এক ছন্দে বদলে গেল চিত্র: কলারোয়ায় সচেতনতার বার্তা ছড়াচ্ছে নদীর বুকে বাঁশের সাঁকো
সংবাদদাতা: কলারোয়া শহরের বুক চিরে বয়ে চলা বেত্রাবতী নদীর ওপর সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে এক দৃষ্টিনন্দন বাঁশের সাঁকো। কাঠ আর বাঁশের বুননে তৈরি এই সাঁকোটি দেখতে যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনই এটি পার হতে গিয়ে পথচারীদের চোখ আটকে যাচ্ছে সাঁকোর ঠিক শুরুতেই টাঙানো একটি সাইনবোর্ডে।
ছন্দের তালে লেখা সেই সচেতনতামূলক বার্তায় বলা হয়েছেÑ“আমি-কাট বাঁশের সাঁকো/আমায়-যতন করে রাখো।/জুলুম তোমরা করো না/আগের মতো মরো না।/মটর বাইক থামাও/ সাঁকো থেকে নামাও।”
ব্যতিক্রমী ও ছান্দসিক এই বার্তাটি মূলত কলারোয়া পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলামের উদ্যোগে টাঙানো হয়েছে। সাঁকো পার হওয়ার সময় উৎসুক পথচারীরা কেবল লেখাটি পড়ছেনই না, বরং নিয়ম মেনে মোটরসাইকেল থামিয়ে হেঁটে সাঁকো পার হচ্ছেন। নদীর ওপরের এই কাঠের আর বাঁশের তৈরি সাঁকোটির সৌন্দর্য ও ছন্দের ছোঁয়ায় আঁকা সাইনবোর্ডটি ইতোমধ্যেই শহরের তরুণ-তরুণী ও সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।
বিকেল হলেই নদীর ধারে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বাঁশের সাঁকোটির দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি রঙিন এই সাইনবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি ও সেলফি তুলতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পথচারীরা।
স্থানীয়রা জানান, বাঁশের সাঁকোতে মোটরসাইকেল চড়ে পার হতে গেলে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে এবং সাঁকোটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ধরনের ছান্দসিক আবেদন পথচারীদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করছে।
একদিকে বেত্রাবতী নদীর ওপর বাঁশের সাঁকোর প্রাকৃতিক রূপ, অন্যদিকে পৌর প্রশাসনের এমন নান্দনিক সচেতনতামূলক পদক্ষেপÑসব মিলিয়ে কলারোয়ার এই বাঁশের সাঁকোটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।












