সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

খোলা কলাম: অসহায় মানুষের নির্ভরতার ঠিকানা লিগ্যাল এইড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
খোলা কলাম: অসহায় মানুষের নির্ভরতার ঠিকানা লিগ্যাল এইড

গাজী হাবিব
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সবার জন্য আইনের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো – অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সামাজিক প্রভাব এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে দেশের অসংখ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পরিচালিত লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আজ অসহায় মানুষের জন্য এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশে সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ২০০০ সালে “আইনগত সহায়তা প্রদান আইন” পাসের মাধ্যমে এবং ২০০১ সালে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। তবে কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে ২০০৯ সালে পুনর্গঠনের পর। জেলা পর্যায়ে অফিস স্থাপন, স্থানীয় কমিটি গঠন এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম চালুর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ সেবা সম্পর্কে জানার আগ্রহ ও অংশগ্রহণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই অগ্রগতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। ২০০৯ সালে যেখানে মাত্র ৯ হাজার ১৬০ জন মানুষ এই সেবা গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজারেরও বেশি। সময়ের ধারাবাহিকতায় এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জনে পৌঁছেছে। শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, এই তথ্য প্রমাণ করে – আইনগত সহায়তা এখন মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সমাজে নারীর অধিকার সচেতনতার ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের আওতায় শুধু মামলা পরিচালনাই নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ, মামলা দায়ের ও পরিচালনা, আইনজীবী নিয়োগ, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি (অউজ), আদালতের খরচ বহন, ডিএনএ পরীক্ষার ব্যয় প্রদান, রায়ের অনুলিপি সরবরাহসহ আরও নানা সেবা। ফলে একজন দরিদ্র মানুষ শুধু মামলা করার সুযোগই পাচ্ছেন না, বরং পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘেœ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তাও পাচ্ছেন।
এই কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সহজপ্রাপ্যতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতা। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ১৬৬৯৯ নম্বরে ফোন করে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা যায়। এছাড়া ‘বিডি লিগ্যাল এইড’ অ্যাপ চালুর মাধ্যমে অনলাইনেও সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করে এই সুবিধা নিতে পারছেন। ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।
লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের প্রভাব বিচার ব্যবস্থায়ও দৃশ্যমান। মামলার নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৯ সালে যেখানে মাত্র ৩ হাজার ৫২৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫৫-এ। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি মামলা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতেও সহায়তা করছে।
কারা এই সেবা পাওয়ার যোগ্য- এ প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ। লিগ্যাল এইড মূলত আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন, নির্যাতিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত হলেও, আইনগত তথ্য ও পরামর্শ সেবা যে কেউ গ্রহণ করতে পারেন। বিশেষভাবে সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- দরিদ্র নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক ভাতা প্রাপ্ত নাগরিক, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি, এসিডদগ্ধ নারী-শিশু, স্বামী পরিত্যক্তা বা বিধবা নারী, বিনা বিচারে আটক অসচ্ছল ব্যক্তি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ। অর্থাৎ, সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আইনের সুরক্ষার আওতায় আনার জন্যই এই উদ্যোগ।
সাতক্ষীরা জেলায় লিগ্যাল এইড তার কার্যক্রম চলমান রেখেছে প্রায় শুরু থেকেই। তবে দেশের সামগ্রীক অবস্থানে এ জেলার অনেক মানুষ এখনো জানে না লিগ্যাল এইড কি? শুরুর দিকে এ সংখ্যা একেবারে শূণ্যের কাছাকাছি থাকলেও উপকূলীয় জেলা হিসেবে এখানে অনেক এনজিও সরকারের এই সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় কিছুটা হলেও পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে তার পরিমান এ জেলার মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের কাছাকাছি হবে।
এ জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সব থেকে নাজুক অবস্থানে আছে- উপকূলীয় তিন উপজেলা। যে এলাকার মানুষ প্রতি পদে পদে প্রভাবশালীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়। আর এ নির্যাতন তালিকায় দীর্ঘ সারিতে অসহায় নারীরা সবথেকে বড় স্থান দখল করে আছে। লিগ্যাল এইড সম্পর্কিত যে কোন ধরনের বিষয়ে প্রচার-প্রসারে এ অবস্থান থেকে আরো বেশি মানুষকে সরকারী সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব।
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার একা নয়; আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ইউকেএআইডি শুরু থেকেই সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, যা এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর করেছে।
তবে সব সাফল্যের মাঝেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এখনও অনেক মানুষ এই সেবার বিষয়ে অবগত নন। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়ন, দ্রুততা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা বাড়ানোও জরুরি। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে তাদের মাধ্যমে যদি ইউনিয়নের প্রতিটা ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে আলোচনা সভার আয়োজন করে অসহায় মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব।
লিগ্যাল এইড অসহায় মানুষের ন্যায়বিচারের পথে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন। রাষ্ট্র চাইলে তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকের পাশেও দাঁড়াতে পারে। একসময় যে মানুষগুলো বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, আজ তারা জানে- আইন তাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। আর এই বিশ্বাসই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। লেখক: সাংবাদিক ও অধিকার কর্মী। লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

১৬ বছরের প্রতীক্ষা শেষে চ্যানেল ওয়ানের নবযাত্রা উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
১৬ বছরের প্রতীক্ষা শেষে চ্যানেল ওয়ানের নবযাত্রা উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ‘সম্ভাবনার কথা বলে’ স্লোগানকে সামনে রেখে নবউদ্যমে যাত্রা করলো চ্যানেল ওয়ান। সোমবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরায় এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবযাত্রার এই শুভক্ষণ উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের এক বিশেষ মুহূর্তে চ্যানেল ওয়ানের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের ১৬টি রক্তিম গোলাপ দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। ১৬ বছরের দীর্ঘ বিরতি এবং সেই অপেক্ষার প্রতিটি বছরের প্রতিচ্ছবি হিসেবে এই ১৬টি গোলাপের মাধ্যমে এক অনন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
শহরের কামালনগরে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চ্যানেল ওয়ানের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি নাজমুল শাহাদাৎ জাকির।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক পত্রদূতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম এবং দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলানিউজের তানজির আহমেদ কচি, সমকালের কিশোর কুমার, বাংলাদেশ বুলেটিনের মিলন বিশ্বাস রুদ্র, রায়হান হোসেন ও রাকিব হোসেনসহ আরো অনেকে।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর চ্যানেল ওয়ান আবারও ফিরে আসায় সাংবাদিক মহলে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১৬টি গোলাপের যে স্নিগ্ধতা দিয়ে এই যাত্রা শুরু হলো, চ্যানেল ওয়ান তার বস্তুনিষ্ঠতা দিয়ে দ্রুততম সময়ে জনআস্থা ফেরাতে সক্ষম হবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আলোচনা শেষে অতিথিরা কেক কেটে চ্যানেলটির সমৃদ্ধি কামনা করেন।

মুক্তমত: জনভোগান্তি কমাতে এবং অবৈধ তেলের মজুদ ও ব্যবসা বন্ধে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
মুক্তমত: জনভোগান্তি কমাতে এবং অবৈধ তেলের মজুদ ও ব্যবসা বন্ধে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ

এএসএম মেহেদী হাসান
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া একশ্রেণীর লোকেরা প্রতিনিয়ত লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে এবং দ্বিগুণ দামে বাইরে বিক্রি করছে। ৫০০ টাকার তেল নিয়ে তারা ৫০০ টাকার বেশি লাভ করছে। এটিই এ শ্রেণীর লোকেরা আয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ জনগণ।
এ ধরনের কর্মকান্ড রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সরকারের চালু করা ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ।
সংশি¬ষ্ট সূত্র জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনে নির্ধারিত নিয়মে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অ্যাপসের মাধ্যমে একজন গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়-সীমার মধ্যে একাধিকবার জ্বালানি নিতে পারবেন না। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে বারবার তেল সংগ্রহ করে পরে তা অবৈধভাবে বিক্রির সুযোগ কমে যাবে। পরীক্ষামূলক ভাবে ঢাকার বেশকিছু তেল পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ-এর মাধ্যমে তেল প্রদান করলে এর সুফল পাওয়া গেছে।
এছাড়া প্রতিটি যানবাহনের মাইলেজ ও ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ নির্ধারণ করা হলে প্রকৃত ব্যবহারকারীরা সুবিধা পাবেন এবং অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুদ করার প্রবণতা কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহনের সর্বনি¤œ গড় মাইলেজ হিসাব করে তেল বিতরণ করা হলে পুনরায় দ্রুত জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন পাম্প মালিক ও সাধারণ গ্রাহকরা জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ চালু হলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কালোবাজারি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ লাইন, অযথা ভোগান্তি ও সরবরাহে বিশৃঙ্খলাও কমবে।
সচেতন মহল মনে করছে, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সাতক্ষীরাসহ সারাদেশে তেল নিয়ে অনিয়ম, মজুদদারি ও কালোবাজারি উল্ল্যেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

 

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: ফসলি জমিতে লোনাপানির দুর্বৃত্তায়ন রুখবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: ফসলি জমিতে লোনাপানির দুর্বৃত্তায়ন রুখবে কে?

 

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আটটি গ্রামের কৃষকদের ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা কেবল মর্মান্তিক নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ। রাতের আঁধারে স্লুইসগেটের কপাট তুলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা ফসলি জমিতে লোনাপানি ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এটি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের চরম স্বার্থপরতা এবং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর নিকৃষ্ট উদাহরণ। এই ঘটনায় কেবল হাজার হাজার বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়নি, বরং ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের যে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে, সেখানে গত তিন বছর পর এবারই প্রথম বোরো ধানের ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু একদল দুর্বৃত্তের মাছ ধরার লালসায় সেই স্বপ্ন এখন নোনাজলে ভাসছে। লোনাপানির প্রভাবে শুধু ধান নয়, মারা যাচ্ছে গাছপালা, দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এমন ঘটনা ঘটানো এবং ভয়ভীতির কারণে স্থানীয়দের প্রতিবাদ করতে না পারাÑদেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য এক অশনিসংকেত।
খালের সামান্য মাছ ধরার জন্য ১০ হাজার বিঘা জমির ফসলকে বিসর্জন দেওয়া কোনো সাধারণ অপরাধ হতে পারে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্রটি স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে গেটের কপাট তুলেছে। প্রশ্ন জাগে, একটি স্লুইসগেটের কপাট খোলার মতো বড় কর্মযজ্ঞ প্রশাসনের অগোচরে কীভাবে সম্ভব হলো? স্লুইসগেট সংস্কারের পর কোনো তদারকি কমিটি না থাকা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ। এই সুযোগটিই নিয়েছে স্বার্থান্বেষী মহল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কেবল লোনাপানি প্রবেশ বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যারা এই পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে কারিগর, তাঁদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জবরদস্তি রুখতে জনসম্পৃক্ত তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে।
সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকির মুখে। সেখানে মানুষের তৈরি এমন কৃত্রিম বিপর্যয় মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আশা করি, প্রশাসন কঠোর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করবে এবং কৃষকের হাহাকার থামাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে। ফসলি জমিতে লোনাপানির এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা এখন সময়ের দাবি।