রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইতিহাসের সর্বোচ্চ রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ, লক্ষ্য ৫১ বিলিয়ন ডলার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
ইতিহাসের সর্বোচ্চ রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ, লক্ষ্য ৫১ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন শুধু একটি আর্থিক সূচক নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক আস্থা এবং বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। কয়েক বছর আগেও রিজার্ভ ছিল দেশের অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক। কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতা, আমদানি ব্যয়ের উল্লম্ফন, ডলার সংকট এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যহীনতার কারণে সেই রিজার্ভ দ্রুত কমে যায়। এখন সেই অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।

এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। লক্ষ্যটি অর্জিত হলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জনের পথ মোটেও সহজ নয়। কারণ রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির গতিও ধরে রাখতে হবে।

পাঁচ বছর পর নতুন রেকর্ডের স্বপ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৪৮ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।

করোনা মহামারির সময় আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একইসময়ে প্রবাসী আয় রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। ফলে রিজার্ভ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে।

কিন্তু মহামারির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্য ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যায়। একই সময়ে রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা দেখা দেয়। ফলে কয়েক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এখন সরকার সেই পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-পূর্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী, রফতানি আয় বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরে রিজার্ভ ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগোতে পারে।

রিজার্ভের অঙ্ক নিয়ে বিভ্রান্তি কেন

বাংলাদেশে রিজার্ভ নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় হিসাব পদ্ধতির পার্থক্যকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে গ্রস রিজার্ভ প্রকাশ করে, সেখানে নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ, বৈদেশিক বন্ড, ট্রেজারি বিল, আইএমএফের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং অন্যান্য কিছু সম্পদও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিএপিএম-৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্টস ম্যানুয়াল-৬) পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করে। এই পদ্ধতিতে শুধু সহজে ব্যবহারযোগ্য ও তরল বৈদেশিক সম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে দুই হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি হয়।

সর্বশেষ ২৩ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আইএমএফের বিএপিএম-৬ পদ্ধতিতে একই সময়ের রিজার্ভ ছিল মাত্র ২৯ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সরকারের ৫১ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভের হিসাব অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেমিট্যান্স এখন অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ভরসা

চলতি অর্থবছরে অর্থনীতির সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো—রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী উত্থান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে প্রায় ২ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২৩ মে একদিনেই দেশে এসেছে ১৭৩ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৬ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রায় ১১ মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানো সহজ হওয়া এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর হার বৃদ্ধি—এই চারটি কারণে রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

বিদেশে কর্মী যাওয়া বাড়ছে

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮৯ হাজার ৮৭০ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৫ হাজার ৩৪০ জন।

নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে কর্মী নিয়োগ বাড়ায় আগামী বছরগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকার আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ডলার কিনছে

একসময় বাজারে ডলার সংকট সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংককে। এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে।

২৩ মে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা বিনিময় হারে ৬ কোটি ডলার কিনেছে। শুধু মে মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয় দাঁড়িয়েছে ৬২৫ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি অর্থবছরে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার অর্থ হচ্ছে বাজারে ডলারের সরবরাহ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অতিরিক্ত ডলার সংগ্রহ করে রিজার্ভ পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে—রিজার্ভ বাড়বে নাকি বিনিয়োগ? রিজার্ভ বৃদ্ধির লক্ষ্যকে স্বাগত জানালেও অর্থনীতিবিদরা একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলছেন।

তাদের মতে, অর্থনীতি কি শুধু রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য পরিচালিত হবে, নাকি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে?

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, রিজার্ভ বাড়াতে হলে রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ শক্তিশালী রাখতে হবে। কিন্তু একই সময়ে যদি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ানো হয়, তাহলে মূলধনি যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও বাড়বে। আর আমদানি বাড়লে ডলারের চাহিদা বাড়বে, যা রিজার্ভ বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে।

অর্থাৎ সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।

আমদানি-রফতানির চিত্র এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে রফতানি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ অবস্থায় বহিঃখাতের সামগ্রিক চিত্রকে পুরোপুরি শক্তিশালী বলা যাচ্ছে না।

রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে রিজার্ভ ধরে রাখা কঠিন হবে। তাই আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার আমদানি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, রফতানি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে।

আইএমএফ ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ বড় ভূমিকা রাখবে

রিজার্ভ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যমান ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির পরিবর্তে ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।

চুক্তি সম্পন্ন হলে আগামী অর্থবছরে আইএমএফ থেকে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার সহায়তা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অর্থ সরাসরি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তবে একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধ ও সুদের চাপও বাড়াবে।

সামনে যে ঝুঁকিগুলো রয়েছে

রিজার্ভ বৃদ্ধির পথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়তে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিলে রফতানি আয় কমে যেতে পারে। শ্রমবাজার সংকুচিত হলে রেমিট্যান্সে ধাক্কা লাগতে পারে।

অন্যদিকে অর্থনীতি চাঙা হলে বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন বাড়বে, যার ফলে আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বাড়তে পারে। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের ওপর অতি নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঋণঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

ভারসাম্যের পরীক্ষায় সরকার

অর্থনীতির বাস্তবতা হলো, শুধু বড় অঙ্কের রিজার্ভ থাকলেই অর্থনীতি শক্তিশালী হয় না। একটি দেশের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রফতানি সক্ষমতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর। বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একদিকে ডলার সংকট কাটিয়ে উঠতে হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনীতিকে নতুন করে গতি দিতে হচ্ছে।

তাই আগামী অর্থবছরে ৫১ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ অর্জনের লক্ষ্য নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী এবং ইতিবাচক। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের গতি ধরে রাখা আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

রেমিট্যান্স, রফতানি, বৈদেশিক সহায়তা এবং নতুন বিনিয়োগ—এই চারটি খাত একসঙ্গে শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশ শুধু রিজার্ভের নতুন রেকর্ডই গড়বে না, বরং আরও টেকসই ও শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তিও তৈরি করতে পারবে।

Ads small one

সম্পাদকীয়: চামড়া শিল্পের বিপর্যয় ও অপচয় আর কত দিন?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: চামড়া শিল্পের বিপর্যয় ও অপচয় আর কত দিন?

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানি। আর এই কোরবানিকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনীতি ও চামড়া শিল্পে এক বিশাল কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া নিয়ে যে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে, তা এবারও পিছু ছাড়েনি। উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বাধ্য হয়ে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা কিংবা পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখার চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি কেবল একটি জাতীয় সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং দেশের সম্ভাবনাময় একটি শিল্পের করুণ পরিণতির স্পষ্ট সংকেত।

 

শ্যামনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিশেষ করে দুর্গম গাবুরা বা বুড়িগোয়ালিনী এলাকার মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষ দিন-রাত অপেক্ষা করেও চামড়ার কোনো ক্রেতা পাননি। সরকার প্রতিবছরই কাঁচা চামড়ার একটি দাম নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় না—তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের বক্তব্য অনুযায়ী, লবণের আকাশচুম্বী দাম এবং বাড়তি পরিবহন খরচের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় তাঁরা চামড়া কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। এর ওপর যুক্ত হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও আড়তের অভাব।

 

এই সংকটের বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, আমাদের দেশের কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর আয়ের একটা বড় অংশ আসে কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ থেকে, যা দিয়ে সারাবছর দুস্থ ও অনাথ শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণ করা হয়। চামড়ার বাজারে এই ধসের কারণে এই মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলো চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ল। দ্বিতীয়ত, শত শত চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা বা যত্রতত্র ফেলে রাখার কারণে তা পচে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের নাজুক পরিবেশকে আরও ঝুঁকিতে ফেলবে।

 

প্রশ্ন হলো, বছরের পর বছর ধরে কেন এই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? কেন ট্যানারি মালিক ও বড় আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কাছে মাঠপর্যায়ের প্রান্তিক মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে থাকবেন? সরকার শুধু দাম নির্ধারণ করেই যদি দায়িত্ব শেষ মনে করে, তবে মাঠপর্যায়ের এই বিশৃঙ্খলা কোনোদিনই থামবে না।
চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে হলে এবং এই জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করতে হলে এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।

 

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি উদ্যোগে চামড়া সংরক্ষণের জন্য অস্থায়ী হিমাগার বা আধুনিক সেন্ট্রাল ডিপো তৈরি করা জরুরি, যাতে লবণের দাম বাড়লেও চামড়া পচে নষ্ট না হয়। একই সঙ্গে, সিন্ডিকেট ভেঙে মাঠপর্যায়ে সরকারি নজরদারি ও মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে, যাতে ট্যানারি মালিকদের দেওয়া সেন্ট্রাল লোন বা সুবিধার সুফল প্রান্তিক বিক্রেতারাও পান। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকেরা শ্যামনগরের এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে চামড়া শিল্পের এই প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দূরীকরণে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন।

 

 

 

 

ঈদে সাতক্ষীরার পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ঢল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
ঈদে সাতক্ষীরার পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ঢল

জিএম আমিনুল হক: পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে সাতক্ষীরার প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল নামছে। সুন্দরবন, দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ, মোজাফফর গার্ডেন, ভোমরা স্থলবন্দর ও ঐতিহাসিক শ্যামনগর জমিদারবাড়িসহ জেলার বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জেলা।

বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের কলাগাছি, দোবেকি ও আকাশলীনা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঈদের পর থেকেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগ জানায়, ঈদের গত তিন দিনে শুধু মুন্সিগঞ্জ রেঞ্জ দিয়েই আট হাজারের বেশি পর্যটক সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। নৌকা ও লঞ্চে করে হরিণ, কুমির ও বানর দেখতে ভিড় করছেন সবাই।

খুলনা থেকে আসা দর্শনার্থী রায়হান কবির বলেন, “কোরবানির পর ছুটি পেয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এসেছি। সুন্দরবনের নীরবতা ও নদীর ঢেউ মন ভালো করে দেয়।”

অন্যদিকে, ইছামতী নদীর পাড়ে দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ পর্যটনকেন্দ্রেও প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার মানুষ আসছেন। এখানকার ঝুলন্ত সেতু ও ওয়াচ টাওয়ারে তরুণ-তরুণীদের সেলফি তোলার হিড়িক দেখা গেছে। স্থানীয় চায়ের দোকানি মনিরুল বলেন, ঈদের পর বিক্রি তিন গুণ বেড়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের কোল ঘেঁষে শতাধিক বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা মোজাফফর গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্টে তিল ধারণের জায়গা নেই। এখানকার রাইড, চিড়িয়াখানা আর লেকের প্যাডেল বোটে চড়তে দর্শনার্থীদের লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জানান, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার দর্শনার্থী আসছেন। ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভোমরা স্থলবন্দর, শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দির ও প্রবাজপুর শাহী মসজিদেও গতবারের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ দর্শনার্থী বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।

হঠাৎ পর্যটকের চাপে সাতক্ষীরা শহরের প্রায় সব আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট অগ্রিম বুকড হয়ে গেছে।

রেস্তোরাঁগুলোতে স্থানীয় গলদা, বাগদা ও কাঁকড়ার চাহিদা বেড়েছে। ডাব বিক্রেতা থেকে শুরু করে নৌকার মাঝি, ভ্যানচালক ও স্থানীয় ফটোগ্রাফারদের আয় বেড়েছে দ্বিগুণ।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, শুধু ঈদের এই ছুটিতেই জেলায় প্রায় ১২ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুন্সিগঞ্জ ঘাট থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রলার সুন্দরবনে যাচ্ছে। দর্শনার্থীরা গোলপাতা, মধু ও বেতের তৈরি নানা স্যুভেনির কিনছেন।

পর্যটকদের বাড়তি ভিড়ে কিছু অব্যবস্থাপনার অভিযোগও উঠেছে। গাড়ি পার্কিং সংকট, অপর্যাপ্ত টয়লেট ও বসার জায়গার অভাবে অনেক দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বোতল ও চিপসের প্যাকেট যেখানে-সেখানে ফেলায় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সড়কপথে সুন্দরবন সাতক্ষীরাকে ব্র্যান্ডিং করেছে। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। উপযুক্ত পরিবেশ, ভালো সড়ক ও মানসম্মত হোটেল নিশ্চিত করতে পারলে এখান থেকে বিপুল রাজস্ব আয় সম্ভব।”

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক জানান, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা মনিটরিং ও মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে। কোথাও যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না হয়, সে জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। এ ছাড়া কালিগঞ্জে নতুন ইকো-পার্ক ও শ্যামনগরে ট্যুরিজম জোন করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

 

 

 

 

 

নিজের উপার্জনে প্রথম কোরবানি: তরুণদের চোখে অন্যরকম ঈদের আনন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
নিজের উপার্জনে প্রথম কোরবানি: তরুণদের চোখে অন্যরকম ঈদের আনন্দ

আসাদুজ্জামান সরদার: ঈদুল আজহার আনন্দ সবার জন্যই স্পেশাল, কিন্তু এবার সাতক্ষীরার বেশ কয়েকজন তরুণের কাছে এই আনন্দের মাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এতকাল যারা বাবার দেওয়া বা পারিবারিক কোরবানির অংশীদার ছিলেন, তারা এবার নিজেই কোরবানিদাতা। নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত প্রথম বেতনের টাকা, উৎসব বোনাস কিংবা প্রথম ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়ে এবার আল্লাহর নামে পশু উৎসর্গ করছেন তারা। এই প্রথম কোরবানির” অনুভূতিতে জড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত আত্মতৃপ্তি, দায়িত্ববোধ এবং পরিবারের জন্য সীমাহীন গর্ব।

স্বপ্ন পূরণ: সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার রায়হানুল বাশার। গত ৮ মাস হলো লেখাপড়া শেষ করে নর্দাণ ইউনিভার্সিটি খুলনার ক্যাম্পাসে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছেন। এবার ঈদে তার মা গরুর ভাগে শরিক থাকলেও, রায়হানুল নিজের উপার্জনের টাকায় প্রথমবার এককভাবে একটি ছাগল কোরবানি দিচ্ছেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে প্রভাষক রায়হানুল বাশার বলেন, ছোটবেলা থেকে আব্বাকে দেখতাম হাটে গিয়ে গরু কিনতে। এবার যখন নিজের টাকায় হাটে গিয়ে দরদাম করে একটা খাসি কিনলাম, তখন বুকটা এক অদ্ভুত গর্বে ভরে উঠেছিল। মায়ের হাতে যখন হাটের রসিদটা এনে দিলাম, মায়ের চোখে আনন্দাশ্রু দেখেছি। নিজের উপার্জনে প্রথম কোরবানি দেওয়ার এই আনন্দ কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব না।

২৮ বছর পর ত্যাগের আসল আনন্দ পেলেন আয়াত উল্লাহ: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের তরুণ আয়াত উল্লাহ। তিনি বর্তমানে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ‘রবি’র ‘সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। জীবনের ২৮টি বছর পেরিয়ে এবারই প্রথম নিজের উপার্জনের টাকায় এককভাবে একটি ছাগল কোরবানি দিয়েছেন তিনি। এর আগে প্রতিবছর তার বাবা কিংবা পরিবার থেকে কোরবানি দেওয়া হতো।

নিজের অনন্য এই অনুভূতি প্রকাশ করে আয়াত উল্লাহ বলেন, যদি ফ্র্যাঙ্কলি বলি, কোরবানির অনুভূতি সবসময়ই ভালো। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে-যখন নিজের উপার্জনের টাকায় নিজে কোরবানি দেওয়া যায় এবং সেই মাংস সবাইকে খাওয়ানো যায়, সেই অনুভূতিটা একদমই ডিফরেন্ট। ছোটবেলা থেকে শুধু ঈদের আনন্দের ব্যাপারটা দেখে আসছি। কিন্তু নিজের টাকায় কোরবানি দেওয়ার পর সেই মাংস যখন সবাইকে ভাগ-বাটোয়ারা করে দিচ্ছিলাম, তখন ত্যাগ করার যে আসল ভালো লাগা, সেটা এবারই প্রথম পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এক কথায় ছোট করে বললে, এই ২৮ বছর শুধুমাত্র ঈদের আনন্দটুকুই উপভোগ করেছি। কিন্তু কোরবানির ঈদের যে ত্যাগ করার আনন্দটা, ত্যাগ করতে পারার যে মহিমাটা এবং মানুষকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেও যে আনন্দ-এইটা এবারই প্রথম উপভোগ করছি।

নতুন উদ্যোক্তার প্রথম সাফল্য: সাতক্ষীরার রাজার বাগান এলাকার আরেক তরুণ উদ্যোক্তা রায়হান কবির। গত দুই বছর ধরে পুকুরে মাছ চাষ ও ছাগল পালন করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমের পর গত দুই বছরে তার ব্যবসা বেশ ভালো অবস্থানে এসেছে। এবার তিনি নিজের আয়ে পরিবারের সবার সাথে মিলে বড় কোরবানি দিচ্ছেন।

হাটের অভিজ্ঞতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দ জানিয়ে রায়হান কবির বলেন, নিজের খামারের পশু দেখভালের পাশাপাশি এবার হাটে গিয়ে যখন নিজের টাকায় পছন্দের পশুটি কিনলাম, সেই অভিজ্ঞতা দারুণ! প্রথমবার নিজের উপার্জনের টাকায় কেনা পশুকে ঘরে আনার পর পাড়ার সবাই যখন দেখতে আসছিল, তখন অন্যরকম এক তৃপ্তি পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি জীবনে স্বাবলম্বী হতে পেরেছি।

এই তরুণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথম কোরবানিদাতার এই আনন্দ কেবল হাটের কেনাকাটা বা কোরবানি দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। পশুটি বাড়িতে আনার পর তার যতœ নেওয়া, ঘাস-খড় খাওয়ানো এবং পশুর সাথে ছবি বা ছোট ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার মধ্যেও তারা এক ধরণের অনাবিল আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার রাজার বাগান এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ বলেন, তরুণ প্রজন্ম যখন পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের শুরুতেই অপচয় না করে নিজের আয়ে কোরবানি দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে, তখন সমাজ ও পরিবার দুটোই উপকৃত হয়। এটি তাদের যেমন দায়িত্বশীল করে তোলে, তেমনি ত্যাগের মহিমাকেও হৃদয়ে ধারণ করতে শেখায়।