শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

কেশবপুরে ১০২ মন্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, থাকবে ৩ স্তরের নিরাপত্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে ১০২ মন্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, থাকবে ৩ স্তরের নিরাপত্তা

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে ১০২ টি পূজা মন্ডপে চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, চলছে মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা তৈরী ও রংতুলির আচড়ে দেবী দুর্গার অঙ্গে নানা রঙ্গের আল্পনা আঁকার কাজ। কোথাও আবার শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে শুরু হয়েছে দেবী বরণের ব্যপক তোড়-জোড় ব্যাপক আয়োজন। এখন শুধুই অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। সেই শুভক্ষণের বেশী দিন বাকীও নেই।

আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার হবে সেই প্রতিক্ষিত ক্ষণ গণনার আনুষ্ঠানিক সমপ্তি।
শুরু হবে ঢাকের তালে-তালে মন্দিরে-মন্দিরে দেবী অর্চনা। ভক্তদের আনাগোনায় মুখরিত হবে প্রতিটি পুঁজা মন্ডপ। পূঁজা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা দেবীদূর্গার আশির্বাদ পেতে মন্ডপ থেকে মন্ডপে ছুটে বেড়ায়। আলোক সজ্জা, প্যান্ডেল ও গেট সৌন্দর্যের কাজ করতে গিয়ে যেন দম ফেলার ফুসরত নাই আয়োজক কমিটির নের্তৃবৃন্দের। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে দেবী পক্ষের ষষ্টি তিথীতে বোধন তলায় মঙ্গল ঘট স্থাপনের মধ্যদিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। শুরু হবে মন্দিরে মন্দিরে দেবী বন্ধনা ও পুজা অর্চনা।

শাস্ত্রীয় পন্ডিতরা বলেছেন তিথি নক্ষত্রের কারণে এ বছর দুর্গাপূজা ৫দিনের পরিবর্তে হবে ৬ দিন এবং দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং কইলাশ গমন করবে নৌকায়। কেশবপুরে মোট ১০২ টি পূজা মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সাহা জানান, কেশবপুর পৌরসভায় ৮টি, ত্রিমোহীনি ইউনিয়নে ১টি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে ১৬টি, মজিদপুর ইউনিয়নে ৭টি, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে ৫ টি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ৬টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ৭টি, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ৯টি, সুফলাকাটি ইউনিয়নে ১১টি, গৌরিঘোনা ইউনিয়নে ১২টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১২টি ও হাসানপুর ইউনিয়নে ৮টি মন্ডপসহ সর্ব মোট ১০২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের দুর্গাপূজায় আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে ৩ স্তরের সার্বিক নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর পশাপাশি অধিক নিরাপত্তার জন্য মন্ডপের আশপাশে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া উপজেলা ব্যাপী পুলিশের ভ্রাম্যম্যান টিম সর্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, পূজা চলাকালীন সময়ে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সমপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোট পরিচালিত হবে। এছাড়াও প্রতিটি মন্ডল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে।

Ads small one

কামালনগর কবরস্থান সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা: আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
কামালনগর কবরস্থান সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা: আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর কবরস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টার লেক ভিউয়ের পদ্মা হলে কামালনগর কবরস্থান সম্প্রসারণ কমিটি এ সভার আয়োজন করে।

কমিটির আহ্বায়ক ও সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত পারভেজ, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বাবু, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল আলম বাবু, তুফান কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ তানজিম কালাম তমাল, কামালনগর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুস সোবহান, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির শেখ সাঈদ আহমেদ (রঞ্জু) ও মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী প্রমুখ।

সভায় বক্তারা জানান, কামালনগর কবরস্থানটি চার স্তর মাটি ভরাট করার পরও স্থানসংকুলান হচ্ছে না। এ সমস্যার সমাধানে কবরস্থানসংলগ্ন জমি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জমির মালিকদের সমুদয় অর্থ এখনো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ কাজের জন্য আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, কবরস্থান মুসলমানদের শেষ ঠিকানা। তাই সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে বিত্তবানসহ সর্বস্তরের মানুষকে সামর্থ্য অনুযায়ী এই জমি ক্রয়ের তহবিলে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সুলতানপুর বড় বাজার জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কামালনগর গোরস্থান মসজিদের ইমাম ইয়াছিন আলম খান। সভায় কবরস্থান সম্প্রসারণ কমিটির সদস্য, জমিদাতা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সাতক্ষীরায় মাছ চুরি সন্দেহে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যা, ১০ জনের নামে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মাছ চুরি সন্দেহে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যা, ১০ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জিয়ালা এলাকায় ঘেরে মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডল (৫৩) নামের এক মাছ চাষীকে গাছে বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার নিহতের স্ত্রী সুলেখা মন্ডল বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামী করে তালা থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। এদিন ভোর রাতে জিয়ালা গ্রামের উত্তর খোলা বিলে ক্ষিতিশ মন্ডলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত হয়। বেলা ১২ টার দিকে তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার ।

নিহত ক্ষিতিশ মন্ডল তালা সদরের জেয়ালা গ্রামের মৃত মনিন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে। তিনি নিজেও একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জেয়ালা উত্তরখোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরি সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডলকে আটক করা হয়। আটকের পর স্থানীয় বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, সমর ঘোষ, ইব্রাহিম খাঁ, হাবিবুর গাজী, গফফার শেখসহ ১০-১৫ জন তাকে জেয়ালা শ্মশান ঘাট এলাকায় নিয়ে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়। নির্যাতনকারীরা তার হাত-পা ভেঙে দেয়, মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় এবং চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। ভোর পর্যন্ত তার ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালানো হয়।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের চাচাতো ভাই পার্থ মন্ডল বলেন, আমার চাচাতো ভাই ক্ষিতিশ মন্ডলের নিজেরই চার বিঘা জমির মাছের ঘের রয়েছে। চুরি সন্দেহে একটা মানুষকে রাতভর এভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলবে? আমরা এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার চাই।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাছ চুরির অপবাদে পিটিয়ে ক্ষিতিশ মন্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

সাতক্ষীরা পৃথক অভিযানে দুই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা পৃথক অভিযানে দুই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদর ও তালায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুটি বাল্যবিবাহ সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এর মধ্যে একটি ঘটনায় বরের পিতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদরের বাঁকাল এলাকায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে তৎপর হয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহারের নির্দেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার আজিবর রহমান, করবী সুলতানা এবং প্রশিক্ষক তাসরিনা খাতুন ঘটনাস্থলে যান। তাদের সঙ্গে সদর থানা পুলিশের একটি দলও উপস্থিত হয়।

পুলিশ ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বর পালিয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপপরিচালক নাজমুন নাহার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় মেয়ের চাচার বাড়িতে বরের পিতা ও উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজনকে পাওয়া যায়।

বাল্যবিবাহের আয়োজন করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের বরের পিতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে মুচলেকা দিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ছাড়া মেয়ের পিতা ও চাচার কাছ থেকেও মুচলেকা নেওয়া হয় এবং মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

অপরদিকে, একই দিনে তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নে আরেকটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তালার কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার প্রসেনজিৎ ঘোষ ও প্রশিক্ষক রাজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের খবর পেয়ে বরের গাড়ি মাঝপথ থেকে ফিরে যায়। পরে মেয়ের পিতার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।