শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

কেশবপুর নিজ দখলীয় জমির উপর থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কর্তন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
কেশবপুর নিজ দখলীয় জমির উপর থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কর্তন

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৩০ বছর আগে ক্রয়কৃত জমির উপর থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকার গাছ কর্তনের অভিযোগে ৬ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৩০ বছর আগে দলিল নাম্বার ৪০৪২/১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর ফতেপুর মৌজার আগত খতিয়ান নং ৪৬ আলেকজান বেওয়া এর নিকট থেকে শেখ আব্দুল গফুর ক্রয় করে, সেইখান থেকে উক্ত জমি দখলে নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছাল শাকসবজি চাষ করে আসছে।

 

গত ৬ জুলাই ২০২৬ রোজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার সময় বাদির আপন ভাসুর শেখ ইসহাক আলীর ছেলে রজব আলী, আইয়ুব আলী শেখের ছেলে মোহাম্মদ হাসান আলী, ও আবুল কাশেম, ইন্তাজ আ্লীর ছেলে মহসিন, হাড়িয়ার ঘোপ গ্রামের ওসমান হোসেন এর ছেলে কাট ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন, তালা উপজেলা লাউতাড়া গ্রামের আফসার মোড়লের ছেলে কাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমানকে আসামি করে যশোর বিজ্ঞ সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেশবপুর আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছ যার নং-৪৮৩/২৬।

 

কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ইনভেস্টিগেশন অফ ব্যুরোকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিবাদী আবুল কাশেম বলেন, জমিটা আমাদের বাপ দাদাদের সেখানে আমরা জমি পাবো তাই গাছ কর্তন করেছি।

Ads small one

তালায় শিক্ষক সত্যরঞ্জন হরির মৃত্যুতে এলাকায় শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
তালায় শিক্ষক সত্যরঞ্জন হরির মৃত্যুতে এলাকায় শোক

তালা উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সত্য রঞ্জন হরি আর নেই। ১০ জুলাই (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার হেল্থ হোপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

তাঁর পিতা ছিলেন অমূল্য কৃষ্ণ হরি। শিক্ষকতা জীবনে তিনি দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি তালা শহীদ আলী আহম্মদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার মিরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাইকগাছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে তিনি তালা বি. দে. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়াও তাঁর সহধর্মিণী শীলা রানী সুর ২০১৪ সালে তালা শহীদ আলী আহমদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও দুই কন্যা সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর পুত্র সমির কুমার হরি খুলনা কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পদে কর্মরত আছেন। বড় মেয়ে শিউলি হরি ৩১তম বিসিএস প্রশাসনে উত্তীর্ণ হন। এবং বর্তমানে সচিবালয়ে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে সিনিঃ সহকারী সচিব পদে কর্মরত আছেন। ছোট মেয়ে শ্যামা হরি গৃহিণী।
গত ১৬ দিন পুর্বে ঘরের মধ্যে ডুকতে পা পিচলে পড়ে মাজার হিপ জয়েন্টের হাড় ভেঙ্গে যায়। ঢাকার ক্লিনিকে অপারেশন করার পর সম্পুর্ন সুস্থ হন। শনিবার হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার আকষ্কিক সকাল পৌনে দশটায় ষ্টোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেন।

শুক্রবার রাতে তালা মহাশ্বশ্নানে অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন ভাল মানুষ ছিলেন। তার ন্বর্গীয় আত্মার সৎগতি কামনা করে বিবৃতি প্রদান করেছেন সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখৎ, তালা সদরের সাবেক চেয়ারম্যান তালা প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক এসএম নজরুল ইসলাম। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বুড়িগোয়ালিনীতে ইজিবাইক রাখার স্থান পাকাকরণের কাজ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনীতে ইজিবাইক রাখার স্থান পাকাকরণের কাজ উদ্বোধন

এমএ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): দীর্ঘদিনের দাবির পর বুড়িগোয়ালিনী ইজিবাইক ও শ্রমিক সমবায় সমিতির সদস্যদের গাড়ি রাখার স্থান পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৪টায় নীলডুমুর ইজিবাইক স্ট্যান্ডে শ্রমিকদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ইট বিছিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নীলডুমুর ইজিবাইক, ইঞ্জিন ভ্যান ও মোটর ভ্যান পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় শ্রমিকরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, শ্রমজীবী মানুষের সুবিধার্থে ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানটি পাকাকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শ্রমিকদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

এদিকে, শ্রমিক সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পার্কিংয়ের জায়গা কাঁচা থাকায় বর্ষাকালে যানবাহন রাখা ও চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন ইট বিছিয়ে স্থানটি উন্নয়ন করায় শ্রমিকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক আশা দিবস: মানসিক শক্তির আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক আশা দিবস: মানসিক শক্তির আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈষম্য, দারিদ্র্য এবং ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যেও মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে। সেই শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘আশা’। আশা মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়, সংকট মোকাবিলার শক্তি জোগায় এবং উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শেখায়। এই উপলব্ধি থেকেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালের ৪ মার্চ গৃহীত এ/আরইএস/৭৯/২৭০ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ১২ জুলাইকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব হোপ’ হিসেবে ঘোষণা করে।

আন্তর্জাতিক আশা দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী আশা, শান্তি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সামাজিক সংহতি এবং মানবকল্যাণের চেতনাকে শক্তিশালী করা। জাতিসংঘের মতে, আশা কেবল একটি আবেগ নয়; এটি এমন এক ইতিবাচক শক্তি, যা ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্বকে সংকট অতিক্রম করে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। খ্যাতনামা মার্কিন কবি এমিলি ডিকিনসনের ভাষায়Ñআশা হলো ডানাওয়ালা এক পাখি, যা আমাদের আত্মার গভীরে বাসা বাঁধে এবং বিনা শব্দে সুর তুলে যায়।

বর্তমান বিশ্ব নানা চ্যালেঞ্জে আক্রান্ত। যুদ্ধ-বিগ্রহ, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বিভাজন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। এমন বাস্তবতায় আশা এক অমূল্য সামাজিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। আশা মানুষকে একে অপরের প্রতি সহমর্মী হতে শেখায় এবং বিভক্ত সমাজকে ঐক্যের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ক্ষমা, পুনর্মিলন ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে আশার ভূমিকা অপরিসীম।

মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় ‘আশা’ একটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ইতিবাচক শক্তি। বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী সি.আর. স্নাইডার তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য সাইকোলজি অব হোপ’-এ আশাকে লক্ষ্য অর্জনের ইচ্ছাশক্তি এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ খুঁজে বের করার সক্ষমতার সমন্বয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদী মানুষ সাধারণত অধিক আত্মবিশ্বাসী হন এবং সংকট মোকাবিলায় তাঁরা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানও নিশ্চিত করেছে যে, আশা মানুষের মস্তিষ্কের কর্মস্পৃহা ও ইতিবাচক আবেগকে উদ্দীপ্ত করে, যা মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। একইভাবে ভিক্টর ফ্রাঙ্কল তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘ম্যানস সার্চ ফর মিনিং’-এ দেখিয়েছেন যে, জীবনের অর্থ ও আশা মানুষকে চরম দুঃসময়েও টিকে থাকার শক্তি জোগায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য মানে কেবল রোগের অনুপস্থিতি নয়; বরং জীবনের চাপ মোকাবিলা করে উৎপাদনশীল থাকা এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা। এ ক্ষেত্রে আশা একটি মূল উপাদান। মানুষের মানসিক স্থিতি বজায় রাখা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে আশার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাতক্ষীরায় মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতায় আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছেÑআত্মহত্যার পথে পা বাড়ানো প্রায় প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই মূল কারণ ছিল হঠাৎ বা দীর্ঘদিনের তীব্র হতাশা এবং ভবিষ্যতের প্রতি সব ধরনের প্রত্যাশা হারিয়ে ফেলা। যারা আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরে এসেছেন, তাঁরাও স্বীকার করেছেন যে, সেই চরম মুহূর্তে তাঁদের প্রয়োজন ছিল সামান্য সহমর্মিতা, আন্তরিক শ্রবণ এবং ভবিষ্যতের প্রতি নতুন করে আশা জাগানোর মতো একটি মানবিক স্পর্শ। এই বাস্তবতা আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, আত্মহত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আশাহীনতার ভয়াবহ পরিণতি।

এ দিবসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা কেবল প্রযুক্তি বা ক্ষমতার ওপর নির্ভর করেনি; বরং নির্ভর করেছে মানুষের অন্তর্গত সাহস ও বিশ্বাসের ওপর। আজকের অনিশ্চিত বিশ্বে আশা হতে পারে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের মূল অনুপ্রেরণা। তাই ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রÑসবার সম্মিলিত দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ আশাবাদী হতে শেখে।

আন্তর্জাতিক আশা দিবসের মূল বার্তা একটাইÑ “অন্ধকার যত গভীরই হোক, আশার প্রদীপ নিভে যায় না। সেই আলোকধারাই মানুষকে বাঁচতে, এগিয়ে যেতে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে অনুপ্রাণিত করে।” আসুন, আজ আন্তর্জাতিক আশা দিবসে আমরা অন্তত একজন হতাশ মানুষকে সাহস জোগাই, একটি ভালো কথা বলি এবং সমাজে আশার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করি।