মায়ের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বাবা-বোনকে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে
পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় মায়ের নামে থাকা জমি লিখে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ বাবা ও বোনকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বৃদ্ধা মায়ের হাত-পা বেঁধে তাঁকে জোর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বড় ছেলে ও তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের এক মেয়ে।
শনিবার সকালে পাইকগাছা থানায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হয়। এ সময় বৃদ্ধ বাবা ওমর আলী গাজী ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বড় ছেলে আব্দুর রহমান গাজী। তাঁর দাবি, মাকে নিজের কাছে রাখার জন্য তিনি নিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি ছোট ভাই বাবার কাছ থেকে জমি পেয়েছেন, তাই তিনিও জমি চান।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ ও থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাটকেলপোতা গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী গাজীর (৮০) দুই ছেলে ও চার মেয়ে। ছোট ছেলে জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকেন। বড় ছেলে আব্দুর রহমান গাজী পরিবার নিয়ে পাইকগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করেন। বৃদ্ধ ওমর আলী ও তাঁর স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬৫) ছোট ছেলের সংসারে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে ওমর আলী গাজী তাঁর মালিকানাধীন এক বিঘা জমি ছোট ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে মায়ের নামে থাকা আরও তিন বিঘা জমি লিখে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিরোধ জটিল আকার ধারণ করে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে আব্দুর রহমান গাজী তাঁর দুই ছেলে রাকিবুল্লাহ গাজী ও রিয়াজুল্লাহ গাজী এবং স্ত্রীকে নিয়ে পাটকেলপোতা গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে তাঁরা বৃদ্ধ বাবা ও বড় বোন ইরানী বেগমকে মারধর করে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বৃদ্ধা মা রাবেয়া বেগমের হাত-পা বেঁধে তাঁকে জোর করে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে তাঁকে পাইকগাছা পৌর এলাকায় অভিযুক্ত ছেলের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই রয়েছেন।
ঘটনার দিনই মেয়ে ইরানী বেগম বাদী হয়ে তাঁর ভাই আব্দুর রহমান গাজী ও দুই ভাইপোর বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
শনিবার থানায় শুনানির সময় ওমর আলী গাজী অভিযোগ করেন, মায়ের জমি লিখে নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আব্দুর রহমান গাজী মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাবা ছোট ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দিয়েছেন, তিনিও জমি চান। মাকে নিজের কাছে রাখার জন্য তিনি নিয়ে এসেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। তবে অনেকে তাঁকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন-অর-রশিদ বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। তবে বৃদ্ধা মাকে থানায় আনা হয়নি, তাই তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষ বুধবার পর্যন্ত সময় নিয়েছে। এর মধ্যে নিজেরা বিষয়টি মীমাংসা করবে বলে জানিয়েছে।









