শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবহাটায় সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটার সখিপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক সার ব্যবসায়ীকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট বেলা পাঁচটায় এ অভিযান পরিচালনা করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলন সাহা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সখিপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ‘ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’-এর ৪০ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ‘চাষী ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী আজাহারুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা জানান, মজুত খাতা, রেজিস্টার খাতা ও ক্যাশ মেমো সঠিক না থাকায় এই জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Ads small one

সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে প্রাণের উচ্ছ্বাস: ডিসি কাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে প্রাণের উচ্ছ্বাস: ডিসি কাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল আজ

এসএম হাবিবুল হাসান: শ্রাবণের পর ভাদ্রের আকাশ মেঘে ঢাকা, কখনো আবার রিমঝিম বৃষ্টিতে ভিজছে চারপাশ। বর্ষার এই সিক্ত মেজাজের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনে যেন ফিরে এসেছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। রবিউল ইসলাম শিবলু, সৌম্য সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান, সাবিনা খাতুন কিংবা আফেইদা খন্দকার প্রান্তির মতো তারকাদের জন্ম দেওয়া এই জেলায় দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে পড়েছিল খেলার জগত। টানা চার-পাঁচ বছর জেলা পর্যায়ে কোনো বড় ধরনের টুর্নামেন্ট না থাকায় যে খরা তৈরি হয়েছিল, বর্ষার নবধারার মতোই ‘জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ তা ধুয়েমুছে দিয়েছে।
আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হবে কালিগঞ্জ উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলা দল। এ খেলার মধ্য দিয়েই পর্দা নামবে এই অঞ্চলের ফুটবল উৎসবের।
সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সদস্য, সাবেক ফুটবলার ইমাদুল হক খান জানান, সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়াঙ্গনের এক উর্বর ভূমি। দীর্ঘদিন জেলা পর্যায়ে খেলার আয়োজন না থাকায় কিছুটা স্থবিরতা এসেছিল। তবে চলতি মৌসুমে জেলা প্রশাসক কাপকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। বৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল দর্শকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। এমনকি স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক অনুরাগী মাঠের ভেতর বসেই সুশৃঙ্খলভাবে খেলা উপভোগ করেছেন।
মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিসি কাপের পর জেলার প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ এবং প্রিমিয়ার কাপ ফুটবলের আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনা সম্ভব হবে, যারা পরবর্তীতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবে।
স্পোর্টস অঙ্গনের সাবেক সংগঠকদের মতে, এই ফুটবল টুর্নামেন্ট জেলাজুড়ে ক্রীড়া চর্চার এক দারুণ উদ্দীপনা তৈরি করেছে। সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ক্রিকেটার মীর তাজুল ইসলাম রিপন মনে করেন, দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনে আবার সুবাতাস বইছে। এই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট এবং প্রিমিয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হবে। এতে স্থানীয় উঠতি খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ বিস্তৃত হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এ মোট ৮টি দল অংশ নেয়। প্রথম রাউন্ডের লড়াই আর উত্তেজনাপূর্ণ দুটি সেমিফাইনালের গ-ি পেরিয়ে আজ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি। বর্ষণসিক্ত মৌসুমে গ্যালারির গর্জন আর ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে আজ আবার মুখরিত হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম। বর্ষার এই জাগরণ অব্যাহত থাকবে এবং স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন আবার তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পাবেÑএমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

দেবহাটায় শ্মশানের জমি বিরোধ নিয়ে শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় শ্মশানের জমি বিরোধ নিয়ে শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

দেবহাটা প্রতিনিধি: সুবর্ণাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জগদীশ সরকার শ্মশানের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ২৭ আগস্ট সকালে দেবহাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সুবর্ণাবাদ মহাশ্মশানের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর বাবা নিরাপদ সরকার। তবে বাবার দান করা সম্পত্তি নিয়ে নয়, তাঁর নিজের রেকর্ডীয় জমি নিয়েই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। শ্মশানের পরিত্যক্ত কাঠ তাঁর জমিতে রাখায় তিনি সেগুলো সরিয়ে নিজের জমিতে গাছ লাগান। কিন্তু পরবর্তীতে সেই গাছ উপড়ে ফেলে ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে তা দখল করা হয়।
জগদীশ সরকার জানান, পরবর্তীতে প্রতিপক্ষরা ব্যর্থ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও সুদের ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনে মানববন্ধন করে। তিনি দাবি করেন, উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি অভিভাবকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যায় এবং বিদ্যালয়ে কোনো অনিয়ম ঘটে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তিনি সঠিক বিচার প্রত্যাশা করেন।

সম্পাদকীয়/ উপকূলের নারী শ্রমিকের নীরব লড়াই ও টেকসই সুরক্ষার দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের নারী শ্রমিকের নীরব লড়াই ও টেকসই সুরক্ষার দাবি

প্রকৃতির বৈরী আচরণ আর ভৌগোলিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মানুষ জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার মানুষের জীবনজীবিকার গতিপথ অনেকটাই নির্ধারিত হয় জোয়ার-ভাটার টানে। তবে প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বন বিভাগের পাঁচ মাসের বাৎসরিক নিষেধাজ্ঞা এবং ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ বন্দিশা কাল উপকূলের অর্থনীতিকে স্থবির করে দেয়। এই দীর্ঘ ছুটির সময়গুলোতে বিকল্প উপার্জনের অভাব পুরুষদের কর্মহীন করে তোলে, যার পরোক্ষ চাপে পরিবারের দিনযাপনের মূল দায়িত্বটি এসে পড়ে নারীদের কাঁধে।
নিষেধাজ্ঞাকালীন অর্থনৈতিক দুর্যোগ উপকূলীয় নারীদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়ালেও তা এক অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক বাস্তবতাকে উন্মোচিত করছে। পুরুষের সমপরিমাণ কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করেও নারীরা পাচ্ছেন প্রায় অর্ধেক মজুরি। এই কম মজুরির সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির ঘেরমালিক ও স্থানীয় নিয়োগকর্তারা নারী শ্রমিকদের শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। শ্রমের এমন অসম মূল্যায়ন কেবল মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থীই নয়, বরং উপকূলের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
অন্যদিকে, সংকটকালীন সরকারি সহায়তা বা ভিজিএফ চাল দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, সেখানেও রয়ে গেছে সমন্বয়হীনতার বড় ঘাটতি। জেলায় প্রকৃত জেলের সংখ্যার তুলনায় নিবন্ধিত ও সহায়তাপ্রাপ্তদের তালিকা অত্যন্ত অপ্রতুল। শুধু সরকারি চাল দিয়ে যে একটি পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়Ñএই সত্যটি নীতিপ্রণেতাদের উপলব্ধিতে আসা প্রয়োজন। চালের পাশাপাশি অন্যান্য মৌলিক পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকলে অসচ্ছল জেলে পরিবারগুলো দাদন ও ঋণের জালে আবদ্ধ হতে বাধ্য হয়।
উপকূলের নদী ও বনের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমাতে প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত জরুরি হলেও তা যেন সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে বিপন্ন না করে। মৎস্য, খাদ্য ও বন বিভাগের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত বনজীবী ও জেলেদের একটি সমন্বিত তথ্যভা-ার তৈরি করা দরকার। সহায়তার ব্যাপ্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নারীদের কাজের ক্ষেত্রে সমমজুরি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে, জলবায়ু অভিযোজনের আওতায় অনাসৃষ্টির সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের টেকসই ব্যবস্থা গড়ে না তুললে এই মানবিক সংকট প্রতিবছরই নতুন রূপ ধারণ করবে।