শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

কটূক্তি পেরিয়ে বাইশ গজে বিচারকের ভূমিকায় সাতক্ষীরার রাখি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
কটূক্তি পেরিয়ে বাইশ গজে বিচারকের ভূমিকায় সাতক্ষীরার রাখি

আসাদুজ্জামান সরদার: একসময় মাঠে ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার পথে শুনতে হতো নানা সামাজিক কটূক্তি। নারী হয়ে ব্যাট-বল হাতে তুলে নেওয়াটাই যেন ছিল স্থানীয় অনেকের কাছে বিস্ময় আর অনভিপ্রেত। সেই চেনা প্রতিবন্ধকতা ও বাঁকা কথাকে পেছনে ফেলে বাইশ গজে নিজের নতুন পরিচয় নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার মেয়ে ফাতিমাতুজ জোহরা রাখি। ঢাকা লীগের নিয়মিত এই ক্রিকেটার এবার উত্তীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আম্পায়ারিং পরীক্ষায়; দাঁড়িয়েছেন ম্যাচ পরিচালনার মতো দায়িত্বশীল পদে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি আম্পায়ারিং ও কোচিং-তিন মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে নারী ক্রিকেটকে বহুদূর এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন রাখি। সম্প্রতি নিজের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্প, সামাজিক কাঠগড়া পেরিয়ে আম্পায়ারিংয়ে আসা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
কটূক্তি থেকে অর্জিত হাততালি
সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসার পথটা একেবারেই সুগম ছিল না রাখির। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের প্রাথমিক দিনগুলোতে প্রতিকূল সামাজিক আবহ সামলাতে হয়েছে তাঁকে।
রাখি বলেন, উঠে আসার গল্পটা অনেক বাধা ডিঙিয়ে তৈরি। এখন নারী ক্রিকেটারদের যেভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, আগে পরিস্থিতি এমন ছিল না। রাস্তায় চলাচলের সময় প্রায়ই কটু কথা শুনতে হতো।
তবে সময়ের আবর্তে পাল্টেছে সেই দৃশ্যপট। একসময় যারা সমালোচনায় মুখর ছিলেন, তারাই এখন জয়ের বার্তা পাঠান। রাখির ভাষায়, যাঁরা একসময় বাঁকা চোখে দেখতেন, তাঁরাই এখন উৎসাহ দেন। এটি কেবল আমার ব্যক্তিগত জয় নয়, নারী ক্রিকেটের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলের স্পষ্ট প্রমাণ।
খেলোয়াড় থেকে ম্যাচ পরিচালনায়
মাঠের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকেই খেলাটির অন্যান্য কারিগরি দিক, যেমন-আম্পায়ারিং ও কোচিংয়ে যুক্ত হওয়ার তাগিদ অনুভব করেন তিনি। জেলা থেকে বিসিবির আম্পায়ারিং কোর্সের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে সুযোগটি কাজে লাগান রাখি।
পরীক্ষায় সাফল্য লাভের পর রাখির প্রতিক্রিয়া, একজন খেলোয়াড় আর একজন আম্পায়ারের দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাঠে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, যা সবাইকে মেনে নিতে হয়। কোর্সে অংশ নেওয়ার ফলে ক্রিকেটের সূক্ষ্ম আইনকানুন গভীরভাবে শেখার সুযোগ হয়েছে। বিসিবির প্রস্তুতি পর্বে ম্যাচ শুরুর সময়সীমা, পরিবর্তনশীল আবহাওয়া বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশল রপ্ত করতে হয়েছে তাঁকে।
ঢাকা লীগের অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রেরণা
ঢাকা লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আম্পায়ারিংয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন রাখি। ম্যাচ চলাকালীন চাপ, খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্ব এবং মাঠের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণের সাহস জোগাবে তাঁর মাঠের ক্যারিয়ার। পুরুষদের ঘরোয়া লিগে দায়িত্ব পালন নিয়ে কোনো মানসিক সংকোচ নেই তাঁর। অগ্রজ রেবেকা সুলতানা রিমাকে অনুসরণ করে জ্যেষ্ঠদের পথনির্দেশনায় সামনে এগোতে চান তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী আম্পায়ার সাথীরা জাকিয়াকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে জানান রাখি। উল্লেখ্য, রেবেকা সুলতানা রিমা ও চায়নার পর রাখি যুক্ত হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলায় নারী আম্পায়ারের সংখ্যা এখন তিনে দাঁড়াল।

 


তবে অবকাঠামোগত ঘাটতি নিয়ে সোচ্চার রাখি। নারী আম্পায়ারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং যাতায়াত ও দূরবর্তী ম্যাচে মানসম্মত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
শিক্ষা, পরিবার ও আগামী
মাঠ সামলানোর পাশাপাশি একাডেমিক ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছেন রাখি। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছেন প্রথম শ্রেণীতে, বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানে করছেন মাস্টার্স।
ভবিষ্যৎ ভাবনায় ক্রিকেটার হিসেবে খেলে যাওয়ার পাশাপাশি আইসিসির প্যানেলভুক্ত আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন রাখি। এছাড়া, নারী ক্রিকেটারদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে কোচ হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
এই দীর্ঘ পথচলায় নিজের বাবা, সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আকতার হোসেনের অবদানকে সবচেয়ে বড় ভিত্তি হিসেবে দেখেন চার বোনের মধ্যে মেজো এই নারী ক্রিকেটার।
উদীয়মান নারী ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে রাখির আহ্বান-পরিবারকে মেয়েদের স্বপ্নের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। আলাদা মাঠ, জিমনেসিয়াম ও অ্যাকাডেমিক সুবিধা পেলে সাতক্ষীরা থেকে আন্তর্জাতিক মানের আরও অনেক নারী ক্রিকেটার ও ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর।

 

 

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে প্রাণের উচ্ছ্বাস: ডিসি কাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে প্রাণের উচ্ছ্বাস: ডিসি কাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল আজ

এসএম হাবিবুল হাসান: শ্রাবণের পর ভাদ্রের আকাশ মেঘে ঢাকা, কখনো আবার রিমঝিম বৃষ্টিতে ভিজছে চারপাশ। বর্ষার এই সিক্ত মেজাজের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনে যেন ফিরে এসেছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। রবিউল ইসলাম শিবলু, সৌম্য সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান, সাবিনা খাতুন কিংবা আফেইদা খন্দকার প্রান্তির মতো তারকাদের জন্ম দেওয়া এই জেলায় দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে পড়েছিল খেলার জগত। টানা চার-পাঁচ বছর জেলা পর্যায়ে কোনো বড় ধরনের টুর্নামেন্ট না থাকায় যে খরা তৈরি হয়েছিল, বর্ষার নবধারার মতোই ‘জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ তা ধুয়েমুছে দিয়েছে।
আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হবে কালিগঞ্জ উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলা দল। এ খেলার মধ্য দিয়েই পর্দা নামবে এই অঞ্চলের ফুটবল উৎসবের।
সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সদস্য, সাবেক ফুটবলার ইমাদুল হক খান জানান, সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়াঙ্গনের এক উর্বর ভূমি। দীর্ঘদিন জেলা পর্যায়ে খেলার আয়োজন না থাকায় কিছুটা স্থবিরতা এসেছিল। তবে চলতি মৌসুমে জেলা প্রশাসক কাপকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। বৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল দর্শকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। এমনকি স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক অনুরাগী মাঠের ভেতর বসেই সুশৃঙ্খলভাবে খেলা উপভোগ করেছেন।
মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিসি কাপের পর জেলার প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ এবং প্রিমিয়ার কাপ ফুটবলের আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনা সম্ভব হবে, যারা পরবর্তীতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবে।
স্পোর্টস অঙ্গনের সাবেক সংগঠকদের মতে, এই ফুটবল টুর্নামেন্ট জেলাজুড়ে ক্রীড়া চর্চার এক দারুণ উদ্দীপনা তৈরি করেছে। সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ক্রিকেটার মীর তাজুল ইসলাম রিপন মনে করেন, দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনে আবার সুবাতাস বইছে। এই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট এবং প্রিমিয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হবে। এতে স্থানীয় উঠতি খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ বিস্তৃত হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এ মোট ৮টি দল অংশ নেয়। প্রথম রাউন্ডের লড়াই আর উত্তেজনাপূর্ণ দুটি সেমিফাইনালের গ-ি পেরিয়ে আজ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি। বর্ষণসিক্ত মৌসুমে গ্যালারির গর্জন আর ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে আজ আবার মুখরিত হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম। বর্ষার এই জাগরণ অব্যাহত থাকবে এবং স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন আবার তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পাবেÑএমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

দেবহাটায় শ্মশানের জমি বিরোধ নিয়ে শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় শ্মশানের জমি বিরোধ নিয়ে শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

দেবহাটা প্রতিনিধি: সুবর্ণাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জগদীশ সরকার শ্মশানের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ২৭ আগস্ট সকালে দেবহাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সুবর্ণাবাদ মহাশ্মশানের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর বাবা নিরাপদ সরকার। তবে বাবার দান করা সম্পত্তি নিয়ে নয়, তাঁর নিজের রেকর্ডীয় জমি নিয়েই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। শ্মশানের পরিত্যক্ত কাঠ তাঁর জমিতে রাখায় তিনি সেগুলো সরিয়ে নিজের জমিতে গাছ লাগান। কিন্তু পরবর্তীতে সেই গাছ উপড়ে ফেলে ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে তা দখল করা হয়।
জগদীশ সরকার জানান, পরবর্তীতে প্রতিপক্ষরা ব্যর্থ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও সুদের ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনে মানববন্ধন করে। তিনি দাবি করেন, উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি অভিভাবকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যায় এবং বিদ্যালয়ে কোনো অনিয়ম ঘটে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তিনি সঠিক বিচার প্রত্যাশা করেন।

দেবহাটায় সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটার সখিপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক সার ব্যবসায়ীকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট বেলা পাঁচটায় এ অভিযান পরিচালনা করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলন সাহা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সখিপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ‘ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’-এর ৪০ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ‘চাষী ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী আজাহারুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা জানান, মজুত খাতা, রেজিস্টার খাতা ও ক্যাশ মেমো সঠিক না থাকায় এই জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।