গয়েশপুরে মরা শিমুল গাছ যেন মরণফাঁদ: ঝুঁকিতে ৪ পরিবার
কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: মাথার ওপর বিশাল এক মরা শিমুল গাছ। একটু বাতাস হলেই মড়মড় শব্দে কেঁপে ওঠে ডালপালা। আর সেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গয়েশপুর সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের চারটি ভূমিহীন পরিবারের। যেকোনো মুহূর্তে গাছটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গয়েশপুরের ‘পাপড়া তলা’ এলাকায় ভূমিহীন আবদুল আজিজ শাহর বসতঘরের ওপর গাছটি অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে হেলে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির এই সরকারি শিমুল গাছটি দীর্ঘদিনের পুরনো এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ মৃত। এর ভারী ডালপালা সরাসরি ঝুলে আছে টিনের চালের ওপর। কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় এই আতঙ্ক এখন চরমে পৌঁছেছে। নিজস্ব জমি বা বিকল্প থাকার জায়গা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই ‘মরণফাঁদের’ নিচে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, মাস কয়েক আগেই বিপদের কথা জানিয়ে তারা গাছটি অপসারণের জন্য সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। সরকারি গাছ হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এটি কাটার সুযোগ নেই। তবে আবেদনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আশ্রয়কেন্দ্রের এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ঘর আছে কিন্তু শান্তি নেই। রাত হলে ভয় লাগে কখন যেন গাছটা গায়ের ওপর পড়ে। প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো কেউ গাছ কাটতে আসেনি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভূমিহীনদের নিরাপত্তার জন্য সরকার আশ্রয়কেন্দ্র করে দিয়েছে। কিন্তু একটি জরাজীর্ণ মরা গাছের কারণে এখন সেই নিরাপদ আশ্রয়ই শ্মশানে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামান্য ঝড়ে গাছটি ভেঙে পড়লে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটার আগেই জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।



