে অনেক ডেটা এন্ট্রি আটকে যায়। এছাড়া স্থানীয় সৌদি মোয়াল্লেমরা সময়মতো আবাসন ও কোরবানির কুপন না দেওয়ায় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ এজেন্সি নিজেদের পকেট থেকে দিয়েছে। মন্ত্রণালয় যেসব শোকজ করেছে, তার বস্তুনিষ্ঠ ও দাপ্তরিক প্রমাণ আমরা জমা দেব।’

এ বিষয়ে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার দায় পুরো হাব নেবে না। যেসব এজেন্সি হাজিদের টাকা আত্মসাৎ করেছে বা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে আমরা তাদের বিচার চাই। তবে একই সাথে সরকারকে মনে রাখতে হবে সৌদির নতুন রোডম্যাপ ও আধুনিক কম্পিউটারাইজড ব্যবস্থার সাথে অনেক ছোট এজেন্সি এখনো অভ্যস্ত নয়। আমাদের দেশের প্রান্তিক মানুষ শেষ মুহূর্তে হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে আগাম নিবন্ধনের মানসিকতা তৈরিতে সরকারি প্রচার বাড়ানো দরকার। অসাধু এজেন্সি চিহ্নিত করার পাশাপাশি সৎ এজেন্সিগুলোকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।’

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও হজের স্বচ্ছতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, ‘হজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক রুকন। ইবাদতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া পরহেজগার মানুষদের ধোঁকা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া জঘন্যতম অপরাধ ও হারাম কাজ। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে হাজিদের পকেট কাটে, তারা ইহকাল ও পরকালে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী এদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া দরকার যাতে কেউ আর বায়তুল্লাহর মেহমানদের সাথে প্রতারণা করার সাহস না পায়।’

সুশাসনের দিকটি তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে হজ খাতে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে কেবল কার্যকর শাস্তির অভাবে। শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি বা সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়ে এই অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন’ প্রয়োগ করে প্রতারকদের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করতে হবে। এছাড়া সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগী হাজিদের অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং দুর্নীতিতে জড়িত সরকারি-বেসরকারি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এ বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদি সরকার পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে অনলাইন ই-ওয়ালেট ও সেন্ট্রাল ‘নুসুক মাসার’ সিস্টেমে নিয়ে এসেছে। নিষ্ক্রিয় ও প্রতারক এজেন্সিগুলোর পথ চিরতরে বন্ধ করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর ৪০ জনের কম হজযাত্রী নিবন্ধন করা এবং চলতি ২০২৬ সালে একটিও নিবন্ধন না করা নিষ্ক্রিয় এজেন্সিকে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রম থেকে সরাসরি বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি এজেন্সিকে অন্তত ৪৬ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করতেই হবে। এছাড়া এজেন্সিগুলোকে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শেষ করতে হবে।’

নতুন ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য হজের জন্য ১৫ জুলাই থেকে আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সৌদি খরচের অর্থ নুসুক ই-ওয়ালেটে স্থানান্তর করতে হবে। এছাড়া ৮ নভেম্বরের মধ্যে এয়ারলাইন্স চুক্তি এবং ২৮ জানুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু শুরু হয়ে ৮ এপ্রিল থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট শুরু হবে।

 

শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, আলোচনায় কে

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে হঠাৎ করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল।

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে প্রথম আলোকে জানান।

রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বার্তা পাঠানো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের সঙ্গে গতকাল বুধবার রাতে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র খুব শিগগির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
এ পদে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন সচিবের নাম হঠাৎ আলোচনায় আসার বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে (রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ) শূন্য পদে অনেক নামই আলোচিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

এর মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা—এসব বিবেচনা থেকে তাঁর নাম সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আরও আলোচনা করবেন।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে।

গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।

সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়ে আওয়ামী লীগের সময়েই নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাও প্রকাশ্যে আসে। দুদকের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তখন এই দুটি ব্যাংকের মালিক ছিল আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম। ব্যাংক দুটিতে তখন সবচেয়ে ব্যাপক লুটপাট হয়।

তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।
ইসলামী ব্যাংকের পদে থাকা অবস্থায় মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকার। ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা মিলে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগের ভেতরে আলোচনা ছিল। তখন এই রাষ্ট্রপতিকে এস আলমের প্রতিনিধি বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে দায়িত্ব ছাড়েন কি না, তা দেখতে ক্ষমতাসীন দল কিছুটা সময় নিয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের মনোভাব জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আগ্রহ রয়েছে।