শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

কাজটা অসামাজিক, তবে অনৈতিক নয়: এমপি গাজী নজরুলকে নিয়ে জামায়াত নেতা খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
কাজটা অসামাজিক, তবে অনৈতিক নয়: এমপি গাজী নজরুলকে নিয়ে জামায়াত নেতা খালেক

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কিত ভিডিও ও বিয়ের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি জানিয়েছেন, অনৈতিকতা বা অসামাজিক কর্মকা-ের প্রশ্নে তাঁর দল কোনো আপস করে না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের গোটাঘাটা মসজিদে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় আলেম-উলামাদের ব্যানারে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, ‘এমপি সাহেবের বড় স্ত্রীসহ সবাইকে নিয়ে বসে আমরা দেখেছি, ওই মেয়েটির আবদার ছিল—সে অন্য কোথাও বিয়ে করবে না, যতদিন বাঁচবে এমপি সাহেবের সেবা করে যাবে। মেয়েটির জোরালো দাবির মুখে তার মা-বাবা বাধ্য হয়ে নিজেদের বাড়িতে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। কাজটা অসামাজিক হয়েছে, তবে অনৈতিক নয়। কিন্তু এই অসামাজিক কাজের জন্যই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাঁর এমপি পদও বাতিল করা হয়েছে।’

সাধারণ ভুলের সঙ্গে এই ঘটনার পার্থক্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি এক মসজিদের ইমামের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘অন্য একজন ব্যক্তি এই কাজ করলে হয়তো ভুল হিসেবে গণ্য হতো না। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভুলের মাত্রা ভিন্ন। ইমাম সাহেবের ভুলের মাত্রা যেমন সাধারণের চেয়ে বেশি, তাঁর ক্ষেত্রেও তা-ই। এ কারণেই তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তাঁর এমপি পদও থাকবে না।’

শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও উপজেলা শূরা সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ হাসান।

 

 

Ads small one

বিরহের প্রভাত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
বিরহের প্রভাত

জহুরুল হক জুলু
তুমি গেলে দূর অচেনা পথে,
ফিরে চাহিলে না একবার;
তবু তোমার স্মৃতির ছায়া
ছুঁয়ে আছে আমার দুয়ার।
সাঁঝের তারা আকাশপানে
যখন মেলে নীরব আলো,
মনে হয় কে ডাকছে আমায়-
কোন্ সুদূরের মধুর ভালো।
বকুলতলার নিঝুম হাওয়ায়
কাঁপে দিনের শেষের গান,
হারানো সেই কথাগুলি যেন
খুঁজে ফেরে আপন স্থান।
অনেক বাণী জমে আছে আজও
অকথিত হৃদয়তলে,
শুকনো পাতার মর্মরধ্বনি
তাদের কথা বলে চলে।

তোমার সাথে ছিল যে পথ
শিউলিঝরা ভোরের মতো,
আজ সে পথে একা হেঁটে যাই
স্মৃতির প্রদীপ জ্বেলে যত।

দুঃখ আমার অভিশাপ নয়,
এও যেন এক স্নিগ্ধ দান;
বিরহের এই গভীর সুরে
জেগে ওঠে প্রাণের গান।

রাত্রি যখন শেষ হয়ে আসে,
পূব আকাশে রঙের খেলা,
মনে হয় হারাইনি কিছুই-
বদলে গেছে শুধু বেলা।

যা হারাল, হারাল না তা,
রয়েছে হৃদয়ের মাঝে;
নদীর জলে চাঁদের মতো
ভেসে আছে নীরব সাজে।

তাই তো আজ আর ডাকি না তোমায়,
নেই কোনো ফেরার দাবি;
ভালোবাসা ফুরায় না কখনো
থাকে চিরদিন অন্তরছবি।

যে চোখে আলো নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
যে চোখে আলো নেই

জহুরুল হক জুলু
যে চোখে আলো নেই,
সেই চোখও ভোরের খবর পায়—
পাতার কাঁপুনিতে,
পাখির ডানার শব্দে,
বাতাসের নরম স্পর্শে।
মানুষ কেবল চোখ দিয়ে দেখে না,
সে দেখে বিশ্বাস দিয়ে,
দেখে অপেক্ষা দিয়ে,
দেখে বুকের গভীরে জেগে থাকা
একটি অনামা আলোর দিকে তাকিয়ে।
যে পথিক কোনোদিন রঙ দেখেনি,
সে-ও জানে
শিশিরের ভেজা ঘাসের ভাষা,
মায়ের হাতের উষ্ণতা,
প্রিয় মানুষের নীরবতারও একটি রং আছে।
স্বপ্ন কখনো চোখের বন্দী নয়,
তার নিজের ডানা আছে।
সে উড়ে যায়
অন্ধকারের মাথার ওপর দিয়ে,
ভেঙে ফেলে
হতাশার পুরোনো বেড়া।
যারা বলে,
আলো না দেখলে জীবন অসম্পূর্ণ,
তারা হয়তো জানে না
কত মানুষ
চোখ ভরা রোদ নিয়েও
ভেতরে ভেতরে গভীর অন্ধকারে বাস করে।

 

আর কত মানুষ,
দৃষ্টিহীন হয়েও
মানুষের মুখের হাসি
হাতের স্পর্শে পড়ে ফেলে,
কণ্ঠের কম্পনে চিনে নেয়
অবিশ্বাস আর ভালোবাসার পার্থক্য।

আমি বিশ্বাস করি,
স্বপ্নের কোনো চোখ লাগে না,
লাগে শুধু একটি অদম্য হৃদয়,
যে হৃদয়
প্রতিটি পতনের পরও
আবার দাঁড়াতে শেখে।

মধুসূদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
মধুসূদন

মোঃ হায়দার আলি শান্ত
মধুবনে শব্দ ছন্দ বাজে
বজরা আর ফিরে আসেনি ঘাটে
ত্যাজ্য সনদ জুটিলো জমিদার বজ্রে
জাহ্নবী ক্রন্দন রত কবতক্ষ তটে
রাজ নারায়ন দত্ত বুঝেনী তাঁর ব্যথা
পথে পথে জীবন হল অবসান
মেঘনাথ বধ সাধনা যায়নি বৃথা
সুপ বনে উড়িল কীর্তি নিশান
কল্পনা সুন্দরী নেপথ্যে ছিল শক্তি
ভিনদেশি ভাষায় মেটেনি আশা
বঙ্গ ভাষায় দগ্ধ জীবনে মুক্তি
কবতক্ষ নদ মিটালো জলের তৃষা
ভাবের সংসারে জ্বলে উঠিলো জ্যেতি
বঙ্গ ভান্ডারে রক্ষিত মধুর ভাষা।