রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খুলনা প্রেসক্লাবে নির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
খুলনা প্রেসক্লাবে নির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

খুলনা প্রেসক্লাবে নির্বাচিত কমিটি ক্লাব পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মোস্তফা সরোয়ার ও নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম বিদায়ী অন্তর্বতীকালীন কমিটির আহবায়ক এনামুল হক ও সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুলের কাছ থেকে এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচিত কমিটির সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন ও মো. জাহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহা, যুগ্ম-সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন সজল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন, পাঠাগার, প্রকাশনা ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক বশির হোসেন. কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মাকসুদুর রহমান মাকসুদ, কাজী মোতাহার রহমান, মহেন্দ্রনাথ সেন, সোহেল মাহমুদ ও কে এম জিয়াউস সাদাত।

এ সময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেব আলী ও হাসান আহামেদ মোল্লা, ক্লাবের সদস্য ও দৈনিক পূর্বাঞ্চল সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সনি, ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, সদস্য আতিয়ার পারভেজ, মাহবুবুর রহমান মুন্না, এস এম কামাল হোসেন, এস এম নূর হাসান জনি, গাজী মনিরুজ্জামান, শেখ আল এহসান, উত্তম মন্ডল, দীলিপ কুমার বর্মন, ইয়াসীন আরাফাত রুমী, মোঃ হেলাল মোল্লা, আব্দুর রাজ্জাক রানা, খলিলুর রহমান সুমন, নাজমুল হক পাপ্পু, আলমগীর হান্নান, সুনীল কুমার দাস, মো. জাকারিয়া হোসেন তুষার, শেখ জাহিদুল ইসলাম, মোঃ সোহেল রানা, এস এম সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মাসরুর মুর্শেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

 

 

Ads small one

অনলাইন জুয়ার বকেয়া টাকার জন্য মোটরসাইকেল ছিনতাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন জুয়ার বকেয়া টাকার জন্য মোটরসাইকেল ছিনতাই

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অনলাইন জুয়ার বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাছারী ব্রিজ এলাকা থেকে ছেলে নাহিদের নিকট হতে ঐ মটর সাইকেল ছিনতাই করা হয় বলে অভিযোগ তার। এঘটনায় রোববার দুপুরে আব্দুল হাকিম শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি উপজেলার উত্তর আটুলিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে। প্রধান অভিযুক্ত মিলন শেখ একই এলাকার খোকন শেখের ছেলে।

আব্দুল হাকিমের ভাষ্য মিলনসহ তার এলাকায় অনলাইন জুয়া (ওয়ানএক্সবেট) এর কয়েকজন মাষ্টার এজেন্ট রয়েছে। মিলনের ফাঁদে পড়ে ছেলে নাহিদ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হওয়ার জেরে প্রায় ২৪ লাখ টাকা দেনা পরিশোধ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন সমুদয় পাওনা পরিশোধ করার পরও মাষ্টার এজেন্ট মিলন আরও ৬০ হাজার টাকার জন্য কয়েকদিন ধরে চাপ দিচ্ছিল। একপর্যায়ে শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে কাছারি ব্রিজ এলাকায় পৌছালে ১২/১৪ জন সঙ্গীকে নিয়ে মিলন নাহিদেও নিকট থেকে তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়। নানাভাবে টালবাহানার পরও রোববার দুপুর পর্যন্ত মোটর সাইকেল ফিরিয়ে না দেয়ায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত মিলনের দাবি অনলাইন জুয়ার বকেয়া না, বরং ধান বিক্রির টাকা পাওনা তার। অনাদায়ী থাকা টাকা দিতে না পেরে রোববার নাহিদ নিজে তার বাবার মটর সাইকেল রেখে চলে যায়।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

ভয়াবহ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ সমস্যায় শ্যামনগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
ভয়াবহ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ সমস্যায় শ্যামনগর

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বিদ্যুতের লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার পৌরসদরে লোডশেডিং তুলনামুলক কম হলেও গ্রামাঞ্চলে তা তীব্র।

 

গত চারদিনের তথ্য বিশ্লেেেষন দেখা যায় উপজেলার পৌরসদরে দৈনিক পাঁচ থেকে আট ঘন্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। তবে উপজেলার অপর ১১টি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১২ থেকে ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত থাকছে। উপজেলার প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকের জন্য মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ২৪ মেগাওয়াট। সেখানে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ মেগাওয়াট।

এদিকে লোডশেডিং এর পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে ভোল্টেজ সমস্যা মারাত্বক পর্যায়ে পৌছে। কয়েক মিনিট পরপর ভোল্টেজ উঠানামার দরুন মুল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। আবার যথেষ্ট ভোল্টেজ না থাকায় প্রয়োজনীয় কাজ ঠিকমত হচ্ছে না।

এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে গত শনিবার বিকালে শ্যামনগর মাইক্রোস্ট্যান্ডে এলাকাবাসীর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে একই এলাকায় পথসভা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি করতে সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

 

ইতিহাসের সর্বোচ্চ রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ, লক্ষ্য ৫১ বিলিয়ন ডলার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
ইতিহাসের সর্বোচ্চ রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ, লক্ষ্য ৫১ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন শুধু একটি আর্থিক সূচক নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক আস্থা এবং বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। কয়েক বছর আগেও রিজার্ভ ছিল দেশের অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক। কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতা, আমদানি ব্যয়ের উল্লম্ফন, ডলার সংকট এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতার কারণে সেই রিজার্ভ দ্রুত কমে যায়। এখন সেই অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। লক্ষ্যটি অর্জিত হলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জনের পথ মোটেও সহজ নয়। কারণ রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির গতিও ধরে রাখতে হবে।

পাঁচ বছর পর নতুন রেকর্ডের স্বপ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৪৮ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।

করোনা মহামারির সময় আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একইসময়ে প্রবাসী আয় রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। ফলে রিজার্ভ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে।

কিন্তু মহামারির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্য ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যায়। একই সময়ে রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা দেখা দেয়। ফলে কয়েক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এখন সরকার সেই পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-পূর্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী, রফতানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরে রিজার্ভ ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগোতে পারে।

রিজার্ভের অঙ্ক নিয়ে বিভ্রান্তি কেন

বাংলাদেশে রিজার্ভ নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় হিসাব পদ্ধতির পার্থক্যকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে গ্রস রিজার্ভ প্রকাশ করে, সেখানে নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ, বৈদেশিক বন্ড, ট্রেজারি বিল, আইএমএফের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং অন্যান্য কিছু সম্পদও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিএপিএম-৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্টস ম্যানুয়াল-৬) পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করে। এই পদ্ধতিতে শুধু সহজে ব্যবহারযোগ্য ও তরল বৈদেশিক সম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে দুই হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি হয়।

সর্বশেষ ২৩ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আইএমএফের বিএপিএম-৬ পদ্ধতিতে একই সময়ের রিজার্ভ ছিল মাত্র ২৯ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সরকারের ৫১ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভের হিসাব অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেমিট্যান্স এখন অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ভরসা

চলতি অর্থবছরে অর্থনীতির সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো—রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী উত্থান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে প্রায় ২ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২৩ মে একদিনেই দেশে এসেছে ১৭৩ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৬ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রায় ১১ মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানো সহজ হওয়া এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর হার বৃদ্ধি—এই চারটি কারণে রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

বিদেশে কর্মী যাওয়া বাড়ছে

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮৯ হাজার ৮৭০ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৫ হাজার ৩৪০ জন।

নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে কর্মী নিয়োগ বাড়ায় আগামী বছরগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকার আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ডলার কিনছে

একসময় বাজারে ডলার সংকট সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংককে। এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে।

২৩ মে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা বিনিময় হারে ৬ কোটি ডলার কিনেছে। শুধু মে মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয় দাঁড়িয়েছে ৬২৫ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি অর্থবছরে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার অর্থ হচ্ছে বাজারে ডলারের সরবরাহ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অতিরিক্ত ডলার সংগ্রহ করে রিজার্ভ পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে—রিজার্ভ বাড়বে নাকি বিনিয়োগ? রিজার্ভ বৃদ্ধির লক্ষ্যকে স্বাগত জানালেও অর্থনীতিবিদরা একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলছেন।

তাদের মতে, অর্থনীতি কি শুধু রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য পরিচালিত হবে, নাকি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে?

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, রিজার্ভ বাড়াতে হলে রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ শক্তিশালী রাখতে হবে। কিন্তু একই সময়ে যদি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ানো হয়, তাহলে মূলধনি যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও বাড়বে। আর আমদানি বাড়লে ডলারের চাহিদা বাড়বে, যা রিজার্ভ বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে।

অর্থাৎ সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।

আমদানি-রফতানির চিত্র এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে রফতানি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ অবস্থায় বহিঃখাতের সামগ্রিক চিত্রকে পুরোপুরি শক্তিশালী বলা যাচ্ছে না।

রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে রিজার্ভ ধরে রাখা কঠিন হবে। তাই আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার আমদানি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, রফতানি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে।

আইএমএফ ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ বড় ভূমিকা রাখবে

রিজার্ভ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যমান ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির পরিবর্তে ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।

চুক্তি সম্পন্ন হলে আগামী অর্থবছরে আইএমএফ থেকে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার সহায়তা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অর্থ সরাসরি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তবে একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধ ও সুদের চাপও বাড়াবে।

সামনে যে ঝুঁকিগুলো রয়েছে

রিজার্ভ বৃদ্ধির পথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়তে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিলে রফতানি আয় কমে যেতে পারে। শ্রমবাজার সংকুচিত হলে রেমিট্যান্সে ধাক্কা লাগতে পারে।

অন্যদিকে অর্থনীতি চাঙা হলে বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন বাড়বে, যার ফলে আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বাড়তে পারে। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের ওপর অতি নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঋণঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

ভারসাম্যের পরীক্ষায় সরকার

অর্থনীতির বাস্তবতা হলো, শুধু বড় অঙ্কের রিজার্ভ থাকলেই অর্থনীতি শক্তিশালী হয় না। একটি দেশের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রফতানি সক্ষমতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর। বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একদিকে ডলার সংকট কাটিয়ে উঠতে হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনীতিকে নতুন করে গতি দিতে হচ্ছে।

তাই আগামী অর্থবছরে ৫১ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ অর্জনের লক্ষ্য নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী এবং ইতিবাচক। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের গতি ধরে রাখা আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

রেমিট্যান্স, রফতানি, বৈদেশিক সহায়তা এবং নতুন বিনিয়োগ—এই চারটি খাত একসঙ্গে শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশ শুধু রিজার্ভের নতুন রেকর্ডই গড়বে না, বরং আরও টেকসই ও শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তিও তৈরি করতে পারবে।