শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

খুলনায় চাঁদা দাবির অভিযোগে নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা-ভাঙচুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় চাঁদা দাবির অভিযোগে নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা-ভাঙচুর

সংবাদদাতা: খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী রোডের পিটিআই মোড় এলাকায় নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের দরজা, কাচ, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও একটি টেলিভিশন ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের বিপরীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রোজী জানান, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে চার থেকে পাঁচজন যুবক চাইনিজ কুড়াল নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রবেশ করেন। কোনো কথা না বলেই তাঁরা ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় দরজা, কাচ, দুটি এসি ও একটি টেলিভিশন ভাঙচুর করা হয়। পরে তাঁরা প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মুঠোফোন নিয়ে চলে যান। হামলাকারীদের কাছে পিস্তলও ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাচ ও এসি ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে চার থেকে পাঁচজনকে হামলায় জড়িত থাকতে দেখা গেছে। তাঁদের হাতে চাইনিজ কুড়াল ছিল।

ওসি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে কথা বলে চাঁদা দাবির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ফোন করে নূরে আলম নামে একজনকে চেনেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। চাঁদা দাবির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক এখনও পুলিশকে কিছু জানাননি।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, তাঁরা এর আগে একটি দ্রুত বিচার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ওই মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়েছিল। গত ২৬ অক্টোবর তাঁরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে, গত ২৪ অক্টোবর রাতে নগরীর বাবুখান রোডে সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর ও গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনা ঘটে। এর এক দিন পর সোনাডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় শাখায় গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার খানজাহান আলী রোডের নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল।

 

 

Ads small one

দেবহাটায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা রিসোর্স কর্মকর্তা মহিতোষ কর্মকার।

সভায় বক্তব্য দেন দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সদস্যসচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, দেবহাটা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আলহাজ মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাবিব মন্টু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আহমেদ তাহমীর সিদ্দিকী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাবুদ গাজী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তৌফিক এলাহী ও সাবুর আলী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফারুক মাহবুবুর রহমান, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর কে বাপ্পা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান ফরহাদ, জুলাই যোদ্ধা মুজাহিদ বিন ফিরোজ ও আবিদ হাসান তানভীরসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজন।
আলোচনা সভায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের তাৎপর্য তুলে ধরেন বক্তারা। তাঁরা স্বাধীন, সার্বভৌম ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মায়ের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বাবা-বোনকে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
মায়ের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বাবা-বোনকে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় মায়ের নামে থাকা জমি লিখে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ বাবা ও বোনকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বৃদ্ধা মায়ের হাত-পা বেঁধে তাঁকে জোর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বড় ছেলে ও তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের এক মেয়ে।

শনিবার সকালে পাইকগাছা থানায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হয়। এ সময় বৃদ্ধ বাবা ওমর আলী গাজী ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বড় ছেলে আব্দুর রহমান গাজী। তাঁর দাবি, মাকে নিজের কাছে রাখার জন্য তিনি নিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি ছোট ভাই বাবার কাছ থেকে জমি পেয়েছেন, তাই তিনিও জমি চান।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ ও থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাটকেলপোতা গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী গাজীর (৮০) দুই ছেলে ও চার মেয়ে। ছোট ছেলে জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকেন। বড় ছেলে আব্দুর রহমান গাজী পরিবার নিয়ে পাইকগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করেন। বৃদ্ধ ওমর আলী ও তাঁর স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬৫) ছোট ছেলের সংসারে থাকেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে ওমর আলী গাজী তাঁর মালিকানাধীন এক বিঘা জমি ছোট ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে মায়ের নামে থাকা আরও তিন বিঘা জমি লিখে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিরোধ জটিল আকার ধারণ করে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে আব্দুর রহমান গাজী তাঁর দুই ছেলে রাকিবুল্লাহ গাজী ও রিয়াজুল্লাহ গাজী এবং স্ত্রীকে নিয়ে পাটকেলপোতা গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে তাঁরা বৃদ্ধ বাবা ও বড় বোন ইরানী বেগমকে মারধর করে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বৃদ্ধা মা রাবেয়া বেগমের হাত-পা বেঁধে তাঁকে জোর করে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে তাঁকে পাইকগাছা পৌর এলাকায় অভিযুক্ত ছেলের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই রয়েছেন।
ঘটনার দিনই মেয়ে ইরানী বেগম বাদী হয়ে তাঁর ভাই আব্দুর রহমান গাজী ও দুই ভাইপোর বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

শনিবার থানায় শুনানির সময় ওমর আলী গাজী অভিযোগ করেন, মায়ের জমি লিখে নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আব্দুর রহমান গাজী মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাবা ছোট ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দিয়েছেন, তিনিও জমি চান। মাকে নিজের কাছে রাখার জন্য তিনি নিয়ে এসেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। তবে অনেকে তাঁকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন-অর-রশিদ বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। তবে বৃদ্ধা মাকে থানায় আনা হয়নি, তাই তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষ বুধবার পর্যন্ত সময় নিয়েছে। এর মধ্যে নিজেরা বিষয়টি মীমাংসা করবে বলে জানিয়েছে।

পাইকগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আবদুল মজিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির পৌর আহ্বায়ক আসলাম পারভেজ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা সহকারী অধ্যাপক আবদুল মমিন সানা, পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত সানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন ও পাইকগাছা থানার এসআই আসলাম হোসেন।
এসএফডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রণজিৎ কুমার ম-ল, বিএনপি নেতা তুষার কান্তি ম-ল, সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস, মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, পাইকগাছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল ওহাব, অ্যাডভোকেট টি এম সাইফুদ্দীন ও ইসলাম সুমন। এ সময় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।